রেওয়ায়ত ৮১. সওর ইবন যায়দ দীলি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, লোকে স্ত্রীর ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে এবং ইদ্দতকে তাহার উপর দীর্ঘ করার জন্য তালাক দিয়া পুনরায় উহার দিকে রুজু করিত অর্থাৎ তাহার সেই স্ত্রীর কোন আবশ্যক নাই এবং উহাকে রাখার কোন ইচ্ছা নাই। তাই আল্লাহ তা'আলা আয়াত নাযিল করিয়াছেনঃ وَلاَ تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَارًا لِتَعْتَدُوا وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ অর্থাৎ, কিন্তু অন্যায়রূপে তাহাদের (স্ত্রীদের) ক্ষতি করিয়া সীমালংঘন উদ্দেশ্যে তাহাদেরকে তোমরা আটকাইয়া রাখিও না। যে এইরূপ করে, সে নিজের প্রতি জুলুম করে। আল্লাহ তাহাদিগকে উপদেশ দিতেছেন ইহার দ্বারা।
রেওয়ায়ত ৮২. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যিব এবং সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) তাহদের উভয়কে নেশাগ্রস্ত (মাতাল) ব্যক্তির তালাক সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। উভয়ে উত্তর দিলেন, নেশাগ্রস্ত মাতাল ব্যক্তি তালাক দিলে তাহার তালাক বৈধ হইবে। সে কোন ব্যক্তিকে হত্যা করিলে (কিসাসস্বরূপ) তাহাকেও হত্যা করা হইবে। মালিক (রহঃ) বলেন, এই ফতোয়াই আমাদের নিকট গৃহীত বা সর্বাধিক সংগত। মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যিব (রহঃ) বলতেনঃ স্ত্রীর খোরপোশ দিতে স্বামী অক্ষম হইলে তাহাদের উভয়কে পৃথক করিয়া দেওয়া হইবে। মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের শহরের আলিম সমাজকে আমি এই মাস'আলার উপর (এইরূপ ফতোয়া দিতে ও আমল করিতে) দেখিয়াছি।
রেওয়ায়ত ৮৩. আবু সালমা ইবন আবদির রহমান (রহঃ) বলেনঃ ‘আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস ও আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন স্ত্রীলোক সম্বন্ধে, যে অস্তঃসত্ত্বা ও তাহার স্বামী ইন্তিকাল করিয়াছে। ইবন আব্বাস (রাঃ) উত্তরে বলিলেনঃ চার মাস দশ দিন এবং সন্তান প্রসব করা। নির্ধারিত এতদুভয় সময়ের মধ্যে যে সময় দীর্ঘ সে সময় ইদ্দতের সময় বলিয়া বিবেচিত হইবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিলেনঃ সন্তান প্রসব করিলে সে অন্যের জন্য হালাল হইবে। অতঃপর সালমা ইবন 'আবদির রহমান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্নী উম্মে সালমা (রাঃ)-এর সমীপে উপস্থিত হইলেন এবং তাহার নিকট এই ব্যাপারে প্রশ্ন করিলেন। উম্মে সালমা (রাঃ) বলিলেনঃ সুবাইয়া আসলামিয়া (রাঃ) তাহার স্বামীর ওফাতের অর্ধমাস পর সন্তান প্রসব করিলেন। ইহার পর দুই ব্যক্তি তাহাকে বিবাহ করার প্রস্তাব প্রেরণ করিলেন। তাহাদের একজন যুবক ও অপর জন হইতেছে আধাবয়সী, তিনি যুবকের (প্রস্তাবের) দিকে ঝুঁকিয়া পড়িলেন । আধাবয়সী (প্রস্তাবকারী) বললেন, তুমি এখন হালাল হও নাই। সুবাইয়ার পরিজন ছিল অনুপস্থিত। তাই তিনি আশা করিলেন যে, তাহারা আসিলে সুবাইয়া-(এর বিবাহ) সম্পর্কে তাহারা আধা বয়সী প্রস্তাবকারীকে অগ্রাধিকার দিবেন। সুবাইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হইলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তাহার ব্যাপার উল্লেখ করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেনঃ তুমি হালাল হইয়া গিয়াছ, যাহাকে ইচ্ছা তুমি বিবাহ করিতে পার।
রেওয়ায়ত ৮৪. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সম্পর্কে, যাহার স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিলেনঃ সন্তান প্রসব করিলে সে হালাল হইয়া যাইবে। তাহার নিকট উপস্থিত জনৈক আনসারী তাহাকে খবর দিলেন যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়ছেনঃ যদি সে প্রসব করে (অথচ) তাহার স্বামী এখনও খাটে, তাহাকে এখনও দাফন করা হয় নাই, তবু সে হালাল হইয়া গিয়াছে।
হাদিস 1245 — Muwatta Malik 29:42
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ سُبَيْعَةَ الأَسْلَمِيَّةَ نُفِسَتْ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِلَيَالٍ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ حَلَلْتِ فَانْكِحِي مَنْ شِئْتِ " .
