রেওয়ায়ত ৩৫. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের যুগে এক ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর প্রতি লিআন করিয়াছে এবং ছেলের নসবকে অস্বীকার করিয়াছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহদের উভয়কে পৃথক করিয়া দিয়াছেন এবং স্ত্রীকে ছেলেটি প্রদান করিয়াছেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আল্লহ তা'আলা ইরশাদ করিয়াছেনঃ وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُن لَّهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ وَالْخَامِسَةُ أَنَّ لَعْنَتَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِن كَانَ مِنَ الْكَاذِبِينَ وَيَدْرَأُ عَنْهَا الْعَذَابَ أَن تَشْهَدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِن كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ অর্থঃ এবং যাহারা নিজদিগের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথচ নিজেরা ব্যতীত তাহাদিগের কোন সাক্ষী নাই, তাহাদিগের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হইবে যে, সে আল্লাহর নামে চারিবার শপথ করিয়া বলিবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী এবং পঞ্চমবারে বলিবে, সে মিথ্যাবাদী হইলে তাহার উপর নামিয়া আসিবে আল্লাহর লা'নত। তবে স্ত্রীর শাস্তি রহিত হইবে যদি সে চারিবার আল্লাহর নামে শপথ করিয়া সাক্ষ্য দেয় যে, তাহার স্বামীই মিথ্যাবাদী এবং পঞ্চমবারে বলে, ‘তাহার স্বামী সত্যবাদী হইলে তাহার নিজের উপর নামিয়া আসিবে আল্লাহর গযব’। মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট বিধান হইল এই, লি'আনকারী তাহারা পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইবে না, যদি স্বামী মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হয়, তবে তাহাকে শাস্তি (হদ্দ প্রয়োগ) দেওয়া হইবে এবং ছেলেকে তাহার সহিত যুক্ত করা হইবে। স্ত্রী সেই স্বামীর নিকট আর কখনো ফিরিয়া যাইবে না। মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট ইহাই নিয়ম যাহাতে কোন প্রকার মতানৈক্য বা সন্দেহ নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি যদি স্ত্রীকে বায়েন তালাক দেয় যাহাতে স্ত্রীর দিকে তাহার রুজু করার অধিকার থাকে না, তারপর স্ত্রীর গর্ভ অস্বীকার করে, তবে তাহাকে লি'আন করিতে হইবে। যদি স্ত্রী অন্তঃসত্ত্ব হয় এবং স্ত্রীর গর্ভধারণ সেই ব্যক্তির পক্ষ হইতে হওয়ারই সম্ভাবনা অধিক থাকে এবং স্ত্রীও উহার দাবি করে। অবশ্য যদি তালাকের পর এইরূপ দীর্ঘ সময় অতিবাহিত না হয় যাহাতে স্বামী হইতে গর্ভধারণের সন্দেহ সৃষ্টি হয়। যাহাতে এই গর্ভধারণ উক্ত স্বামী দ্বারা হইয়াছে বলিয়া অনুমান করা যায় না। আমাদের নিকট ইহাই হুকুম আর ইহাই আমি বিজ্ঞ আলিমদের নিকট হইতে শুনিয়াছি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ তখন কোন ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করিল। তিন তালাক দেওয়ার পর স্ত্রী যখন অন্তঃসত্ত্বা অথচ সে ব্যক্তি এই গর্ভধারণ তাহার পক্ষ হইতে হইয়াছে বলিয়া স্বীকারও করে, তারপর সে ধারণা করে যে, সে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পূর্বে যিনা করিতে দেখিয়াছে, তবে তাহাকে শাস্তি দেওয়া হইবে (অর্থাৎ তাহার উপর ইসলামী বিধানমতে হদ্দ জারি করা হইবে) সে লি’আন করিবে না। আর যদি তিন তালাক দেওয়ার পর সেই স্ত্রীর গর্ভধারণ (তাহার পক্ষ হইতে হওয়ার ব্যাপার) সে অস্বীকার করে সে লিআন করিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি এরূপই