Qurani·قرآني
বাংলা

তালাক

122 হাদিস · #1150–1271

হাদিস 1180 — Muwatta Malik 29:4
Mauquf Sahih
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فِي الأَمَةِ تَكُونُ تَحْتَ الْعَبْدِ فَتَعْتِقُ إِنَّ الأَمَةَ لَهَا الْخِيَارُ مَا لَمْ يَمَسَّهَا ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَإِنْ مَسَّهَا زَوْجُهَا فَزَعَمَتْ أَنَّهَا جَهِلَتْ أَنَّ لَهَا الْخِيَارَ فَإِنَّهَا تُتَّهَمُ وَلاَ تُصَدَّقُ بِمَا ادَّعَتْ مِنَ الْجَهَالَةِ وَلاَ خِيَارَ لَهَا بَعْدَ أَنْ يَمَسَّهَا ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৬. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেনঃ কোন ক্রীতদাসী কোন ক্রীতদাসের স্ত্রী থাকিলে অতঃপর সেই ক্রীতদাসীকে (মালিক কর্তৃক) আযাদ করা হইলে তবে স্বামী তাহার সহিত সহবাস না করা পর্যন্ত (বিবাহে থাকা না থাকার ব্যাপারে) ক্রীতদাসীর ইখতিয়ার থাকিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি তাহার স্বামী তাহার সহিত সহবাস করার পরে সে ধারণা করে যে, ইখতিয়ারের সম্পর্কে সে অজ্ঞ ছিল তবে তাহাকে সত্যবাদিনী মনে করা হইবে না, তাহার অজ্ঞতার দাবি গ্রহণযোগ্য হইবে না, সহবাসের পর তাহার ইখতিয়ারও অবশিষ্ট থাকিবে না।
হাদিস 1181 — Muwatta Malik 29:5
Mauquf Daif
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ مَوْلاَةً، لِبَنِي عَدِيٍّ يُقَالُ لَهَا زَبْرَاءُ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ عَبْدٍ وَهِيَ أَمَةٌ يَوْمَئِذٍ فَعَتَقَتْ قَالَتْ فَأَرْسَلَتْ إِلَىَّ حَفْصَةُ زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَدَعَتْنِي فَقَالَتْ إِنِّي مُخْبِرَتُكِ خَبَرًا وَلاَ أُحِبُّ أَنْ تَصْنَعِي شَيْئًا إِنَّ أَمْرَكِ بِيَدِكِ مَا لَمْ يَمْسَسْكِ زَوْجُكِ فَإِنْ مَسَّكِ فَلَيْسَ لَكِ مِنَ الأَمْرِ شَىْءٌ ‏.‏ قَالَتْ فَقُلْتُ هُوَ الطَّلاَقُ ثُمَّ الطَّلاَقُ ثُمَّ الطَّلاَقُ ‏.‏ فَفَارَقَتْهُ ثَلاَثًا ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৭. উরওয়া ইবন যুবায়র (রহঃ) হইতে বর্ণিত, বনী আদী (بنى عدى) কর্তৃক আযাদীপ্রাপ্ত জনৈক ক্রীতদাসী যাহার নাম যাবরা ছিল, সে উরওয়া ইবন যুবায়রের নিকট ব্যক্ত করিয়াছে যে, সে জনৈক ক্রীতদাসের স্ত্রী ছিল তখন সে (নিজেও) ক্রীতদাসী ছিল। পরে তাহাকে মুক্তি প্রদান করা হয়। সে বলিল, অতঃপর নবীপত্নী হাফসা (রাঃ) আমাকে ডাকিয়া পাঠাইলেন এবং বলিলেনঃ আমি তোমাকে একটি সংবাদ বলিব, তুমি তাড়াতাড়ি কোন সিদ্ধান্ত নিবে তাহা আমি পছন্দ করি না। তোমার স্বামী তোমার সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত তোমার অধিকার তোমারই উপর ন্যস্ত থাকিবে। তবে তোমার স্বামী তোমার সহিত মিলিত হইলে তোমার কোন অধিকার থাকিবে না। সে বলিল, ইহার উত্তরে আমি বলিলাম, আমি তাহাকে তালাক দিলাম, পুনরায় তালাক, পুনরায় তালাক, তাহাকে তিন তালাক দিয়া পরিত্যাগ করিল।
হাদিস 1182 — Muwatta Malik 29:6
Maqtu Daif
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ قَالَ أَيُّمَا رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً وَبِهِ جُنُونٌ أَوْ ضَرَرٌ فَإِنَّهَا تُخَيَّرُ فَإِنْ شَاءَتْ قَرَّتْ وَإِنْ شَاءَتْ فَارَقَتْ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ فِي الأَمَةِ تَكُونُ تَحْتَ الْعَبْدِ ثُمَّ تَعْتِقُ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا أَوْ يَمَسَّهَا إِنَّهَا إِنِ اخْتَارَتْ نَفْسَهَا فَلاَ صَدَاقَ لَهَا وَهِيَ تَطْلِيقَةٌ وَذَلِكَ الأَمْرُ عِنْدَنَا ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৯. মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ক্রীতদাসী কোন ক্রীতদাসের অধীনে থাকা অবস্থায় তাহার সঙ্গে সঙ্গম বা তাহাকে স্পর্শ করার পূর্বে স্বাধীন হইয়া যায় এবং নিজের স্বাধীন অধিকার নিজে গ্রহণ করিয়া লয় তবে সে মোহর পাইবে না। আর ইহা এক তালাক বলিয়া গণ্য হইবে। মাসয়ালা আমাদের নিকটও তাহাই।
হাদিস 1183 — Muwatta Malik 29:7
Maqtu Sahih
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ إِذَا خَيَّرَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ فَاخْتَارَتْهُ فَلَيْسَ ذَلِكَ بِطَلاَقٍ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَذَلِكَ أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ فِي الْمُخَيَّرَةِ إِذَا خَيَّرَهَا زَوْجُهَا فَاخْتَارَتْ نَفْسَهَا فَقَدْ طَلُقَتْ ثَلاَثًا وَإِنْ قَالَ زَوْجُهَا لَمْ أُخَيِّرْكِ إِلاَّ وَاحِدَةً فَلَيْسَ لَهُ ذَلِكَ ‏.‏ وَذَلِكَ أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُهُ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَإِنْ خَيَّرَهَا فَقَالَتْ قَدْ قَبِلْتُ وَاحِدَةً وَقَالَ لَمْ أُرِدْ هَذَا وَإِنَّمَا خَيَّرْتُكِ فِي الثَّلاَثِ جَمِيعًا أَنَّهَا إِنْ لَمْ تَقْبَلْ إِلاَّ وَاحِدَةً أَقَامَتْ عِنْدَهُ عَلَى نِكَاحِهَا وَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ فِرَاقًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩০. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন যে, যখন কোন পুরুষ তাহার স্ত্রীকে অধিকার প্রদান করে এবং স্ত্রী নিজেকেই গ্রহণ করে তাহা হইলে ইহা তালাক বলিয়া গণ্য হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই উত্তম। মালিক (রহঃ) অধিকার প্রাপ্ত মহিলা সম্পর্কে বলেনঃ যখন কোন মহিলাকে তাহার স্বামী অধিকার প্রদান করে, অতঃপর সেই স্ত্রী নিজ সত্তাকেই গ্রহণ করে তাহা হইলে ইহা তিন তালাক বলিয়া গণ্য হইবে। আর যদি স্বামী বলে যে, তোমাকে শুধুমাত্র এক তালাকের অধিকার প্রদান করিতেছি, তবে এইরূপ কথা বলার অধিকার স্বামীর নাই। মালিক (রহঃ) বলেন, ইহাই উত্তম এই ব্যাপারে যাহা আমি শুনিয়াছি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি স্ত্রীকে অধিকার প্রদান করে, অতঃপর স্ত্রী বলিল, আমি এক তালাক গ্রহণ করিলাম এবং স্বামী বলিলঃ আমি এইরূপ ইচ্ছা করি নাই স্বরং আমি তোমাকে পূর্ণ তিন তালাকের অধিকার প্রদান করিয়াছি। স্ত্রী যদি এক তালাক ব্যতীত গ্রহণ না করে তবে সে এই স্বামীর বিবাহে থাকিবে। এই অবস্থায় বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিবে না।
হাদিস 1184 — Muwatta Malik 29:8
