রেওয়ায়ত ২০. সলিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) যখন নিচের দিকে ঝুঁকিতেন ও মাথা উপরে তুলিতেন তখন তকবীর বলিতেন। নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) নামায আরম্ভ করার সময় উভয় হাত কাঁধ বরাবর তুলিতেন। আর যখন রুকৃ হইতে মাথা তুলিতেন তখন দুই হাত কাঁধের একটু নিচ পর্যন্ত তুলিতেন।
রেওয়ায়ত ২১. আবু নঈম ওয়াহব ইবন কায়সান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) তাহাদিগকে নামাযের ‘তকবীর শিক্ষা দিতেন। তিনি আরও বর্ণনা করিয়াছেনঃ নিচের দিকে ঝুঁকিবার ও মাথা উপরে তুলিবার সময় ‘তকবীর’ বলার জন্য তিনি [জাবির (রাঃ)] আমাদিগকে নির্দেশ দিতেন।
রেওয়ায়ত ২২. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন- তিনি বলিয়াছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি এক রাকআত নামায পায় এবং একবার তকবীর বলে তাহার জন্য ঐ এক ‘তকবীর যথেষ্ট হইবে। ইয়াহইয়া (রহঃ) মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন- ঐ এক ‘তকবীরই যথেষ্ট হইবে যদি সে উক্ত তকবীর দ্বারা ‘তকবীর-এ তাহরীমা’-এর নিয়ত করে। ইয়াহইয়া (রহঃ) হইতে বর্ণিত, মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইলঃ এক ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে নামাযে শরীক হইল কিন্তু সে তববীর-এ তাহরীমা’ ও রুকূর ‘তকবীর বলিতে ভুলিয়া গেল। নামায এক রাকআত পড়ার পর তাহার স্মরণ হইল যে, সে ‘তাহরীমা’ ও রুকূর তকবীর বলে নাই। অতঃপর দ্বিতীয় রাকআতে সে তকবীর বলিল। তাহার কি করা উচিত? তিনি উত্তর দিলেন, সেই ব্যক্তির জন্য নামায শুরু হইতে পুনরায় পড়া আমি ভাল মনে করি। আর যদি কোন ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে ‘তকবীর-এ-তাহরীমা’ বলিতে ভুলিয়া যায়, প্রথম রুকূর সময় তকবীর’ বলে, রুকূর তকবীরের সঙ্গে ‘তকবীর-এ-তাহরীমা’রও নিয়ত করে, তবে আমার মতে উক্ত রুকূর ‘তকবীর’ই তাহার জন্য যথেষ্ট হইবে। ইয়াহইয়া (রহঃ) হইতে বর্ণিত, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি একা একা নামায পড়িতেছে সে ‘তকবীর-এ-তাহরীমা’ ভুলিয়া গেলে তাহাকে নামায পুনরায় পড়িতে হইবে। ইয়াহইয়া (রহঃ) হইতে বর্ণিত, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ ইমাম যদি ‘তকবীর-এ-তাহরীমা’ বলিতে ভুলিয়া গেলেন এবং নামায সমাপ্ত করিলেন, তবে আমার মতে ইমাম ও মুকতাদী উভয়ের নামায পুনরায় পড়া উচিত, এমন কি মুকতাদীগণ তকবীর বলিয়া থাকিলেও।
হাদিস 170 — Muwatta Malik 3:3
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ بِالطُّورِ فِي الْمَغْرِبِ .
রেওয়ায়ত ২৩. মুহাম্মদ ইবন যুবায়র ইবন মুতায়িম (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেনঃ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাগরিবের নামাযে সূরা[1] (والطُّورِ) পাঠ করতেন শুনিয়াছি।
রেওয়ায়ত ২৫. কায়স ইবন হারিস (রহঃ) আবু আবদুল্লাহ সুনাবিহি (রাঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন- তিনি (আবু আবদুল্লাহ সুনাবিহি) বলিয়াছেনঃ আমি আবু বকর (রাঃ)-এর খিলাফতকালে মদীনায় আগমন করিলাম এবং তাহার ইমামতিতে মাগরিবের নামায পড়িলাম। তিনি প্রথম দুই রাকাআতে সূরা ফাতিহার পর (قِصَارِ الْمُفَصَّلِ) (কিসার-ই-মুফাসসাল) হইতে এক রাকাআতে একটি করিয়া সূরা পাঠ করিলেন; তারপর তৃতীয় রাকাআতে দাঁড়াইলেন । আমি তখন তাহার এত নিকটবর্তী ছিলাম যে, আমার কাপড় তাহার কাপড়কে প্রায় স্পর্শ করিতেছিল। সেই সময় আমি তাহাকে সূরা ফাতিহা ও (নিচের) আয়াতটি পাঠ করিতে শুনিয়াছিঃ (رَبَّنَا لاَ تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ) অর্থঃ হে আমাদের প্রতিপালক সরলপথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্য-লংঘনপ্রবণ করিও না এবং তোমার নিকট হইতে আমাদিগকে করুণা দাও, তুমিই মহাদাতা। (সূরা আলে ইমরানঃ)
রেওয়ায়ত ২৬. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) যখন একা নামায পড়িতেন তখন চার রাকআত বিশিষ্ট নামাযের প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহার সঙ্গে একটি সূরা পাঠ করিতেন। আর এমনও হইত যে, ফরয নামাযের এক রাকাআতে দুই-তিনটি সূরা একসাথেও পাঠ করিতেন। আর মাগরিবের নামাযে প্রথম দুই রাক’আতে সূরা ফাতিহার সাথে একটি করিয়া সূরা পড়িতেন।
হাদিস 174 — Muwatta Malik 3:7
Maqtu Sahih
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، أَنَّهُ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ فَقَرَأَ فِيهَا بِالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ .
রেওয়ায়ত ২৭. আদী ইবন সাবিত আনসারী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, বারা ইবন আযির (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহিত ইশার নামায পড়িয়ছিলাম। তিনি সেই নামাযে সূরা[1] (والتِّينِ وَالزَّيْتُونِ) পড়িয়ছিলেন।
হাদিস 175 — Muwatta Malik 3:8
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُنَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ لُبْسِ الْقَسِّيِّ وَعَنْ تَخَتُّمِ الذَّهَبِ وَعَنْ قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ فِي الرُّكُوعِ .
রেওয়ায়ত ২৮. ইবরাহীম ইবন আবদিল্লাহ ইবন হুনায়ন (রহঃ) তাহার পিতা হইতে তিনি আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (قَسِّيِّ) ও (معصفر) (পুরুষদিগকে) পরিধান করিতে নিষেধ করিয়াছেন, আরও নিষেধ করিয়াছেন পুরুষদিগকে স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করিতে। রুকূতে কুরআন পাঠ করিতেও তিনি নিষেধ করিয়াছেন। قَسِّيِّ রেখাযুক্ত এক প্রকার রেশমী বস্ত্র এবং (معصفر) হলুদ বর্ণের বস্ত্র।