রেওয়ায়ত ৩. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ আমি মনস্থ করিয়াছি কিছু কাঠ যোগাড় করার নির্দেশ প্রদান করি। তারপর নামাযের জন্য আযান বলার হুকুম করি। তারপর নামাযের জন্য আযান দেওয়া হউক। পরে কোন একজনকে (নামায়ে) ইমামতি করার জন্য ঠিক করিয়া দেই। তারপর যেসব লোক নামাযের জন্য বাহির হয় নাই তাহাদের নিকট যাই ও তাহাদের গৃহে আগুন ধরাইয়া দেই। আল্লাহর কসম, যাহার হাতে আমার প্রাণ, যদি তাহদের এক ব্যক্তি জানিতে পারিত যে, ভাল মোটা হাড্ডি জুটিবে অথবা দুইটি ভাল ক্ষুর পাইবে তবে সে অবশ্য ইশার নামাযে হাজির হইত।
রেওয়ায়ত ৪. যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) বলিয়াছেনঃ নামাযের মধ্যে তোমাদের গৃহের নামাযই উত্তম, কেবল ফরয নামায ব্যতীত।
হাদিস 291 — Muwatta Malik 8:5
সহিহ Lighairihi
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَرْمَلَةَ الأَسْلَمِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْمُنَافِقِينَ شُهُودُ الْعِشَاءِ وَالصُّبْحِ لاَ يَسْتَطِيعُونَهُمَا " . أَوْ نَحْوَ هَذَا .
রেওয়ায়ত ৫. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত- রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ আমাদের আর মুনাফিকদের মধ্যে পার্থক্য হইল ইশা ও ফজরের নামাযে উপস্থিত হওয়া। তাহারা ঐ দুই নামাযে হাজির হইতে পারে না অথবা অনুরূপ কোন বাক্য বলিয়াছেন।
রেওয়ায়ত ৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি যখন কোন পথ দিয়া যাইতেছিল, তখন পথিমধ্যে কাটাযুক্ত (বৃক্ষের) শাখা দেখিতে পাইয়া সে উহা অপসারিত করিল। আল্লাহ্ তা'আলা তাহার এই কার্য গ্রহণ করিলেন এবং তাহার গুনাহ্ মাফ করিয়া দিলেন। [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আরও বলিয়াছেন, শহীদ পাঁচ প্রকারঃ (১) প্লেগাক্রান্ত (বা মহামারীতে মৃত), (২) পেটের পীড়ায় মৃত, (৩) যে পানিতে ডুবিয়া মরিয়াছে, (৪) ভূমিকম্পে কিছু চাপা পড়িয়া যাহার মৃত্যু হইয়াছে এবং (৫) আল্লাহর পথে যে ব্যক্তি শহীদ হইয়াছেন।
রেওয়ায়ত ৭. আবু বকর ইবন সুলায়মান ইবন আবি হাসমা (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) একদিন সুলায়মান ইবন আবি হাসমাকে ফজরের নামাযে উপস্থিত পান নাই। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বাজারের দিকে গমন করিলেন। আর সুলায়মানের বাসগৃহ বাজার ও মসজিদের মাঝপথে অবস্থিত। তিনি সুলায়মানের জননী শিফা’-এর নিকট গমন করিলেন। তারপর তাহাকে বলিলেনঃ আমি ফজরের নামাযে সুলায়মানকে দেখিলাম না যে? তিনি (উত্তরে) বলিলেনঃ সে রাত্রে জাগ্রত থাকিয়া নামায পড়িয়াছিল, পরে ঘুমাইয়া পড়িয়াছে। (ইহা শুনিয়া) উমর (রাঃ) বললেনঃ ফজরের নামাযের জামাআতে হাজির হওয়া আমার নিকট সারারাত (নফল) নামায পড়া হইতে পছন্দনীয়। আবদুর রহমান ইবন আবি আমরা আনসারী (রহঃ) হইতে বর্ণিত— উসমান ইবন আফফান (রাঃ) একবার ইশার নামাযে আসিলেন এবং মসজিদে অল্প মুসল্লি দেখিতে পাইলেন। তারপর তিনি অধিক লোক আসার অপেক্ষায় মসজিদের শেষভাগে শুইলেন। অত:পর তাহার নিকট ইবন আবি আমরা আসিলেন এবং তাহার কাছে বসিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেনঃ তুমি কে? তিনি পরিচয় দিলেন। আবার তিনি জিজ্ঞাসা করিলেনঃ তুমি কি পরিমাণ কুরআন কণ্ঠস্থ করিয়াছ? তিনি তাহা জানাইলেন। তারপর উসমান (রাঃ) বলিলেন, যে ব্যক্তি ইশার নামাযে উপস্থিত হয়, সে যেন অধরাত্রি নামায পড়িল, আর যে ফজরের নামায পড়িল সে যেন পূর্ণ রাত্রি নামায় পড়িল।
হাদিস 295 — Muwatta Malik 8:9
হাসান Lighairihi
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي الدِّيلِ يُقَالُ لَهُ بُسْرُ بْنُ مِحْجَنٍ عَنْ أَبِيهِ، مِحْجَنٍ أَنَّهُ كَانَ فِي مَجْلِسٍ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأُذِّنَ بِالصَّلاَةِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى ثُمَّ رَجَعَ وَمِحْجَنٌ فِي مَجْلِسِهِ لَمْ يُصَلِّ مَعَهُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مَنَعَكَ أَنْ تُصَلِّيَ مَعَ النَّاسِ أَلَسْتَ بِرَجُلٍ مُسْلِمٍ " . فَقَالَ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلَكِنِّي قَدْ صَلَّيْتُ فِي أَهْلِي . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا جِئْتَ فَصَلِّ مَعَ النَّاسِ وَإِنْ كُنْتَ قَدْ صَلَّيْتَ " .
রেওয়ায়ত ৮. বুসূর ইবন মিহজন (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন- তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মজলিসে ছিলেন। তখন নামাযের আযান দেওয়া হইল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজলিস হইতে উঠিলেন এবং নামায পড়িলেন। (নামাযের পর) পুনরায় মজলিসে প্রত্যাবর্তন করিলেন। মিহজন (কিন্তু) তাহার স্থানে বসা রহিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে প্রশ্ন করিলেনঃ লোকের সাথে নামায পড়িতে তোমাকে কোন জিনিস বারণ করিল? তুমি কি মুসলিম নও? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (আমি মুসলিম), তবে আমি আমার ঘরে নামায পড়িয়া আসিয়াছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে বলিলেনঃ তুমি নামায (ঘরে) পড়িয়া থাকিলেও যখন (মসজিদে) আস তখন পুনরায় লোকের সাথে নামায পড়িবে।
রেওয়ায়ত ৯. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-কে প্রশ্ন করিলঃ আমি ঘরে নামায পড়ি, যদি পরে ইমামের সহিত নামায পাই, তবে কি আমি পুনরায় তাহার সহিত নামায পড়িব? (জবাবে) আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তাহাকে বলিলেনঃ হ্যাঁ। সেই ব্যক্তি বলিলঃ কোন নামাযকে আমি (ফরয) গণ্য করিব? ইবন উমর (রাঃ) বললেনঃ উহা কি আমার বলার বিষয়? সে হইল আল্লাহর ব্যাপার, তিনি যে নামাযকে (ফরয) গণ্য করিতে পারেন।