রেওয়ায়ত ৩০. যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) বলিতেন, যে ব্যক্তি দাসী স্ত্রীকে (তাহার স্ত্রী থাকা অবস্থায়) তিন তালাক প্রদান করে, পরে সে উহাকে ক্রয় করিয়া লয়; সেই দাসী সে ব্যক্তির জন্য হালাল হইবে না, যাবত সে দাসী (ইদ্দতের পর) অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে (অর্থাৎ প্রথমাবস্থায় অন্যের দাসী ও তাহার স্ত্রী ছিল, পরে সে তালাক দিয়া উহাকে ক্রয় করিয়া লইয়াছে)।
রেওয়ায়ত ৩১. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব ও সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ)-কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইল, যে ব্যক্তি তাহার এক ক্রীতদাসের নিকট তাহার দাসীকে বিবাহ দিয়াছে। অতঃপর ক্রীতদাস (স্বামী) উহাকে তিন তালাক দিয়াছে। তারপর সেই দাসীকে তাহার কর্তা হিবা (দান) করিলেন তালাকদাতা ক্রীতদাসের নিকট। তবে দাসীর স্বত্বাধিকারী হওয়ার কারণে এই দাসী সেই ক্রীতদাসের জন্য হালাল হইবে কি? তাহারা উভয়ে বলিলেনঃ না, যাবৎ স্ত্রীলোকটি অন্য স্বামী গ্রহণ না করে।
রেওয়ায়ত ৩২. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব যুহরী (রহঃ)-কে প্রশ্ন করিলেন এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে, যাহার অধীনে (বিবাহ সূত্রে) অন্যের ক্রীতদাসী ছিল, পরে সে উহাকে ক্রয় করিয়াছে (ক্রয় করার পূর্বে) সে উহাকে এক তালাক দিয়াছিল। (এখন তাহার জন্য উক্ত স্ত্রীলোকটি হালাল হইবে কি?) ইবন শিহাব (রহঃ) বলিলেনঃ (মিলকে য়ামীন) ক্রয়ের মাধ্যমে দাস-দাসীর স্বত্বাধিকারী হওয়ার দ্বারা সেই দাসী উক্ত ব্যক্তির জন্য হালাল হইবে তিন তালাক না দেওয়া পর্যন্ত। আর যদি দিয়া থাকে তবে তাহার জন্য উক্ত দাসী মিলকে য়ামীনের দ্বারা হালাল হইবে না, যাবৎ সে স্ত্রীলোকটি অন্য স্বামী গ্রহণ না করে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি (অন্যের) ক্রীতদাসীকে বিবাহ করে এবং তাহার সন্তান জন্মে। অতঃপর সেই দাসীকে সে ক্রয় করে। সন্তান হওয়ার দারুন এই ক্রীতদাসী তাহার উম্মে ওয়ালাদ[1] হইবে না। কারণ সে অন্যের ক্রীতদাসী। তবে উহাকে ক্রয় করার পর তাহার (এই) মালিকের স্বত্বাধিকারে থাকাকালীন সেই ক্রীতদাসী সন্তান জন্ম দিলে উম্মে ওয়ালাদ হইবে।মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি উক্ত ক্রীতদাসকে ক্রয় করে এবং সেই দাসী তাহার দ্বারা অন্তঃসত্ত্বা হয়। অতঃপর তাহারই স্বত্বাধিকারে থাকাকালীন সে সন্তান জন্ম দেয় তবে আমাদের মতে গর্ভ ধারণের কারণে এই দাসী উম্মে ওয়ালাদ বলিয়া গণ্য হইবে। আল্লাহ্ই ভাল জানেন।
রেওয়ায়ত ৩৩. উবায়দুল্লাহ্ ইবন আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন স্ত্রীলোক ও তাহার কন্যা সম্পর্কে, যাহাদের উভয়কে ক্রয়সূত্রে মালিক হইয়া পর্যায়ক্রমে সহবাস করা হইয়াছে। উমর (রাঃ) বলিলেন, উভয়কে একত্র করিয়া সহবাস করাকে আমি পছন্দ করি না। তিনি এইরূপ করিতে নিষেধ করিলেন।
