যুহায়র ইবনু হারব ও সুরায়জ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... আবূ তুফায়ল আমির ইবনু ওয়াসিলাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিঃ) এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এক লোক তার নিকট এসে বলল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে আড়ালে কি বলেছিলেন? রাবী বলেন, তিনি রেগে গেলেন এবং বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের কাছ থেকে গোপন রেখে আমার নিকট একান্তে কিছু বলেননি। তবে তিনি আমাকে চারটি (বিশেষ শিক্ষণীয়) কথা বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকটি বলল- হে আমীরুল মুমিনীন! সে চারটি কথা কি? তিনি বললেনঃ ১. যে লোক তার পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করে, আল্লাহ তাকে অভিসম্পাত করেন, ২. যে লোক আল্লাহ ব্যতীত ভিন্ন কারো নামে যাবাহ করে আল্লাহ তার উপরও অভিসম্পাত করেন, ৩. ঐ ব্যক্তির উপরও আল্লাহ অভিসম্পাত করেন, যে কোন বিদ'আতী লোককে আশ্রয় দেয় এবং ৪. যে ব্যক্তি জমিনের (সীমানার) চিহ্নসমূহ অন্যায়ভাবে পরিবর্তন করে, তার উপরও আল্লাহ অভিসম্পাত করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৬২, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবূ তুফায়ল (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আলী (রাযিঃ) কে বললাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে গোপনে যা জানিয়েছেন, সে বিষয়ে আমাদের কিছু বলুন। তিনি বললেন, মানুষের নিকট গোপন রেখেছেন এমন কিছুই তিনি আমার নিকট একান্তে বলেননি। তবে আমি তাকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে যাবাহ করে আল্লাহ তাকে লা'নাত করেন; যে লোক কোন বিদ'আতীকে ঠাই দেয়, আল্লাহ তাকে লা'নাত করেন; যে লোক আপন পিতা-মাতাকে লানাত করে আল্লাহ তাকে লা'নাত করেন এবং যে ব্যক্তি (জমিনের) চিহ্নসমূহ পরিবর্তন করে, আল্লাহ তাকে লা'নাত করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৬৩, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ তুফায়ল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আলী (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করা হলো, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আপনাদের নিকট বিশেষভাবে কিছু বলে গেছেন। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বসাধারণের কাছে প্রকাশ করেননি এমন কোন ব্যাপারে আমাদেরকে বিশেষভাবে কিছু বলে যাননি, তবে একমাত্র আমার তলোয়ারের এ খাপটিতে যা আছে তা ব্যতীত। রাবী বলেন, তারপর তিনি তার তরবারির খাপ থেকে একটি সহীফাহ্ (লিখিত কাগজ) বের করলেন, যাতে লেখা ছিল ‘আল্লাহ অভিসম্পাত করেন সে ব্যক্তিকে, যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে যাবাহ করে, আল্লাহ অভিসম্পাত করেন সে লোককে, যে জমিনের সীমানা চিহ্নসমূহ চুরি করে, আল্লাহ অভিসম্পাত করেন সে ব্যক্তিকে, যে তার পিতাকে অভিসম্পাত করে। আল্লাহ অভিসম্পাত করেন সে ব্যক্তিকে, যে কোন বিদ'আতীকে আশ্রয় দেয়।’ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫ম খণ্ড-৪৯৬৪, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী (রহঃ) ... আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বাদর দিবসে আমি গনীমাত (যুদ্ধলব্ধ মাল) হতে একটি বয়স্ক উট পেয়েছিলাম। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আর একটি বয়স্ক উট দিয়েছিলেন। একদিন আমি জনৈক আনসারী ব্যক্তির দরজার সামনে সে দুটি বেঁধে রাখলাম। আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল, সে দুটির পিঠে করে কিছু ইযখির ঘাস বয়ে আনবো, আর তা বিক্রয় করে ফাতিমাহ (রাযিঃ) এর ওয়ালীমায় সাহায্য নিব। আমার সঙ্গে ছিল বানু কাইনুকা গোত্রের জনৈক স্বর্ণকার। হামযাহ ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাযিঃ) সে বাড়িতেই মদ পান করছিল। তার সাথে ছিল একজন গায়িকা। সে (তার গানের মধ্যে) বললঃأَلاَ يَا حَمْزَ لِلشُّرُفِ অর্থাৎ- হে হামযাহ! হৃষ্টপুষ্ট উট দু'টির কাছে যাও এবং তোমার মেহমানদের জন্য তা যাবাহ করো। তারপর হামযাহ ও দুটির নিকট ছুটে গেল। পরে দুটিরই কুঁজ* কেটে ফেললো এবং তাদের পেট ফেড়ে দিল। তারপর সে এ দু'টির কলিজা বের করে নিল। আমি ইবনু শিহাবকে বললাম, তিনি কুঁজ দুটি কি করলেন? তিনি বললেন, কুঁজ দুটি কেটে সাথে নিয়ে চললেন। ইবনু শিহাব বলেন, আলী (রাযিঃ) বলেছেন, এ মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। তার নিকট ছিল যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাযিঃ)। এরপর আমি তাকে পুরো ঘটনা জানালাম। তিনি যায়দ (রাযিঃ) কে সঙ্গে নিয়ে বের হলেন। আমিও তার সাথে চললাম। হামযাহ (রাযিঃ) এর নিকট গিয়ে তিনি তাকে কিছু কঠিন কথা বললেন। হামযাহ (রাযিঃ) চোখ তুলে বলল, তোমরা তো আমার বাবার ক্রীতদাস ছাড়া কিছু নও। