রেওয়ায়ত ৪০. মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইবন শিহাব (রহঃ) ও কাসেম ইবন মুহম্মদ (রহঃ) তাহারা উভয়ে বলিতেন, স্বাধীন ব্যক্তি কোন দাসীকে বিবাহ করিলে, অতঃপর উহার সহিত সহবাস করিলে ইহার দ্বারা সে মুহসান (محصن) বলিয়া গণ্য হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি যে সকল বিজ্ঞজনের সাক্ষাত পাইয়াছি তাহারা বলিতেন, ক্রীতদাসী স্বাধীন ব্যক্তিকে মুহসান (محصن) করে যদি সে উহাকে বিবাহ করে এবং তাহার সহিত সংগত হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাস স্বাধীন মহিলাকে মুহসানা বানায় যদি সে উহাকে বিবাহ করে এবং তাহার সহিত সংগত হয়। কিন্তু স্বাধীন নারী ক্রীতদাসকে অদ্রুপ করে না। কিন্তু ক্রীতদাস তাহার স্বামী যদি তাহাকে আযাদ করিয়া দেয় এবং স্বাধীন হওয়ার পর স্বামী হিসাবে সে তাহার সহিত সহবাস করে তবে সে মুহসান (محصن) হইবে। আর যদি মুক্ত হওয়ার পূর্বে সে স্ত্রীকে পৃথক করিয়া দেয় তবে সে মুহসানা হইবে না যাবৎ মুক্ত হওয়ার পর উহাকে বিবাহ না করে এবং উহার সহিত সংগত না হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ক্রীতদাসী স্বাধীন ব্যক্তির স্ত্রীরূপে রহিয়াছে তাহার মুক্ত হওয়ার পূর্বে স্বামী তাহাকে তালাক দিলে উক্ত বিবাহ সে ক্রীতদাসীকে মুহসানা করিবে না। অবশ্য মুক্তি পাওয়ার পর তাহাকে বিবাহ করিয়া তাহার সহিত সংগত হইলে সে মুহসানা (সধবা) হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসী যদি আযাদ ব্যক্তির স্ত্রী হয় এবং তাহার নিকট থাকাকালীন তৎকর্তৃক পরিত্যক্ত হওয়ার পূর্বে সে দাসত্ব হইতে মুক্ত হয় তবে সে মুহসানার (সধবা) অন্তর্ভুক্ত হইবে। এই ব্যাপারে শর্ত এই যে, উক্ত ব্যক্তির স্ত্রী থাকা অবস্থায় সে মুক্তিপ্রাপ্ত হয় এবং ইহার পর তাহার স্বামী তাহার সহিত সহবাস করে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ খ্রিস্টান ও ইহুদী স্বাধীন নারী এবং মুসলিম ক্রীতদাসী এই তিনজনের একজনকে যদি কোন আযাদ মুসলিম ব্যক্তি বিবাহ করে এবং তাহার সহিত সংগত হয় তবে সে স্ত্রী লোক মুহসানা, (সধবা) হইে।
হাদিস 1133 — Muwatta Malik 28:43
Mauquf Sahih
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، وَالْحَسَنِ، ابْنَىْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عَنْ أَبِيهِمَا، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ مُتْعَةِ النِّسَاءِ يَوْمَ خَيْبَرَ وَعَنْ أَكْلِ لُحُومِ الْحُمُرِ الإِنْسِيَّةِ .
