রেওয়ায়ত ১. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি জুম'আর দিন জানাবতের (ফরয) গোসলের মত গোসল করিয়াছে, অতঃপর সূর্য ঢলার পর প্রথম মুহূর্তে (মসজিদের দিকে) চলিয়াছে, সে যেন একটি উট আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে খায়রাত করিয়াছে; আর যে দ্বিতীয় মুহুর্তে একটু পরে চলিয়াছে, সে যেন একটি গাভী খায়রাত করিয়াছে; আর যে তৃতীয় মুহূর্তে আরও পরে চলিয়াছে, সে যেন শিংযুক্ত মেষ খায়রাত করিয়াছে; আর যে চতুর্থ মুহূর্তে অর্থাৎ আরও পরে চলিয়াছে, সে যেন একটি মুরগী খায়রাত করিয়াছে; আর যে পশ্চম মুহূর্তে চলিয়াছে, সে যেন ডিম খায়রাত করিয়াছে। যখন ইমাম বাহির হন তখন ফেরেশতাগণ হাজির হন, যিকর (খুতবা) শোনার জন্য।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمُ الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ " .
রেওয়ায়ত ৫. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, তোমাদের কেউ জুম'আর নামাযে আসিতে ইচ্ছা করিলে সে অবশ্য গোসল করিবে। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, জুম'আর দিন যে ব্যক্তি দিনের প্রারম্ভে গোসল করিয়াছে, সে ঐ গোসলে জুম'আর গোসলের নিয়ত করিয়াছে, তাহার জন্য সেই গোসল জুম'আর জন্য যথেষ্ট হইবে না যদি না সে জুম'আয় যাওয়ার জন্য পুনরায় গোসল করে; কারণ ইবন উমর (রাঃ)-এর হাদীসে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেনঃ তোমাদের কেউ জুম'আয় আসার ইচ্ছা করিলে সে অবশ্যই গোসল করিবে। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি জুম'আ দিবসে গোসল করিয়াছে, তাড়াতাড়ি অথবা বিলম্বে, সে এই গোসলের দ্বারা জুম'আর গোসলের নিয়ত করিয়াছে; পরে ওযু যাহাতে ভঙ্গ হয় এমন কিছু ঘটিয়াছে তবে তাহার পূর্বেকার গোসল যথেষ্ট হইরে এবং তাহার উপর কেবলমাত্র ওযু ওয়াজিব হইবে।
হাদিস 230 — Muwatta Malik 5:6
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ أَنْصِتْ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَدْ لَغَوْتَ " .
রেওয়ায়ত ৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ জুম'আর দিন ইমাম যখন খুতবা প্রদান করেন, তুমি তোমার সথীকে (পার্শ্ববর্তী লোক) যদি বল, চুপ থাকুন, তবে তুমি অলাভজনক কথা বললে।
রেওয়ায়ত ৭. ইবন শিহাব (রহঃ) সা’লাবা ইবন আবি মালিক কুরাজী (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সা’লাবা) তাহার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফতকালে জুম'আর দিন তাহারা উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) আগমন করা পর্যন্ত নামায পড়িতেন। উমর (রাঃ) আগমন করিতেন এবং মিম্বরে বসিতেন এবং মুয়াযযিনগণ আযান দিতেন। সা'লাবা (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমরা তখনও পরস্পর কথাবার্তা বলিতাম, মুয়াযযিনগণ যখন আযান শেষ করিতেন এবং উমর (রাঃ) খুতবা পাঠ করার জন্য দাঁড়াইতেন, তখন আমরা চুপ হইয়া যাইতাম। অতঃপর পরে কেউ কোন কথা বলিত না। ইবন শিহাব (রহঃ) বলিয়াছেনঃ (ইহাতে বোঝা গেল) ইমামের আগমন নামাযকে নিষিদ্ধ করিয়া দেয় এবং তাহার কালাম (খুতবা) কথাবার্তাকে নিষিদ্ধ করিয়া দেয়।
রেওয়ায়ত ৮. মালিক ইবন আবি আমীর (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উসমান ইবন আফফান (রাঃ) তাহার খুতবায় বলিতেন এবং তিনি যখনই খুতবা দিতেন, তখন প্রায় ইহা বলিতেনঃ জুম'আর দিন ইমাম খুতবার উদ্দেশ্যে যখন দাঁড়ান, তখন তোমরা মনোযোগী হইয়া শুনিবে এবং নীরব থাকিবে। কেননা খুতবা শুনিতে না পাইয়াও যিনি নীরব রহিয়াছেন তাহার জন্য সওয়াব হইবে শুনিতে পাইয়া নীরবতা অবলম্বনকারীর সমান। অতঃপর যখন নামাযের ইকামত বলা হয়, কাতার বরাবর করিয়া লও এবং কাঁধে কাঁধ মিলাইয়া লও। কেননা কাতার বরাবর করা নামাযের পূর্ণতার অংশবিশেষ। তারপর যতক্ষণ কাতার সোজা করার জন্য নিযুক্ত লোকজন আসিয়া ‘সফ’ সোজা হইয়াছে বলিয়া সংবাদ না দিতেন, ততক্ষণ তিনি (নামাযের) তকবীর বলিতেন না।
রেওয়ায়ত ৯. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) দুই ব্যক্তিকে আলাপরত দেখিলেন, তখন জুম'আর দিন এবং ইমাম খুতবা প্রদান করিতেছিলেন। ইহা দেখিয়া তিনি উভয়ের দিকে কাঁকর নিক্ষেপ করিলেন, এই মর্মে— তোমরা চুপ হইয়া যাও।
রেওয়ায়ত ১০. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, (একবার) জুম'আর দিন এক ব্যক্তি হাঁচি দিয়াছে, তখন ইমাম খুতবা পড়িতেছিলেন, তাহার পার্শ্ববর্তী এক ব্যক্তি হাঁচির উত্তরে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলিল, তখন সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) ইহার কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। অতঃপর তাহাকে নিষেধ করিলেন এবং ভবিষ্যতে এইরূপ না করার জন্য বলিয়া দিলেন। মালিক (রহঃ) বলেন, জুম'আর দিন (তাকবীর বলার পূর্বে) যখন ইমাম মিম্বর হইতে অবতরণ করেন, তখন কথা বলা সম্পর্কে তিনি ইবন শিহাব (রহঃ)-কে প্রশ্ন করিলেন (উত্তরে) ইবন শিহাব (রহঃ) বললেনঃ ইহাতে কোন দোষ নাই।