حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ يُمْسِكْهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ ثُمَّ تَطْهُرَ ثُمَّ إِنْ شَاءَ أَمْسَكَ بَعْدُ وَإِنْ شَاءَ طَلَّقَ قَبْلَ أَنْ يَمَسَّ فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ أَنْ يُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ " .
রেওয়ায়ত ৫৩. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের যুগে ‘আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তাহার স্ত্রীকে তালাক দিলেন। তাহার স্ত্রী তখন ঋতুমতী, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) এই ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তাহাকে নির্দেশ দাও যেন সে স্ত্রীর দিকে প্রত্যাবর্তন করে, তারপর পবিত্রতা লাভ করা পর্যন্ত পুনরায় ঋতু আসা এবং উহা হইতে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত স্ত্রীকে এমনই রাখিবে। অতঃপর ইচ্ছা করিলে স্ত্রী হিসাবে রাখিবে অথবা ইচ্ছা করিলে সহবাসের পূর্বে তালাক দিবে। ইহাই সেই ইদ্দত যাহার প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া স্ত্রীদিগকে তালাক দেওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা নির্দেশ দিয়াছেন।
রেওয়ায়ত ৫৪. উরওয়া ইবন যুবায়র (রহঃ) হইতে বর্ণিত-হাফসা বিনত আবদির রহমান ইবন আবী বকর সিদ্দীক (রাঃ)-কে (তাহার স্বামী মুনজির ইবন যুবায়র কর্তৃক তাহাকে তালাক দেওয়ার পর) যখন তিনি তৃতীয় ঋতুতে প্রবেশ করিয়াছিলেন তখন তাহার স্বামীর গৃহ হইতে লইয়া যাওয়া হয়। ইবন শিহাব বলেনঃ আমর বিনত আবদির রহমানের নিকট এই ঘটনা উল্লেখ করা হইল। তিনি বলিলেনঃ উরওয়া ইবন যুবায়র (রাঃ) কি বলিয়াছেন অনেক লোক এই বিষয়ে আয়েশা (রাঃ)-এর সহিত বিতর্কে লিপ্ত হইয়াছেন। তাহারা বলিলেনঃ আল্লাহ তা'আলা কুরআনে ইরশাদ করিয়াছেন (ثلاثة قروء) (তিন কুরু) অর্থাৎ, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীগণ তিন কুরু (قروء) ঋতু (তুহর পর্যন্ত ইদ্দত পালন করিবে)। (উত্তরে) আয়েশা (রাঃ) বলিলেন, আপনারা ঠিকই বলিয়াছেন। কিন্তু আকরা اقراء এর অর্থ কি তাহা আপনারা জানেন কি? আকরা হইতেছে তুহর (ঋতুর পরের পবিত্রতা)।
রেওয়ায়ত ৫৫. ইবন শিহাব (রহঃ) বলেনঃ আবু বকর ইবন আবদির রহমান (রহঃ)-কে আমি বলিতে শুনিয়াছি, আমাদের ফকীহদের প্রত্যেককে আয়েশার উক্তির মতো এই ব্যাপারে কথা বলিতে শুনিয়াছি।
রেওয়ায়ত ৫৬. সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আহওয়াস (রাঃ) সিরিয়াতে ইন্তিকাল করিলেন। তখন তাহার স্ত্রী, যাহাকে তিনি পূর্বে তালাক দিয়াছিলেন, তৃতীয় ঋতুতে প্রবেশ করিয়াছিলেন। মু'আবিয়া ইবন আবী সুফিয়ান এই বিষয়ে প্রশ্ন করিয়া যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ)-এর নিকট পত্র লিখিলেন। যায়দ (রাঃ) (উত্তরে) তাহার নিকট লিখিলেন, স্ত্রী যদি তৃতীয় ঋতুতে প্রবেশ করে তবে সে স্বামী হইতে পৃথক হইয়া গিয়াছে। তাহার স্বামীও তাহা হইতে পৃথক হইয়াছে। সে স্বামীর মীরাস পাইবে না, তাহার স্বামীও তাহার মীরাস পাইবে না।
রেওয়ায়ত ৫৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, কাসিম ইবন মুহাম্মদ, সালিম ইবন আবদুল্লাহ, আবু বকর ইবন আবদির রহমান, সুলায়মান ইবন ইয়াসার ও ইবন শিহাব (রহঃ) তাহারা সকলে বলিতেন-তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীলোক তৃতীয় ঋতুস্রাবে প্রবেশ করিলে সে স্বামী হইতে পৃথক হইয়া যাইবে। তাহাদের মধ্যে মীরাস চলিবে না, আর স্বামীর জন্য স্ত্রীর দিকে রুজু করা চলিবে না।
রেওয়ায়ত ৫৮. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেন, কোন ব্যক্তি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর স্ত্রী তৃতীয় ঋতুস্রাবে প্রবেশ করিলে স্বামী হইতে পৃথক হইয়া যাইবে এবং স্বামী তাহা হইতে পৃথক হইয়া যাইবে। স্ত্রী স্বামীর মীরাস পাইবে না এবং স্বামীও স্ত্রীর মীরাস পাইবে না। মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত অনুরূপ।
রেওয়ায়ত ৫৯. কাসিম ইবন মুহাম্মদ ও সালিম ইবন আবদিল্লাহ্ তাহারা উভয়ে বলিতেন, কোন স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর তৃতীয় ঋতুস্রাবে প্রবেশ করিলে সে স্বামী হইতে পৃথক হইয়া যাইবে এবং (অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ করার জন্য) হালাল হইয়া যাইবে।