রেওয়ায়ত ১১. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেন, যদি কোন ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে (তালাকের) ক্ষমতা প্রদান করে তবে (এক বা একাধিক তালাকের ব্যাপারে) স্ত্রীর ফয়সালাই ফয়সালা। হ্যাঁ, সে যদি উহা অস্বীকার করে এবং বলে, আমি এক তালাক ছাড়া অন্য কিছু উদ্দেশ্য করি নাই এবং সেই মতে সে হলফ করিয়াও বলে, তবে ইদ্দতের সময়ের মধ্যে স্ত্রীর অধিক হকদার বিবেচিত হইবে স্বামী (অর্থাৎ ইচ্ছা করিলে স্বামী স্ত্রীকে ফিরাইয়া লইতে পারিবে)।
রেওয়ায়ত ১২. খারিজা ইবন যায়দ ইবন সাবিত (রহঃ) বলেনঃ তিনি যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ)-এর নিকট বসা ছিলেন। এই সময় তাহার নিকট মুহাম্মদ ইবন আবী আতীক আসিলেন। তাহার চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত ছিল, যায়দ তাহার উদ্দেশ্যে বলিলেনঃ তোমার ব্যাপার কি? তিনি বলিলেনঃ আমার স্ত্রীকে আমি ক্ষমতা প্রদান করিয়াছিলাম। সে আমাকে পরিত্যাগ করিয়াছে। যায়দ বলিলেনঃ এইরূপ ক্ষমতা কি জন্য প্রদান করিলে? তিনি বলিলেনঃ তকদীর। যায়দ বলিলেনঃ তুমি স্ত্রীর দিকে প্রত্যাবর্তন কর যদি তোমার ইচ্ছা হয়, কারণ উহা এক তালাক মাত্র। তুমি সেই স্ত্রীর অধিক হকদার।
রেওয়ায়ত ১৩. কাসিম ইবন মুহাম্মদ ইবন আবী বকর (রহঃ) হইতে বর্ণিত-সাকীফ গোত্রের এক ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে (তালাকের) ক্ষমতা প্রদান করিল। সেই স্ত্রী বলিল, তোমাকে তালাক। স্বামী চুপ রহিল। স্ত্রী পুনরায় বলিল, তোমাকে তালাক। সে ব্যক্তি বলিলঃ তোমার মুখে প্রস্তর (পতিত হউক)। স্ত্রী পুনরায় বলিলঃ তোমাকে তালাক। সে বলিলঃ তোমার মুখে পাথর। উভয়ে বিচার প্রার্থী হইয়া মারওয়ান ইবন হাকামের নিকট উপস্থিত হইল। মারওয়ান স্বামীর নিকট হইতে এই বিষয়ে হলফ তলব করিল যে, সে স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা প্রয়োগের দ্বারা এক তালাক ব্যতীত অন্য কিছু উদ্দেশ্য করে নাই। অতঃপর স্ত্রীকে তাহার নিকট ফিরাইয়া দিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ‘আবদুর রহমান (রহঃ) বলিয়াছেনঃ কাসেম (রহঃ) এই ফয়সালা খুব পছন্দ করিতেন এবং এই বিষয়ে যাহা শুনিয়াছেন তন্মধ্যে ইহাকে উত্তম বলিয়া গণ্য করিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি এই বিষয়ে যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই সর্বোত্তম এবং আমার নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয়।
রেওয়ায়েত ১৪. কাসেম ইবন মুহাম্মদ ইবন আবী বকর (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবদুর রহমান ইবন আবী বকর (রাঃ)-এর জন্য কুরায়যা বিনত আবী উমাইয়ার বিবাহের প্রস্তাব করিলেন, (কন্যা কর্তৃপক্ষ) তাহার নিকট বিবাহ দিলেন। তারপর (কোন কারণে) তাহারা আবদুর রহমানের উপর অসন্তুষ্ট হইলেন এবং তাহারা বলিলেন, আমরা আয়েশা (রাঃ)-এর কারণে বিবাহে সম্মত হইয়াছি। আয়েশা (রাঃ) আবদুর রহমানের নিকট লোক প্রেরণ করিলেন এবং তাঁহাদের বক্তব্য অবহিত করিলেন। আবদুর রহমান কুরায়যার বিষয় কুরায়যার উপর ন্যস্ত করিলেন। কুরায়যা (রাঃ) তাহার স্বামীকে গ্রহণ করিলেন ইহা তালাক বলিয়া গণ্য হইল না।
