রেওয়ায়ত ১. মালিক (রহঃ) বলেনঃ মু'আবিয়া ইবন আবী সুফিয়ান যায়দ ইবন সাবিত (রহঃ)-কে দাদার মীরাস সম্বন্ধে প্রশ্ন করিয়া লিখিয়াছিলেন। যায়েদ উত্তরে লিখিলেন, তুমি দাদার মীরাস সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করিয়াছ, ইহা এমন একটি মাসআলা সেই সম্বন্ধে দুই খলীফা [উমর, উসমান (রাঃ)] ফয়সালা করার সময় আমি স্বয়ং ইহাতে উপস্থিত ছিলাম। মৃতের এক ভাই থাকিলে দাদাকে অর্ধেক অংশ দিতেন এবং দুই ভাই থাকিলে দাদার এক-তৃতীয়াংশ এবং অনেক ভাই-বোন থাকিলেও ঐ এক-তৃতীয়াংশই দাদাকে দিতেন, উহা হইতে কম দিতেন না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা আমাদের নিকট সর্বসম্মত মাসআলা যে, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের সন্তান, নানা, পিতার বৈপিত্রেয় ভাই, মামা এবং নানার মা, সহোদর ভাই-এর সন্তান, ফুফু এবং খালা যবিল আরহাম হওয়া সত্ত্বেও ওয়ারিস হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেন, যে স্ত্রীলোক দূরসম্পৰ্কীয় সে ওয়ারিস হইবে না। আর স্ত্রীলোকদের মধ্যে ঐ স্ত্রীলোকেরা কেহ ওয়ারিস হইবে না, যাহাদিগকে আল্লাহ্ তা'আলা কুরআন মাজীদে বর্ণনা করিয়া দিয়াছেন। তাহারাই হইল মা, কন্যা, স্ত্রী, সহোদর ভগ্নী, সৎ ভগ্নী, বৈপিত্রেয় ভগ্নী। নানী এবং দাদীর অংশ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এইরূপ মহিলাগণ তাহাদের মুক্ত দাসের ওয়ারিস হইবে; কারণ আল্লাহ্ পাক কুরআন মজীদে উল্লেখ করিয়াছেনঃ উহাদিগকে তোমাদের ধর্মীয় ভ্রাতা ও বন্ধুরূপে গণ্য করিবে। (সূরা আহযবঃ)
রেওয়ায়ত ৪. কুবাইসা ইবন ওয়াইব (রহঃ) হইতে বর্ণিত-এক মৃত ব্যক্তির দাদী তাহার মীরাসের জন্য আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর নিকট আসিল । তিনি বলিলেন, তোমাদের হিস্যা সম্বন্ধে কিতাবুল্লাহতেও কোন উল্লেখ নাই এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতেও কোন হাদীস শুনি নাই। এখন তুমি চলিয়া যাও। আমি লোকের নিকট জিজ্ঞাসা করিয়া তাহা বলিয়া দিব। অবশেষে আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) সাহাবীদেরকে জিজ্ঞাসা করিলেন, মুগীরা ইবন শু’বা (রাঃ) বলিলেন, আমার সম্মুখে রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাদীকে ষষ্ঠাংশ দিয়াছেন। আবু বকর (রাঃ) বলিলেন, তোমার কোন সাক্ষী আছে কি? তখন মুহম্মদ ইবন মাসলামা আনসারী দাঁড়াইয়া মুগীরা যেইরূপ বলিয়াছিলেন তদ্রুপ বলিলেন। এই সাক্ষীর পর আবু বকর (রাঃ) দাদীকে এক-ষষ্ঠাংশ দিয়া দিলেন। অতঃপর উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফতকালে এক দাদী মীরাসের জন্য তাহার নিকট আসিল। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিলেন, কুরআনে তোমাদের কোন হিস্যার উল্লেখ নাই। তুমি ব্যতীত অন্যদের সম্বন্ধে কিছু সিদ্ধান্ত পূর্বে হইয়াছে আমি স্বীয় পক্ষ হইতে কাহারও জন্য মীরাসের হিস্য বাড়াইতে পারি না। তবে তুমিও ষষ্ঠাংশ লইয়া লও। যদি দাদী আরও অথবা নানীও থাকে তবে উভয়ে মিলিয়া ষষ্ঠাংশ বন্টন করিয়া দিও। আর তোমরা কেহ একজন থাকিলে সে ষষ্ঠাংশ পাইবে।
রেওয়ায়ত ৫. কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত-নানী এবং দাদী মীরাসের জন্য আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর নিকট আসিল। তিনি নানীকে ষষ্ঠাংশ দিতে চাহিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি দাঁড়াইয়া বললেন আপনি এমন ব্যক্তির দাদীর অংশ দিতেছেন না যে, যদি সে মৃত হইত এবং উক্ত মৃত ব্যক্তি জীবিত হইত তবে সে (নাতি) তাহার ওয়ারিস হইত। আর এমন ব্যক্তিকে হিস্যা দিতেছেন যে, যদি সে মৃত হইত (অর্থাৎ নানী) এবং উক্ত মৃত ব্যক্তি জীবিত হইত তবে সে (মেয়ের ছেলে) তাহার ওয়ারিস হইত না। ইহা শুনিয়া তিনি উভয়কে ষষ্ঠাংশ সমান বন্টন করিয়া দিয়াছিলেন।
