রেওয়ায়ত ৩৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাঁহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, যে স্ত্রীলোক ও তাহার স্বামীর মধ্যে লি'আন অনুষ্ঠিত হইয়াছে সেই স্ত্রীলোকের সন্তান এবং জারজ সন্তানের ব্যাপারে উরওয়া ইবন যুবায়র (রহঃ) বলিতেনঃ সেই সন্তানের মৃত্যু হইলে তাহার মাতা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী তাহার নির্ধারিত অংশ পাইবে এবং তাহার ভগ্নিগণও তাহাদের অংশ পাইবে। অবশিষ্ট যাহা থাকে তাহা পাইবে তাহার জননীকে যে আযাদ করিয়াছে সে, যদি সে আযাদ স্ত্রীলোক হয়। আর যদি সে স্ত্রীলোক আরবী (আযাদ) হয় তবে সে তাহার অংশ পাইবে। এবং তাহার ভগ্নিগণও তাহদের অংশ পাইবে। অবশিষ্ট মাল মুসলিমদের কল্যাণের জন্যে (বায়তুলমালে) থাকিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সুলায়মান ইবন ইয়াসারের নিকট হইতেও আমার নিকট অনুরূপ রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের শহরবাসী আলিমগণকেও আমি এই ফায়সালার উপর পাইয়াছি।
রেওয়ায়ত ৩৭. মুহাম্মদ ইবন ইয়াস ইবন বুকাইর (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি সহবাসের পূর্বে স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়াছে, তারপর সেই স্ত্রীকে সে বিবাহ করার ইচ্ছা করিল। তাই সে ফতোয় জিজ্ঞাসা করিতে আসিল। ফতোয়া জিজ্ঞাসা করার জন্য আমিও তাহার সহিত গমন করিলাম। অতঃপর এই বিষয়ে আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস ও আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর নিকট সে জিজ্ঞাসা করিল। তাহারা উভয়ে বলিলেনঃ তোমার জন্য উহাকে বিবাহ করার কোন পথ দেখি না, যতক্ষণ না তুমি ছাড়া অন্য স্বামীর পাণি সে গ্রহণ করে। সে বলিলঃ আমি উহাকে একত্রে তিন তালাক দিয়াছি। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলিলেন, তোমার হাতে এই ব্যাপারে যতদূর ক্ষমতা ছিল তুমি উহা পূর্ণভাবে প্রয়োগ করিয়া ফেলিয়াছ।
রেওয়ায়ত ৩৮. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রাঃ) এর নিকট এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করিতে আসিল, যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বে তিন তালাক দিয়াছে। আতা বলিলেন, কুমারীর জন্য হইতেছে এক তালাক। তখন আবদুল্লাহ্ ইবন আমর আমাকে বলিলঃ তুমি তো হইলে একজন বক্তা (ফতোয়া দেওয়া তোমার কাজ নহে)। এক তালাক তাহাকে স্বামী হইতে পৃথক করিবে এবং তিন তালাক তাহাকে হারাম করিবে যাবৎ সে (স্ত্রী) অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ না করে।
রেওয়ায়ত ৩৯. মু'আবিয়া ইবন আবি আইয়াশ আনসারী (রাঃ) আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র (রাঃ) ও আসিম ইবন উমর (রাঃ)-এর সহিত বসা ছিলেন। এমন সময় তাহদের নিকট মুহাম্মদ ইবন ইয়াস ইবন বুকাইর উপস্থিত হইলেন এবং বলিলেনঃ এক বেদুঈন ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে সঙ্গমের পূর্বে তিন তালাক দিয়াছে সেই ব্যাপারে আপনাদের অভিমত কি? আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র বলিলেনঃ এই বিষয়ে আমাদের নিকট কোন রেওয়ায়ত পৌছে নাই, তাই তুমি আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস ও আবু হুরায়রা (রাঃ)-র নিকট গমন কর এবং তাঁহাদের উভয়ের নিকট প্রশ্ন কর। আমি তাহদের উভয়কে আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ)-র নিকট দেখিয়া আসিয়াছি। তাহাদের নিকট হইতে ফতোয়া জিজ্ঞাসা করার পর আমার কাছে আসিয়া বলিয়া যাইবে। মুহাম্মদ ইবন ইয়াস সেখানে গেলেন এবং উভয়কে প্রশ্ন করিলেন। ইবন আব্বাস আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে বলিলেন, হে আবূ হুরায়রা! আপনি ফতোয়া বলুন। আপনার