রেওয়ায়ত ৪৩. কাসিম ইবনে মুহাম্মদ (রহঃ) বলেনঃ আমার এক স্ত্রীর ইন্তিকাল হয়। মুহাম্মদ ইবন কা'ব কুরাজী (রহঃ) আমাকে তাহার (মৃত্যু) উপলক্ষে সান্তনা দিতে আসিলেন। তিনি বলিলেনঃ বনি ইসরাঈলের এক ব্যক্তি ছিলেন আলিম, ইবাদতগুযার, মুজতাহিদ, শরীয়তের মাসায়েলে পারদর্শী। তাহার এক স্ত্রী ছিল, তাহাদের উভয়ের মধ্যে গভীর ভালবাসা ছিল। (ঘটনাক্রমে) সেই স্ত্রীর মৃত্যু হয়। ইহাতে তিনি খুব মর্মাহত ও ব্যথিত হইলেন। এমন কি তিনি নিজেকে একটি গৃহে অন্তরীণ করিয়া ফেলিলেন এবং লোকের সংশ্ৰব বর্জন করিলেন। অতঃপর কেহ তাহার কাছে যাইত না। জনৈক মহিলা এই বৃত্তান্ত শুনিয়া তাহার নিকট উপস্থিত হইলেন। তিনি বলিলেনঃ তাহার কাছে আমার একটি আবশ্যক রহিয়াছে, যে বিষয়ে আমি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিব। তাহার সহিত সামনাসামনি না হইলে আমার আবশ্যক পূর্ণ হইবে না। (তাহার গৃহদ্বার ত্যাগ করিয়া) সব লোক চলিয়া গেল, কিন্তু উক্ত মহিলা তাহার দ্বারে রহিয়াই গেলেন এবং বলিলেনঃ তাহার নিকট আমার প্রয়োজন রহিয়াছে। একজন লোক সেই ব্যক্তির নিকট বলিলঃ এইখানে একজন মহিলা আপনাকে কিছু জিজ্ঞাসা করিতে ইচ্ছুক। তিনি বলিতেছেনঃ আমি তাহার সাক্ষাতপ্রার্থী মাত্র। সকল লোক চলিয়া গিয়াছে কিন্তু তিনি দরজা ছাড়েন না। তিনি বলিলেনঃ তোমরা তাহাকে আসিতে অনুমতি দাও। (অনুমতি পাইয়া সেই মহিলা) প্রবেশ করিলেন এবং বলিলেন, আমি আপনার নিকট একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিতে আসিয়াছি। তিনি বলিলেনঃ সেই বিষয়টি কি? (উক্ত মহিলা) বলিলেনঃ আমার প্রতিবেশিনীর নিকট হইতে আমি একটি গহনা ধার নিলাম। অতঃপর আমি উহা পরিধান করিতাম এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উহা লোককে ধারস্বরূপ দিতাম। অতঃপর তাহারা উহার (ফেরত দেওয়ার) জন্য আমার নিকট লোক পাঠাইলেন। আমি উহা ফেরত দিব কি? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, আল্লাহর কসম। মহিলা বলিলেনঃ সেই গহনাটি যে বেশ কিছুদিন আমার কাছে ছিল। তিনি বলিলেনঃ এইজন্য আরও বেশি উচিত যে, তুমি উহা তাহাদের নিকট ফেরত দাও, তাহারা এতকাল পর্যন্ত তোমাকে ধার দিয়াছেন। তখন উক্ত মহিলা বলিলেনঃ ওহে! আপনার প্রতি আল্লাহ দয়া করুন, আপনি আফসোস করিতেছেন এমন বস্তুর উপর যাহা আল্লাহ আপনাকে ধার দিয়াছেন, অতঃপর তিনি উহা গ্রহণ করিয়াছেন আপনার নিকট হইতে। অথচ তিনি উহার হকদার বেশি আপনি অপেক্ষা। তবে ভাবিয়া দেখুন আপনি কোন হালতে আছেন। আল্লাহ এই মহিলার উপদেশ দ্বারা তাহাকে উপকৃত করিলেন।
হাদিস 563 — Muwatta Malik 16:44
দাঈফ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الرِّجَالِ، مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أُمِّهِ، عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَمِعَهَا تَقُولُ، لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمُخْتَفِيَ وَالْمُخْتَفِيَةَ يَعْنِي نَبَّاشَ الْقُبُورِ .