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিছন দিকে ফিরে আসলেন। এমনকি তিনি তাদের নিকট থেকে বেরিয়ে চলে এলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬ষ্ঠ খণ্ড-৪৯৬৪, ইসলামিক সেন্টার ৪৯৭১) [বিঃদ্রঃ ৪৯৬৪ নম্বরটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ' ভুলক্রমে দুইবার দিয়েছে।]
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবনু জুরায়জ (রহঃ) হতে এ সূত্রে হুবহু বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৬৫, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 5129 — Sahih Muslim 36:3
وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ كَثِيرِ بْنِ عُفَيْرٍ أَبُو عُثْمَانَ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنِ، بْنِ عَلِيٍّ أَنَّ حُسَيْنَ بْنَ عَلِيٍّ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَلِيًّا قَالَ كَانَتْ لِي شَارِفٌ مِنْ نَصِيبِي مِنَ الْمَغْنَمِ يَوْمَ بَدْرٍ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعْطَانِي شَارِفًا مِنَ الْخُمُسِ يَوْمَئِذٍ فَلَمَّا أَرَدْتُ أَنْ أَبْتَنِيَ بِفَاطِمَةَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاعَدْتُ رَجُلاً صَوَّاغًا مِنْ بَنِي قَيْنُقَاعَ يَرْتَحِلُ مَعِيَ فَنَأْتِي بِإِذْخِرٍ أَرَدْتُ أَنْ أَبِيعَهُ مِنَ الصَّوَّاغِينَ فَأَسْتَعِينَ بِهِ فِي وَلِيمَةِ عُرْسِي فَبَيْنَا أَنَا أَجْمَعُ لِشَارِفَىَّ مَتَاعًا مِنَ الأَقْتَابِ وَالْغَرَائِرِ وَالْحِبَالِ وَشَارِفَاىَ مُنَاخَانِ إِلَى جَنْبِ حُجْرَةِ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ وَجَمَعْتُ حِينَ جَمَعْتُ مَا جَمَعْتُ فَإِذَا شَارِفَاىَ قَدِ اجْتُبَّتْ أَسْنِمَتُهُمَا وَبُقِرَتْ خَوَاصِرُهُمَا وَأُخِذَ مِنْ أَكْبَادِهِمَا فَلَمْ أَمْلِكْ عَيْنَىَّ حِينَ رَأَيْتُ ذَلِكَ الْمَنْظَرَ مِنْهُمَا قُلْتُ مَنْ فَعَلَ هَذَا قَالُوا فَعَلَهُ حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَهُوَ فِي هَذَا الْبَيْتِ فِي شَرْبٍ مِنَ الأَنْصَارِ غَنَّتْهُ قَيْنَةٌ وَأَصْحَابَهُ فَقَالَتْ فِي غِنَائِهَا أَلاَ يَا حَمْزَ لِلشُّرُفِ النِّوَاءِ فَقَامَ حَمْزَةُ بِالسَّيْفِ فَاجْتَبَّ أَسْنِمَتَهُمَا وَبَقَرَ خَوَاصِرَهُمَا فَأَخَذَ مِنْ أَكْبَادِهِمَا قَالَ عَلِيٌّ فَانْطَلَقْتُ حَتَّى أَدْخُلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدَهُ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ - قَالَ - فَعَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي وَجْهِيَ الَّذِي لَقِيتُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا لَكَ " قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ كَالْيَوْمِ قَطُّ عَدَا حَمْزَةُ عَلَى نَاقَتَىَّ فَاجْتَبَّ أَسْنِمَتَهُمَا وَبَقَرَ خَوَاصِرَهُمَا وَهَا هُوَ ذَا فِي بَيْتٍ مَعَهُ شَرْبٌ - قَالَ - فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِرِدَائِهِ فَارْتَدَاهُ ثُمَّ انْطَلَقَ يَمْشِي وَاتَّبَعْتُهُ أَنَا وَزَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ حَتَّى جَاءَ الْبَابَ الَّذِي فِيهِ حَمْزَةُ فَاسْتَأْذَنَ فَأَذِنُوا لَهُ فَإِذَا هُمْ شَرْبٌ فَطَفِقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَلُومُ حَمْزَةَ فِيمَا فَعَلَ فَإِذَا حَمْزَةُ مُحْمَرَّةٌ عَيْنَاهُ فَنَظَرَ حَمْزَةُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَعَّدَ النَّظَرَ إِلَى رُكْبَتَيْهِ ثُمَّ صَعَّدَ النَّظَرَ فَنَظَرَ إِلَى سُرَّتِهِ ثُمَّ صَعَّدَ النَّظَرَ فَنَظَرَ إِلَى وَجْهِهِ فَقَالَ حَمْزَةُ وَهَلْ أَنْتُمْ إِلاَّ عَبِيدٌ لأَبِي فَعَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ ثَمِلٌ فَنَكَصَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى عَقِبَيْهِ الْقَهْقَرَى وَخَرَجَ وَخَرَجْنَا مَعَهُ .
