রেওয়ায়ত ২৮. উম্মুহানী বিনতে আবি তালিব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আমি মক্কা বিজয়ের সালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে গমন করিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গোসল করিতে দেখিলাম। তাহার কন্যা ফাতিমা (রাঃ) একটি কাপড় দিয়া তাহার জন্য পর্দা করিয়াছেন। তিনি বলিলেনঃ আমি গিয়া তাহার উদ্দেশ্যে আসসালামু আলাইকুম বললাম। তিনি ফরমাইলেন, ইনি কে? আমি বললামঃ আবু তালিবের কন্যা উম্মুহানী। তখন তিনি বললেনঃ উম্মুহনীর জন্য মারহাবা (খোশ আমদেদ)। তিনি যখন গোসল সমাপ্ত করিলেন, একটি মাত্র কাপড় জড়াইয়া আট রাকাআত নামায পড়িলেন। নামায হইতে প্রত্যাবর্তন করিলে আমি বলিলামঃ আমার ভাই আলী (রাঃ) বলিয়াছেন, সে এমন এক ব্যক্তিকে কতল করিবে, যাহাকে আমি আশ্রয় দিয়াছি। সে হইতেছে হুবায়রার সন্তান 'অমুক (তাবরানীর মতে সে হুবাইরার চাচাত ভাই)। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হে ‘উম্মুহানী, তুমি যাহাকে আশ্রয় দিয়াছ, আমিও তাহাকে আশ্রয় দিলাম। উম্মুহানী বলেন, সময়টি ছিল চাশতের।
হাদিস 358 — Muwatta Malik 9:33
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي سُبْحَةَ الضُّحَى قَطُّ وَإِنِّي لأُسَبِّحُهَا وَإِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيَدَعُ الْعَمَلَ وَهُوَ يُحِبُّ أَنْ يَعْمَلَهُ خَشْيَةَ أَنْ يَعْمَلَ بِهِ النَّاسُ فَيُفْرَضَ عَلَيْهِمْ .
রেওয়ায়ত ২৯. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কখনও চাশতের নামায পড়িতে দেখি নাই, আমি কিন্তু চাশতের নামায পড়ি। ব্যাপার হইল এই যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক আমলকে পছন্দ করা সত্ত্বেও বর্জন করিতেন এই ভয়ে যে, লোকেরা তাহার উপর আমল করিতে থাকিবে, পরে তাহা ফরয হইয়া যাইবে।
রেওয়ায়ত ৩০. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণনা করা হইয়াছে যে, তিনি চাশতের নামায আট রাকাআত পড়িতেন ও বলিতেনঃ আমার মা-বাবাকে জিন্দা করিয়া পাঠানো হইলেও আমি এই আট রাকাআতকে ছাড়িব না।
হাদিস 360 — Muwatta Malik 9:35
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ جَدَّتَهُ، مُلَيْكَةَ دَعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِطَعَامٍ فَأَكَلَ مِنْهُ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قُومُوا فَلأُصَلِّيَ لَكُمْ " . قَالَ أَنَسٌ فَقُمْتُ إِلَى حَصِيرٍ لَنَا قَدِ اسْوَدَّ مِنْ طُولِ مَا لُبِسَ فَنَضَحْتُهُ بِمَاءٍ فَقَامَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَصَفَفْتُ أَنَا وَالْيَتِيمُ وَرَاءَهُ وَالْعَجُوزُ مِنْ وَرَائِنَا فَصَلَّى لَنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ انْصَرَفَ .
রেওয়ায়ত ৩১. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার নানী মুলায়কা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খানার দাওয়াত করিয়াছিলেন। তিনি তাহা হইতে আহার করিলেন, তারপর ফরমাইলেনঃ তোমরা দাঁড়াও, আমি তোমাদের জন্য (খায়র ও বরকতের উদ্দেশ্যে) নামায পড়িব। আনাস (রাঃ) বলিলেনঃ আমি আমাদের একটি চাটাই-এর দিকে গেলাম, যাহা দীর্ঘদিন ব্যবহারের দরুন একেবারে কাল হইয়া গিয়াছিল। আমি উহাতে পানি ছিটাইয়া উহা পরিষ্কার করিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়াইলেন। আমি এবং ইয়াতিম তাহার পিছনের সারিতে দাঁড়াইলাম। আর বৃদ্ধ (নানী) দাঁড়াইলেন আমাদের পিছনের সারিতে। তিনি আমাদের জন্য (দু'আর উদ্দেশ্যে) দুই রাকাআত নামায পড়িলেন; অতঃপর আমাদের গৃহ ত্যাগ করিলেন।
রেওয়ায়ত ৩২. উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উতবা ইবন মাসউদ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন— তিনি বলিয়াছেন, আমি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করিলাম, সময়টা ছিল দুপুর। আমি তখন তাহাকে নফল নামায অবস্থায় পাইলাম, তাই আমি তাহার পিছনে দাঁড়াইলাম। তারপর তিনি আমাকে নিকটে আনিলেন এবং তাহার ডান পার্শ্বে তাহার বরাবর আমাকে দাঁড় করাইলেন। তারপর (يرفأ) ইয়ারফা (উমরের খাদেম) আসিলে আমি পিছনে সরিয়া আসিলাম। তারপর আমরা উভয়েই তাহার পিছনে কাতার করিয়া দাঁড়াইলাম।
রেওয়ায়ত ৩৩. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যখন তোমরা কেউ নামায পড়, তবে সে সময় তাহার সামনে দিয়া কাহাকেও হাটিতে দিবে না বরং যথাসাধ্য তাহাকে বারণ করবে। এতদসত্ত্বেও যদি সে বিরত না হয়, তবে শক্তি প্রয়োগ করবে। কেননা সে অবশ্যই দুষ্ট লোক।
রেওয়ায়ত ৩৪. বুসর ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, যায়দ ইবন খালিদ জুহনী (রাঃ) তাহাকে আবু জুহায়ম (রাঃ)-এর নিকট ইহা জিজ্ঞাসা করার উদ্দেশ্যে পাঠাইলেন যে, তিনি মুসল্লির সামনে দিয়া চলাচলকারী সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে কি শুনিয়াছেন। আবু জুহায়ম (রাঃ) বলিলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যদি মুসল্লি ব্যক্তির সম্মুখ দিয়া চলাচলকারী জানিত যে, ইহার জন্য তাহার কি পরিণাম হইবে, তবে সে নিশ্চিত মনে করিত যে, মুসল্লি ব্যক্তির সামনে দিয়া চলাচল করা অপেক্ষা তাহার পক্ষে সঠিকভাবে চল্লিশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা অধিক শ্রেয়। আবু নাযর বলেনঃ আমি বলিতে পারিতেছি না, তিনি চল্লিশ দিন, না চল্লিশ মাস, না চল্লিশ বৎসর বলিয়াছিলেন।
রেওয়ায়ত ৩৫. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, কাব-এ আহবার (রহঃ) বলিয়াছেনঃ মুসল্লির সামনে দিয়া চলাচলকারী যদি জানিত যে, তার পরিণাম কি, তবে সামনে দিয়া হাটিয়া যাওয়ার চাইতে মাটিতে বসিয়া যাওয়া তাহার পক্ষে উত্তম হইত।
রেওয়ায়ত ৩৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, মেয়েরা যখন নামায পড়ে তখন তাহাদের সম্মুখ দিয়া চলাকে আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) অপছন্দ করিতেন না।