রেওয়ায়ত ৩৪. কাবীসা ইবন যুয়াইব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-কে এমন দুই বোন সম্পর্কে প্রশ্ন করিল, যে দুই বোনের ক্রয়সূত্রে (কেহ) মালিক হইয়াছে। এমতাবস্থায় উভয়ের সঙ্গ সংগত হওয়া যাইবে কি? উসমান (রাঃ) বলিলেনঃ উভয়ের সংগত হওয়া (কুরআনুল করীমের) এক আয়াত অনুযায়ী হালাল করা হইয়াছে। আবার অন্য আয়াত অনুযায়ী ইহাকে হারাম করা হইয়াছে। তাই আমি ইহাকে (দুই বোনের সঙ্গে একত্রে সংগত হওয়া) পছন্দ করি না। প্রশ্নকারী ব্যক্তি তাহার নিকট হইতে প্রস্থান করার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের অন্য একজন সাহাবীর সঙ্গে সাক্ষাত হইল। তখন সে এই বিষয়ে তাহার নিকট প্রশ্ন করিল। তিনি বলিলেনঃ লোকের উপর যদি আমার অধিকার থাকিত তবে কাহাকেও এইরূপ করিতে পাইলে আমি তাহাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতাম! ইবন শিহাব (রহঃ) বলেনঃ আমি মনে করি এই সাহাবী আলী ইবন আবু তালিব (রাঃ)। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যুবাইর ইবন আওয়াম (রাঃ) হইতেও অনুরূপ রেওয়ায়ত তাহার নিকট পৌছিয়াছে।
রেওয়ায়ত ৩৫. মালিক (রহঃ) বলেনঃ জনৈক ব্যক্তির নিকট এক ক্রীতদাসী আছে। সে উহার সহিত সংগত হইয়া থাকে। অতঃপর সেই দাসীর বোনের সহিত সংগত হইতে ইচ্ছা করিল। ইহা সে ব্যক্তির জন্য হালাল হইবে না যাবৎ ইহার বোন তাহার জন্য হারাম না হয়; (পূর্ববর্তী বোনকে) অন্যের নিকট বিবাহ দেওয়ার ফলে অথবা আযাদ করিয়া দিয়া অথবা এই ধরনের অন্য কোন উপায় কিংবা এই দাসীকে তাহার ক্রীতদাস অথবা অন্য কাহারও নিকট বিবাহ দেওয়ার ফলে।
রেওয়ায়ত ৩৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) তাহার পুত্রকে একটি দাসী দান করিলেন। এবং বলিয়া দিলেন, তুমি ইহাকে স্পর্শ (সহবাস) করিও না। কারণ আমি উহার পর্দা উন্মোচন করিয়াছি (অর্থাৎ সহবাস করিয়াছি)। আবদুর রহমান ইবন মুজাববার[1] (রহঃ) বলেনঃ মালিক ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) তাহার এক পুত্রকে একটি দাসী দান করিলেন এবং তিনি পুত্রকে বলিয়া দিলেন, তুমি ইহার নিকট গমন (সহবাস) করিও না, কারণ আমি উহার সাথে সংগত হওয়ার ইচ্ছা করিয়াছি। সুতরাং আমি তোমাকে উহার সহিত মিলিত হওয়ার অনুমতি দিতে পারি না।
রেওয়ায়ত ৩৭. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবু নাহশল ইবন আসওয়াদ, কাসেম ইবন মুহম্মদ (রহঃ)-কে বলিলেন, আমার এক দাসীকে জ্যোৎস্না রাত্রিতে পরিচ্ছদ খোলা অবস্থায় দেখিয়াছি। সংগত হওয়ার উদ্দেশ্যে কোন পুরুষ তাহার স্ত্রীর নিকট যেভাবে বসে আমিও উহার নিকট সেইরূপ বসিলাম। সে দাসী বলিল, আমি ঋতুমতী। ইহা শুনিয়া আমি তাহার সহিত সংগত হইলাম না। এখন আমি উহাকে সহবাসের জন্য আমার পুত্রকে দান করিতে পারি কিন্তু কাসেম তাহাকে এইরূপ করিতে নিষেধ করিলেন।
রেওয়ায়ত ৩৮. ইবরাহীম ইবন আবি 'আবলা (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান তাহার এক সঙ্গীকে একটি দাসী দান করিলেন। তারপর তাহার নিকট উহার অবস্থা জিজ্ঞাসা করিলেন। উত্তরে তিনি বলিলেনঃ[1] আমি উহা আমার পুত্রকে দান করিতে ইচ্ছা করিয়াছি। সে উহার সহিত এমন (অর্থাৎ সহবাস) করিবে। আবদুল মালিক বলিলেনঃ মারওয়ান তোমার তুলনায় অধিক সাবধানী ছিলেন। তিনি তাহার পুত্রকে একটি দাসী দান করিলেন। অতঃপর বলিয়া দিলেন, তুমি ইহার নিকট গমন (সহবাস) করিও না। কারণ, আমি উহার হাঁটু অনাবৃত অবস্থায় দেখিয়াছি।