حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الثِّقَةِ، عِنْدَهُ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، وَعَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فِيمَا سَقَتِ السَّمَاءُ وَالْعُيُونُ وَالْبَعْلِ الْعُشْرُ وَفِيمَا سُقِيَ بِالنَّضْحِ نِصْفُ الْعُشْرِ " .
রেওয়ায়ত ৩৩. সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) এবং বুসর ইবন সাঈদ (রহঃ) বর্ণনা করেন-রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন যে সমস্ত যমীনে বৃষ্টি বা ঝর্ণার পানি সিঞ্চিত হয় বা মূলস্থ রসই যথেষ্ট হয়, সেচের প্রয়োজন পড়ে না, সেই সমস্ত যমীনে উৎপন্ন ফসলের উশর বা এক-দশমাংশ, আর সেচ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে সমস্ত যমীন চাষ করা হয়, সেই যমীনে উৎপন্ন ফসলের নিসফেউশর বা এক-বিংশতিতমাংশ (১/২০) হারে যাকাত দিতে হয়।
রেওয়ায়ত ৩৪. ইবন শিহাব (রহঃ) বলেন, খেজুরের যাকাতে জো’রুর, মুসরানুলফার ও আজক ইবন খুবায়ক (এক ধরনের অতি নিকৃষ্ট খেজুর) গ্রহণ করা যাইবে না। তিনি বললেনঃ ইহা বকরীর যাকাতের মত। নিকৃষ্ট ধরনের বকরী গণনায় শামিল হয় বটে কিন্তু যাকাতে গ্রহণ করা যায় না। এই ক্ষেত্রেও নিকৃষ্ট ধরনের খেজুর পরিমাণের বেলায় শামিল করা হইবে বটে কিন্তু যাকাত গ্রহণ করা যাইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা বকরীর যাকাত সদৃশ। বকরীর বাচ্চা গণনায় শামিল হয় কিন্তু যাকাতে গ্রহণ করা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে কোন দ্রব্য বেশি ভাল হওয়ার কারণেও যাকাতে গ্রহণ করা যায় না। যেমন বুরদী (উত্তম) জাতীয় খেজুর। মোট কথা, বেশি ভাল বা অতি নিকৃষ্ট উভয় ধরনের দ্রব্যই যাকাতে গ্রহণ করা যায় না, বরং মধ্যম ধরনের জিনিসই কেবল গ্রহণ করা যায়। মালিক (রহঃ) বলেন, খেজুর ও আঙ্গুর ব্যতীত অন্য কোন ফলের বেলায় খারস বা বৃক্ষস্থ ফলের পরিমাণ অনুমান করিয়া তদানুযায়ী যাকাতের পরিমাণ নির্ধারণ করা যাইবে না। খেজুর ও আঙ্গুর প্রায় পরিপক্ক হইয়া উঠিলে এবং বিক্রয় করা যায় এমন অবস্থায় পৌছিলে উহাতে অনুমান করা যায়, কারণ খেজুর ও আঙ্গুর উভয় ধরনের ফল কাঁচা অশুষ্ক অবস্থায়ও খাওয়া যায়। সুতরাং পাকা ও শুষ্ক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হইলে ইহাতে মানুষের অসুবিধার সৃষ্টি হইবে। অতএব সাধারণ মানুষের সুবিধার প্রতি লক্ষ করিয়া বৃক্ষস্থ খেজুর ও আঙ্গুরের পরিমাণ অনুমান করার পর মালিককে তাহার কলের অধিকার সহ ছাড়িয়া দেওয়া হইবে। যেভাবে মনে করে সে উহা ভোগ করবে এবং পরে পূর্বের অনুমানকৃত পরিমাণানুসারে যাকাত প্ৰদান করবে। মালিক (রহঃ) বলেন, যে সমস্ত ফল কাঁচা ভক্ষণ করা হয় না, বরং কর্তনের পর বিশেষ প্রক্রিয়ায় ভক্ষণ করা হয়, যেমন- ধান, গম ইত্যাদি যাবতীয় শস্যের বেলায় ক্ষেতে শস্য রাখিয়া ক্ষেত্রস্থ শস্যের পরিমাণ অনুমান করিয়া নির্ণয় করিবার পর যাকাত নির্ধারণ করা যাইবে না। শস্য কর্তনের পর মাড়ানো এবং পরিষ্কার করা হইলে উহাতে যাকাত আদায় করিতে হয়। যাকাত ধার্য করার মত না হওয়া পর্যন্ত উহা মালিকের হাতে আমানত হিসাবে থাকে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উক্ত বিষয়ে আমাদের মধ্যে কোন মতানৈক্য নাই। মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট সর্বসম্মত মাস’আলা হইল, ফল প্রায় পরিপক্ক অবস্থায় যখন বিক্রয়ের উপযুক্ত হইবে তখন উহাতে অনুমান করিয়া বৃক্ষস্থ ফলের পরিমাণ নির্ণয় করা হইবে এবং কর্তনের পর উহার যাকাতের পরিমাণ অনুসারে বিশুদ্ধ খেজুর লওয়া হইবে। অনুমান করিয়া পরিমাণ নির্ধারণের পর কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের দরুন যদি বৃক্ষস্থ সমস্ত খেজুর বিনষ্ট হইয়া যায়, তবে আর উহাতে যাকাত ধার্য হইবে না। বিনষ্ট হওয়ার পরও যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম এর ব্যবহৃত হয়ে পাঁচ আছক (ষাট ছা’) পরিমাণ খেজুর অবশিষ্ট থাকে তবে ইহাতে যাকাত ধার্য হইবে, আর যতটুকু পরিমাণ বিনষ্ট হইয়া গিয়াছে উহাতে যাকাত ধার্য হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আজুরের বেলায়ও উক্ত হুকুম প্রযোজ্য হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ বিভিন্ন স্থানে যদি কাহারও জায়গীর বা অংশ থাকে আর সবগুলিকে একত্র করিলে যাকাত পরিমাণ হয় তবে আলাদা আলাদাভাবে যাকাত পরিমাণ না হইলেও উহাতে যাকাত ধার্য করা হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে আমাদের নিকট সর্বসম্মত সুন্নত এবং আহলে ইলমদের নিকট যাহা শুনিয়াছি তাহ এই ফল-ফলাড়ি যথা পীচ, ডুমুর অথবা অদ্রপ অন্যান্য ফল অথবা এইগুলির মত না হইলেও যাহা ফল বলিয়া গণ্য, ইহাদের উপর যাকাত ধার্য হয় না। একইভাবে শাক-সবজি, তরিতরকারি ইত্যাদির উপর যাকাত ধার্য হয় না এবং এইগুলির বিক্রয়লব্ধ অর্থের উপরও যাকাত নাই। তবে বিক্রয়লব্ধ অর্থ মালিকের হাতে আসার পর তাহার নিকট এক বৎসর থাকিলে উহার উপর যাকাত ধার্য হইবে।
রেওয়ায়ত ৩৭. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেনঃ মুসলিম ব্যক্তির দাস-দাসী এবং ঘোড়ার যাকাত ধার্য হয় না।
রেওয়ায়ত ৩৮. সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) বর্ণনা করেন- সিরিয়াবাসিগণ আবূ উবায়দা ইবন জাররাহ (রাঃ)-এর নিকট তাহাদের ঘোড়া বা দাস-দাসীদের যাকাত নেওয়ার কথা বলিলে তিনি তাহা গ্রহণ না করিয়া উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে জানাইলেন। উমর (রাঃ)-ও উহা গ্রহণ করিতে অস্বীকৃতি জানাইলেন। পরে তাহারা আবূ উবায়দা (রাঃ)-এর নিকট তাহাদের ঘোড়া ও দাস-দাসীদের যাকাত গ্রহণ করিতে পুনরায় অনুরোধ জানাইলে তিনি আবার উমর (রাঃ)-এর নিকট এই সম্পর্কে লিখিয়া জানাইলেন। উমর (রাঃ) তাহাকে উত্তরে লিখিলেনঃ স্বেচ্ছায় যদি তাহারা এইগুলির যাকাত দিতে চায় তবে উহা গ্রহণ করুন এবং উহা দরিদ্র ও দাস-দাসীদের মধ্যে বন্টন করিয়া দিন।
রেওয়ায়ত ৩৯. আবদুল্লাহ ইবন আবু বকর ইবন হাযম (রহঃ) বলেনঃ মীনায় অবস্থানকালে আমার পিতা আবু বকর ইবন হাযমের নিকট উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ)-এর একটি পত্র আসিয়াছিল। ইহার মর্ম ছিলঃ মধু এবং ঘোড়ার যাকাত আপনি গ্রহণ করিবেন না।
রেওয়ায়ত ৪০. আবদুল্লাহ ইবন দীনার (রহঃ) বলেনঃ আমি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে তুর্কী ঘোড়ার যাকাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলে তিনি বলিলেনঃ ঘোড়ায়ও আবার যাকাত হয় নাকি?
হাদিস 615 — Muwatta Malik 17:38
সহিহ Lighairihi
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ الْجِزْيَةَ مِنْ مَجُوسِ الْبَحْرَيْنِ وَأَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَخَذَهَا مِنْ مَجُوسِ فَارِسَ وَأَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ أَخَذَهَا مِنَ الْبَرْبَرِ .
রেওয়ায়ত ৪১. ইবন শিহাব (রহঃ) বলেনঃ আমি শুনিয়াছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাহরাইনের অগ্নিপূজকদের উপর, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) পারস্যের অগ্নিপূজকদের উপর এবং উসমান ইবন আফফান (রাঃ) বর্বর মুশরিকদের উপর জিযয়া ধার্য করিয়াছিলেন।
রেওয়ায়ত ৪২. মুহাম্মদ বাকির (রহঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) অগ্নি উপাসকদের জিযয়ার কথা আলোচনা করিতে গিয়া বলিলেনঃ বুঝিতে পারিতেছি না, ইহাদের ব্যাপারে কি করা যায়। এই সময় আবদুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ) বললেনঃ আমি সাক্ষ্য দিতেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে আমি বলিতে শুনিয়াছি যে, অগ্নি-উপাসকদের সহিত তোমরা কিতাবীদের মত ব্যবহার করিবে।
রেওয়ায়ত ৪৩. আসলাম (রাঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) অমুসলিম স্বর্ণ মালিকদের উপর বাৎসরিক চার দীনার এবং রৌপ্য-মালিকদের উপর বাৎসরিক দশ দিরহাম জিযয়া ধার্য করিয়াছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুধার্ত মুসলিমদের খাদ্য প্রদান এবং মুসাফিরদের তিনদিন পর্যন্ত মেহমানদারী করাও ইহার অন্তর্ভুক্ত ছিল।