রেওয়ায়ত ৪১. ‘আলী ইবন আবু তালিব (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খায়বর দিবসে মুত'আ বিবাহ করিতে নিষেধ করিয়াছেন এবং তিনি গৃহপালিত গাধার গোশত আহার করিতেও নিষেধ করিয়াছেন।
রেওয়ায়ত ৪২. খাওলা বিনত হাকিম (রাঃ) উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর খিদমতে উপস্থিত হইয়া বলিলেনঃ রবি'আ ইবন উমাইয়া (রাঃ) এক মুওয়াল্লাদা[1] নারীকে মুত’আ বিবাহ করেন এবং সে নারী গর্ভবতী হয়। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) ইহা শুনিয়া ঘাবড়াইয়া গেলেন এবং আপন চাদর টানিতে টানিতে বাহির হইলেন। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ মুত’আ নিষিদ্ধ। লোকদের মধ্যে যদি এ বিষয়ে আমি পূর্বে ঘোষণা করিতাম তবে এই (মুত’আর কারণে) ব্যভিচারীর প্রতি রজম (প্রস্তর নিক্ষেপ) করিতাম।
রেওয়ায়ত ৪৩. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি রবী'আ ইবন আবু আবদুর রহমান (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, ক্রীতদাস চারটি বিবাহ করিতে পারে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এ বিষয়ে আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই উত্তম। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসের বিবাহ এবং মুহাল্লিল-এর বিবাহের মধ্যে পার্থক্য রহিয়াছে। কারণ ক্রীতদাসের মালিক যদি বিবাহের অনুমতি দেয় তবে তাহার বিবাহ বৈধ হইবে। আর যদি মালিক তাহার বিবাহের অনুমতি না দেয় তবে তাহাদের উভয়কে (স্বামী ও স্ত্রী) পৃথক করিয়া দেওয়া হইবে। পক্ষান্তরে মুহাল্লিল ও তাহার স্ত্রীকে সর্বাবস্থায় পৃথক করিয়া দেওয়া হইবে যদি সে হালাল করার উদ্দেশ্যে বিবাহ করিয়া থাকে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ক্রীতদাসের স্ত্রী যদি তাহার মালিক হয় অথবা স্বামী স্ত্রীর মালিক হয় এমতাবস্থায় স্বামী তাহার স্ত্রীর অথবা স্ত্রী তাহার স্বামীর মালিক হওয়ার ফলে তালাক ছাড়াই তাহাদের বিবাহ ভঙ্গ হইয়া যাইবে। আর যদি তাহারা উভয়ে নূতন বিবাহের মাধ্যমে একে অপরের প্রতি প্রত্যাবর্তন করে তবে তাহাদের পূর্ববর্তী পৃথকীকরণ তালাক বলিয়া গণ্য হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসের স্ত্রী যদি ক্রীতদাসকে মুক্ত করিয়া দেয় এমতাবস্থায় যে, সে তাহার মালিক হইয়াছে, তখন স্ত্রী (বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে) ইদ্দতের মধ্যে রহিয়াছে, তবে তাহারা উভয়ে নূতন বিবাহ ছাড়া একে অপরের দিকে প্রত্যাবর্তন করিতে পারবে না (অর্থাৎ নূতনভাবে বিবাহ করিতে হইবে)।
হাদিস 1136 — Muwatta Malik 28:46
দাঈফ
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ نِسَاءً، كُنَّ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُسْلِمْنَ بِأَرْضِهِنَّ وَهُنَّ غَيْرُ مُهَاجِرَاتٍ وَأَزْوَاجُهُنَّ حِينَ أَسْلَمْنَ كُفَّارٌ مِنْهُنَّ بِنْتُ الْوَلِيدِ بْنِ الْمُغِيرَةِ . وَكَانَتْ تَحْتَ صَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ فَأَسْلَمَتْ يَوْمَ الْفَتْحِ وَهَرَبَ زَوْجُهَا صَفْوَانُ بْنُ أُمَيَّةَ مِنَ الإِسْلاَمِ فَبَعَثَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ابْنَ عَمِّهِ وَهْبَ بْنَ عُمَيْرٍ بِرِدَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَانًا لِصَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ وَدَعَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الإِسْلاَمِ وَأَنْ يَقْدَمَ عَلَيْهِ فَإِنْ رَضِيَ أَمْرًا قَبِلَهُ وَإِلاَّ سَيَّرَهُ شَهْرَيْنِ فَلَمَّا قَدِمَ صَفْوَانُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِرِدَائِهِ نَادَاهُ عَلَى رُءُوسِ النَّاسِ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّ هَذَا وَهْبَ بْنَ عُمَيْرٍ جَاءَنِي بِرِدَائِكَ وَزَعَمَ أَنَّكَ دَعَوْتَنِي إِلَى الْقُدُومِ عَلَيْكَ فَإِنْ رَضِيتُ أَمْرًا قَبِلْتُهُ وَإِلاَّ سَيَّرْتَنِي شَهْرَيْنِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " انْزِلْ أَبَا وَهْبٍ " . فَقَالَ لاَ وَاللَّهِ لاَ أَنْزِلُ حَتَّى تُبَيِّنَ لِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَلْ لَكَ تَسِيرُ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ " . فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قِبَلَ هَوَازِنَ بِحُنَيْنٍ . فَأَرْسَلَ إِلَى صَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ يَسْتَعِيرُهُ أَدَاةً وَسِلاَحًا عِنْدَهُ فَقَالَ صَفْوَانُ أَطَوْعًا أَمْ كَرْهًا فَقَالَ " بَلْ طَوْعًا " . فَأَعَارَهُ الأَدَاةَ وَالسِّلاَحَ الَّتِي عِنْدَهُ ثُمَّ خَرَجَ صَفْوَانُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ كَافِرٌ فَشَهِدَ حُنَيْنًا وَالطَّائِفَ وَهُوَ كَافِرٌ وَامْرَأَتُهُ مُسْلِمَةٌ وَلَمْ يُفَرِّقْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُ وَبَيْنَ امْرَأَتِهِ حَتَّى أَسْلَمَ صَفْوَانُ وَاسْتَقَرَّتْ عِنْدَهُ امْرَأَتُهُ بِذَلِكَ النِّكَاحِ .
রেওয়ায়ত ৪৪. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের যুগে স্ত্রীলোকেরা তাহদের নিজের শহরে থাকিয়া ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিতেন। তাহারা মদীনার দিকে হিজরত করিতে পারিতেন না। তাহারা মুসলিম হইতেন অথচ তাহাদের স্বামীগণ কাফের রহিয়াছে। এইরূপ স্ত্রীলোকের মধ্যে ছিলেন ওলীদ ইবন মুগীরার কন্যা। তিনি সফওয়ান ইবন উমাইয়ার স্ত্রী ছিলেন, মক্কা বিজয়ের সময় তিনি মুসলিম হইলেন। আর তাহার স্বামী সফওয়ান ইবন উমাইয়া ইসলাম কবুল না করিয়া পলায়ন করিল। সফওয়ানকে নিরাপত্তা প্রদানের প্রতীক স্বরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে পবিত্র চাদরসহ সফওয়ানের চাচাতো ভাই ওহাব ইবন উমায়রকে প্রেরণ করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাহাকে ইসলামের দিকে আহবান করিলেন এবং তাহার নিকট আসিতে বলিলেন, যদি সে খুশীতে মুসলিম হয়, তবে উহা গ্রহণ করা হইবে, নতুবা তাহাকে দুই মাস সময় দেওয়া হইবে। সফওয়ান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের চাদর লইয়া আগমন করিল এবং লোকসম্মুখে চিৎকার করিয়া বলিল, হে মুহাম্মদ, এই যে ওহাব ইবন উমায়র, সে আপনার চাদর লইয়া আমার নিকট গিয়াছিল এবং সে বলিয়াছে, আপনি আমাকে আপনার নিকট আসিতে আহবান জানাইয়াছেন, আমি যদি খুশীতে মুসলিম হই, উহা গ্রহণ করা হইবে। নতুবা আপনি আমাকে দুই মাস সময় দিবেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হে আবূ ওহাব (ইহা সফওয়ানের কুনিয়ত), তুমি (উটের পিঠ হইতে) অবতরণ কর। সফওয়ান বলিল, না নামিব না। আল্লাহর কসম, যাবৎ আপনি ব্যাখ্যা না করিবেন (ইহা সত্য কিনা)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ বরং তোমাকে চার মাস সময় দেওয়া হইবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়নের হাওয়াযিন গোত্রের দিকে (অভিযানে) বাহির হইলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফওয়ানের দিকে লোক প্রেরণ করিলেন তাহার নিকট যে সকল আসবাব ও যুদ্ধাস্ত্র ছিল সেগুলি (আরিয়ত) ধার স্বরূপ দেওয়ার জন্য। সফওয়ান বলিল, বাধ্যতামূলক না স্বেচ্ছায়? তিনি [রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলিলেনঃ (বাধ্যতামূলক নহে) বরং খুশীতে। সে তাহার নিকট যাহা ছিল আসবাব ও যুদ্ধাস্ত্র রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিল। অতঃপর (মক্কা হইতে) হুনায়ন-এর দিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে বাহির হইল। সে তখনও কাফের। তারপর হুনায়ন ও তায়েফ-এর অভিযানে শরীক হইল, সে তখনও কাফের আর তার স্ত্রী মুসলিম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফওয়ান ও তাহার স্ত্রীকে পৃথক করেন নাই। পরে সফওয়ান মুসলিম হইলেন। তাহার স্ত্রীকে তাহার নিকট রাখা হইল সেই (আগের) বিবাহে।
রেওয়ায়ত ৪৫. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেনঃ সফওয়ানের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও তাহার স্ত্রীর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের মধ্যে ব্যবধান ছিল অন্তত এক মাসের। ইবন শিহাব (রহঃ) বলেনঃ কোন স্ত্রীলোক আল্লাহ ও তাহার রাসূলের দিকে হিজরত করিলে এবং তাহার স্বামী কাফের অবস্থায় দারুল কুফরে থাকিলে তবে তাহার হিজরত তাহার ও তাহার স্বামীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করিবে। তবে যদি তাঁহার স্বামী ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে হিজরত করে (এমতাবস্থায় স্ত্রী তাহারই থাকিবে)।
