রেওয়ায়ত ৫৫. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেনঃ আমি কি তোমাদের খবর দিব না ঐ বস্তুর, যেই বস্তু দ্বারা আল্লাহ্ (বান্দার) গুনাহসমূহ মুছিয়া দেন এবং উহা দ্বারা তাহার অনেক মর্তবা বুলন্দ করিয়া দেন? (তাহা হইতেছে এই) পূর্ণরূপে ওযু করা কষ্টবোধের সময়, মসজিদের দিকে নামাযের উদ্দেশ্যে গমনাগমন এবং এক নামাযের পর আর এক নামাযের অপেক্ষায় থাকা। আর ইহাই (হইল) রিবাত (رباط), ইহাই রিবাত, ইহাই রিবাত (সীমান্ত প্রহরায় সর্বদা সজাগ ও প্রস্তুত থাকা।)
রেওয়ায়ত ৫৬. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিয়াছেনঃ বলা হয়, আযানের পর একমাত্র মুনাফিক ব্যতীত কোন ব্যক্তি মসজিদ হইতে বাহির হয় না, অবশ্য যে ব্যক্তি পুনরায় ফিরিয়া আসার ইচ্ছা রাখে (সে বাহির হইতে পারে)।
হাদিস 388 — Muwatta Malik 9:63
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَجْلِسَ " .
রেওয়ায়ত ৫৭. আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করিলে সে যেন বসার পূর্বে দুই রাকাআত নামায পড়িয়া লয়।
রেওয়ায়ত ৫৮. উমর ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রহঃ) কর্তৃক আজাদকৃত ক্রীতদাস আবুন নাযর (রহঃ) হইতে বর্ণিত- আবুন নাযর বলেন, আবু সালমা ইবন আব্দুর রহমান (রহঃ) তাহাকে বলিয়াছেনঃ আমি তোমার মনিবকে অর্থাৎ আজাদীদাতাকে কখনও দেখি নাই যে, তিনি মসজিদে আসিয়া (বসার পূর্বে) নামায অর্থাৎ (তাহিয়াতুল মসজিদ) না পড়িয়া বসিয়াছেন। আবুন নাযর (রহঃ) বলেন, তিনি উমর ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রহঃ)-কে অভিযোগস্বরূপ ইহা বলিয়াছেন, কারণ তিনি মসজিদে প্রবেশ করিয়া নামাযের পূর্বে বসিয়া যাইতেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ এইরূপ করা ভাল, তবে ওয়াজিব নহে।
রেওয়ায়ত ৬০. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেনঃ যে ব্যক্তি তাহার ললাট যমীনে রাখে, সে যেন তাহার হস্তদ্বয়ও সেই জায়গায় রাখে, যেই জায়গায় ললাট রাখিয়াছে। অতঃপর যখন (সিজদা হইতে) ললাট উঠায় তখন যেন উভয় হস্তকে উঠাইয়া লয়। কারণ মুখমণ্ডল যেমন সিজদা করে, হস্তদয়ও তেমনিভাবে সিজদা করে।
হাদিস 392 — Muwatta Malik 9:67
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، سَلَمَةَ بْنِ دِينَارٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَهَبَ إِلَى بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ لِيُصْلِحَ بَيْنَهُمْ وَحَانَتِ الصَّلاَةُ فَجَاءَ الْمُؤَذِّنُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فَقَالَ أَتُصَلِّي لِلنَّاسِ فَأُقِيمَ قَالَ نَعَمْ . فَصَلَّى أَبُو بَكْرٍ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسُ فِي الصَّلاَةِ فَتَخَلَّصَ حَتَّى وَقَفَ فِي الصَّفِّ فَصَفَّقَ النَّاسُ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ لاَ يَلْتَفِتُ فِي صَلاَتِهِ فَلَمَّا أَكْثَرَ النَّاسُ مِنَ التَّصْفِيقِ الْتَفَتَ أَبُو بَكْرٍ فَرَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَشَارَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنِ امْكُثْ مَكَانَكَ فَرَفَعَ أَبُو بَكْرٍ يَدَيْهِ فَحَمِدَ اللَّهَ عَلَى مَا أَمَرَهُ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ ذَلِكَ ثُمَّ اسْتَأْخَرَ حَتَّى اسْتَوَى فِي الصَّفِّ وَتَقَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى ثُمَّ انْصَرَفَ فَقَالَ " يَا أَبَا بَكْرٍ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَثْبُتَ إِذْ أَمَرْتُكَ " . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ مَا كَانَ لاِبْنِ أَبِي قُحَافَةَ أَنْ يُصَلِّيَ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا لِي رَأَيْتُكُمْ أَكْثَرْتُمْ مِنَ التَّصْفِيحِ مَنْ نَابَهُ شَىْءٌ فِي صَلاَتِهِ فَلْيُسَبِّحْ فَإِنَّهُ إِذَا سَبَّحَ الْتُفِتَ إِلَيْهِ وَإِنَّمَا التَّصْفِيحُ لِلنِّسَاءِ " .
