রেওয়ায়ত ৬৫. আবদুল্লাহ ইবন বুহায়না (রাঃ) বলিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) আমাদিগকে দুই রাকাআত নামায পড়াইয়া (আত্তাহিয়্যাতু পড়িতে না বসিয়াই) দাঁড়াইয়া গেলেন। মুসল্লিগণ তাহার সহিত দাঁড়াইলেন। তারপর যখন নামায পূর্ণ করিলেন এবং আমরা সালামের অপেক্ষায় রহিলাম তখন তিনি আল্লাহু আকবর’ বলিলেন। অতঃপর সালামের পূর্বে বসা অবস্থায়ই দুইটি সিজদা করিলেন এবং সালাম ফিরাইলেন।
রেওয়ায়ত ৬৬. আবদুল্লাহ ইবন বুহায়না (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেন, (একবারের ঘটনা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যোহরের নামায পড়াইলেন, তিনি দুই রাকাআতের পর দাঁড়াইয়া গেলেন এবং (আত্তাহিয়্যাতু পড়ার জন্য) বসিলেন না। যখন তিনি নামায পূর্ণ করিলেন দুইটি সিজদা (সাহু সিজদা) করিলেন, অতঃপর সালাম ফিরাইলেন। মালিক (রহঃ) বলেন- যে ব্যক্তি নামাযে ভুল করে এবং চারি রাকাআত পূর্ণ করার পর দাঁড়াইয়া যায়, তারপর কিরাআত সমাপ্ত করিয়া রুকূ করে, রুকু হইতে মাথা তোলার পর তাহার স্মরণ হইল যে, সে নামায পূর্ণ পড়িয়াছিল, তখন সেই ব্যক্তি বসার দিকে প্রত্যাবর্তন করিবে এবং বসিয়া যাইবে। সে তখন আর সিজদায় যাইবে না। আর যদি দুই সিজদার এক সিজদা করিয়া থাকে তবে আমি দ্বিতীয় সিজদা করা সঙ্গত মনে করি না। অতঃপর সে যখন নামায পূর্ণ করিবে তখন দুইটি সিজদা করিবে বসা অবস্থায় সালামের পর।
হাদিস 218 — Muwatta Malik 3:51
হাসান
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ أَبِي عَلْقَمَةَ، عَنْ أُمِّهِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ أَهْدَى أَبُو جَهْمِ بْنُ حُذَيْفَةَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَمِيصَةً شَامِيَّةً لَهَا عَلَمٌ فَشَهِدَ فِيهَا الصَّلاَةَ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " رُدِّي هَذِهِ الْخَمِيصَةَ إِلَى أَبِي جَهْمٍ فَإِنِّي نَظَرْتُ إِلَى عَلَمِهَا فِي الصَّلاَةِ فَكَادَ يَفْتِنُنِي " .
রেওয়ায়ত ৬৭. আলকামা ইবন আবি আলকামা (রহঃ) হইতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আবু জাহম ইবন হুযায়ফা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে শামী চাদর হাদিয়াস্বরূপ পেশ করিলেন, যাহাতে ফুল, বুটা ইত্যাদি দ্বারা কারুকার্য করা ছিল। উহা পরিধান করিয়া তিনি নামায পড়িলেন। নামায হইতে ফিরিয়া তিনি ফরমাইলেন, এই চাদরখানা আবূ জাহম-এর নিকট ফিরাইয়া দাও। কেননা উহার কারুকার্যের দিকে নামাযে আমার দৃষ্টি পতিত হইয়াছে। উহা নামাযের একগ্রতা নষ্ট করিয়া আমাকে ফিতনায় লিপ্ত করিয়াছে।
রেওয়ায়ত ৬৯. আবদুল্লাহ ইবন আবু বকর (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, আবূ তালহা আনসারী (রাঃ) একবার তাহার এক বাগানে নামায পড়িতেছিলেন। ইতিমধ্যে একটি ছোট পাখি উড়িতে শুরু করিল, (বাগান এত ঘন ছিল যে এই ক্ষুদ্র পাখিটি পথ খুঁজিয়া পাইতেছিল না), তাই পাখিটি এদিক-সেদিক বাহির হওয়ার পথ খুঁজিতে আরম্ভ করিল। এই দৃশ্য তাহার খুব ভাল লাগিল। ফলে তিনি কিছুক্ষণ সেইদিকে তাকাইয়া রহিলেন। তারপর নামাযের দিকে মনোযোগ দিলেন। কিন্তু (অবস্থা এই দাঁড়াইল) তিনি (তখন) স্মরণ করিতে পারিলেন না যে, নামায কত রাকাআত পড়িয়াছেন। তিনি বলিলেনঃ এই মাল আমাকে পরীক্ষায় ফেলিয়াছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত হইলেন এবং বাগানে তাহার সম্মুখে যে পরীক্ষা উপস্থিত হইয়াছিল উহা বিবৃত করিলেন। তারপর বলিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! এই মাল আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করিতেছি। আপনি যেখানে পছন্দ করেন উহাকে সেইখানে ব্যয় করুন।
রেওয়ায়ত ৭০. আবদুল্লাহ্ ইবন আবু বকর (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আনসারী এক ব্যক্তি মদীনার উপত্যকাসমূহের মধ্যে কুফ নামক উপত্যকায় তাহার এক বাগানে নামায পড়িতেছিলেন, তখন ছিল (খেজুরের) মওসুম। খেজুরের গাছগুলি খেজুরের ভারে ঝুঁকিয়া পড়িতেছিল। গাছগুলি যেন স্বীয় ফলগুচ্ছের হার পরিহিত। ফলের এ দৃশ্যটি তাহার খুবই মনঃপূত হইল। তাই সেইদিকে চাহিয়া রছিলেন। অতঃপর নামাযের দিকে মনোযোগী হইলেন। কিন্তু তাহার আর স্মরণ হইতেছিল না যে, তিনি কত রাকাআত নামায পড়িয়াছেন। ইহা দেখিয়া তিনি বলিলেন, আমার এই সম্পত্তি আমার জন্য ফিতনারূপে উপস্থিত হইয়াছে। তখন ছিল উসমান (রাঃ)-এর খিলাফতকাল। তিনি উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর নিকট হাজির হইলেন এবং তাহার নিকট ঘটনা বিবৃত করিলেন। তারপর বলিলেনঃ উক্ত সম্পদ আল্লাহর পথে উৎসর্গ করা হইল। ইহাকে সৎকাজে ব্যয় করুন। উসমান (রাঃ) উহাকে পঞ্চাশ হাজার (দিরহাম)-এর বিনিময়ে বিক্রি করিলেন। (এই কারণে) উক্ত সম্পত্তির নাম রাখা হইল (খমসিন) বা পঞ্চাশ হাজারী।