وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اللَّهُمَّ لاَ تَجْعَلْ قَبْرِي وَثَنًا يُعْبَدُ اشْتَدَّ غَضَبُ اللَّهِ عَلَى قَوْمٍ اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ " .
রেওয়ায়ত ৮৫. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ হে আল্লাহ্! আমার কবরকে পূজ্য মূর্তি বানাইও না। সেই সম্প্রদায়ের উপর আল্লাহর ক্ষোভ প্রবল হইয়াছে, যে সম্প্রদায় তাহাদের নবীগণের কবরকে মসজিদ বা সিজদার জায়গা বানাইয়া লইয়াছে।
হাদিস 417 — Muwatta Malik 9:92
হাসান
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّ عِتْبَانَ بْنَ مَالِكٍ، كَانَ يَؤُمُّ قَوْمَهُ وَهُوَ أَعْمَى وَأَنَّهُ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّهَا تَكُونُ الظُّلْمَةُ وَالْمَطَرُ وَالسَّيْلُ وَأَنَا رَجُلٌ ضَرِيرُ الْبَصَرِ فَصَلِّ يَا رَسُولَ اللَّهِ فِي بَيْتِي مَكَانًا أَتَّخِذْهُ مُصَلًّى . فَجَاءَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَيْنَ تُحِبُّ أَنْ أُصَلِّيَ " . فَأَشَارَ لَهُ إِلَى مَكَانٍ مِنَ الْبَيْتِ فَصَلَّى فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
রেওয়ায়ত ৮৬. মাহমুদ ইবন লবীদ আনসারী (রহঃ) বলেনঃ উতবান ইবন মালিক (রাঃ) আপন সম্প্রদায়ের লোকদের ইমামতি করিতেন, তিনি ছিলেন অন্ধ। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আরজ করিলেনঃ আমাকে অনেক সময় অন্ধকার, বৃষ্টি ও স্রোতের সম্মুখীন হইতে হয়, আর আমি হইলাম দুর্বল দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন লোক, তাই হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার গৃহের কোন স্থানে নামায পড়ুন, আমি উহাকে নামাযের স্থান নির্ধারণ করিব। তাহার আবেদন রক্ষার্থে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার গৃহে পদার্পণ করিলেন এবং জিজ্ঞাসা করিলেন, কোন স্থানে নামায পড়া তুমি পছন্দ কর। তিনি ইশারায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি নির্দিষ্ট স্থান তাহার গৃহ হইতে দেখাইলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই স্থানে নামায পড়িলেন।
হাদিস 418 — Muwatta Malik 9:93
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ عَمِّهِ، أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُسْتَلْقِيًا فِي الْمَسْجِدِ وَاضِعًا إِحْدَى رِجْلَيْهِ عَلَى الأُخْرَى .
রেওয়ায়ত ৮৭. আব্বাদ ইবন তামীম (রহঃ) তাহার চাচা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মসজিদে চিৎ হইয়া শায়িত দেখিয়াছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক পা অপর পায়ের উপর রাখিয়াছিলেন। সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলেনঃ উমর ইবন খাত্তাব ও উসমান ইবন আফফান (রাঃ) উভয়ে অনুরূপ করিতেন।
