রেওয়ায়ত ৭৫. রবী’আ ইবন আবূ আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, লোকজন নামায সমাপ্ত করিয়াছেন, এই অবস্থায় আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) মসজিদে পৌছিলে তিনি ফরয নামায আরম্ভ করিতেন এবং উহার পূর্বে অন্য কোন নামায পড়িতেন না।
রেওয়ায়ত ৭৬. নাফি (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) একবার এক ব্যক্তির নিকট দিয়া যাইতেছিলেন। সেই ব্যক্তি নামায পড়িতেছিল। তিনি সেই ব্যক্তিকে সালাম করিলেন। সেই ব্যক্তি وعليكم السلام ورحمة الله বাক্য দ্বারা সালামের উত্তর দিলেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তাহার নিকট প্রত্যাগমন করিয়া বলিলেনঃ নামাযরত অবস্থায় যদি তোমাদের কাহাকেও সালাম করা হয়, তবে সে সালাম করিবে না বরং হাতের ইশারায় উত্তর দিবে।
রেওয়ায়ত ৭৭. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলতেন, যে ব্যক্তি কোন নামায ভুলিয়া যায়, তারপর সেই নামাযের কথা আর স্মরণ হয় নাই, কিন্তু স্মরণ হইয়াছে এমন সময় যখন ইমামের সাথে, তবে ইমাম সালাম ফিরাইলে পর সে (প্রথমে) যে নামায ভুলিয়াছে উহা পড়িয়া লইবে, তারপর অন্য নামায (যাহা ইমামের সহিত পড়িয়াছিল) পড়িবে।
রেওয়ায়ত ৭৮. ওয়াসি ইবন হারবান (রহঃ) বলেনঃ আমি নামায পড়িতেছিলাম, তখন আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) কিবলার প্রাচীরের সহিত পিঠ লাগাইয়া বসা ছিলেন। আমি নামায সমাপ্ত করার পর তাহার নিকট গেলাম, আমার বাম দিকে ফিরিয়া। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিলেনঃ তোমাকে ডানদিক হইয়া ফিরিতে কিসে বাধা দিল? ওয়াসি’ (রহঃ) উত্তরে বলিলেনঃ আমি আপনাকে আমার বাম দিকে বসা দেখিয়া আপনার দিকে ফিরিলাম। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলিলেনঃ তুমি ঠিক করিয়াছ। হয়ত এক ব্যক্তি বলিবেঃ তুমি ডান দিক হইয়া ফির। অতঃপর তুমি যখন নামায পড়, যেদিক দিয়া তোমার ইচ্ছা হয় সেইদিক দিয়া ফিরিও, ডানদিক দিয়া হউক বা বামদিক দিয়া।
রেওয়ায়ত ৭৯. জনৈক মুহাজির আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিলেনঃ আমি উটের বিশ্রামাগারে (যাহা সাধারণত পানির নিকট হয়) নামায পড়িতে পারি কি? তিনি বলিলেন, না, তবে ছাগলের বসার স্থানে নামায পড়িতে পার।
রেওয়ায়ত ৮০. ইবন শিহাব (রহঃ) বলেন- সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিয়াছেনঃ কোন নামায এরূপ যাহার প্রতি রাকাআতে বসিতে হয়? অতঃপর (উত্তরে) সাঈদ বলিলেনঃ উহা মাগরিবের নামায, যখন তোমার উহা হইতে এক রাকাআত ছুটিয়া যায় অর্থাৎ ইমামের সঙ্গে এক রাকাআত না পাইলে তাহাকে সেই রাক’আত আদায় করিতে হইবে, তখন প্রতি রাকাআতেই বসিতে হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সব নামাযেই এইরূপ নিয়ম।
হাদিস 412 — Muwatta Malik 9:87
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ، . أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي وَهُوَ حَامِلٌ أُمَامَةَ بِنْتَ زَيْنَبَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلأَبِي الْعَاصِ بْنِ رَبِيعَةَ بْنِ عَبْدِ شَمْسٍ فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَهَا وَإِذَا قَامَ حَمَلَهَا .
