রেওয়ায়ত ৭৩. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ), আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ), আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ), সালিম ইবন আবদিল্লাহ (রহঃ), কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ), ইবন শিহাব (রহঃ) এবং সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) তাঁহারা সকলেই বলিতেনঃ কোন লোক বিবাহের পূর্বে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার কসম খাইলে তারপর কসম ভাঙ্গিলেও বিবাহ করার পর তালাক অবশ্যম্ভাবী হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) বলিতেন, যে ব্যক্তি বলিয়াছে, যে কোন নারীকে আমি বিবাহ করি সে তালাকপ্রাপ্ত হইবে, যদি সে কোন গোত্রকে নির্দিষ্ট না করে অথবা কোন নারীকে নির্দিষ্ট না করে তবে তাহার উপর জরুরী হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেন, ইহাই উত্তম যাহা আমি শুনিয়াছি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে বলিল, তোমাকে তালাক এবং যে কোন নারীকে বিবাহ করি তাহাকেও তালাক এবং আমার মাল সব (আল্লাহর রাস্তায়) সদকাস্বরূপ। যদি আমি অমুক অমুক কাজ না করি। পরে কসম ভাঙ্গিয়াছে (এবং সেই সেই কাজও করে নাই)। তিনি [মালিক (রহঃ)] বলেনঃ সে ব্যক্তির স্ত্রী তালাক হইয়া যাইবে যেমন সে বলিয়াছে, আর তাহার উক্তিঃ যে কোন নারীকে আমি বিবাহ করি উহার প্রতি তালাক, ইহার বিধান সে যদি কোন নারীকে অথবা গোত্রকে অথবা কোন স্থানকে অথবা এরূপ অন্য কিছুকে নির্দিষ্ট না করিয়া থাকে তবে এইরূপ কসমের দ্বারা তাহার উপর কিছুই বাধ্যতামূলক হইবে না, যত ইচ্ছা সে বিবাহ করিতে পারবে। আর তাহার মালের এক-তৃতীয়াংশ সদকা করিয়া দিতে হইবে।
রেওয়ায়ত ৭৪. সাঈদ ইবন মুসায়্যিব (রহঃ) বলিতেন, যে ব্যক্তি কোন নারীকে বিবাহ করিয়াছে এবং উহার সহিত সহবাস করার ক্ষমতা তাহার নাই, তবে তাহাকে এক বৎসর সময় দেওয়া হইবে। (এই সময়ের মধ্যে) যদি স্ত্রীর সহিত সহবাস করিতে পারে তবে মহিলাটি তাহার স্ত্রী থাকিবে, অন্যথায় উভয়কে পৃথক করিয়া দেওয়া হইবে।
রেওয়ায়ত ৭৫. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাবের নিকট প্রশ্ন করিলেন, স্বামীকে কখন হইতে সময় নির্দিষ্ট করিয়া দেওয়া হইবে? নির্জন বাস (خوة) হইতে না (হাকিমের নিকট) বিষয় উপস্থাপিত হওয়ার সময় হইতে? তিনি বলিলেন, সময় দেওয়া হইবে হাকিমের নিকট মোকদ্দমা উপস্থাপনের দিন হইতে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর সহিত সহবাস করিয়াছে, অতঃপর সহবাসে অক্ষমতা প্রকাশ পাইয়াছে, এই ব্যক্তির জন্য কোন সময় নির্দিষ্ট করা এবং তাহাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো হইবে না। এই সম্পর্কে আমি (মালিক) কিছুই শুনি নাই, অর্থাৎ এই ব্যাপারে পূর্ববর্তী ফকীহদের নিকট হইতে কোন রেওয়ায়ত বা সিদ্ধান্তের কথা তিনি শুনেন নাই।
হাদিস 1235 — Muwatta Malik 29:32
Maqtu Sahih
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِرَجُلٍ مِنْ ثَقِيفٍ أَسْلَمَ وَعِنْدَهُ عَشْرُ نِسْوَةٍ حِينَ أَسْلَمَ الثَّقَفِيُّ " أَمْسِكْ مِنْهُنَّ أَرْبَعًا وَفَارِقْ سَائِرَهُنَّ " .
