রেওয়ায়ত ৪৫. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুর রহমান ইবন আওফ তাহার এক স্ত্রীকে তালাক দিলেন এবং এক ক্রীতদাসী তাহাকে মুত’আ স্বরূপ দান করিলেন। নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেন, প্রত্যেক তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী মুত’আ পাইবে। তবে যে স্ত্রীর মহর ধার্য করা হইয়াছে এবং তাহাকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দেওয়া হইয়াছে, সে ধার্যকৃত মহরের অর্ধেক মাত্র পাইবে।
রেওয়ায়ত ৪৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইবন শিহাব (রহঃ) বলিতেন প্রত্যেক তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর জন্য মুত’আ রহিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কাশিম মুহাম্মদ (রহঃ) হইতেও অনুরূপ রেওয়ায়ত আমার নিকট পৌছিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট মুত'আর ব্যাপারে কম-বেশি কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ নাই।
হাদিস 1203 — Muwatta Malik #1203
Maqtu Daif
হাদিস 1204 — Muwatta Malik 29:1
Mauquf Sahih
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ نُفَيْعًا، مُكَاتَبًا كَانَ لأُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَوْ عَبْدًا لَهَا كَانَتْ تَحْتَهُ امْرَأَةٌ حُرَّةٌ فَطَلَّقَهَا اثْنَتَيْنِ ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يُرَاجِعَهَا فَأَمَرَهُ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَأْتِيَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ فَيَسْأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَلَقِيَهُ عِنْدَ الدَّرَجِ آخِذًا بِيَدِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ فَسَأَلَهُمَا فَابْتَدَرَاهُ جَمِيعًا فَقَالاَ حَرُمَتْ عَلَيْكَ حَرُمَتْ عَلَيْكَ .
রেওয়ায়ত ৪৭. সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত- নুফাঈ (نفيع) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্নী উম্মে সালমা (রাঃ) এর মুকাতব অথবা ক্রীতদাস ছিল; তাহার স্ত্রী ছিল আযাদ। সে উহাকে দুই তালাক দিয়া পুনরায় রুজু করার ইচ্ছা করিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী (রাঃ) তাহাকে উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর নিকট যাওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং এই বিষয়ে তাঁহার নিকট প্রশ্ন করিতে বলিলেন। যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ)-এর হাত ধরাবস্থায় মসজিদের সিড়ির নিকটে তাঁহার সাক্ষাত পাইল। সে (এই মাস'আলার ব্যাপারে) উভয়ের নিকট প্রশ্ন করিলে তাহারা উভয়ে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলেন। তোমার উপর হারাম হইয়াছে, তোমার উপর হারাম হইয়াছে (তাহার স্ত্রী তাহার উপর হারাম)।
হাদিস 1205 — Muwatta Malik 29:2
Mauquf Sahih
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ نُفَيْعًا، مُكَاتَبًا كَانَ لأُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم طَلَّقَ امْرَأَةً حُرَّةً تَطْلِيقَتَيْنِ فَاسْتَفْتَى عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ فَقَالَ حَرُمَتْ عَلَيْكَ .
রেওয়ায়ত ৪৮. সাঈদ ইবন মুসায়্যিব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পত্নী উম্মে সালমা (রাঃ)-এর মুকাতব নুফাঈ তাহার আযাদ স্ত্রীকে দুই তালাক দিলেন, অতঃপর উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর নিকট ফতোয়া জিজ্ঞাসা করিলেন। উসমান (রাঃ) উত্তরে বলিলেন, তোমার জন্য হারাম হইয়াছে।
রেওয়ায়ত ৫০. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেন, কোন ক্রীতদাস স্ত্রীকে দুই তালাক প্রদান করিলে সে স্ত্রী তাহার জন্য হারাম হইবে যাবৎ দ্বিতীয় স্বামীর পাণি গ্রহণ না করিবে; (স্ত্রী) আযাদ হউক বা ক্রীতদাসী হউক। আর আযাদ স্ত্রীলোকের ইদ্দত হইতেছে তিন হায়য (মাসিক ঋতু), ক্রীতদাসীর ইদ্দত হইতেছে দুই হায়য।
রেওয়ায়ত ৫১. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেন, যে নিজের ক্রীতদাসকে বিবাহ করার অনুমতি দিয়াছে তাহার ক্রীতদাসের তালাকের ক্ষমতা থাকিবে, অন্যের হাতে তালাকের কোন ক্ষমতা থাকিবে না। তবে ক্রীতদাস ও ক্রীতদাসীর বাদীকে নিজের অধিকারে রাখাতে কোন দোষ নাই।
রেওয়ায়ত ৫২. সাঈদ ইবন মুসায়্যিব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেন, যেই স্ত্রীর স্বামী নিরুদ্দেশ-জানে না সে কোথায়, সে স্ত্রী চারি বৎসর অপেক্ষা করিবে। অতঃপর চারমাস দশদিন ইদ্দত পালন করিবে। তারপর অন্যত্র তাহার বিবাহ হালাল হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পর সে যদি বিবাহ করে তবে স্বামী তাহার সাথে সংগম করুক বা না করুক তাহার পূর্ববর্তী স্বামীর জন্য তাহাকে গ্রহণ করার কোন পথ নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহাই আমাদের সিদ্ধান্ত। আর বিবাহের পূর্বে তাহার সহিত প্রথম স্বামীর সাক্ষাত হইলে তবে তিনিই অধিক হকদার হইবেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কিছু লোক বলিয়া থাকে যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ প্রথম স্বামী আসিলে তাহাকে ইখতিয়ার দেওয়া হইবে (দ্বিতীয় স্বামী হইতে) মহর ফেরত লওয়া অথবা (মহর ফেরত না লইয়া) স্ত্রী ফেরত লওয়া। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) এই ধরনের ইখতিয়ার দিয়াছেন বলিয়া কিছু লোককে অস্বীকার করিতে পাইয়াছি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেন, স্বামী স্ত্রীর নিকট উপস্থিত নাই, এমন স্ত্রীকে স্বামী তালাক দিয়াছে। অতঃপর স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করিতে চাহিয়াছে। কিন্তু সে যে রুজু করিতে চাহিয়াছে এই খবর তাহার স্ত্রীর নিকট পৌছে নাই। শুধু তাহাকে তালাক দেওয়ার সংবাদই সে পাইয়াছে। তাই সে স্বামী গ্রহণ করিয়াছে। দ্বিতীয় স্বামী তাহার সহিত সংগত হউক না হউক প্রথম স্বামী যে তাহাকে তালাক দিয়াছিল তাহার পক্ষে স্ত্রীকে পাওয়ার আর কোন পথ নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে এবং নিরুদ্দেশের বিষয়ে আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহা আমার নিকট পছন্দনীয়।