রেওয়ায়ত ৮২. আবূ হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের মধ্যে ফেরেশতাগণ পালাবদল করিয়া আসা-যাওয়া করেন। একদল ফেরেশতা রাত্রে এবং আর একদল দিনে, আর আসর ও ফজরের নামাযে তাহারা একত্র হন। অতঃপর যাহারা রাত্রে তোমাদের মধ্যে ছিলেন, তাহারা উর্ধ্বলোকে চলিয়া যান। আল্লাহ্ তা'আলা আপন বান্দাদের অবস্থা অধিক জ্ঞাত, তবুও তিনি ফেরেশতাগণকে প্রশ্ন করেনঃ তোমরা আমার বান্দাগণকে কি অবস্থায় রাখিয়া আসিয়াছ? উত্তরে ফেরেশতাগণ বলেন, আমরা তাহাদিগকে নামাযরত অবস্থায় রাখিয়া আসিয়াছি এবং আমরা যখন তাঁহাদের নিকট গমন করিয়াছিলাম তখনও তাহারা নামাযে রত ছিলেন।
হাদিস 414 — Muwatta Malik 9:89
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ لِلنَّاسِ " . فَقَالَتْ عَائِشَةُ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَا قَامَ فِي مَقَامِكَ لَمْ يُسْمِعِ النَّاسَ مِنَ الْبُكَاءِ فَمُرْ عُمَرَ فَلِيُصَلِّيَ لِلنَّاسِ . قَالَ " مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ لِلنَّاسِ " . قَالَتْ عَائِشَةُ فَقُلْتُ لِحَفْصَةَ قُولِي لَهُ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ إِذَا قَامَ فِي مَقَامِكَ لَمْ يُسْمِعِ النَّاسَ مِنَ الْبُكَاءِ فَمُرْ عُمَرَ فَلْيُصَلِّ لِلنَّاسِ فَفَعَلَتْ حَفْصَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّكُنَّ لأَنْتُنَّ صَوَاحِبُ يُوسُفَ مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ لِلنَّاسِ " . فَقَالَتْ حَفْصَةُ لِعَائِشَةَ مَا كُنْتُ لأُصِيبَ مِنْكِ خَيْرًا .
রেওয়ায়ত ৮৩. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ আবু বকরকে বলিয়া দাও, তিনি যেন লোকের ইমামতি করেন। তখন আয়েশা (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আবু বকর আপনার স্থানে দাঁড়াইলে কান্নার জন্য লোকে তাহার আওয়াযই শুনিতে পাইবে না। কাজেই আপনি লোকের ইমামতি করার জন্য উমর (রাঃ)-কে নির্দেশ প্রদান করুন। তিনি বলিলেনঃ আবু বকরকে বলিয়া দাও তিনি যেন লোকের ইমামতি করেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, তখন আমি হাফসাকে বলিলাম তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বল, আবু বকর (রাঃ) যখন আপনার স্থানে দাঁড়াইবেন, কান্নার জন্য লোকে তাহার আওয়ায শুনিতে পাইবে না, কাজেই লোকের ইমামতি করার জন্য উমর (রাঃ)-কে বলুন। হাফসা (রাঃ) উহা করিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার উত্তরে বলিলেনঃ তোমরা অবশ্যই ইউসুফ (আঃ)-এর সঙ্গিনী নারীদের মত। আবু বকরকেই বলিয়া দাও, তিনি যেন লোকের ইমামতি করেন। (এই উত্তর শুনিয়া) হাফসা (রাঃ) আয়েশা (রাঃ)-কে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেনঃ আমি তোমার নিকট হইতে কোন মঙ্গল লাভ করি নাই।
হাদিস 415 — Muwatta Malik 9:90
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ الْخِيَارِ، أَنَّهُ قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ بَيْنَ ظَهْرَانَىِ النَّاسِ إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ فَسَارَّهُ فَلَمْ يُدْرَ مَا سَارَّهُ بِهِ حَتَّى جَهَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا هُوَ يَسْتَأْذِنُهُ فِي قَتْلِ رَجُلٍ مِنَ الْمُنَافِقِينَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ جَهَرَ " أَلَيْسَ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ " . فَقَالَ الرَّجُلُ بَلَى وَلاَ شَهَادَةَ لَهُ . فَقَالَ " أَلَيْسَ يُصَلِّي " . قَالَ بَلَى وَلاَ صَلاَةَ لَهُ . فَقَالَ صلى الله عليه وسلم " أُولَئِكَ الَّذِينَ نَهَانِي اللَّهُ عَنْهُمْ " .
রেওয়ায়ত ৮৪. উবায়দুল্লাহ ইবন আদী ইবন খিয়ার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকের (সাহাবীগণের) মধ্যে বিরাজমান ছিলেন। এমন সময় একজন লোক তাহার খিদমতে উপস্থিত হইলেন এবং তাহার সহিত চুপে চুপে কথা বললেন। সেই ব্যক্তি চুপে চুপে কি যে বললেন তাহা আমরা জানিতে পারিলাম না। ইতিমধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটু উচ্চস্বরে আলাপ করিতে আরম্ভ করিলেন, তখন আমরা জানিতে পারিলাম যে উক্ত ব্যক্তি মুনাফিকদের মধ্য হইতে জনৈক মুনাফিককে কতল করার অনুমতি প্রার্থনা করিতেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটু জোরে কথা বলিতে আরম্ভ করিলেন এবং আগন্তুককে প্রশ্ন করিলেনঃ সেই মুনাফিক ব্যক্তিটি কি এই কথার সাক্ষ্য দেয় নাই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নাই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত রাসূল? সেই ব্যক্তি বললেনঃ হ্যাঁ, কিন্তু তাহার শাহাদত বিশ্বাসযোগ্য নহে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইলেনঃ সে কি নামায পড়ে না? আগন্তুক বললেনঃ হ্যাঁ, তবে তাহার নামায নির্ভরযোগ্য নহে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ ইহারাই সেই লোক, যাহাদের (হত্যা করা) হইতে আল্লাহ আমাকে বিরত রাখিয়াছেন।