রেওয়ায়ত ৮৯. হিশাম ইবন উরওয়া (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিতেন, গ্রামাঞ্চলের স্ত্রীলোক যাহার স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে সে আপন পরিজন যেই স্থানে অবস্থান করে সেই স্থানে অবস্থান করিবে। [মালিক (রহঃ) বললেনঃ আমাদের নিকটও ফয়সালা অনুরূপ।
রেওয়ায়ত ৯০. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলতেন, যে নারীর স্বামী ওফাত পাইয়াছে সে এবং যে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া হইয়াছে সেই স্ত্রীলোক আপন স্বামীর গৃহ ব্যতীত অন্য কোথাও রাত্রি যাপন করিবে না।
রেওয়ায়ত ৯১. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলেনঃ আমি কাসিম ইবন মুহাম্মদকে বলিতে শুনিয়াছি, ইয়াযিদ ইবন 'আবদিল মালিক (রহঃ) কতিপয় পুরুষ ও তাহাদের স্ত্রীদের মধ্যে বিচ্ছেদ করিয়া দিয়াছেন। সেই স্ত্রীগণ ছিল কতিপয় লোকের উম্মে ওয়ালাদ। তাহারা (উহাদের কর্তারা) ইন্তিকাল করিয়াছেন; অতঃপর এক হায়য অথবা দুই হায়য-এর পর তাহাদিগকে (উপরিউক্ত লোকগুলি) বিবাহ করে তাই তাহাদের মধ্যে বিচ্ছেদ করানো হইয়াছে যেন তাহারা চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করে। কাসিম ইবন মুহাম্মদ বলিলেন, সুবহানাল্লাহ্! আল্লাহ্ তা'আলা কিতাবে ইরশাদ করিয়াছেনঃ وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا “তোমাদের মধ্যে সপত্নীক অবস্থায় যাহাঁদের মৃত্যু আসন্ন তাহারা যেন তাহদের স্ত্রীদিগকে গৃহ হইতে বহিষ্কার করিয়া তাহাদের এক বৎসরের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করে।” (অথচ) উম্মে ওয়ালাদগণ পত্নী নহে।
রেওয়ায়ত ৯৩. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব ও সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) তাহারা উভয়ে বলিতেন, ক্রীতদাসীর স্বামীর মৃত্যু হইলে তাহার ইদ্দত হইবে দুই মাস ও পাঁচ রাত্রি। মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব হইতে অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন।
রেওয়ায়ত ৯৪. মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাস (স্বামী) ক্রীতদাসী (স্ত্রী)-কে এমন তালাক দিল যাহা বাইন নহে এবং উহাতে স্ত্রীর দিকে রুজু করার ইখতিয়ার আছে। তারপর তাহার মৃত্যু ঘটিল এবং স্ত্রী তখন তালাকের ইদ্দত পালন করিতেছে, তবে সে যে ক্রীতদাসীর স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে তাহার মতো ইদ্দত পালন করিবে, আর ইহা দুই মাস পাঁচ রাত্রি। আর যদি তাহাকে মুক্তি দান করা হয় তাহার স্বামীর রুজু করার ক্ষমতা থাকাবস্থায়, তারপর তাহার স্বামীর মৃত্যুকাল পর্যন্ত সে স্বামী হইতে বিচ্ছেদ গ্রহণ করে নাই এবং সে তখনও তালাকের ইদ্দতে রহিয়াছে, তবে সে (ক্রীতদাসী) আযাদ মহিলার মতো (যাহার স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে) চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করিবে। ইহা এইজন্য যে, আযাদ হওয়ার পর তাহার উপর (স্বামীর) ওফাতের ইদ্দত বর্তাইয়াছে। তাই তাহার ইদ্দত হইবে আযাদ স্ত্রীর ইদ্দতের মতো। [মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহাই আমাদের নির্ধারিত মত।
রেওয়ায়ত ৯৫. ইবন মুহায়রিয (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি মসজিদে প্রবেশ করিলাম। আমি (তথায়) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ)-কে দেখিতে পাইলাম এবং আমি তাহার নিকট বসিলাম ও তাহাকে আযল[1] সম্পর্কে প্রশ্ন করিলাম। (উত্তরে) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলিলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সহিত ‘বনী মুস্তালিক’ যুদ্ধে বাহির হইলাম। আমরা (সেই যুদ্ধে) কিছু সংখ্যক আরবী যুদ্ধবন্দিনী লাভ করিলাম। (এইদিকে) নারীর প্রতি আমাদের প্রবৃত্তি জাগ্রত হইল, স্ত্রী সংশ্রব হইতে দূরে থাকা আমাদের জন্য কঠিন হইয়া দাঁড়াইল। (অপরদিকে) উহাদের মূল্য পাইতেও আমরা আগ্রহী। তাই আমরা (তাহদের সহিত) আযল করার ইচ্ছা করিলাম। আমরা বলিলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে বিরাজমান; তাহার কাছে জিজ্ঞাসা করার পূর্বে আমরা আযল করিব (ইহা কিরূপে হয়)। আমরা এই বিষয়ে তাহার নিকট প্রশ্ন করিলাম। তিনি বলিলেন, ইহা না করিলে তোমাদের কোন ক্ষতি নাই। কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যত প্রাণীর জন্ম অবধারিত উহা অবশ্যই অস্তিতে আসিবে।