শুনিয়াছি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যিনার অপবাদারোপ করা এবং লিআন-এর ব্যাপারে ক্রীতদাস ও স্বাধীন ব্যক্তির হুকুম একই। অর্থাৎ এই দুই ব্যাপারে ক্রীতদাসের হুকুমত আযাদ ব্যক্তির মতো। কিন্তু নিজের ক্রীতদাসীর প্রতি অপবাদ দিলে মনিবের উপর হদ জারি হইবে না অর্থাৎ মনিবকে শাস্তি দেওয়া হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ মুসলিম ক্রীতদাসী, খ্রীস্টান ও ইহুদী স্বাধীন স্ত্রীলোক স্বাধীন মুসলিম স্বামীর প্রতি লি'আন করিবে, যদি সেই মুসলিম ইহাদের কাহাকেও বিবাহ করে এবং তাহার সহিত সহবাস করিয়া থাকে। কারণ আল্লাহ কুরআনুল করীমে ইরশাদ করিয়াছেনঃ وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ “যাহারা স্ত্রীগণের প্রতি অপবাদ দেয়”। উপরিউক্ত মহিলাগণও স্ত্রীর অন্তর্ভুক্ত। (তাই উহাদিগের প্রতি অপবাদ আরোপ করিলে লি’আন করিতে হইবে।) মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট ইহাই সিদ্ধান্ত। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন মুসলিম আযাদ নারীকে অথবা মুসলিম ক্রীতদাসীকে অথবা আযাদ খ্রীস্টান অথবা ইহুদী নারীকে কোন ক্রীতদাস বিবাহ করিলে সে স্ত্রীর সহিত লি'আন করিতে পারবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর সহিত লি'আন করিয়াছে, অতঃপর সে উহা হইতে ফিরিয়া আসে (রুজু করে) এবং মিথ্যা বলিয়াছে বলিয়া স্বীকার করে, একবার অথবা দুইবার কসম খাওয়ার পর পঞ্চমবারের লা'নত উচ্চারণ না করা পর্যন্ত। সে যদি লি'আন সমাপ্ত করার পূর্বে রুজু করে তবে তাহাকে হদ্দ লাগানো (শান্তি দেওয়া) হইবে এবং তাহদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি স্ত্রীকে তালাক দিয়াছে। অতঃপর তিন মাস অতিবাহিত হইবার পর স্ত্রী বলিলঃ আমি অন্তঃসত্ত্বা। মালিক (রহঃ) বলেন, এমতাবস্থায় তাহার স্বামী গর্ভ ধারণের স্বীকৃতি প্রদান না করিলে তবে লি‘আন করিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসী স্ত্রীর সহিত তাহার স্বামী লি’আন করিয়াছে, অতঃপর সে ক্রীতদাসীকে খরিদ করিয়াছে, তবে সে মালিক হইলেও ইহার সহিত সহবাস করিতে পারিবে না। কারণ নিয়ম হইতেছে, পরস্পর লি'আনকারী কখনও একে অপরের প্রতি প্রত্যাবর্তন (রুজু) করিতে পারে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি স্ত্রীর সহিত সংগত হওয়ার পূর্বে স্ত্রীর সহিত লি'আন করিলে তবে সে মহরের অর্ধেক পাইবে।
মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ)-এর নিকট ক্রীতদাসের ঈলা সম্বন্ধে প্রশ্ন করিয়াছেন, তিনি বলিলেনঃ ক্রীতদাসের ঈলা আযাদ ব্যক্তির ঈলার মতো। সেই ঈলা তাহার উপর ওয়াজিব হইবে। আর ক্রীতদাসের ঈলা-র সময় হইতেছে দুই মাস।
রেওয়ায়ত ২০. সাঈদ ইবন আমর ইবন সুলায়মান যুরাকী (রহঃ) বলেনঃ তিনি কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিলেন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে, যে লোক স্ত্রীকে বলিলঃ আমি তোমাকে বিবাহ করিলে তুমি তালাক। কাসিম ইবন মুহাম্মদ বলিলেনঃ এক ব্যক্তি জনৈকা মহিলার সহিত এই বলিয়া যিহার[1] করিল, তাহার জন্য সে তাহার মাতার পিঠের তুল্য, যদি সে তাহাকে বিবাহ করে। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) সেই ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন যে, যদি সে তাহাকে বিবাহ করে তবে যিহারকারীর মতো কাফফার না দেওয়া পর্যন্ত সে যেন ঐ স্ত্রীর নিকট না যায়।