রেওয়ায়ত ৪৬. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, হারিস ইবন হিশামের কন্যা উম্মে হাকীম ইকরাম ইবন আবু জাহলের স্ত্রী ছিল। উম্মে হাকীম মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম ধর্ম কবুল করেন। তাহার স্বামী ইকরামা ইবন আবু জাহল ইসলাম গ্রহণ না করিয়া পলায়ন করিয়া ইয়ামনের দিকে চলিয়া যায়। উম্মে হাকীম ইয়ামনে গিয়া তাহার স্বামীর নিকট উপস্থিত হন এবং তাহাকে ইসলামের দিকে আহবান জানান। ইকরামা ইসলাম কবুল করেন এবং মক্কা বিজয়ের বৎসর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে দেখিয়া আনন্দে এত দ্রুত উঠিলেন যে, তাহার পবিত্র দেহ তখন চাদরে আবৃত রহিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইকরামার বায়’আত গ্রহণ করিলেন এবং স্বামী স্ত্রী উভয়ের পূর্ব বিবাহ বহাল রাখিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ স্ত্রীর পূর্বে কোন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করিলে অতঃপর স্ত্রীকে ইসলামের দিকে আহবান করিলে সে যদি মুসলিম না হয় তবে উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হইয়া যাইবে। কারণ আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করিতেছেনঃ (وَلَا تُمْسِكُوا بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ) তোমরা অবিশ্বাসী নারদিগের সহিত দম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখিও না।” (সূরা মুমতাহিনাঃ)
হাদিস 1139 — Muwatta Malik 28:49
সহিহ
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ، جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبِهِ أَثَرُ صُفْرَةٍ فَسَأَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ تَزَوَّجَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَمْ سُقْتَ إِلَيْهَا " . فَقَالَ زِنَةَ نَوَاةٍ مِنْ ذَهَبٍ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ " .
রেওয়ায়ত ৪৭. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমীপে আবদুর রহমান ইবন আউফ ইবন আউফ (রাঃ) উপস্থিত হইলেন। তাহার (দেহে ও বস্ত্রে) হলুদ বর্ণের সুগন্ধি দ্রব্যের চিহ্ন ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে ইহার কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। আবদুর রহমান ইবন আউফ তাহাকে জানাইলেন তিনি জনৈক আনসার মেয়েলোককে বিবাহ করিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ আলায়হি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি উহাকে কত মহর প্রদান করিয়াছ ? তিনি বলিলেনঃ এক নাওয়া (نَوَاةٍ) খেজুরের বীচি পরিমাণ স্বর্ণ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ ওয়ালীমা[1] কর একটি বকরী দিয়া হইলেও।
হাদিস 1140 — Muwatta Malik 28:50
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ قَالَ لَقَدْ بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُولِمُ بِالْوَلِيمَةِ مَا فِيهَا خُبْزٌ وَلاَ لَحْمٌ .
রেওয়ায়ত ৪৮. ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (এমনও) ওয়ালীমা করিতেন যে, তাহাতে রুটি ও গোশত থাকিত না।