حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، أَنَّهُمَا حَدَّثَاهُ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، أَنَّهُ قَالَ إِنَّ أَبَاهُ بَشِيرًا أَتَى بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنِّي نَحَلْتُ ابْنِي هَذَا غُلاَمًا كَانَ لِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَكُلَّ وَلَدِكَ نَحَلْتَهُ مِثْلَ هَذَا " . فَقَالَ لاَ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَارْتَجِعْهُ " .
রেওয়ায়ত ৩৯. নুমান ইবন বশীর (রাঃ) বলেন, তাহার পিতা বশীর (রাঃ) তাহাকে একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়া গেলেন এবং বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমার এই ছেলেকে আমার একটি গোলাম হেবা করিয়াছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তুমি কি তোমার প্রত্যেকটি ছেলেকেই এইরূপ হেবা করিয়াছ? তিনি বলিলেন, না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তাহা হইলে হেবা (দান) ফিরাইয়া নাও।
রেওয়ায়ত ৪০. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আবু বকর (রাঃ) গাবা নামক স্থানের বাগানের কিছু খেজুর গাছ আমাকে দান করিলেন। যাহার মধ্যে বিশ ওসক খেজুর উৎপন্ন হইত। অতঃপর ইন্তিকালের সময় বলিতে লাগিলেন, হে কন্যা। আল্লাহর কসম, আমার পরে তোমা হইতে সচ্ছল কেহ থাকুক আমি তাহা পছন্দ করি না, আর তুমি দরিদ্র থাক তাহাও আমার সবচাইতে বেশি অপছন্দ। আমি তোমাকে এমন খেজুর গাছ দিয়াছিলাম যাহার মধ্যে বিশ ওসক খেজুর জন্মে। তুমি যদি তাহা দখলে রাখিতে এবং ফল সংগ্ৰহ করিতে থাকিতে তবে তাহা তোমার সম্পদ হইয়া যাইত। এখন তো তাহা ওয়ারিসদের সম্পত্তি। ওয়ারিস তোমার দুই ভাই ও দুই বোন, সুতরাং উহাকে আল্লাহর কিতাব অনুসারে বন্টন করিও। আয়েশা (রাঃ) বলিলেন, হে আব্বাজান যত বড় সম্পদই হউক না কেন, আমি তাহা ছাড়িয়া দিতাম, কিন্তু আমার তো বোন শুধু একজন আসমা (রাঃ), অন্য জন কে? তিনি উত্তরে বলিলেন, (আমার স্ত্রী) বিন্ত খারেজা গর্ভবতী, তাহার গর্ভে যে সন্তান আছে আমার ধারণ তাহা মেয়েই হইবে।
রেওয়ায়ত ৪১. আবদুর রহমান ইবন আবদুল কারী (রহঃ) হইতে বর্ণিত উমর (রাঃ) বলিয়াছেন যে, মানুষের হইল কি? তাহারা নিজ পুত্র-সন্তানদের জন্য হেবা করে। অতঃপর তাহা নিজেই নিজ দখলে রাখিতে চায়, যদি ছেলে মারা যায় তবে বলে যে, আমার সম্পদ আমারই দখলে আছে, আমি কাহাকেও দান করি নাই, আর যদি নিজে মারা যায় তবে বলিয়া যায় যে, ইহা আমার ছেলেরই, আমি তাহাকে দান করিয়াছি। যদি কোন হেবা করার পরে তাহা চালু না করে এবং ছেলে ওয়ারিসসুত্রে মালিক হয় তবে তাহা বাতিল হইয়া যায়।
রেওয়ায়ত ৪২. আবু গাতফান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর (রাঃ) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি আত্মীয়তা রক্ষার জন্য অথবা দানস্বরূপ হেবা করে সে ঐ হেবা আর ফিরাইয়া আনিতে পারিবে না। আর যদি কোন বিনিময়ের আশায় হেবা করে তবে তাহা ফিরাইতে পারিবে যখন তাহাদের সাথে মনোমালিন্য হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা আমাদের নিকট সর্বসম্মত বিষয় যে, যদি কেহ কোন জিনিস বিনিময়ের আশায় হেবা করে আর ঐ জিনিসের কোন ক্ষতি হয় তবে যাহাকে দিয়াছে তাহার গ্রহণ করার দিন যে দাম ছিল তাহা তাহাকে আদায় করিতে হইবে।
রেওয়ায়ত ৪৩. জাবির ইবন আবদিল্লাহ (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি কাহারো জন্য অথবা তাহার ওয়ারিসগণের জন্য কোন জিনিস মৃত্যু পর্যন্ত দান করে তবে উহা যাহাদিগকে দান করিয়াছে তাহাদের জন্য হইবে। দানকারীর নিকট উহা ফিরিয়া আসিতে পারে না। ইহা ওয়ারিসীর যোগ্য দান।
রেওয়ায়ত ৪৪. আবদুর রহমান ইবন কাসিম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি মাকহুল দামেশকীকে কাসিম ইবন মুহাম্মদের নিকট মৃত্যু পর্যন্ত দান সম্বন্ধে প্রশ্ন করিতে শুনিয়াছেন অর্থাৎ এই ব্যাপারে মানুষের কি মতামত তাহা জানিতে চাহিয়াছেন। তখন কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) বলেন, আমি তো মানুষদিগকে নিজ সম্পদের মধ্যেও নিজ দানের ব্যাপারে নিজ নিজ শর্ত পূর্ণ করিতে দেখিয়াছি।
রেওয়ায়ত ৪৫. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, ইবন উমর (রাঃ) হাফসা বিনত উমরের একটি গৃহের ওয়ারিস হইলেন। তিনি ঐ গৃহ যায়দ ইবন খাত্তাবের কন্যাকে আজীবন থাকার জন্য দিয়াছিলেন। অতঃপর যখন যায়দের কন্যার মৃত্যু হইল তখন ইবন উমর (রাঃ) উহা দখল করিলেন এবং তিনি উহাকে নিজস্ব মনে করিতেন।
রেওয়ায়ত ৪৬. যায়দ ইবন খালেদ জুহানী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট আসিয়া কোথাও পাওয়া জিনিস সম্বন্ধে প্রশ্ন করিলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তাহার পাত্রটি চিনিয়া রাখ এবং তাহার বন্ধনও চিনিয়া রাখ, অতঃপর এক বৎসর পর্যন্ত মানুষের কাছে ঘোষণা করিতে থাক। যদি মালিক পাওয়া যায় তবে ফেরত দিয়া দাও; অন্যথায় তুমি নিজে ব্যবহার করিতে পার। সে বলিল, যদি ছাড়া ছাগল পাওয়া যায় তবুও। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তাহা তোমার অথবা তোমার ভাইয়ের কিংবা বাঘের হইবে। সে পুনরায় জিজ্ঞাসা করিল, যদি ছাড়া উট পাওয়া যায় তবে কি করিব? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে উটের সাথে তোমার কি সম্পর্ক তাহার সাথে পান করার মতো পানি আছে এবং তাহার পা আছে যেখানে খুশী পানি পান করিয়া লইবে। গাছের পাতা খাইবে। শেষ পর্যন্ত তাহার মালিক উহা পাইয়া ফেলিবে।
রেওয়ায়ত ৪৭. মুয়াবিয়া ইবন আবদুল্লাহ জুহানী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার পিতা বলিয়াছেন যে, তিনি সিরিয়ার পথে এক মঞ্জিলে একটি তোড়া পাইলেন। তাহাতে আশিটি দীনার ছিল। তিনি ইহা উমর (রাঃ)-এর নিকট বর্ণনা করিলেন। উমর (রাঃ) বলিলেন, ইহাকে মসজিদসমূহের দরজায় ঘোষণা কর। আর যাহারা সিরিয়া হইতে আসে তাহাদিগকে এক বৎসর পর্যন্ত জিজ্ঞাসা কর। যদি এক বৎসর অতিবাহিত হয় তাহা হইলে তখন তোমার ইচ্ছা।
রেওয়ায়ত ৪৮. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাস্তায় কিছু পাইল। সে উহা লইয়া ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিল, আমি একটি জিনিস পাইয়াছি, এই ব্যাপারে আপনার মত কি? আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) তাহাকে বললেন, তাহা প্রচার কর। সে বলিল, আমি তাহা করিয়াছি। ইবন উমর (রাঃ) বললেন, পুনরায় ঘোষণা কর। সে বলিল, তাহাও করিয়াছি। ইবন উমর (রাঃ) বলিলেন, আমি তোমাকে ব্যবহার করিতে বলিব না। তুমি উহা নাও উঠাইতে পারিতে।