রেওয়ায়ত ১২. আসমা বিন্ত আবু বকর (রাঃ) নিজের পরিবারের লোকদিগকে বলিয়াছেনঃ আমার মৃত্যু হইলে আমার কাপড়কে (কাফন) খোশবুমুক্ত করিও, তারপর আমার দেহে হানূত (কাপূর, মিশকে আম্বর ইত্যাদি দ্বারা তৈরি এক প্রকারের খোশবু) লাগাইবে। কিন্তু হানূত আমার কাফনে ছিটাইবে না, আর আগুন সাথে লইয়া আমার পিছনে চলিও না।
রেওয়ায়ত ১৩. আবু সাঈদ মকবুরী (রাঃ) হইতে বর্ণিত- আবূ হুরায়রা (রাঃ) তাহার মৃত্যুর পর পিছনে আগুন লইয়া চলিতে নিষেধ করিয়াছেন। ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) বললেনঃ আমি শুনিয়াছি যে, মালিক (রহঃ) ইহাকে মাকরূহ জানিতেন।
হাদিস 533 — Muwatta Malik 16:14
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَعَى النَّجَاشِيَّ لِلنَّاسِ فِي الْيَوْمِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ وَخَرَجَ بِهِمْ إِلَى الْمُصَلَّى فَصَفَّ بِهِمْ وَكَبَّرَ أَرْبَعَ تَكْبِيرَاتٍ .
রেওয়ায়ত ১৪. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদিগকে নাজ্জাশীর মৃত্যুর খবর দিয়াছেন, যেদিন তাঁহার মৃত্যু হইয়াছে সেইদিন। অতঃপর লোকজনকে লইয়া তিনি মুসল্লায় (নামাযের স্থানে) গমন করিয়াছেন, অতঃপর তাহাদিগকে সারিবদ্ধ করাইয়াছেন এবং চার তাকবীর বলিয়াছেন।
হাদিস 534 — Muwatta Malik 16:15
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ مِسْكِينَةً مَرِضَتْ فَأُخْبِرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - بِمَرَضِهَا وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعُودُ الْمَسَاكِينَ وَيَسْأَلُ عَنْهُمْ - فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا مَاتَتْ فَآذِنُونِي بِهَا " . فَخُرِجَ بِجَنَازَتِهَا لَيْلاً فَكَرِهُوا أَنْ يُوقِظُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا أَصْبَحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُخْبِرَ بِالَّذِي كَانَ مِنْ شَأْنِهَا فَقَالَ " أَلَمْ آمُرْكُمْ أَنْ تُؤْذِنُونِي بِهَا " . فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَرِهْنَا أَنْ نُخْرِجَكَ لَيْلاً وَنُوقِظَكَ . فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى صَفَّ بِالنَّاسِ عَلَى قَبْرِهَا وَكَبَّرَ أَرْبَعَ تَكْبِيرَاتٍ .
রেওয়ায়ত ১৫. আবু উমামা (রহঃ) হইতে বর্ণিত- জনৈকা মিসকীন স্ত্রীলোক অসুস্থ হইলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাহার রোগের খবর দেওয়া হয়। (আবু উমামা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অত্যাস ছিল, তিনি মিসকীনদের শুশ্ৰুষা করিতেন এবং তাহদের খোঁজ-খবর রাখিতেন। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই স্ত্রীলোকের মৃত্যু হইলে তোমরা তাহার মৃত্যু সংবাদ আমার নিকট পৌছাইবে। কিন্তু তাহার জানাযা বাহির করা হইল রাত্রে। তাই তাহারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জাগানো উচিত মনে করিলেন না। যখন ফজর হইল, তখন তাহার অবস্থা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খবর দেওয়া হইল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, আমি কি তোমাদিগকে তাহার সংবাদ দেওয়ার জন্য বলি নাই? তাহারা বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার কষ্ট হইবে মনে করিয়া আমরা সংবাদ দেওয়া ভাল মনে করি নাই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহির হইলেন এবং তাহার কবরে লোকজনকে লইয়া জানাযার জন্য দাঁড়াইলেন। অতঃপর চারটি তাকবীর বলিলেন।
রেওয়ায়ত ১৬. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিলেন সেই ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি জানাযার (নামাযের) কিছু তাকবীর পাইয়াছে এবং কিছু পায় নাই। তিনি বলিলেন, যাহা পায় নাই উহা পূর্ণ করিতে হইবে।
রেওয়ায়ত ১৭. আবু সাঈদ মকবুরী (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তাহার পিতা জানাযার নামায কিভাবে পড়িবেন তাহ আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিলেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আল্লাহ্র স্থায়িত্বের কসম, আমি তোমাকে (উহার নিয়ম) শিখাইয়া দিব। আমি মৃত ব্যক্তির পরিবার-পরিজন হইতে জানাযার সাথে চলি। জানাযা যখন রাখা হয়, আমি তখন তাকবীর বলি এবং আল্লাহ্র হামদ ও তাহার নবীর উপর দরূদ পাঠ করি। তারপর বলিঃ اللَّهُمَّ إِنَّهُ عَبْدُكَ وَابْنُ عَبْدِكَ وَابْنُ أَمَتِكَ كَانَ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ وَأَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ مُحْسِنًا فَزِدْ فِي إِحْسَانِهِ وَإِنْ كَانَ مُسِيئًا فَتَجَاوَزْ عَنْ سَيِّئَاتِهِ اللَّهُمَّ لاَ تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ وَلاَ تَفْتِنَّا بَعْدَهُ অর্থাৎ হে আল্লাহ! এই ব্যক্তি আপনার বান্দা এবং আপনার বান্দা ও বান্দীর পুত্র, সে সাক্ষ্য দিত যে, আপনি ব্যতীত অন্য কোন মা’বূদ নাই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার বান্দা ও আপনার রসূল, আপনি এই বান্দা সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। হে আল্লাহ্! এই ব্যক্তি যদি প্রকৃত নেক বান্দা হন তবে তাহার নেকী বৃদ্ধি করুন। আর যদি সে মন্দ লোক হয় তবে তাহাকে ক্ষমা করিয়া দিন। হে আল্লাহ্! ইহার পুণ্যের সওয়াব হইতে আমাদিগকে বঞ্চিত করবেন না এবং তাহার পর আমাদিগকে ফিতনায় লিপ্ত করিবেন না।
রেওয়ায়ত ১৮. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলেনঃ আমি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, আমি আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর পিছনে এমন একটি শিশুর জানাযা পড়িয়াছি, যে শিশু কখনও কোন পাপ করে নাই। আমি তাহাকে বলিতে শুনিয়াছিঃاللَّهُمَّ أَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ অর্থাৎ হে আল্লাহ্ ইহাকে কবর আযাব হইতে বাঁচান।