وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّهُ قَالَ لَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ نَالَنَا وَبَاءٌ مِنْ وَعْكِهَا شَدِيدٌ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى النَّاسِ وَهُمْ يُصَلُّونَ فِي سُبْحَتِهِمْ قُعُودًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صَلاَةُ الْقَاعِدِ مِثْلُ نِصْفِ صَلاَةِ الْقَائِمِ " .
রেওয়ায়ত ২০. আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস (রাঃ) বর্ণনা করেন- আমরা যখন মদীনায় আসিলাম তখন মদীনার মহামারীরূপী প্রচণ্ড জ্বর আমাদেরও আক্রমণ করিয়া বসিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিকট আগমন করিলেন, তখন তাহারা (সাহাবীগণ) তাহদের নফল নামায বসিয়া পড়িতেছিলেন। (ইহা দেখিয়া) তিনি ইরশাদ করিলেনঃ বসিয়া নামায আদায়কারীর নামায (সওয়াবের বেলায়) দাঁড়াইয়া আদায়কারীর নামাযের অর্ধেকের মত।
হাদিস 308 — Muwatta Malik 8:22
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ أَبِي وَدَاعَةَ السَّهْمِيِّ، عَنْ حَفْصَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى فِي سُبْحَتِهِ قَاعِدًا قَطُّ حَتَّى كَانَ قَبْلَ وَفَاتِهِ بِعَامٍ فَكَانَ يُصَلِّي فِي سُبْحَتِهِ قَاعِدًا وَيَقْرَأُ بِالسُّورَةِ فَيُرَتِّلُهَا حَتَّى تَكُونَ أَطْوَلَ مِنْ أَطْوَلَ مِنْهَا .
রেওয়ায়ত ২১. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী হাফসা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কখনও নফল নামায বসিয়া পড়িতে দেখি নাই। কিন্তু তাহার ওফাতের মাত্র এক বৎসর পূর্ব হইতে তিনি নফল নামায বসিয়া পড়িতেন এবং তরতীবের (স্পষ্টভাবে ধীরে ধীরে পাঠ করা) সাথে সূরা তিলাওয়াত করিতেন। ফলে (পঠিত) সূরা অনেক বড় মনে হইত সেই সূরা হইতে যেই সূরা (প্রকৃতপক্ষে) এই সূরা হইতে লম্বা।
হাদিস 309 — Muwatta Malik 8:23
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا لَمْ تَرَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي صَلاَةَ اللَّيْلِ قَاعِدًا قَطُّ حَتَّى أَسَنَّ فَكَانَ يَقْرَأُ قَاعِدًا حَتَّى إِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ قَامَ فَقَرَأَ نَحْوًا مِنْ ثَلاَثِينَ أَوْ أَرْبَعِينَ آيَةً ثُمَّ رَكَعَ .
রেওয়ায়ত ২২. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেনঃ বয়স বেশি না হওয়া পর্যন্ত তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাত্রির নামায (তাহাজ্জুদ) বসিয়া পড়িতে দেখেন নাই। (বয়ঃবৃদ্ধির পর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসিয়া নামায পড়িতেন। তবে যখন রুকু করিতে মনস্থ করিতেন, তখন দাঁড়াইয়া যাইতেন এবং তারপর অন্তত ত্রিশ-চল্লিশ আয়াত তিলাওয়াত করিতেন, তারপর রুকূ করিতেন।
হাদিস 310 — Muwatta Malik 8:24
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْمَدَنِيِّ، وَعَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي جَالِسًا فَيَقْرَأُ وَهُوَ جَالِسٌ فَإِذَا بَقِيَ مِنْ قِرَاءَتِهِ قَدْرُ مَا يَكُونُ ثَلاَثِينَ أَوْ أَرْبَعِينَ آيَةً قَامَ فَقَرَأَ وَهُوَ قَائِمٌ ثُمَّ رَكَعَ وَسَجَدَ ثُمَّ صَنَعَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ مِثْلَ ذَلِكَ .
রেওয়ায়ত ২৩. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসিয়া নামায পড়িতেন। তিনি বসা অবস্থায়ই কিরাআত (কুরআন পাঠ) করিতেন। যখন তাহার ত্রিশ-চল্লিশ আয়াতের মত পড়া অবশিষ্ট থাকিত তখন তিনি দাঁড়াইয়া যাইতেন, তারপর দাঁড়ানো অবস্থায়ই কিরাআত পাঠ করিতেন, অতঃপর রুকু ও সিজদা করিতেন। দ্বিতীয় রাকাআতেও তিনি অনুরূপ করিতেন।
রেওয়ায়ত ২৪. মালিক (রহঃ) বলেন- তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উরওয়া ইবন যুবায়র (রাঃ) ও সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) তাহারা উভয়েই নফল নামায বসিয়া পড়িতেন ‘ইহতিবা’ এর অবস্থায়। (ইহতিবা হইল দুই হাঁটুকে পেটের সঙ্গে লাগাইয়া হাত দ্বারা বেড়ি করিয়া বসা।)
রেওয়ায়ত ২৬. আমর ইবন নাফি’ (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমি হাফসা (রাঃ)-এর জন্য মুসহাফ (কুরআন পাক) লিখিতাম, তিনি আমাকে বলিলেন, যখন তুমি (حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ) এই আয়াতে পৌছ, তখন আমাকে খবর দিও। আমি ঐ আয়াতে পৌছিলে তাহাকে জানাইলাম; তখন তিনি আমার দ্বারা (এইরূপ) লিখাইলেনঃ (حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَصَلاَةِ الْعَصْرِ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ)
রেওয়ায়ত ২৮. মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আলী ইবন আবি তালিব ও আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) তাহারা উভয়ে বলিতেনঃ সালাতুল উসতা হইল ফজরের নামায। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ এ বিষয়ে অন্যান্য উক্তির মধ্যে আমার নিকট আলী ইবন আবি তালিব ও আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর উক্তিই পছন্দনীয়।
হাদিস 316 — Muwatta Malik 8:30
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ مُشْتَمِلاً بِهِ فِي بَيْتِ أُمِّ سَلَمَةَ وَاضِعًا طَرَفَيْهِ عَلَى عَاتِقَيْهِ .
রেওয়ায়ত ২৯. উমর ইবন আবি সালমা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে উম্মু সালমা (রাঃ)-এর ঘরে এক কাপড় পরিধান করিয়া নামায পড়িতে দেখিয়াছেন, তিনি তখন চাদরের বাম প্রান্তকে বাম বগলের নিচের দিক দিয়া উঠাইয়া ডান কাধের উপর রাখিতেন এবং চাদরের ডান প্রান্তকে ডান বগলের নিচের দিকে দিয়া উঠাইয়া বাম কাধের উপর রাখিতেন, তাহাতে চাদরের দুই প্রান্ত দুই কাঁধের উপর পড়িয়া থাকিত।