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ عَنْ حَبِيبَةَ بِنْتِ سَهْلٍ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ ثَابِتِ بْنِ قَيْسِ بْنِ شَمَّاسٍ وَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ إِلَى الصُّبْحِ فَوَجَدَ حَبِيبَةَ بِنْتَ سَهْلٍ عِنْدَ بَابِهِ فِي الْغَلَسِ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَنْ هَذِهِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَتْ أَنَا حَبِيبَةُ بِنْتُ سَهْلٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ مَا شَأْنُكِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ لاَ أَنَا وَلاَ ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ ‏.‏ لِزَوْجِهَا فَلَمَّا جَاءَ زَوْجُهَا ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ هَذِهِ حَبِيبَةُ بِنْتُ سَهْلٍ قَدْ ذَكَرَتْ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَذْكُرَ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَتْ حَبِيبَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كُلُّ مَا أَعْطَانِي عِنْدِي ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ ‏"‏ خُذْ مِنْهَا ‏"‏ ‏.‏ فَأَخَذَ مِنْهَا وَجَلَسَتْ فِي بَيْتِ أَهْلِهَا ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩১. হাবীব বিনত সাহল আনসারী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি সাবিত ইবন কায়স ইবন সাম্মাসের স্ত্রী ছিলেন। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাযের জন্য বাহির হইলেন। এমন সময় হাবীবা বিনত সাহালকে প্রভাতে আপন গৃহের দ্বারে উপস্থিত পাইলেন। রাসূলুল্লাৰ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, কে হে? তিনি বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি হাবীবা বিনত সাহল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ কি ব্যাপার তোমার? তিনি বলিলেনঃ আমি আর আমার স্বামী সাবিত ইবন কায়স-এর সঙ্গে একত্রে থাকিতে চাহি না। তাহার স্বামী সাবিত ইবন কায়স আসিলে পর রাসূলাল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে বলিলেনঃ হাবীব বিনত সাহল আল্লাহর ইচ্ছায় তোমার বিষয়ে যাহা বলার বলিয়াছে। হাবীবা বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে যাহা আমাকে দিয়াছে উহা আমার নিকট রহিয়াছে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাবিতকে উদ্দেশ করিয়া বলিলেনঃ হাবীবা হইতে (বাগান) গ্রহণ কর। সে তাহার নিকট হইতে উহা গ্রহণ করিল এবং হাবীবা তাহার পরিজনের নিকট চলিয়া গেলেন।
হাদিস 1185 — Muwatta Malik 29:9
Mauquf Daif
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ مَوْلاَةٍ، لِصَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ ‏.‏ أَنَّهَا اخْتَلَعَتْ مِنْ زَوْجِهَا بِكُلِّ شَىْءٍ لَهَا فَلَمْ يُنْكِرْ ذَلِكَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ فِي الْمُفْتَدِيَةِ الَّتِي تَفْتَدِي مِنْ زَوْجِهَا أَنَّهُ إِذَا عُلِمَ أَنَّ زَوْجَهَا أَضَرَّ بِهَا وَضَيَّقَ عَلَيْهَا وَعُلِمَ أَنَّهُ ظَالِمٌ لَهَا مَضَى الطَّلاَقُ وَرَدَّ عَلَيْهَا مَالَهَا ‏.‏ قَالَ فَهَذَا الَّذِي كُنْتُ أَسْمَعُ وَالَّذِي عَلَيْهِ أَمْرُ النَّاسِ عِنْدَنَا ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ لاَ بَأْسَ بِأَنْ تَفْتَدِيَ الْمَرْأَةُ مِنْ زَوْجِهَا بِأَكْثَرَ مِمَّا أَعْطَاهَا ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩২. সাফিয়্যা বিনত আবু উবাইদ-এর জনৈকা ক্রীতদাসী যাহাকে মুক্তি দেওয়া হইয়াছে, সে তাহার স্বামী হইতে (খুলা) বিচ্ছেদ গ্রহণ করিয়াছে। তাহার নিকট যে সম্পদ ছিল উহার বিনিময়ে আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) ইহার প্রতি অস্বীকৃতি জানাইলেন