রেওয়ায়ত ৫০. আ'রাজ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিতেন, সর্বাপেক্ষা মন্দ আহার হইতেছে সেই ওয়ালীমার আহার, যেই ওয়ালীমাতে ধনী লোকদের দাওয়াত দেওয়া হয় এবং মিসকিনদিগকে দাওয়াত হইতে বাদ দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি দাওয়াত গ্রহণ করে না, সে অবশ্য আল্লাহ এবং তাহার রাসূলের নাফরমানী[1] করিল।
হাদিস 1143 — Muwatta Malik 28:53
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ إِنَّ خَيَّاطًا دَعَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِطَعَامٍ صَنَعَهُ . قَالَ أَنَسٌ فَذَهَبْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى ذَلِكَ الطَّعَامِ فَقَرَّبَ إِلَيْهِ خُبْزًا مِنْ شَعِيرٍ وَمَرَقًا فِيهِ دُبَّاءُ . قَالَ أَنَسٌ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَتَبَّعُ الدُّبَّاءَ مِنْ حَوْلِ الْقَصْعَةِ فَلَمْ أَزَلْ أُحِبُّ الدُّبَّاءَ بَعْدَ ذَلِكَ الْيَوْمِ .
রেওয়ায়ত ৫১. ইসহাক ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবি তালহা (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, জনৈক দরজী এক প্রকারের খাদ্য প্রস্তুত করিয়া উহা আহারের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাওয়াত করিলেন। আনাস (রাঃ) বলেনঃ সেই দাওয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে আমিও গিয়াছিলাম। তাহার নিকট পেশ করা হইল যবের রুটি ও ঝোল, যাহাতে কদু ছিল। আনাস বলেনঃ আমি পেয়ালার আশপাশ হইতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কদু অনুসন্ধান করিতে দেখিলাম। সেই দিন হইতে আমি সর্বদা কদু পছন্দ করি।
রেওয়ায়ত ৫৩. আবুয-যুবায়র মক্কী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি অন্য এক লোকের নিকট ভগ্নীর বিবাহের পয়গাম দিয়াছে। সেই ব্যক্তির নিকট কেহ উল্লেখ করিল যে, উক্ত স্ত্রীলোকে ব্যভিচার করিয়াছে। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট এই সংবাদ পৌছিলে তিনি সেই লোককে মারিলেন অথবা মারিতে উদ্যত হইলেন। অতঃপর বলিলেনঃ তোমার এই খবর বলার কি প্রয়োজন ছিল?
রেওয়ায়ত ৫৪. রবী'আ ইবন আবু আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, কাসেম ইবন মুহাম্মদ এবং উরওয়াহ ইবন যুবায়র (রহঃ) তাহারা উভয়ে বলিতেন, যে ব্যক্তির চারজন স্ত্রী রহিয়াছে এবং সে উহাদের একজনকে তালাক আল-বাত্তা (তিন তালাক) প্রদান করিয়াছে, এমতাবস্থায় সে ব্যক্তি ইচ্ছা করিলে বিবাহ করিতে পারিবে। (তালাকপ্রাপ্তা) স্ত্রীর ইদ্দত শেষ হওয়ার অপেক্ষা করিবে না।
রেওয়ায়ত ৫৫. রবী'আ ইবন আবু আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, কাসেম ইবন মুহাম্মদ এবং উরওয়াহ ইবন যুবায়র (রহঃ) তাহারা উভয়ে ওয়ালীদ ইবন আবদুল মালিকের নিকট যে বৎসর তিনি মদীনাতে আগমন করিয়াছিলেন সেই বৎসর অনুরূপ ফতওয়া দিয়াছেন। তবে কাসেম ইবন মুহাম্মদ এই প্রসঙ্গে স্ত্রীকে (একত্রে না দিয়া) বিভিন্ন মজলিসে তিন তালাক দেওয়ার কথা তাহার নিকট উল্লেখ করিয়াছেন।
রেওয়ায়ত ৫৭. রাফি ইবন খাদীজ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মদ ইবন মাসলামা আনসারীর কন্যাকে বিবাহ করেন। সে তাহার স্ত্রীরূপে থাকিতেই বৃদ্ধা হয়। রাফি' সেই বৃদ্ধা স্ত্রীর বর্তমানে আর একজন যুবতীকে বিবাহ করেন এবং পূর্ব স্ত্রী অপেক্ষা যুবতী স্ত্রীর দিকে অধিক ঝুঁকিয়া পড়েন। বয়োপ্রাপ্ত স্ত্রী তাহার নিকট তালাক কামনা করেন আল্লাহর কসম দিয়া। তিনি স্ত্রীকে এক তালাক দিলেন। অতঃপর তাহাকে অবকাশ দিয়া রাখিলেন। যখন ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার সময় সন্নিকট হইল তাহার দিকে প্রত্যাবর্তন করিলেন। কিন্তু তিনি পুনরায় যুবতী স্ত্রীর দিকে আকৃষ্ট হইয়া পড়িলেন। ফলে (প্রথম) স্ত্রী কসম দিয়া তালাক কামনা করেন। আবার তাহাকে এক তালাক দিলেন। ইদ্দত যাওয়ার পূর্বে আবার প্রত্যাবর্তন করিলেন (অর্থাৎ পুনরায় স্ত্রীর মতো গ্রহণ করিলেন)। অতঃপর পুনরায় যুবতী স্ত্রীর দিকে বেশি ঝুঁকিয়া পড়েন। ফলে প্রথমা স্ত্রী আল্লাহর কসম দিয়া আবার তালাক কামনা করে। তখন তিনি বলিলেনঃ চিন্তা করিয়া দেখ, এখন মাত্র আর এক তালাক অবশিষ্ট আছে। যুবতী স্ত্রীর দিকে মনোযোগ বেশি থাকিবে তাহা তুমি লক্ষ্য করিয়াছ। এই অবস্থার উপর ইচ্ছা করিলে থাকিতে পার। আর ইচ্ছা হইলে বিবাহ বিচ্ছেদও করিতে পার। স্ত্রী উত্তর দিল, আমাকে এইভাবেই থাকিতে দাও; ফলে তাহাকে এইরূপে রাখা হয়। রাফি' উহাতে কোন ক্ষতি মনে করিতেন না। যখন (স্ত্রী) স্বেচ্ছায় এই অবস্থায় থাকিতে রাযী হয়।