রেওয়ায়ত ৬১. সাহল ইবন সা'দ সাঈদী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী 'আমর ইবন আউফ কাবীলার দিকে তাহাদের একটি বিষয় মীমাংসা করার উদ্দেশ্যে গমন করেন, তখন নামাযের সময় উপস্থিত হয়। মুয়াযযিন আবু বকর (রাঃ)-এর খিদমতে আসিয়া বলিলেনঃ আপনি নামাযে লোকের ইমামতি করিতে সম্মত আছেন কি? তাহা হইলে আমি ইকামত বলিতাম। আবু বকর (রাঃ) -এ (আচ্ছা) বলিয়া সম্মতি জ্ঞাপন করিলেন। অতঃপর আবু বকর (রাঃ) নামায পড়াইলেন। লোকজন যখন নামাযে, তখন হঠাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তশরীফ আনিলেন। তিনি কাতারে ফাঁক করিয়া একেবারে প্রথম কাতারে গিয়া দাঁড়াইলেন। ইহাতে লোকেরা তালি দিতে আরম্ভ করিলেন। আবু বকর (রাঃ) (তাহার অভ্যাস ছিল) নামাযে অন্যদিকে মনোযোগ দিতেন না। কিন্তু যখন লোকদের তালি দেওয়া বাড়িয়া গেল, তখন তিনি পিছনের দিকে ফিরিয়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখিতে পাইলেন। তারপর আবু বকর (রাঃ) পিছনে হটিতে চাহিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইঙ্গিতে তাহাকে নির্দেশ দিলেনঃ আপন জায়গায় স্থির থাক। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে ইমামতিতে বহাল থাকার নির্দেশ দিলেন বলিয়া আবু বকর (রাঃ) স্বীয় হস্তদ্বয় উঠাইয়া আল্লাহর হামদ বা শুকরিয়া আদায় করিলেন। অতঃপর পিছনে সরিয়া সফের বরাবরে আসিয়া দাঁড়াইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগে বাড়িয়া নামায পড়াইলেন। নামায সমাপ্ত করার পর তিনি বলিলেনঃ হে আবু বকর! তোমাকে যখন আমি নির্দেশ দিলাম, তখন (ইমামতিতে) স্থির থাকিতে তোমাকে কোন্ জিনিস বাধা প্রদান করিল? (উত্তরে) আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে (উপস্থিতিতে) আবূ কোহাফার সন্তানের জন্য নামাযের ইমামতি করা সাজে না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ আমি তোমাদিগকে অনেক হাততালি দিতে দেখিয়া অবাক হইয়াছি। কাহারও নামাযে কোন বিষয়ে প্রয়োজন দেখা দিলে সে যেন তসবীহ (সুবহানাল্লাহ) উচ্চারণ করে। কেননা সে তসবীহ উচ্চারণ করিলেই তাহার দিকে মনোযোগ দেওয়া হইবে। হাততালি দেওয়া অবশ্য নারীর জন্য।
রেওয়ায়ত ৬৩. আবু জাফর কারী (রহঃ) বলেনঃ (এমনও হইত) আমি নামায পড়িতেছি, আর আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) আমার পশ্চাতে (আসিয়া দাঁড়াইয়াছেন), অথচ আমি খবর রাখি না। পরে আমি ফিরিয়া দেখিলে তিনি আমাকে ইশারা করিলেন (আমাকে ইঙ্গিতে ফিরিয়া না দেখিতে বলিলেন।)