রেওয়ায়ত ১০. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করিলেন, আমি ঘরে নামায পড়ি, মসজিদে আসিয়া পরে যদি ইমামকে নামাযে পাই তবে আমি কি তাহার সহিত নামায পড়িব? সাঈদ (রহঃ) বললেনঃ হ্যাঁ। সেই ব্যক্তি তাহার নিকট জিজ্ঞাসা করিলেনঃ উভয় নামাযের কোনটিকে আমি (ফরয) নামায গণ্য করি? সাঈদ (রহঃ) তাহাকে বলিলেনঃ তাহা কি তুমি করিবে? উহা তো আল্লাহর কাজ।
রেওয়ায়ত ১১. বনু আসাদ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি আবূ আইয়ুব আনুসারী (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিলেন, আমি আমার ঘরে নামায পড়ি, তারপর মসজিদে আসি, তখন যদি ইমামকে নামাযে পাই তবে কি আমি তাহার সহিত নামায পড়িব? আবু আইয়ূব (রাঃ) বলিলেনঃ তুমি তাহার সহিত নামায পড়, কেননা যে ব্যক্তি এইরূপ করিবে সে জামাআতের সওয়াব অথবা জামাআতের তুল্য সওয়াব পাইবে।
রেওয়ায়ত ১২. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি মাগরিব এবং ফজরের নামায পড়ে, অতঃপর ঐ নামাযদ্বয় ইমামের সাথে পায়, তবে সেই নামায (ইমামের সঙ্গে) পুনরায় তাহাকে পড়িতে হইবে না। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি নামায ঘরে পড়িয়াছে, তাহার ইমামের সহিত (পুনরায়) নামায পড়াতে কোন ক্ষতি নাই। তবে মাগরিবের নামায ইহার ব্যতিক্রম, কারণ মাগরিবের নামায পুনরায় পড়িলে জোড় নামায হইয়া যাইবে।
রেওয়ায়ত ১৪. নাফি (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমি (পাঞ্জেগানা) নামাযসমূহের কোন এক নামাযে আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর পশ্চাতে দাঁড়াইয়াছিলাম। তাহার সহিত আমি ভিন্ন আর কেহ ছিল না। তখন আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) পিছনে হাত বাড়াইয়া আমাকে ধরিয়া ডান পার্শ্বে তাহার বরাবরে দাঁড় করাইয়া দিলেন।
রেওয়ায়ত ১৫. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত- এক ব্যক্তি ‘আকিক’ নামক স্থানে লোকের ইমামতি করিত। উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) লোক প্রেরণ করিয়া তাহাকে ইমামতি করিতে নিষেধ করিলেন। মালিক (রহঃ) বললেনঃ তাহাকে তিনি নিষেধ করিয়াছেন এই কারণে যে, তাহার পিতার পরিচয় ছিল না।
রেওয়ায়ত ১৬. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ঘোড়ায় আরোহণ করিয়াছিলেন। অতঃপর ঘোড়া হইতে পড়িয়া তাহার ডান পার্শ্বের (কিছু অংশ) ছড়িয়া গিয়াছিল। ফলে (পাঞ্জেগানা) নামাযসমূহের কোন এক নামায তিনি বসিয়া পড়িয়াছেন। আমরাও তাহার পিছনে বসিয়া নামায পড়িলাম। নামায শেষে তিনি বলিলেনঃ অনুসরণের জন্যই ইমাম নিযুক্ত করা হইয়াছে। কাজেই ইমাম দাঁড়াইয়া নামায পড়িলে তোমরাও দাঁড়াইয়া নামায পড়, ইমাম রুকুতে গেলে তোমরাও রুকুতে যাও, ইমাম মাথা উঠাইলে তোমরাও মাথা তোল। ইমাম যখন (سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ) বলেন, তোমরা বল (رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ) আর ইমাম বসিয়া নামায পড়িলে তোমরা সকলেই বসিয়া নামায পড়।
হাদিস 304 — Muwatta Malik 8:18
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ شَاكٍ فَصَلَّى جَالِسًا وَصَلَّى وَرَاءَهُ قَوْمٌ قِيَامًا فَأَشَارَ إِلَيْهِمْ أَنِ اجْلِسُوا فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا " .
রেওয়ায়ত ১৭. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) বসিয়া নামায করিলেন। যখন (নামায সমাপ্ত করিয়া) ফিরিলেন তিনি বলিলেনঃ ইমাম অবশ্য অনুসরণ করার জন্যই নিযুক্ত করা হইয়াছে। তাই ইমাম রুকূ করিলে তোমাও রুকূ কর, ইমাম উঠিলে তোমরাও উঠ, আর ইমাম বসিয়া নামায পড়িলে তোমরাও সকলে বসিয়া নামায পড়।
হাদিস 305 — Muwatta Malik 8:19
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ فِي مَرَضِهِ فَأَتَى فَوَجَدَ أَبَا بَكْرٍ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي بِالنَّاسِ فَاسْتَأْخَرَ أَبُو بَكْرٍ فَأَشَارَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ كَمَا أَنْتَ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى جَنْبِ أَبِي بَكْرٍ فَكَانَ أَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي بِصَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ جَالِسٌ وَكَانَ النَّاسُ يُصَلُّونَ بِصَلاَةِ أَبِي بَكْرٍ .
রেওয়ায়ত ১৮. উরওয়া (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার অসুস্থাবস্থায় ঘর হইতে বাহির হইলেন এবং মসজিদে আগমন করিলেন। আবু বকর (রাঃ)-কে লোকের ইমামতি করিতে দেখিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখিয়া আবূ বকর (রাঃ) পিছু হটতে চেষ্টা করিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার প্রতি ইশারা করিলেন- তুমি যেইভাবে আছ সেইভাবে থাক। অতঃপর তিনি আবু বকর (রাঃ)-এর পার্শ্বে বসিলেন। আবু বকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর নামাযকে অনুসরণ করিয়া নামায পড়িতেছিলেন, আর অন্য মুসল্লিগণ নামায পড়িতেছিলেন আবু বকর (রাঃ)-এর নামাযকে অনুসরণ করিয়া।