রেওয়ায়ত ৬. মালিক (রহঃ) বলেন, আবু বকর ইবন আবদুর রহমান ইবন হারিস ইবন হিশাম নানী কিংবা দাদীকে হিস্যা দিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মতিক্রমে ইহা নিধারিত মাসআলা যে, মৃত ব্যক্তির মাতা জীবিত থাকিলে নানী হিস্যা পাইবে না। ইহা ব্যতীত অন্য অবস্থায় নানী ষষ্ঠাংশ পাইবে। আর মাতা অথবা পিতা জীবিত থাকাকালীন দাদী মাহুরূম হইবেন। অন্য অবস্থাতে তাহার জন্য ষষ্ঠাংশ। আর যদি দাদীও মৃত ব্যক্তির নিকটের হয় অথবা নৈকট্যের বিবেচনায় দুইজন সমপর্যায়ের হয় তবে দুইজনে (দাদী ও নানী) ষষ্ঠাংশের অর্ধেক অর্ধেক হিস্যা প্রাপ্ত হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ অন্যান্য দাদী-নানীর জন্য কোন মীরাস নাই এই দুই দাদী ও নানী ব্যতীত, যেহেতু আমার নিকট সংবাদ পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাদীকে মীরাস দিয়াছেন। অতঃপর আবু বকরকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হইল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাদীকে অংশ দিয়াছেন বলিয়া প্রমাণ পাইয়া তিনিও দাদীকে অংশ দিয়াছেন। অতঃপর এক নানী উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট আসিলে তিনি বলিয়াছেন আমি কাহারও জন্য মীরাসে নূতন কোন অংশ দিতে পারি না, তবে দাদী ও নানী একত্র হইলে ঐ অংশ তাহাদের মধ্যে সমানভাগে ভাগ করিয়া দেওয়া হইবে। আর তাহাদের যে কেহ একজন শুধু আছে (অন্য দাদী নানী নাই) তবে সে একাই ষষ্ঠাংশ পাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইসলামের প্রারম্ভ হইতে আজ পর্যন্ত উক্ত নানীগণ এবং দাদীগণ ব্যতীত কেহই অন্য নানী কিংবা দাদীগণকে কোন মীরাস দেয় নাই।
হাদিস 1080 — Muwatta Malik 27:7
সহিহ Lighairihi
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْكَلاَلَةِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَكْفِيكَ مِنْ ذَلِكَ الآيَةُ الَّتِي أُنْزِلَتْ فِي الصَّيْفِ آخِرَ سُورَةِ النِّسَاءِ " .
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْكَلاَلَةِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَكْفِيكَ مِنْ ذَلِكَ الآيَةُ الَّتِي أُنْزِلَتْ فِي الصَّيْفِ آخِرَ سُورَةِ النِّسَاءِ " .
রেওয়ায়ত ৮. কুরায়শ সম্প্রদায়ের এক স্বাধীন করা গোলাম (যাহাকে ইবন মুসা বলা হইত) বলিল, আমি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট বসা ছিলাম, তিনি যুহরের নামায পড়িয়া য়ারফা নামক সাহাবীক বলিলেন, আমার নিকট ঐ কিতাবটি লইয়া আস, যাহা ফুফুর মীরাস সম্বন্ধে লেখা হইয়াছে। আমি এই ব্যাপারে লোকের নিকট জিজ্ঞাসা করিব। অতঃপর উমর (রাঃ) একটি পেয়ালা আনাইলেন যাহাতে পানি ছিল। ঐ পানি দ্বারা ঐ কিতাব ধুইয়া ফেলিলেন এবং বলিলেন, যদি ফুফুকে অংশ দেওয়া আল্লাহর ইচ্ছা থাকিত তাহা হইলে স্বীয় কিতাবে উহা উল্লেখ করিতেন।
রেওয়ায়ত ৯. মুহাম্মদ ইবন আবু বকর ইবন হাজম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি তাহার পিতাকে অনেক বার বলিতে শুনিয়াছেন যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিতেন, ফুফুর ব্যাপার আশ্চর্যজনক, তিনি মীরাস পান না কিন্তু তাহার মীরাস অন্যরা পায়।
হাদিস 1083 — Muwatta Malik 27:10
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ " .