রেওয়ায়ত ৬২. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) জনৈক আনসারী ব্যক্তি হইতে বর্ণনা করেন যে, সে আনসারীর স্ত্রী তাহার নিকট তালাক চাহিল। তখন স্ত্রীকে বলিলেন, তোমার ঋতুস্রাব উপস্থিত হইলে আমাকে সংবাদ দিও, অতঃপর স্ত্রীর ঋতুস্রাব হইলে তাহাকে খবর দিল। তিনি বলিলেনঃ যখন তুমি পবিত্রতা অর্জন কর, তখন সংবাদ দিও। সে পবিত্র হওয়ার পর খবর দিল, তারপর স্বামী তাহাকে তালাক দিল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহা অতি উত্তম।
রেওয়ায়ত ৬৩. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ ইবনুল আ'স (রাঃ) আবদুর রহমান ইবন হাকাম (রহঃ)-এর কন্যাকে তালাকে আল-বাত্তা (বায়েন তালাক) দিলেন। আবদুর রহমান ইবন হাকাম কন্যাকে (স্বামীর গৃহ হইতে নিজ গৃহে) সরাইয়া নিলেন। উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) মারওয়ান ইবন হাকামের নিকট লোক প্রেরণ করিলেন। মারওয়ান তখন মদীনার গভর্নর। আয়েশা (রাঃ) বলিলেনঃ আল্লাহকে ভয় করুন এবং (ইদ্দত পালনরতা) স্ত্রীকে তাহার স্বামীর গৃহে ফেরত পাঠান। সুলায়মানের রেওয়ায়ত সম্পর্কে মারওয়ান বললেনঃ আবদুর রহমান আমার উপর জয়ী হইয়াছেন। কাসিমের রেওয়ায়ত সম্পর্কে মারওয়ান বলিলেনঃ আপনার নিকট ফাতেমা বিনত কায়েসের ব্যাপার পৌছে নাই কি? আয়েশা (রাঃ) বলিলেনঃ ফাতেমার ঘটনা[1], উল্লেখ না করিলে আপনার কোন ক্ষতি নাই (অর্থাৎ ইহাতে কোন দলীল নাই)। মারওয়ান বলিলেন ; যদি আপনার দৃষ্টিতে স্বামীর গৃহে ফাতেমার ইদ্দত পালনে কোন অসুবিধা থাকে তবে যেহেতু উভয়ের মধ্যে (আবু আমর ও তাহার স্ত্রী আমরা) যথেষ্ট অসুবিধা রহিয়াছে (যে কারণে স্বামীগৃহ ত্যাগ করিয়া অন্যত্র ইদ্দত পালন করা প্রয়োজন হইয়া পড়িয়াছে)। তাই ইহা আপনার সস্তুষ্টির জন্য যথেষ্ট।
রেওয়াতে ৬৪. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবন যায়দ ইবন আমর ইবন নুফাইল (রাঃ)-এর কন্যা আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন উসমান ইবন আফফান (রহঃ)-এর বিবাহ দিলেন। তিনি স্ত্রীকে তালাকে আল-বাত্তা প্রদান করিলে সে (স্বামীর গৃহ হইতে) সরিয়া যায়, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) উহার প্রতি সমর্থন জানাইলেন না।
হাদিস 1223 — Muwatta Malik 29:20
Mauquf Sahih
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، طَلَّقَ امْرَأَةً لَهُ فِي مَسْكَنِ حَفْصَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ طَرِيقَهُ إِلَى الْمَسْجِدِ فَكَانَ يَسْلُكُ الطَّرِيقَ الأُخْرَى مِنْ أَدْبَارِ الْبُيُوتِ كَرَاهِيَةَ أَنْ يَسْتَأْذِنَ عَلَيْهَا حَتَّى رَاجَعَهَا .