রেওয়ায়ত ১৫. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) আবদুর রহমানের কন্যা হাফসাকে মুনযির ইবন যুবায়র-এর নিকট বিবাহ দিলেন। আবদুর রহমান ছিলেন তখন সিরিয়াতে (তিনি তাই এই বিবাহে অনুপস্থিত ছিলেন)। আবদুর রহমান যখন সিরিয়া হইতে প্রত্যাবর্তন করিলেন (এবং এই বিবাহের সংবাদ অবগত হইলেন) তিনি বলিলেন, আমার মতো লোকের সহিত ইহা করা হইল, আমার ব্যাপারে আমাকে উপেক্ষা করিয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হইল। অতঃপর আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) মুনযির ইবন যুবায়র-এর সহিত আলোচনা করিলেন। মুনযির বলিলেনঃ আবদুর রহমানের হাতেই ইহার (এই বিবাহ বহাল রাখা না রাখার) ক্ষমতা রহিয়াছে। আবদুর রহমান বলিলেনঃ যেই ব্যাপারে আপনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছেন আমি উহাকে রদ করিব না, তাই হাফসা মুনযিরের কাছেই রহিলেন এবং ইহা তালাক বলিয়া গণ্য হয় নাই।
রেওয়ায়ত ১৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন উমর এবং আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি স্ত্রীকে তাহার নিজের বিষয়ে ইখতিয়ার দিয়াছে। স্ত্রী উক্ত ক্ষমতা স্বামীর দিকে ফিরাইয়া দিয়াছে এবং এই ব্যাপারে নিজে ক্ষমতা প্রয়োগ করে নাই। (ইহার কি হুকুম) তাহারা উভয়ে বলিলেন, ইহা তালাক নহে। সাঈদ ইবন মুসায়্যিব (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে তাহার (বিবাহ বিচ্ছেদের ব্যাপারে) ক্ষমতা প্রদান করিলে সে যদি স্বামীকে ত্যাগ না করে এবং তাহার স্ত্রীরূপে বহাল থাকে, তবে উহা তালাক বলিয়া গণ্য হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যেই স্ত্রীলোকের প্রতি তাহার স্বামী ক্ষমতা অর্পণ করিল, অতঃপর তাহারা উভয়ে মজলিস ত্যাগ করিয়া পৃথক হইয়া গেল। স্ত্রী সেই ক্ষমতা গ্রহণ করে নাই। তবে সেই স্ত্রীর হাতে আর কোন ক্ষমতা থাকিবে না। তাহার হাতে ততক্ষণ ক্ষমতা থাকিবে যতক্ষণ তাহারা সেই মজলিস ত্যাগ না করে।
রেওয়ায়ত ১৭. আলী ইবন আবী তালিব (রাঃ) বলিতেন, কোন ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর ব্যাপারে ঈলা করিলে উহাতে তালাক হইবে না। যদি ঈলার পর চার মাস অতিবাহিত হয় (সে কিছু না করে), তবে তাহাকে বন্দী করা হইবে, হয়ত সে তালাক দিবে নতুবা ঈলা হইতে ফিরিয়া আসিবে (অর্থাৎ স্ত্রীকে গ্রহণ করিয়া কসমের কাফফারা দিবে)। মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট ইহাই সিদ্ধান্ত।
রেওয়ায়ত ১৮. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেনঃ কেউ স্ত্রীর সহিত ঈলা করিলে তবে চার মাস অতিবাহিত হইলে তাহাকে বন্দী করা হইবে, যাবৎ তালাক না দেয় অথবা কসম ভঙ্গ করিয়া কাফফারা আদায় করে স্ত্রীকে গ্রহণ করিবে। চার মাস অতিবাহিত হইলে তাহাকে বন্দী না করা পর্যন্ত তালাক প্রযোজ্য হইবে না। ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবন মুসায়্যিব এবং আবদুর রহমান ইবন আবু বকর (রাঃ) তাহারা উভয়ে বলিতেন, যে ব্যক্তি স্ত্রীর সহিত ঈলা করিয়াছে, চার মাস অতিবাহিত হইলে উহা এক তালাক গণ্য হইবে। ইদ্দতের ভিতর সে ব্যক্তি স্ত্রীর দিকে রুজু’ (উহাকে গ্রহণ) করিতে পারবে।