রেওয়ায়ত ১১. আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ) হইতে বর্ণিত, যখন আবু তালিবের মৃত্যু হইয়াছে তখন তাহার ছেলে আকীল ও তালিব তাহার ওয়ারিস হইয়াছে। কিন্তু আলী তাহার ওয়ারিস হয় নাই। এইজন্য আমরা মক্কার ঘরের নিজের অংশ ছাড়িয়া দিয়াছি। (কেননা ইহারা উভয়ে তখন কাফের ছিল, পরে আকীল মুসলিম হইয়া গিয়াছিল আর তালিব নিরুদ্দেশ হইয়া গিয়াছিল।)
রেওয়ায়ত ১৪. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিতেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) আজম দেশের লোককে আরবের লোকের ওয়ারিস হইতে নিষেধ করিতেন। অবশ্য যে আরবে জন্মগ্রহণ করিত সে মীরাস পাইত। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন গর্ভবতী স্ত্রীলোক কাফেরদের দেশ হইতে আসিয়া আরবে বসতি স্থির করিল, তথায় তাহার সন্তান জন্মিল, এখন সে সন্তানের এবং সন্তান তাহার ওয়ারিস হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট ইহা একটি সর্বসম্মত বিষয় যে, যেকোন আত্মীয়তার দরুনই হউক না কেন মুসলিম কাফেরের ওয়ারিস হইবে না, বংশগত আত্মীয়তা হউক বা অন্য প্রকারের, আর সে অন্য কাহাকেও তাহার মীরাস হইতে মাহরূম করিতে পারিবে না। যেমন কোন কাফের মৃত্যুবরণ করিল যাহার সন্তান মুসলিম, ভাই কাফের। এখন ছেলে মীরাস পাইবে না ভাই পাইবে। এই ছেলের জন্য ভাই মাহরাম হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এইরূপে যে মীরাস না পায় এবং সে ব্যতীত অন্য ওয়ারিস বর্তমান থাকে তবে সে অন্যকে মাহুরূম করিতে পারে না।
রেওয়ায়ত ১৫. রবীয়া ইবন আবু আবদুর রহমান (রহঃ) একাধিক আলেম সূত্রে বর্ণনা করেন যে, জামাল যুদ্ধে, সিফফীন যুদ্ধে এবং হাররা দিবসে যাহারা নিহত হইয়াছেন তাহারা মীরাস পান নাই। এরপর ফুদাইদ দিবসে যাহারা নিহত হইয়াছে তাহারাও একে অপরের মীরাস পান নাই। কিন্তু মীরাস পাইবে সেই ক্ষেত্রে যেই ক্ষেত্রে নিশ্চিত জানা গিয়াছে যে, তিনি তাহার সাথির পূর্বে নিহত হইয়াছেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ আমি মালিক (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, আমাদের উলামায়ে কিরামের মধ্যে এ ব্যাপারে কোন বিরোধ নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কয়েকজন পানিতে ডুবিয়া অথবা মাটিতে ধ্বসিয়া মৃত্যুবরণ করে অথবা নিহত হয়, আর কে আগে কে পরে[1] মৃত্যুবরণ করিয়াছে তাহা অজ্ঞাত থাকে, তবে তাহারা একে অন্যের ওয়ারিস হইবে না, বরং প্রত্যেকের মাল তাহাদের ওয়ারিসগণ পাইবে, যাহারা জীবিত রহিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কেহ সন্দেহস্থলে কাহারও ওয়ারিস হইবে না, ওয়ারিস হওয়ার জন্য নিঃসন্দেহ হওয়া প্রয়োজন। যেমন কেহ মৃত্যুবরণ করিল, আর সে তাহার যে দাসকে মুক্ত করিয়াছিল সেও মৃত্যুবরণ করিল, এখন যদি এই সন্তান বলে যে, আমার পিতা এই দাসের ওয়ারিস হইবে তবে তাহা ততক্ষণ পর্যন্ত সাব্যস্ত হইবে না যতক্ষণ না সে সাক্ষী দ্বারা প্রমাণ করিবে যে, ঐ দাস তাহার পিতার পূর্বে মারা গিয়াছে। যদি প্রমাণ করিতে না পারে তবে ঐ দাসের জীবিত ওয়ারিসগণ তাহার মাল পাইবে।মালিক (রহঃ) বলেন, অনুরূপভাবে যদি দুই সহোদর ভাই মারা যায় যাহাদের একজনের সন্তান রহিয়াছে অন্যজন নিঃসন্তান, আর তাহদের উভয়ের একজন সৎ ভাইও রহিয়াছে। কিন্তু ইহা জানা যায় নাই যে, প্রথমে কোন ভাই মরিয়াছে। এখন নিঃসন্তান ভাই-এর মাল তাহার সৎ ভাই পাইবে, তাহার ভাতিজারা পাইবে না। এইরূপে ফুফু ভাতিজা একত্রে মারা গেলে বা চাচা ভাতিজা একত্রে মারা গেলে আর কে আগে মারা গিয়াছে তাহা জানা নাই, তবে চাচা স্বীয় ভাতিজার এবং ভাতিজা স্বীয় ফুফুর ওয়ারিস হইবে না।
রেওয়ায়ত ১৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ উরওয়া ইবন যুবায়র বলিতেন, যখন লি’আন ওয়ালী স্ত্রীলোকের সন্তান অথবা কোন জারজ সন্তান মারা যায়, তখন তাহার মা আল্লাহর কিতাব মতো তাহার অংশ পাইবে আর তাহার বৈমাত্রেয় ভাইও অংশ পাইবে। অবশিষ্ট মাল তাহার মাতার মাওলা (প্রভু)-কে দেওয়া হইবে। যদি তাহাকে মুক্ত করিয়া দেওয়া হইয়া থাকে, যদি সে আরবের হয়, সে তাহার অংশ পাইবে, তাহার বৈপিত্রেয় ভাই-বোনেরা তাহাদের অংশ পাইবে, আর অবশিষ্ট যাহা থাকিবে তাহা মুসলিমদের জন্য। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার নিকট সুলায়মান ইবন ইয়াসার হইতে এইরূপই সংবাদ পৌছিয়াছে আর আমাদের শহরের আলিমদেরও এই মত।