নিকট কঠিন মাসআলা উপস্থিত হইয়াছে। আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেনঃ এক তালাক স্ত্রীকে স্বামী হইতে পৃথক করিবে (বিচ্ছেদ ঘটাইবে), তিন তালাক তাহাকে হারাম করিয়া দিবে যাবৎ সে অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ না করে। ইবন আব্বাসও অনুরূপ বলিলেন। মালিক (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্তও অনুরূপ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ অকুমারী (ثيبة) নারীর কেহ মালিক হইলে এবং উহার সহিত সংগত না হইলে তবে তালাকের ব্যাপারে তাহারও কুমারীর মতো মাসআলা হইবে। এক তালাক তাহাকে পৃথক করিবে এবং তিন তালাক তাহাকে হারাম করিবে যাবৎ সে অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ না করে।
রেওয়ায়ত ৪০. আবু সালমা ইবন আবদুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ) তাঁহার স্ত্রীকে আল-বাত্তা (পূর্ণ) তালাক প্রদান করিলেন। তখন তিনি পীড়িত ছিলেন। সেই স্ত্রীকে উসমান (রাঃ) আবদুর রহমান ইবন আওফের সম্পদ হইতে মীরাস দিলেন ইদ্দত সমাপ্তির পর।
রেওয়ায়ত ৪২. মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি রবী"আ ইবন আবী আবদির রহমানকে বলিতে শুনিয়াছেন, তিনি বলেনঃ আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছিয়াছে যে, ‘আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ)-এর এক স্ত্রী তাহার নিকট তালাক চাহিলেন। তিনি বলেনঃ তোমার মাসিক ঋতুর পর তুমি যখন পবিত্র হও তখন আমাকে অবগত করিও। তাহার ঋতু আসার পূর্বে আবদুর রহমান ইবন আওফ অসুস্থ হইয়া পড়িলেন। সে যখন ঋতু হইতে পবিত্র হইল তখন আবদুর রহমান ইবন আওফকে খবর দিল। তিনি স্ত্রীকে আল-বাত্তা তালাক দিলেন অথবা এমন তালাক দিলেন যেই তালাক দেওয়ার পরে আর কোন তালাক দেওয়ার অবকাশ থাকে না। ‘আবদুর রহমান ইবন আওফ তখন পীড়িত ছিলেন। অতঃপর ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পর উসমান (রাঃ) আবদুর রহমান ইবন আওফের সম্পদ হইতে স্ত্রীকে মীরাস দিলেন।
রেওয়ায়ত ৪৩. মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন হাবান (রহঃ) বলেনঃ আমার দাদা হাব্বানের ছিল দুই পত্নী। একজন হাশিমী বংশের, অপর জন আনসার গোত্রের। তারপর তিনি আনসারী স্ত্রীকে তালাক দিলেন। তখন সেই স্ত্রী সন্তানকে দুধপান করাইতেছিল। এইরূপে এক বৎসর অতিবাহিত হইলে পর হাব্বান ইন্তিকাল করেন। তাহার স্ত্রী আর ঋতুমতী হয় নাই। স্ত্রী দাবি করিল যে, আমি তাহার মীরাস (সম্পদের অংশ) পাইব। আমার মাসিক ঋতু আসে নাই। বিবাদ লইয়া উভয় পত্নী উসমান ইবন আফফান (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হইল। উসমান (রাঃ) আনসারী পত্নীর জন্য মীরাস প্রদানের ফয়সালা দিলেন। ইহাতে হাশিমীয় পত্নী উসমান (রাঃ)-কে দোষারোপ[1] করিলেন। তিনি বলিলেনঃ ইহা তোমার চাচাতো ভাই-এর ফয়সালা। তিনি আমাদিগকে ইহার ইঙ্গিত দিয়াছেন। চাচাতো ভাই হইলেন ‘আলী ইবন আবী তালিব (রাঃ)।
রেওয়ায়ত ৪৪. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি ইবন শিহাবকে বলিতে শুনিয়াছেন, কোন ব্যক্তি পীড়িতাবস্থায় স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে তবে সে (স্বামীর) মীরাস পাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কোন ব্যক্তি তাহার পীড়িত অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেয় তাহার সহিত সংগত হওয়ার পূর্বে তবে সে স্ত্রী মহরের অর্ধেক পাইবে এবং সে (স্বামীর) মীরাস পাইবে, তাহার ইদ্দত পালন করিতে হইবে না। আর যদি সে স্ত্রীর সহিত সংগত হইয়া থাকে তারপর তালাক দেয় তবে সে পূর্ণ মহর-এর হকদার হইবে এবং মীরাসও পাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কুমারী এবং অকুমারী এই ব্যাপারে আমাদের মতে সমান।