রেওয়ায়ত ২১. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, এক ব্যক্তি কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) এবং সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিল এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যেই ব্যক্তি এক স্ত্রীলোকের সহিত যিহার করিয়াছে তাহাকে বিবাহ করার পূর্বে। তাহারা উভয়ে বলিলেনঃ যদি সেই স্ত্রীলোককে বিবাহ করে তবে সে যিহারের কাফফারা না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত স্ত্রীকে স্পর্শও করিবে না।
রেওয়ায়ত ২২. যে ব্যক্তি তাহার চার পত্নীর সহিত একবাক্যে যিহার করিয়াছে, সে ব্যক্তি সম্পর্কে উরওয়া ইবন যুবায়র (রহঃ) বলিয়াছেনঃ সেই ব্যক্তিকে একটি মাত্র কাফফারা দিতে হইবে। মালিক (রহঃ) রবি'আ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে অনুরূপ রেওয়ায়ত করিয়াছেন। মালিক (রহঃ) বলেন, এই ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্তও অনুরূপ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা তাহার কিতাবে যিহারের কাফফারা সম্পর্কে ইরশাদ করিয়াছেন যে, স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বে সে একটি ক্রীতদাস আযাদ করবে। যে ইহার সামর্থ রাখে না, সে স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বে একাধারে দুই মাস রোযা পালন করবে। আর যে ব্যক্তি ইহারও ক্ষমতা রাখে না সে ষাটজন মিসকীনকে আহার করাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি একাধিক মজলিসে স্ত্রীর সহিত যিহার করিয়াছে, সে ব্যক্তির উপর কেবলমাত্র একটি কাফফারা দেওয়া ওয়াজিব হইবে। যদিও সে যিহার করিয়া কাফফারা দিয়াছে এবং কাফফারা দেওয়ার পর পুনরায় যিহার করিয়াছে তবে তাহার উপর (পুনরায়) কাফফারা জরুরী হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে স্ত্রীর সহিত যিহার করিয়াছে এবং কাফফারা দেওয়ার পূর্বে স্ত্রীকে স্পর্শ করিয়াছে, সে ব্যক্তির উপর একটি মাত্র কাফফারা ওয়াজিব হইবে। কাফফারা না দেওয়া পর্যন্ত স্ত্রী হইতে বিরত থাকিবে এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাহিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহাই সর্বোত্তম যাহা আমি শুনিয়াছি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যিহারের ব্যাপারে মাহরম (যাহাদের সহিত বিবাহ হারাম এমন নিকট আত্মীয়) সে দুধপান বা বংশগত যেভাবে হউক না কেন সবাই এক সমান। মালিক (রহঃ) আল্লাহর বাণী উদ্ধৃত করিয়া বলেনঃ وَالَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا “যাহারা নিজেদের স্ত্রীগণের সহিত যিহার করে, অতঃপর যাহা তাহারা বলিয়াছে উহা হইতে প্রত্যাবর্তন করে।” ইহার তফসীর হইতেছে এই— কোন ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর সহিত যিহার করিয়াছে। অতঃপর তাহার স্ত্রীকে রাখা এবং তাহার সহিত সংগত হওয়ার সংকল্প করিয়াছে, সে যদি তাহার স্ত্রীকে রাখা সংগত হওয়ার সংকল্প করে তবে তাহার উপর কাফফারা ওয়াজিব হইবে। আর যদি সে স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং যিহার করার পর তাহাকে রাখা এবং সংগত হওয়ার সংকল্প না করে তবে তাহার উপর কাফফারা ওয়াজিব হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি ইহার পর সে স্ত্রীকে পুনরায় বিবাহ করে তবে যিহারের কাফফারা না দেওয়া পর্যন্ত উহার সহিত মিলিত হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি দাসীর সহিত যিহার করিয়াছে সে যদি উহার সহিত সহবাস করিতে করে তবে সহবাসের পূর্বে তাহাকে যিহারের কাফফারা দিতে হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তির প্রতি যিহারে ঈলা শামিল করা হইবে না। কিন্তু সেই লোক যদি স্ত্রীর ক্ষতি সাধনকারী হয়; যিহার হইতে ফিরিবার ইচ্ছা তাহার না থাকে তবে উহা স্বতন্ত্র ব্যাপার।