রেওয়ায়ত ৮৫. হিশাম ইবন উরওয়া (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, মিসওয়ার ইবন মাখরামা (রাঃ) তাহার নিকট বলিয়াছেনঃ সুবাইয়া আসলামিয়া তাহার স্বামীর ওফাতের কয়েক রাত্র পর সন্তান প্রসব করিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে বলিলেনঃ তুমি হালাল হইয়া গিয়াছ, এখন যাহাকে ইচ্ছা বিবাহ করিতে পার।
রেওয়ায়ত ৮৬. সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস এবং আবু সালমা ইবন আবদির রহমান ইবন আউফ (রহঃ) তাহারা উভয়ে মতানৈক্য করিলেন সেই স্ত্রী সম্পর্কে, যে স্ত্রী স্বামীর ওফাতের কয়েক রাত্রি পর সন্তান প্রসব করিয়াছে। আবূ সালমা (রহঃ) বলিলেনঃ তাহার পেটে যাহা রহিয়াছে (অর্থাৎ সন্তান) যখন উহা প্রসব করিল তখন সে হালাল হইয়া গেল। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলিলেনঃ দুই নির্দিষ্ট সময় (চার মাস দশ দিন ও সন্তান প্রসব)-এর সর্বশেষ সময়ই তাহার হালাল হওয়ার সীমা। (ইতিমধ্যে) আবূ হুরায়রা (রাঃ) আসিলেন ও বলিলেনঃ আমি আমার ভাতিজা অর্থাৎ আবু সালমা আবদির রহমানের সহিত একমত। তারপর তাহারা সকলে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস কর্তৃক আযাদ ক্রীতদাস কুরাইব (রহঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পত্নী উম্মে সালমা (রাঃ)-কে এই বিষয়ে প্রশ্ন করার জন্য প্রেরণ করিলেন। তিনি (প্রশ্ন উত্তর লইয়া) তাহাদের নিকট ফিরিয়া আসিলেন এবং তাঁহাদের জানাইলেন যে, তিনি (উম্মে সালমা) (রাঃ) বলিয়াছেনঃ সুবাইয়া আসলামিয়া তাহার স্বামীর ওফাতের কয়েক রাত্রি পর সন্তান প্রসব করিলেন এবং এই ব্যাপার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানাইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তুমি হালাল হইয়াছ, এখন যাহাকে ইচ্ছা বিবাহ করিতে পার। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই ব্যাপারে মাসআলা অনুরূপ, যাহার উপর আমাদের শহরের (মদীনার) উলামাগণ এই মতের উপরই রহিয়াছেন।
রেওয়ায়ত ৮৭. যায়নাব বিনত কাব ইবন উজরাহ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)-এর ভগ্নী ফুরাইয়া বিনত মালিক ইবন সিনান (রাঃ) তাহাকে খবর দিয়াছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমীপে বনী খুদরায় তাহার পরিজনের নিকট চলিয়া যাওয়ার (অনুমতি সম্পর্কে) সওয়াল করার জন্য উপস্থিত হইলেন, কারণ তাহার স্বামী কয়েকটি পলাতক ক্রীতদাসের সন্ধানে বাহির হইয়াছিলেন। যখন (মদীনা হইতে ছয় মাইল দূরে অবস্থিত) কাদুম নামক স্থানের কাছে পৌছিয়া উহাদিগকে পাইলেন। তখন ক্রীতদাসরা তাহাকে হত্যা করিল। ফুরাইয়া বলেনঃ অতঃপর আমি বনী খুদরাতে আমার পরিজনের নিকট ফিরিয়া যাওয়ার বিষয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রশ্ন করিলাম এবং বলিলাম, আমার স্বামী তাহার মালিকানাধীন কোন গৃহ আমার জন্য রাখিয়া যান নাই এবং কোন খোরপোশেরও ব্যবস্থা করিয়া যান নাই। ফুরাইয়া বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হ্যাঁ, (তুমি তোমার পরিজনের নিকট যাইতে পার)। ফুরাইয়া বলেন, আমি ফিরিয়া আসিয়া আমার কক্ষে প্রবেশ করিয়াছি। এমন সময় আমাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার আহবান করিলেন অথবা আহবান করিতে নির্দেশ দিলেন। আমি তাহার আহবানে উপস্থিত হইলে তিনি বলিলেন, তুমি কি বলিয়াছিলে (পুনরায় বল)। আমার স্বামীর যে ঘটনা আমি তাহার নিকট উল্লেখ করিয়াছিলাম পুনরায় সেই ঘটনা বর্ণনা করিলাম। (ঘটনা শ্রবণ করার পর) তিনি বলিলেনঃ তোমার গৃহেই অবস্থান কর ইদ্দত শেষ হওয়া পর্যন্ত। ফুরাইয়া বলেনঃ আমি ইহার পর সেই গৃহে চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করিলাম। তিনি বলেনঃ উসমান ইবন আব্বাস (রাঃ) আমার নিকট লোক প্রেরণ করিলে আমি তাহাকে ঐ ঘটনার খবর দিলাম। তিনি উহা অনুসরণ করিলেন এবং সেই মুতাবিক ফয়সালাও দিলেন।
রেওয়ায়ত ৮৮. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে (উক্ত স্ত্রী ইদ্দত পালনরত ছিল) এইরূপ স্ত্রীদিগকে বাইদা নামক স্থান হইতে ফেরত পাঠাইতেন এবং হজ্জ হইতে বিরত রাখিতেন। ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সায়িব ইবন কুবাব (রাঃ) ইন্তিকাল করিলেন। তাহার স্ত্রী আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হইলেন এবং তাহার স্বামীর মৃত্যু সংবাদ উল্লেখ করিলেন, আর কানাত নামক স্থানে তাহার স্বামীর একটি শস্যক্ষেত্রের বিষয় তাহার নিকট উল্লেখ করিলেন এবং ইহা জানিতে চাহিলেন তাহার জন্য সেই শস্যক্ষেত্রে রাত্রি যাপন করা বৈধ কিনা? তিনি উহা হইতে তাহাকে বারণ করিলেন। তাই তিনি মদীনা হইতে রাত্রির শেষ ভাগে বাহির হইতেন, ফজরে ক্ষেতে পৌছিয়া যাইতেন, পূর্ণ দিন তথায় অবস্থান করিয়া সন্ধ্যায় আবার মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিতেন এবং আপন গৃহে রাত্রি যাপন করিতেন।