রেওয়ায়ত ৬৫. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তাহার জনৈকা স্ত্রীকে নবী-পত্নী হাফসা (রাঃ)-এর গৃহে তালাক দিলেন। এই গৃহ তাহার মসজিদে গমনের পথে অবস্থিত ছিল। তাই তিনি অন্য পথে গৃহের পিছন দিয়া মসজিদে গমন করিতেন। ইহা এইজন্য যে, স্ত্রীর দিকে রুজু না করা পর্যন্ত অনুমতি লইয়া তাহার নিকট যাওয়াকে তিনি ভাল মনে করিতেন না।
রেওয়ায়ত ৬৬. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করা হইল এইরূপ স্ত্রীলোক সম্বন্ধে, যাহাকে স্বামী তালাক দিয়াছে ভাড়াটে গৃহে। এখন ভাড়ার দায়িত্ব কাহার উপর বর্তাইবে? সাঈদ বললেনঃ ভাড়ার দায়িত্ব স্বামীর উপর ন্যস্ত থাকিবে। প্রশ্নকারী বলিলঃ স্বামী যদি ভাড়া দেওয়ার সামর্থ্য না রাখে? তিনি বলিলেন, তবে উহা প্রদানের দায়িত্ব স্ত্রীর উপর বর্তাইবে। প্রশ্নকারী বলিল, যদি স্ত্রীরও সামর্থ্য না থাকে? সাঈদ বললেন- তখন শহরের শাসনকর্তার উপর দায়িত্ব বর্তাইবে।
রেওয়ায়ত ৬৭. ফাতেমা বিনত কায়েস হইতে বর্ণিত, আবু আমর ইবন হাফস (রাঃ) তাহাকে তালাকে আল-বাত্তা দিলেন। তাহার স্বামী তখন সিরিয়াতে ছিলেন। অতঃপর তাহার উকীলকে গমসহ তাহার নিকট পাঠাইলেন। তিনি উহাকে অতি অল্প মনে করিলেন। তাহার উকীল বলিলেন, আমাদের নিকট তোমার প্রাপ্য আর কিছু নাই। তিনি (ফাতেমা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হইলেন এবং এই ঘটনা উল্লেখ করিলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তাহার জন্য তোমার খোরপোশ প্রদান জরুরী নহে, এবং ফাতেমাকে উম্মে শরীফের গৃহে ইদ্দত পালন করিতে তিনি নির্দেশ দিলেন। তারপর বলিলেনঃ (উম্মে শরীফ এমন একজন মহিলা) যাহার গৃহে আমার সাহবিগণ সর্বদা যাতায়াত করিয়া থাকেন। তুমি আবদুল্লাহ ইবন উম্মে মাকতুমের গৃহে ইদ্দত পালন কর, কারণ তিনি একজন অন্ধ ব্যক্তি। তোমার বস্ত্র তাহার নিকট উন্মুক্ত হইলেও (ইহাতে তোমার কোন অসুবিধা হইবে না)। ইদ্দত শেষ হওয়ার পর তুমি অন্যের জন্য হালাল হইয়া গেলে আমাকে খবর দিও। ফাতেমা বলিলেনঃ আমি হালাল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আমার বিষয় উল্লেখ করিলাম এবং বলিলাম, মুয়াবিয়া ইবন আবি সুফিয়ান (রহঃ) ও আবু জাহম ইবন হিশাম (রাঃ)। তাহারা উভয়ে আমার নিকট বিবাহের প্রস্তাব দিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, আবু জাহম তাহার গর্দান হইতে লাঠি নামায় না। আর মুয়াবিয়া দরিদ্র ব্যক্তি। তাহার ধন-সম্পদ নাই। তুমি উসামা ইবন যায়দ (রাঃ)-কে বিবাহ কর। ফাতেমা বলিলেন, আমি উসামাকে অপছন্দ করি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় বলিলেনঃ তুমি উসামা ইবন যায়দ (রাঃ)-কে বিবাহ কর। তারপর আমি তাহাকে বিবাহ করি এবং আল্লাহ ইহাতে অনেক মঙ্গল দান করিয়াছেন, যাহার কারণে আমার প্রতি ঈর্ষা করা হইত।
রেওয়ায়ত ৬৮. ইবন শিহাব (রহঃ) বলিতেনঃ যে স্ত্রীকে বায়েন তালাক দেওয়া হইয়াছে, সে নিজ গৃহ হইতে (ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে) হালাল না হওয়া পর্যন্ত বাহির হইবে না। তাহার জন্য খোরপোশও নাই, কিন্তু যদি গর্ভবতী হয় তবে সন্তান প্রসব পর্যন্ত স্বামী তাহার খোরপোশ দিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্তও অনুরূপ।
