রেওয়ায়ত ৪৪. আসলাম (রহঃ) বর্ণনা করেন- উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে একবার জানাইলাম, সরকারী উটসমূহের মধ্যে একটা অন্ধ উটও রহিয়াছে। উমর (রাঃ) বলিলেনঃ অভাবী কাহাকেও দিয়া দিও। ইহা হইতে সে উপকার লাভ করিতে পারিবে। আমি বলিলামঃ উটটি তো অন্ধ। তিনি বলিলেন, উহাকে উটের দলে বাধিয়া দিবে। ইহাদের সঙ্গে চলাফেরা করিবে। আমি বলিলাম, কেমন করিয়া ইহা ঘাস খাইবে? তিনি বলিলেনঃ ইহা জিযয়া না যাকাতের? আমি বলিলামঃ জিয়ার। তিনি বলিলেনঃ তুমি ইহাকে যবেহ করার ইচ্ছা করিয়াছ নাকি? আমি বলিলামঃ না, ইহাতে জিযয়ার চিহ্ন বিদ্যমান। শেষে উমর (রাঃ)-এর নির্দেশে ঐ উটকে নাহর (যবেহ) করা হইল। উমর (রাঃ)-এর নিকট নয়টি পেয়াল ছিল। ফল বা ভাল কোন জিনিস তাহার নিকট আসিলে ঐ পেয়ালাগুলি ভরিয়া উম্মুল মু'মিনীনদের নিকট পাঠাইয়া দিতেন। সকলের শেষে তদীয় কন্যা উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রাঃ)-এর নিকট পাঠাইতেন। কম পড়িলে হাফসা (রাঃ)-এর হিস্যাতেই পড়িত। যাহা হউক, উক্ত অন্ধ উটটিকে নাহর করার পর প্রথম উল্লিখিত পেয়ালাসমূহ ভরিয়া উম্মুল মুমিনীনদের নিকট পাঠানো হইল। বাকি যাহা রহিল তাহা রান্না করিয়া মুহাজির ও আনসারদেরকে দাওয়াত করিয়া খাওয়াইলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ অমুসলিম জিযয়া প্রদানকারীদের নিকট হইতে জিযয়া হিসাবে পশু আদায় করা হইবে না। তবে মূল্য ধার্য করিয়া নগদ অর্থের বদলে পশু লওয়া যাইতে পারে।
রেওয়ায়ত ৪৫. মালিক (রহঃ) বলেন, আমি জানিতে পারিয়াছি যে, উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) তাহার কর্মচারীদের নিকট একই মর্মে চিঠি লিখিয়াছেন যে, জিযয়া প্রদানকারীদের মধ্যে যাহারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিবে তাহদের জিযয়া মওকুফ হইয়া যাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ প্রচলিত সুন্নত হইল, অমুসলিম আহলে কিতাব নারী ও শিশুদের উপর জিযয়া ধার্য হইবে না। যুবকদের নিকট হইতেই কেবল জিযয়া আদায় করা হইবে। মালিক (রহঃ) বললেনঃ যিম্মী ও অগ্নিপূজকদের খেজুর বা আঙ্গুরের বাগান, কৃষিক্ষেত্র এবং পশুসমূহ হইতে যাকাত গ্রহণ করা হইবে না। কারণ সম্পদ পবিত্রকরণ উদ্দেশ্যে এবং মুসলিম দরিদ্র ব্যক্তিগণকে প্রদানের জন্য যাকাত শুধু মুসলিমদের উপর ধার্য হয়। জিযয়া অমুসলিম বাসিন্দাদেরকে অধঃস্থ দেখাইবার জন্য কেবল তাহাদের উপর ধার্য করা হইয়াছে। সুতরাং যতদিন তাহারা সন্ধিকৃত এলাকায় বসবাস করিবে, তাহাদের উপর জিযয়া ব্যতীত আর কিছুই ধার্য হইবে না। তবে মুসলিম অধুষিত অঞ্চলে তাহারা ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসা-যাওয়া করিলে তাহাদের ব্যবসায়ের মাল হইতে এক-দশমাংশ আদায় করা হইবে। কারণ স্বীয় অঞ্চলে বসবাস করার এবং শক্ৰ হইতে রক্ষা করার ভিত্তিতেই তাহাদের উপর জিযয়া ধার্য করা হইয়াছিল। সুতরাং স্বীয় অঞ্চলের বাহিরে গিয়া ব্যবসায়ে লিপ্ত হইলে ব্যবসায়ের মাল হইতে এক-দশমাংশ আদায় করা হইবে। যেমন মিসরে বসবাসকারী অমুসলিম বাসিন্দা সিরিয়ায়, সিরিয়ার যিম্মী ইরাকে, ইরাকের যিম্মী অধিবাসী মদিনায় ব্যবসা করিতে গেলে তাহার ব্যবসায়ের মালে এক-দশমাংশ কর ধার্য করা হইবে। আহলে কিতাব এবং অগ্নি-উপাসক (অর্থাৎ অমুসলিম যিম্মী) বাসিন্দাদের পশুপাল, ফল এবং কৃষিক্ষেত্রে কোনরূপ যাকাত ধার্য করা যাইবে না। এমনিভাবে অমুসলিম যিম্মী নাগরিকদিগকে তাহাদের পৈতৃক ধর্মে প্রতিষ্ঠিত থাকিতে দেওয়া হইবে এবং তাহদের ধর্মীয় বিষয়ে কোনরূপ হস্তক্ষেপ করা যাইবে না। কিন্তু দারুল ইসলামে যতবার তাহারা ব্যবসা করিতে আসিবে তাহাদের নিকট হইতে ততবার এক-দশমাংশ কর আদায় করা হইবে। অর্থাৎ বাণিজ্য উদ্দেশ্যে বৎসরে কয়েকবার আসিলে প্রত্যেকবারই উক্ত কর দিবে। কারণ তাহাদের ব্যবসায়ের মধ্যে কর ধার্য করা যাইবে না বলিয়া কোনরূপ চুক্তি তাহাদের সঙ্গে হয় নাই। আমাদের শহরবাসী (মদীনাবাসী) আলিমগণকে উক্তরূপ আমল করিতে আমি দেখিয়াছি।
রেওয়ায়ত ৪৬. সলিম ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) তাঁহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন-আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) নবতী অমুসলিম বাসিন্দাদের নিকট হইতে গম ও তৈলে এক-বিংশতিতমাংশ কর গ্রহণ করতেন। উদেশ্য ছিল, মদীনায় যেন এই ধরনের জিনিসের আমদানি বেশি হয়। আর ডাল জাতীয় দ্রব্যে তাহাদের নিকট হইতে এক-দশমাংশ কর গ্রহণ করিতেন।
রেওয়ায়ত ৪৮. নবতী অমুসলিম বাসিন্দাদের নিকট হইতে উমর (রাঃ) কিসের ভিত্তিতে এক-দশমাংশ কর আদায় করিতেন, এই সম্পর্কে মালিক (রহঃ) একবার ইবন শিহাব (রহঃ)-এর নিকট জানিতে চাহিলে তিনি বলিয়াছিলেনঃ জাহিলী যুগেও ইহাদের নিকট হইতে এক-দশমাংশ কর আদায় করা হইত। উমর (রাঃ) পরে তাহাই বহাল রাখেন।
রেওয়ায়ত ৪৯. যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন- উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি যে, তিনি বলেনঃ আল্লাহ্র রাস্তায় কাজে লাগাইবার জন্য আমি একবার একটা ভাল ধরনের ঘোড়া এক ব্যক্তিকে দান করিয়াছিলাম। কিন্তু সেই ব্যক্তি ঘোড়াটিকে অযত্নে একেবারে কাহিল বানাইয়া ফেলিয়াছিল। সে হয় ইহা সস্তাদরে বিক্রয় করিয়া দিবে ধারণা করিয়া আমি উহা ক্রয় করিতে মনস্থ করিলাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হইলে তিনি বলিলেনঃ এক দিরহামের বিনিময়েও যদি তোমাকে দেয় তবুও ইহা ক্রয় করিও না। কারণ সাদকা করিয়া উহা ফিরাইয়া আনা বমি করিয়া পুনরায় কুকুরের মত ভক্ষণ করার মত।
রেওয়ায়ত ৫৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ দাসের দাস, চাকর, মজুর এবং স্ত্রীর গোলামের তরফ হইতে ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব নহে। তবে যে গোলাম খেদমতে রত রহিয়াছে তাহার ফিতর দিতে হইবে। ব্যবসার মাল হউক বা না হউক মুসলিম না হওয়া পর্যন্ত অমুসলিম গোলামদের ফিতরা আদায় করিতে হইবে না।
রেওয়ায়ত ৫২. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানে সাদকা-ই-ফিতর হিসাবে নর-নারী, আযাদ গোলাম প্রতিটি মুসলিমের উপর এক সা' করিয়া খেজুর কিংবা যব ধার্য করিয়াছিলেন।
রেওয়ায়ত ৫৩. ইয়ায ইবন আবদুল্লাহ ইবন সা'দ ইবন আবি সারহ আমির (রহঃ) বলেনঃ তিনি আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ছা’র মাপে এক ছা’ গম বা যব বা খেজুর বা পনীর বা মুনাক্কা সাদকা-ই-ফিতর হিসাবে আদায় করিতাম ।