রেওয়ায়ত ২৩. হিশাম ইবন উরওয়া (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি জনৈক লোককে উরওয়া ইবন যুবায়র (রহঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিতে শুনিয়াছেন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে নিজের স্ত্রীকে বলিয়াছে, “তুমি বাঁচিয়া থাকা পর্যন্ত তোমার উপর যে কোন স্ত্রীলোককে আমি বিবাহ করি, সে আমার জন্য আমার জননীর পিঠের তুল্য।” উরওয়া ইবন যুবায়র (রহঃ) বললেনঃ এই উক্তির জন্য একটি ক্রীতদাসকে আযাদ করিলেই যথেষ্ট হইবে।
রেওয়ায়ত ২৪. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি ইবন শিহাব (রহঃ)-কে দাসের যিহার সম্পর্কে প্রশ্ন করিয়াছেন। তিনি বলিলেনঃ ক্রীতদাসের যিহার আযাদ ব্যক্তির যিহারের মতো। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহার উদ্দেশ্য হইতেছে যিহারের দ্বারা আযাদ ব্যক্তির উপর যাহা বৰ্তাইবে ক্রীতদাসের উপরও তাহাই বর্তাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসের যিহার তাহার উপর ওয়াজিব হইবে। যিহারের ব্যাপারে ক্রীতদাস দুই মাস সিয়াম পালন করিবে। যে ক্রীতদাস নিজের স্ত্রীর সহিত যিহার করিয়াছে, সে উহার উপর ঈলা ঢুকাইতে পারবে না, কারণ সে যিহারের কাফফারা রোযা পালন করিলে তাহার রোযা হইতে অবকাশ পাওয়ার পূর্বেই স্ত্রীর উপর ঈলা'-এর তালাক প্রযাজ্য হইবে (কারণ, তাহার মতে ক্রীতদাসের ঈলার সময় দুই মাস)।
হাদিস 1179 — Muwatta Malik 29:3
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ فِي بَرِيرَةَ ثَلاَثُ سُنَنٍ فَكَانَتْ إِحْدَى السُّنَنِ الثَّلاَثِ أَنَّهَا أُعْتِقَتْ فَخُيِّرَتْ فِي زَوْجِهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ " . وَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْبُرْمَةُ تَفُورُ بِلَحْمٍ فَقُرِّبَ إِلَيْهِ خُبْزٌ وَأُدْمٌ مِنْ أُدْمِ الْبَيْتِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلَمْ أَرَ بُرْمَةً فِيهَا لَحْمٌ " . فَقَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلَكِنْ ذَلِكَ لَحْمٌ تُصُدِّقَ بِهِ عَلَى بَرِيرَةَ وَأَنْتَ لاَ تَأْكُلُ الصَّدَقَةَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هُوَ عَلَيْهَا صَدَقَةٌ وَهُوَ لَنَا هَدِيَّةٌ " .
রেওয়ায়ত ২৫. কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত-আয়েশা উম্মুল মু'মিনীন (রাঃ) বলিয়াছেনঃ বরীরা (রাঃ) সম্পর্কে তিনটি আহকাম জারি করা হইয়াছিল। তিনটির সুন্নত বা আহকামের একটি ছিলঃ তাহাকে আযাদ করা হয় এবং তাহাকে আযাদীর পর স্বামীর সহিত থাকার ব্যাপারে ইখতিয়ার প্রদান করা হয়। (দ্বিতীয় সুন্নত এই) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে কর্তা আযাদ করিবে সেই সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করবে। (তৃতীয় সুন্নত এই)-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বরীরা (রাঃ)-এর গৃহে প্রবেশ করিলেন। তখন ডেকচিতে গোশত সিদ্ধ হইতেছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-র খিদমতে রুটি এবং গৃহে মওজুদ ব্যঞ্জন উপস্থিত করা হইল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ আমি কি ডেকচিতে গোশত সিদ্ধ হইতে দেখি নাই? (তবে আমার নিকট গোশত পেশ না করার কারণ কি?) তাহারা বলিলেনঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তবে উহা ছিল এমন গোশত যাহা বরীরাকে সদকা স্বরূপ দেওয়া হইয়াছিল। আপনি তো সদকার বস্তু আহার করেন না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, উহা বীরার জন্য ছিল সদকা কিন্তু (বরীরা মালিক হওয়ার পর) উহা আমাদের জন্য হইতেছে হাদিয়া।