রেওয়ায়ত ৭০. উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যেই স্ত্রীকে তালাক দেওয়া হইয়াছে তারপর হায়য (মাসিক ঋতু) আসিয়াছে এক হায়য বা দুই হায়য, অতঃপর তাহার ঋতুস্রাব বন্ধ হইয়া গিয়াছে, সেই স্ত্রী নয় মাস যাবত অপেক্ষা করিবে (ইতিমধ্যে) গৰ্ভ প্রকাশ পাইলে, তবে সন্তান প্রসব দ্বারারা ইদ্দত পালন করিবে, নতুরা নয় মাসের পর তিন মাস ইদ্দত পালন করিবে, তারপর সে অন্যের জন্য হালাল হইবে। মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবন মুসায়্যিব (রহঃ) বলতেন, পুরুষের জন্য হইল তালাকের অধিকার আর স্ত্রীদের জন্য হইল ইদ্দত।
রেওয়ায়ত ৭১. সাঈদ ইবন মুসায়্যিব (রহঃ) বলিয়াছেনঃ মুসতাহাজা (রোগের কারণে যাহার অনিয়মিত স্রাব হয়) ঐ নারীর ইদ্দত হইতেছে এক বৎসর। মালিক (রহঃ) বলেনঃ তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীলোক সম্পর্কে আমাদের মাস'আলা হইল, এই তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর যেই স্ত্রীলোকের রক্তস্রাব বন্ধ হইয়া যায়, সে নয় মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করিবে। এই নয় মাসের মধ্যে ঋতুস্রাব না হইলে তবে তিন মাস ইদ্দত পালন করিবে। আর তিন মাস পূর্ণ করার পূর্বে যদি ঋতুস্রাব হয় তবে পুনরায় হায়য-এর ইদ্দত পালন শুরু করবে। কিন্তু যদি হায়য আসার পূর্বে নয় মাস পূর্ণ হইয়া যায় তবে তিন মাস ইদ্দত পালন করবে। আর তৃতীয় মাসে উপনীত হইয়াছে এমন অবস্থায় যদি ঋতুস্রাব হয় তবে সে ইদ্দতের সময় পূর্ণ করিয়াছে। অন্য পক্ষে যদি তাহার ঋতুস্রাব না হয় তবে তিনমাস ইদ্দত পূর্ণ করিবে। তারপর অন্য স্বামীর রুজু করার অধিকার থাকিবে, কিন্তু যদি সে বায়েন তালাক দিয়া থাকে তবে আর রুজু করিতে পারিবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সুন্নাত (নিয়ম হইল) এই যে, যদি কোন লোক তাহার স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং সেই স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করার (রুজু করা) ইখতিয়ারও তাহার থাকে, এমতাবস্থায় স্ত্রী কিছু ইদ্দত পালন করিয়াছে। অতঃপর স্বামী তাহার প্রতি রুজু করিয়াছে এবং তাহাকে স্পর্শ করার পূর্বে পুনরায় তালাক দিয়াছে। তবে সেই স্ত্রী ইদ্দতের যাহা অতীত হইয়াছে উহার উপর ভিত্তি করিবে না বরং সে তাহাকে (দ্বিতীয়বার) তালাক দেওয়ার দিন হইতে নূতনভাবে ইদ্দত পালন করিবে, তাহার স্বামী এইরূপ করিয়া নিজের ক্ষতি করিয়াছে এবং তাহার আবশ্যক না থাকিলে স্ত্রীর দিকে রুজু করিয়া সে ভুল করিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ স্ত্রী যদি ইসলাম গ্রহণ করে তাহার স্বামী (তখনও) কাফের। তারপর স্বামীও ইসলাম গ্রহণ করিল, তবে আমাদের নিকট ফয়সালা হইতেছে এইঃ ইদ্দতে থাকা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাহার স্বামী তাহার হকদার হইবে, আর যদি ইদ্দত শেষ হইয়া যায় তবে তাহার জন্য স্ত্রীকে পাওয়ার কোন পথ নাই। আর যদি ইদ্দত সমাপ্তির পর তাহাকে বিবাহ করে তবে পূর্বে প্রদত্ত তালাক তালাক বলিয়া গণ্য হইবে না। এই ঘটনায় স্ত্রীকে বিচ্ছেদ করাইয়াছে ইসলাম গ্রহণ, তালাক নহে।