রেওয়ায়ত ৭৬. ইবন শিহাব (রহঃ) বলিয়াছেন, আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাকীফ গোত্রের এক ব্যক্তি মুসলিম হইয়াছেন। তাহার দশটি বিবি ছিল। যখন তিনি ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে উহাদের মধ্য হইতে চারটিকে রাখিতে এবং অন্য সকলকে ত্যাগ করিতে নির্দেশ দিলেন।
রেওয়ায়ত ৭৭. আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেনঃ আমি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, যেই স্ত্রীকে তাহার স্বামী এক তালাক অথবা দুই তালাক দিয়াছে, তারপর ইদ্দতের সময় অতিবাহিত করিয়া হালাল হওয়া এবং দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করা পর্যন্ত তাহাকে প্রথম স্বামী পরিত্যাগ করিয়া রাখিয়াছে, এমতাবস্থায় দ্বিতীয় স্বামী তাহাকে বিবাহ করার পর দ্বিতীয় স্বামীর মৃত্যু হওয়া অথবা সেই স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর প্রথম স্বামী পুনরায় সেই স্ত্রীকে বিবাহ করিয়াছে, তবে সেই স্ত্রী অবশিষ্ট (এক অথবা দুই) তালাকের অধিকারিণী হইয়া প্রথম স্বামীর স্ত্রীরূপে বহাল থাকিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকটও মাস'আলার ফয়সালা এইরূপ, ইহাতে কোন মতানৈক্য নাই।
রেওয়ায়ত ৭৮. মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুর রহমান ইবন যায়দ ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর উম্মে ওয়ালাদ-কে সাবিতুল আহনাফ (রহঃ) বিবাহ করিলেন। সাবিত বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান ইবন যায়দ ইবন খাত্তাব (রাঃ) আমাকে ডাকিয়া পাঠাইলেন, আমি তাহার নিকট আসিলাম এবং তাহার সমীপে প্রবেশ করিয়া দেখিলাম, সেখানে কয়েকটি চাবুক ও দুইটি লৌহ শিকল (আর তাহার নিকটে রহিয়াছে) উপবিষ্ট তাহার দুইজন ক্রীতদাস। তারপর আমাকে বলিলেন, তুমি স্ত্রীকে তালাক দাও, নতুবা আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে এইরূপ এইরূপ করিব (অর্থাৎ চাবুক মারিব ও শিকল পরাইব)। সাবিত বলিলেনঃ (চাপ দেখিয়া) আমি বলিলাম, এই স্ত্রীকে তালাক এক হাজার বার। তারপর সাবিত বলেন- আমি তাহার নিকট হইতে প্রস্থান করিলাম। মক্কার পথে আমি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর সাক্ষাত পাইলাম, আমি তাহাকে আমার ব্যাপার অবহিত করিলাম। (শুনিয়া) আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) রাগান্বিত হইলেন এবং বলিলেনঃ ইহা (কোন) তালাক নহে, তোমার স্ত্রী তোমার জন্য হারাম হয় নাই। তুমি তোমার স্ত্রী গ্রহণ কর, আমার মনে (কিন্তু) শান্তি আসিল না। তাই আমি আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র (রাঃ)-এর নিকট হাযির হইলাম। তিনি ছিলেন তখন মক্কার শাসনকর্তা। আমি তাহাকে বিষয়টি অবহিত করিলাম এবং আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) যাহা বলিয়াছেন তাহাও জানাইলাম। (ঘটনা শ্রবণ করিয়া) আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র (রাঃ) আমাকে বলিলেনঃ তোমার স্ত্রী তোমার জন্য হারাম হয় নাই, তুমি তাহার দিকে রুজু কর। তিনি জাবির ইবন আসওয়াদ যুহরী তৎকালীন মদীনার গভর্নরকে নির্দেশ দিয়া লিখিলেন, আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমানকে শাস্তি দাও এবং সাবিতের স্ত্রীর সহিত তাহার মিলনের পথে বাধা অপসারিত কর। সাবিত বলেনঃ তখন আমি মদীনাতে যাই। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর পত্নী সফিয়্যা তাহার স্বামীর জ্ঞাতসারে আমার স্ত্রীকে সজ্জিত করিয়া আমার নিকট প্রেরণ করিলেন। অতঃপর আমি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে ওয়ালীমার যিয়াফতে আমন্ত্রণ জানাইলাম। তিনি উহা গ্রহণ করেন এবং ওয়ালীমায় যোগদান করেন।
রেওয়ায়ত ৮০. হিশাম ইবন উরওয়া (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেন (পূর্বে নিয়ম ছিল) স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পূর্বে উহার দিকে রুজু করার অধিকার প্রত্যেক ব্যক্তির ছিল, যদিও স্ত্রীকে হাজার তালাক দিয়া থাকে। এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে তালাক দিল। যখনই ইদ্দত সমাপ্তির প্রান্তে পৌঁছিয়াছে তখন স্বামী তাহার দিকে রুজু করিল। তারপর আবার তালাক দিল, অতঃপর সে বলিলঃ আমি তোমাকে আর কখনও আমার নিকট আশ্রয় দিব না, আমার জন্য তুমি কখনও হালাল হইবে না। তারপর আল্লাহ তা'আলা (আয়াত) নাযিল করিলেনঃ الطَّلاَقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ অর্থাৎ, এই তালাক দুই বার। অতঃপর স্ত্রীকে হয় বিধিমত রাখিয়া দিবে অথবা সদয়ভাবে মুক্ত করিয়া দিবে। সেই দিন হইতে লোকেরা নূতনভাবে গণনা আরম্ভ করিল, যাহারা (ইতিপূর্বে) তালাক দিয়াছিল তাহারাও এবং যাহারা তালাক দেয় নাই তাহারাও।