না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে স্ত্রী (বিচ্ছেদের বিনিময়ে) স্বামীকে মাল প্রদান করিয়াছে, যদি প্রকাশ পায় যে, স্বামী তাহার ক্ষতি সাধন করিয়াছে এবং (দুর্ব্যবহার করিয়া মাল প্রদানে) তাহাকে বাধ্য করিয়াছে। এবং আরও প্রকাশিত হয় যে, সে স্ত্রীর প্রতি জুলুমকারী ছিল, তবে তালাক প্রযোজ্য হইবে এবং স্ত্রীর মাল স্ত্রীকে ফেরত দেওয়া হইবে। মালিক (রহঃ) বলেন, ইহা আমি শুনিয়াছি, আমাদের মতে ইহাই লোকের মধ্যে প্রচলিত নিয়ম। মালিক (রহঃ)-এর মতে স্বামী যাহা দিয়াছে তাহা হইতে অধিক মাল বিচ্ছেদের ফিদয়া স্বরূপ স্ত্রী কর্তৃক প্রদান করিতে কোন ক্ষতি নাই।
হাদিস 1186 — Muwatta Malik 29:10
Mauquf Sahih
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ رُبَيِّعَ بِنْتَ مُعَوِّذِ بْنِ عَفْرَاءَ، جَاءَتْ هِيَ وَعَمُّهَا إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَأَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا اخْتَلَعَتْ مِنْ زَوْجِهَا فِي زَمَانِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَبَلَغَ ذَلِكَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ فَلَمْ يُنْكِرْهُ ‏.‏ وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ عِدَّتُهَا عِدَّةُ الْمُطَلَّقَةِ ‏.‏
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ رُبَيِّعَ بِنْتَ مُعَوِّذِ بْنِ عَفْرَاءَ، جَاءَتْ هِيَ وَعَمُّهَا إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَأَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا اخْتَلَعَتْ مِنْ زَوْجِهَا فِي زَمَانِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَبَلَغَ ذَلِكَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ فَلَمْ يُنْكِرْهُ ‏.‏ وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ عِدَّتُهَا عِدَّةُ الْمُطَلَّقَةِ ‏.‏
হাদিস 1187 — Muwatta Malik 29:11
Maqtu Daif
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ، وَابْنَ، شِهَابٍ كَانُوا يَقُولُونَ عِدَّةُ الْمُخْتَلِعَةِ مِثْلُ عِدَّةِ الْمُطَلَّقَةِ ثَلاَثَةُ قُرُوءٍ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ فِي الْمُفْتَدِيَةِ إِنَّهَا لاَ تَرْجِعُ إِلَى زَوْجِهَا إِلاَّ بِنِكَاحٍ جَدِيدٍ فَإِنْ هُوَ نَكَحَهَا فَفَارَقَهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا لَمْ يَكُنْ لَهُ عَلَيْهَا عِدَّةٌ مِنَ الطَّلاَقِ الآخَرِ وَتَبْنِي عَلَى عِدَّتِهَا الأُولَى ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ إِذَا افْتَدَتِ الْمَرْأَةُ مِنْ زَوْجِهَا بِشَىْءٍ عَلَى أَنْ يُطَلِّقَهَا فَطَلَّقَهَا طَلاَقًا مُتَتَابِعًا نَسَقًا فَذَلِكَ ثَابِتٌ عَلَيْهِ فَإِنْ كَانَ بَيْنَ ذَلِكَ صُمَاتٌ فَمَا أَتْبَعَهُ بَعْدَ الصُّمَاتِ فَلَيْسَ بِشَىْءٍ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩৩. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রুবাইয়ে বিনত মুয়াব্বিয ইবন আফরা (রাঃ) তাহার ফুফুসহ আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) সমীপে উপস্থিত হইলেন এবং তাহাকে জ্ঞাত করিলেন যে, তিনি তাহার স্বামীর নিকট হইতে খুলা তালাক গ্রহণ করিয়াছেন। উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর খিলাফতকালে উসমান ইবন আফফান (রাঃ) উহা অবগত হইলেন এবং উহা বহাল রাখিলেন। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিলেনঃ খুলা গ্রহণ করিবার ইদ্দত তালাক প্রাপ্তা স্ত্রীলোকের ইদ্দতের মতো। মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যিব, সুলায়মান ইবন ইয়াসার ও ইবন শিহাব (রহঃ) তাহারা সকলেই বলিতেনঃ খুলা' তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীলোকের ইদ্দত তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীলোকের মতো তিন ঋতু। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে স্ত্রীলোক মালের বিনিময়ে তালাক গ্রহণ করিয়াছে, সে নূতন বিবাহ ছাড়া স্বামীর নিকট যাইবে না। যদি স্বামী সেই স্ত্রীলোককে বিবাহ করে এবং স্পর্শ করার পূর্বে তালাক প্রদান করে তবে স্ত্রীলোকের জন্য পরবর্তী তালাকের ইদ্দত পালন করিতে হইবে না। প্রথম তালাকের ইদ্দতের সময় পূর্ণ করিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে যাহা আমি শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই সর্বোত্তম। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে স্ত্রী স্বামীকে এই শর্তে মাল প্রদান করিল যে, সে তাহাকে তালাক দিবে; অতঃপর সে একাধারে (তিন তালাক) প্রয়োগ করিল, তবে এই সব তালাকই প্রযোজ্য হইবে। আর যদি তালাকের মাঝখানে নীরবতা পাওয়া যায়, তবে নীরবতার পর যেই তালাক দিয়াছে উহা গ্রহণযোগ্য হইবে না।
হাদিস 1188 — Muwatta Malik 29:12
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عُوَيْمِرًا الْعَجْلاَنِيَّ جَاءَ إِلَى عَاصِمِ بْنِ عَدِيٍّ الأَنْصَارِيِّ فَقَالَ لَهُ يَا عَاصِمُ أَرَأَيْتَ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ سَلْ لِي يَا عَاصِمُ عَنْ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فَسَأَلَ عَاصِمٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَكَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسَائِلَ وَعَابَهَا حَتَّى كَبُرَ عَلَى عَاصِمٍ مَا سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَجَعَ عَاصِمٌ إِلَى أَهْلِهِ جَاءَهُ عُوَيْمِرٌ فَقَالَ يَا عَاصِمُ مَاذَا قَالَ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عَاصِمٌ لِعُوَيْمِرٍ لَمْ تَأْتِنِي بِخَيْرٍ قَدْ كَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسْأَلَةَ الَّتِي سَأَلْتُهُ عَنْهَا ‏.‏ فَقَالَ عُوَيْمِرٌ وَاللَّهِ لاَ أَنْتَهِي حَتَّى أَسْأَلَهُ عَنْهَا ‏.‏ فَأَقْبَلَ عُوَيْمِرٌ حَتَّى أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسْطَ النَّاسِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ قَدْ أُنْزِلَ فِيكَ وَفِي صَاحِبَتِكَ فَاذْهَبْ فَأْتِ بِهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ سَهْلٌ فَتَلاَعَنَا وَأَنَا مَعَ النَّاسِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا فَرَغَا مِنْ تَلاَعُنِهِمَا قَالَ عُوَيْمِرٌ كَذَبْتُ عَلَيْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَمْسَكْتُهَا ‏.‏ فَطَلَّقَهَا ثَلاَثًا قَبْلَ أَنْ يَأْمُرَهُ رَسُولُ اللَّهِ ‏.