রেওয়ায়ত ২১. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত— আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) বলেনঃ আসরের পর ও ফজরের পর জানাযার নামায পড়া যাইতে পারে, যদি উভয় নামায যথাসময়ে পড়া হইয়া থাকে।
হাদিস 541 — Muwatta Malik 16:22
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا أَمَرَتْ أَنْ يُمَرَّ عَلَيْهَا بِسَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ فِي الْمَسْجِدِ حِينَ مَاتَ لِتَدْعُوَ لَهُ فَأَنْكَرَ ذَلِكَ النَّاسُ عَلَيْهَا فَقَالَتْ عَائِشَةُ مَا أَسْرَعَ النَّاسَ مَا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى سُهَيْلِ ابْنِ بَيْضَاءَ إِلاَّ فِي الْمَسْجِدِ .
রেওয়ায়ত ২২. আবুন নাযর (রহঃ) হইতে বর্ণিত-সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর যখন মৃত্যু হয়, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) তাহার জানাযা মসজিদের ভিতর আয়েশা (রাঃ)-এর সামনে দিয়া লইয়া যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়াছিলেন, যেন তিনি তাহার (সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের) জন্য দু’আ করিতে পারেন। লোকে তাহার এই কাজের সমালোচনা করিলেন। তখন আয়েশা (রাঃ) বলিলেনঃ লোক কত তাড়াতাড়ি ভুলিয়া গেল, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুহায়ল ইবনে বয়যা (রাঃ)-এর জানাযার নামায মসজিদেই পড়িয়াছিলেন।
রেওয়ায়ত ২৬. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত- আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাঃ) বলিতেনঃ ওযু ছাড়া কোন লোক যেন জানাযার নামায না পড়ে। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিতেনঃ আমি আহলে ইলমের মধ্যে কাহাকেও জারজ সন্তান ও তাহার মাতার জানাযার নামায পড়াকে মাকরূহ মনে করিতে দেখি নাই।
হাদিস 546 — Muwatta Malik 16:27
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تُوُفِّيَ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَدُفِنَ يَوْمَ الثُّلاَثَاءِ وَصَلَّى النَّاسُ عَلَيْهِ أَفْذَاذًا لاَ يَؤُمُّهُمْ أَحَدٌ . فَقَالَ نَاسٌ يُدْفَنُ عِنْدَ الْمِنْبَرِ . وَقَالَ آخَرُونَ يُدْفَنُ بِالْبَقِيعِ . فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا دُفِنَ نَبِيٌّ قَطُّ إِلاَّ فِي مَكَانِهِ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ " . فَحُفِرَ لَهُ فِيهِ فَلَمَّا كَانَ عِنْدَ غُسْلِهِ أَرَادُوا نَزْعَ قَمِيصِهِ فَسَمِعُوا صَوْتًا يَقُولُ لاَ تَنْزِعُوا الْقَمِيصَ فَلَمْ يُنْزَعِ الْقَمِيصُ وَغُسِّلَ وَهُوَ عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم .
রেওয়ায়ত ২৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাত পাইয়াছেন সোমবার এবং তাঁহাকে দাফন করা হইয়াছে মঙ্গলবার, আর লোকে তাহার (জানাযার) নামায পড়িয়াছেন পৃথক পৃথকভাবে; কেউ তাহাদের ইমামতি করিতেছিলেন না। অতঃপর কিছু লোক বলেন, তাহাকে মিম্বরের নিকট দাফন করা হউক; পরে কেউ বলেন, বকী’তে দাফন করা হউক। ইতিমধ্যে আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) উপস্থিত হন। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিতে শুনিয়াছি, কখনও কোন নবীকে দাফন করা হয় নাই যে জায়গায় তিনি ওফাত পাইয়াছেন সেই জায়গায় ব্যতীত। অতঃপর সেই জায়গায় (অর্থাৎ তাহার হুজরায়) তাহার কবরের স্থান নির্ধারণ করা হয়। যখন তাহাকে গোসল দেওয়ার সময় হয় এবং লোকে তাহার কোর্তা খোলার জন্য ইচ্ছা করেন, তখন তাহারা আওয়ায শুনিতে পাইলেন- কেউ বলিতেছেন, কোর্তা খুলিও না। তারপর কোর্তা খোলা হয় নাই। ফলে কোর্তা তাহার (পবিত্র) দেহেই ছিল। সেই অবস্থায়ই গোসল দেওয়া হইয়াছে।
হাদিস 547 — Muwatta Malik 16:28
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ كَانَ بِالْمَدِينَةِ رَجُلاَنِ أَحَدُهُمَا يَلْحَدُ وَالآخَرُ لاَ يَلْحَدُ فَقَالُوا أَيُّهُمَا جَاءَ أَوَّلُ عَمِلَ عَمَلَهُ . فَجَاءَ الَّذِي يَلْحَدُ فَلَحَدَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
রেওয়ায়ত ২৮. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) তাহার পিতা উরওয়াহ ইবন যুবায়র (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন- মদীনায় দুইজন লোক ছিলেন, একজন বোগলী কবর (لحد) তৈয়ার করিতেন, অন্যজন বোগলী করিতেন না। তাহারা (সাহাবীগণ) বলিলেন, দুইজনের মধ্যে যিনি প্রথমে আসিবেন তিনিই কাজ শুরু করিবেন। তারপর যিনি বোগলী করিতেন তিনি প্রথমে আসিলেন। পরে তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য বোগলী কবর প্রস্তুত করিলেন।
হাদিস 548 — Muwatta Malik 16:29
Mauquf Daif
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ تَقُولُ مَا صَدَّقْتُ بِمَوْتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى سَمِعْتُ وَقْعَ الْكَرَازِينِ .
রেওয়ায়ত ২৯. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পত্নী উম্মে সালমা (রাঃ) বলিতেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মৃত্যু সংবাদ বিশ্বাস করি নাই, যতক্ষণ কোদাল চালনার শব্দ শুনিতে পাই নাই।
হাদিস 549 — Muwatta Malik 16:30
Mauquf Sahih
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ رَأَيْتُ ثَلاَثَةَ أَقْمَارٍ سَقَطْنَ فِي حُجْرَتِي فَقَصَصْتُ رُؤْيَاىَ عَلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ قَالَتْ فَلَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَدُفِنَ فِي بَيْتِهَا قَالَ لَهَا أَبُو بَكْرٍ هَذَا أَحَدُ أَقْمَارِكِ وَهُوَ خَيْرُهَا .
রেওয়ায়ত ৩০. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ আমি স্বপ্নে দেখিলাম, তিনটি চাঁদ আমার হুজরায় পতিত হইয়াছে। অতঃপর আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর নিকট আমার স্বপ্ন বর্ণনা করিলাম। আয়েশা (রাঃ) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাত প্রাপ্ত হইলেন এবং আমার গৃহে তাহাকে দাফন করা হইল, তখন তিনি [আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)] তাহাকে [আয়েশা (রাঃ) কে] বলিলেন, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার স্বপ্নের দেখা) চাঁদসমূহের একটি এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাহাদের মধ্যে উত্তম।