রেওয়ায়ত ৪৪. আবু রিজাল মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান (রহঃ) তাহার মাতা আমরা বিনত আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তাহাকে বলিতে শুনিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফন-চোর পুরুষ এবং নারীকে লা'নত করিয়াছেন।
হাদিস 564 — Muwatta Malik 16:45
Mauquf Daif
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ تَقُولُ كَسْرُ عَظْمِ الْمُسْلِمِ مَيْتًا كَكَسْرِهِ وَهُوَ حَىٌّ . تَعْنِي فِي الإِثْمِ .
রেওয়ায়ত ৪৫. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পত্নী আয়েশা (রাঃ) বলিতেনঃ মৃতাবস্থায় মুসলিমদের হাড় ভাঙিয়া দেওয়া জীবিতাবস্থায় হাড় ভাঙিয়া দেওয়ার মত। মালিক (রহঃ) বলেন, অৰ্থাৎ পাপের দিক দিয়া সমান।
হাদিস 565 — Muwatta Malik 16:46
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا سَمِعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ أَنْ يَمُوتَ وَهُوَ مُسْتَنِدٌ إِلَى صَدْرِهَا وَأَصْغَتْ إِلَيْهِ يَقُولُ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَأَلْحِقْنِي بِالرَّفِيقِ الأَعْلَى " .
রেওয়ায়ত ৪৬. আব্বাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র (রহঃ) বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পত্নী আয়েশা (রাঃ) তাহাকে খবর দিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার ওফাতের পূর্বে যখন আয়েশা (রাঃ)-এর বুকে মাথা রাখিয়া শায়িত ছিলেন তখন আয়েশা (রাঃ) তাহার দিকে ঝুঁকিয়া রহিয়াছিলেন। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَأَلْحِقْنِي بِالرَّفِيقِ الأَعْلَى অর্থাৎ, হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন এবং দয়া করুন আর আমকে الرَّفِيقِ الأَعْلَى এর সঙ্গে মিলাইয়া দিন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলেন- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ এখতিয়ার দেওয়ার পূর্বে কোন নবীর ওফাত হয় না। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিতে শুনিয়াছি (اللَّهُمَّ الرَّفِيقَ الأَعْلَى) তখন আমি জানিতে পারলাম, তিনি পরলোকগমন করিতেছেন।
হাদিস 566 — Muwatta Malik 16:47
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ نَبِيٍّ يَمُوتُ حَتَّى يُخَيَّرَ " . قَالَتْ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ " اللَّهُمَّ الرَّفِيقَ الأَعْلَى " . فَعَرَفْتُ أَنَّهُ ذَاهِبٌ .
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ نَبِيٍّ يَمُوتُ حَتَّى يُخَيَّرَ " . قَالَتْ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ " اللَّهُمَّ الرَّفِيقَ الأَعْلَى " . فَعَرَفْتُ أَنَّهُ ذَاهِبٌ .
রেওয়ায়ত ৪৭. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের কেহ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন সকাল-সন্ধ্যা তাহার নিকট তাহার অবস্থানের জায়গা পেশ করা হয়। যদি সে বেহেশতী হয় তবে বেহেশতীদের (ঠিকানার) মধ্যে তাহার ঠিকানা দেখান হইবে। আর যদি দোযখী হয় তবে দোযখীদের (ঠিকানার) মধ্যে তাহার ঠিকানা দেখান হইবে। তাহাকে বলা হইবেঃ ইহাই তোমার ঠিকানা, কিয়ামত দিবসে উক্ত ঠিকানায় তোমাকে পৌছান পর্যন্ত।
হাদিস 568 — Muwatta Malik 16:49
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كُلُّ ابْنِ آدَمَ تَأْكُلُهُ الأَرْضُ إِلاَّ عَجْبَ الذَّنَبِ مِنْهُ خُلِقَ وَفِيهِ يُرَكَّبُ " .
রেওয়ায়ত ৪৮. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ বনি আদমের মেরুদণ্ডের নিম্নাংশের ক্ষুদ্র হাড়টি ব্যতীত সবকিছুই মাটি খাইয়া ফেলিবে, উহা হইতেই সৃষ্টি করা হইয়াছে এবং উহা হইতেই পুনরায় সৃষ্টি করা হইবে।