রেওয়ায়ত ৮৮. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রাঃ) জনৈক ব্যক্তিকে সম্বোধন করিয়া বলিয়াছেনঃ তুমি এমন এক যুগে বাস করিতেছ, যে যুগে ধর্মীয় বিষয়ে বিজ্ঞ অনেক আলিম রহিয়াছেন, কারী আছেন কম (অর্থাৎ আমল ও জ্ঞান ছাড়া কেবল কুরআন পাঠকারীদের সংখ্যা অতি অল্প)। এই যুগে কুরআনের আদেশ নিষেধ প্রভৃতি হিফাযত করা হয়, শব্দের দিকে মনোযোগ দেওয়া হয় কম, ভিক্ষুকের সংখ্যা কম, দাতার সংখ্যা বেশি, নামায পড়েন দীর্ঘ আর খুতবা পাঠ করেন ছোট। সে যুগে প্রবৃত্তি বা খাহেশাতের তাবেদারীর পূর্বে তাহারা আমল আরম্ভ করিয়া দেন। অদূর ভবিষ্যতে মানুষের উপর এমন এক যুগ আসিবে, সে যুগে ফুকাহা (বিজ্ঞ) উলামা হইবেন অল্প। কারিগণ হইবেন অনেক, কুরআনের শব্দসমূহের হিফাযত করা হইবে, অপরদিকে আহকামে কুরআনকে বরবাদ করা হইবে (আমলের প্রতি নযর দিবে কম)। سائل বা ভিক্ষুক হইবে অনেক, দাতার সংখ্যা হইবে অল্প। খুতবা লম্বা প্রদান করিবে আর নামায পড়িবে মুখতাসার, আমলের নয়, খাহেশাত বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করা হইবে।
রেওয়ায়ত ৮৯. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, বান্দার আমল হইতে সর্বপ্রথম যে আমলের প্রতি নযর করা হইবে, উহা হইতেছে নামায, অতঃপর তাহার নামায যদি কবুল করা হয়, তবে অন্যান্য আমলের প্রতি নযর দেয়া হইবে। আর যদি নামায তাহার গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে তাহার আমলের কোন কিছুর প্রতি নযর দেওয়া হইবে না।
হাদিস 422 — Muwatta Malik 9:97
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ أَحَبُّ الْعَمَلِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي يَدُومُ عَلَيْهِ صَاحِبُهُ .
রেওয়ায়ত ৯০. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট সেই আমল ছিল সর্বাধিক প্রিয়, যে আমল উহার সম্পাদনকারী সর্বদা সম্পাদন করিয়া থাকে।
রেওয়ায়ত ৯১. সা’দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) বলেনঃ দুইজন লোক পরস্পর ভাই ভাই, (ঘটনাক্রমে) তাঁহাদের মধ্যে এক ভাই মৃত্যুবরণ করেন অপর ভাইয়ের চল্লিশ রাত্রি পূর্বে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমীপে প্রথম (মৃত্যুবরণকারী) ভাইয়ের ফযীলত আলোচিত হয়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ দ্বিতীয় ভাই কি মুসলিম ছিলেন না? (উপস্থিত) সাহাবীগণ বলিলেনঃ হ্যা (তিনিও মুসলিম ছিলেন), ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আর তিনি মন্দলোক ছিলেন না। (ইহা শ্রবণ করার পর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তোমরা জান না, তাহার নামায তাহাকে কোন স্তরে পৌছাইয়াছে। অবশ্য নামাযের দৃষ্টান্ত হইল তোমাদের একজনের দ্বারে অবস্থিত গভীর, পরিপূর্ণ সুমিষ্ট পানির নহরের মত। উক্ত নহরে দৈনিক পাঁচবার যে অবগাহন করে ইহাতে তোমার কি ধারণা, তাহার দেহে কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকিবে? অবশ্য তোমরা জান না যে, তাহার নামায তাহাকে মর্যাদার কোন স্তরে নিয়া পৌছাইয়াছে।
রেওয়ায়ত ৯২. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ)-এর (অভ্যাস ছিল) মসজিদে ক্রয়-বিক্রয়কারী কোন ব্যাক্তি তাহার নিকট দিয়া গমন করিলে সেই ব্যক্তিকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিতেনঃ তোমার সঙ্গে কি এবং তোমার উদ্দেশ্য কি? যদি সে তাহার নিকট বলিত যে, সে উহা বিক্রয় করিতে চায়, তবে তিনি বলিতেনঃ তুমি দুনিয়ার বাজারে গমন কর, কারণ এইটি হইল আখিরাতের বাজার।
রেওয়ায়ত ৯৩. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) মসজিদের পার্শ্বে একটি চত্বর তৈয়ার করিয়াছিলেন, যাহাকে বলা হইত বুতায়হা (بطيحاء)। তিনি ঘোষণা করিয়া দিয়াছিলেন, যে ব্যক্তি অনর্থক কথা বলিতে অথবা কবিতা আবৃত্তি করিতে অথবা উচ্চস্বরে কথা বলিতে চায়, সে যেন সেই চত্বরে চলিয়া যায়।