‏ وَقَالَ مَالِكٌ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَكَانَتْ تِلْكَ بَعْدُ سُنَّةَ الْمُتَلاَعِنَيْنِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩৪. আসিম ইবন আদী আনসার (রাঃ)-এর নিকট ওয়াইমির আজলানী (রাঃ) আগমন করিলেন এবং তাহাকে বললেনঃ হে আসিম! এক ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর সহিত ভিন্ন ব্যক্তিকে (অবৈধ কর্মে লিপ্ত) পাইল। সে ঐ ব্যক্তিকে বধ করিবে কি? যাহার ফলে প্রতিশোধ স্বরূপ (কিসাস) নিহত ব্যক্তির সম্প্রদায়ের লোকেরা তাহাকে হত্যা করিবে অথবা অন্য কিরূপ করিবে? হে আসিম; আপনি এই বিষয়ে আমার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট প্রশ্ন করুন। আসিম এই ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রশ্ন করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সকল প্রশ্নকে অপছন্দ করিলেন এবং তজ্জন্য তাহাকে তিরস্কার করিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে যাহা শুনিলেন উহা আসিমের নিকট অতি ভারী মনে হইল। আসিম যখন পরিজনের নিকট প্রত্যাবর্তন করিলেন, তাহার নিকট তখন উওয়াইমির উপস্থিত হইলেন এবং বলিলেন, হে আসিম! রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে কি বলিয়াছেন? আসিম বলিলেনঃ আপনি আমার নিকট কোন ভাল বিষয় নিয়া আসেন নাই। আমি যে মাসআলার বিষয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রশ্ন করিয়াছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম না পছন্দ করিয়াছেন। উওয়াইমির বলিলেনঃ এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে প্রশ্ন না করিয়া আমি ক্ষান্ত হইব না। তারপর উওয়াইমির অগ্রসর হইলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমীপে উপস্থিত হইলেন এবং লোকের মাঝখানে আসন গ্রহণ করিলেন। তারপর বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনি কি হুকুম দেন সেই ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর সহিত অন্য লোককে দেখিতে পাইল, সে কি উক্ত ব্যক্তিকে হত্যা করিবে? ফলে, কিসাসস্বরূপ লোকেরা তাহাকেও হত্যা করিবে? অথবা সে ব্যক্তি অন্য কিরূপ করিবে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তোমার এবং তোমার স্ত্রীর বিষয়ে আয়াত নাযিল হইয়াছে, তুমি যাও তাহাকে নিয়া আস। সাহল বলেনঃ তারপর তাহারা উভয়ে লি’আন করিল, অন্য লোকজনের সাথে আমিও তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম। তাহারা উভয়ে লি'আন হইতে অবসর গ্রহণ করার পর উওয়াইমির বলিলেন, এই ঘটনার পর যদি আমি এই স্ত্রীকে রাখি তবে আমি তাহার সম্বন্ধে মিথ্যাবাদী বলিয়া গণ্য হইব। তারপর স্ত্রীকে তিন তালাক দিলেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে কোন নির্দেশ দেওয়ার পূর্বে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইবন শিহাব (রহঃ) বলিয়াছেন, এই ঘটনার পর লি'আনকারীদের জন্য এক হুকুম নির্ধারিত রহিয়াছে।
হাদিস 1189 — Muwatta Malik 29:13
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلاً، لاَعَنَ امْرَأَتَهُ فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَانْتَفَلَ مِنْ وَلَدِهَا فَفَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُمَا وَأَلْحَقَ الْوَلَدَ بِالْمَرْأَةِ ‏.‏
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلاً، لاَعَنَ امْرَأَتَهُ فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَانْتَفَلَ مِنْ وَلَدِهَا فَفَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُمَا وَأَلْحَقَ الْوَلَدَ بِالْمَرْأَةِ ‏.‏
← আগের সংগ্রহে ফিরে যান পরের →

শুধুমাত্র সহিহ ও হাসান হাদিস দেখানো হয়।