আবূ বাকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদরের দিন আমি গনীমাত থেকে আমার ভাগে একটি বয়স্ক উট পেয়েছিলাম। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিন এক পঞ্চমাংশ থেকে আমাকে আর একটি উট দিয়েছিলেন। আমি যখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তনয়া ফাতিমাহ এর সাথে বাসর যাপনের আকাজক্ষা করলাম, তখন বানু কাইনুকা গোত্রের জনৈক স্বর্ণকার ও আমি উভয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ হলাম। সে আমার সাথে যাবে আর আমরা (দু’জনে) ইযখির (ঘাস) নিয়ে আসবো। আমি ইচ্ছা করলাম, এগুলো স্বর্ণকারদের কাছে বিক্রি করে তা দিয়ে আমার বিয়ের ওয়ালীমার বিষয়ে সাহায্য নিব। আমি উট দু'টির জন্য বসার গদি, থলে এবং রশি ইত্যাদি জিনিস সংগ্রহ করছিলাম। আর আমার উট দুটি একজন আনসার লোকের গৃহের পাশে বাধা ছিল। আমিও যা সংগ্রহ করার সংগ্রহ করলাম। এমন সময় অকস্মাৎ লক্ষ্য করি সে দু'টি (উটের) কুঁজ কেটে ফেলা হয়েছে, পেটের দিক কেটে ফেলা হয়েছে এবং উভয়ের কলিজা বের করে নেয়া হয়েছে। আমার দু’ নয়ন এ দৃশ্য সহ্য করতে পারল না। আমি বলে উঠলাম, এ কাজ কোন্ লোক করল? লোকেরা, বলল হামযাহ্ ইবনু আবদুল মুত্তালিব। সে এ বাড়িতে আনসারদের একদল মদ্যপায়ীকারীদের মাঝে আছে। তাকে ও তার সঙ্গীদেরকে গান শুনাচ্ছিল এক গায়িকা। সে তার গানে বললঃأَلاَ يَا حَمْزَ لِلشُّرُفِ النِّوَاءِ অর্থাৎ- হে হামযাহ! তুমি হৃষ্টপুষ্ট উট দুটির সম্মুখে যাবে কি? পরে হামযাহ্ তরবারি নিয়ে উঠলো, উট দু'টির কুঁজ কেটে ফেললো, পশ্চাৎদিক চিড়ে ফেললো। অতঃপর ও দু’টোর কলিজা নিয়ে গেল। আলী (রাযিঃ) বলেন, সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে গিয়ে উপস্থিত হলাম, তখন তার কাছে ছিল যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাযিঃ)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার অবয়ব দেখে বুঝতে পারলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার কি হয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর কসম, আজকের দিনের মতো আমি আর কখনও দেখিনি। হামযাহ আমার উট দুটির উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উভয়ের কুঁজ দুটি কেটে ফেলেছে, পিছনের দিক কেটে ফেলেছে এবং কলিজা খুলে নিয়েছে। সে ঐ গৃহে আছে আর তার সাথে আছে মদ্যপায়ীদের কিছু লোক। তিনি বলেন, তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চাদর নিয়ে আসতে বললেন। অতঃপর তা পরিধান করে হাটতে লাগলেন। আমি এবং যায়দ ইবনু হারিসাহ তার পিছনে পিছনে অনুকরণ করলাম। পরিশেষে তিনি সে ঘরের দরজায় এসে অনুমতি চাইলেন যে ঘরে হামযাহ ছিল। তারা তাকে অনুমতি দিল। তিনি প্রবেশ করেই লক্ষ্য করলেন মদ্যপায়ীর দল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামযার অপকর্মের জন্য তাকে শাসন ও নিন্দা করতে লাগলেন। এমতাবস্থায় হামযার চোখ দুটি লাল হয়ে গেল। সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো। এরপর সে তার হাটুর দিকে তাকালো, তারপর আরো উচুতে দৃষ্টি নিবদ্ধ করল তার নাভীর দিকে, এরপর দৃষ্টি উঠালো তার চেহারার দিকে। এরপর হামযাহ বলল, তোমরা তো আমার পিতার গোলাম ছাড়া কিছুই নও। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বুঝতে পারলেন সে নেশাগ্রস্ত, তখন তিনি পিছনে হেঁটে বের হয়ে পড়লেন। আমরাও তার সাথে বের হলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৬৬, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ রাবী' সুলাইমান ইবনু দাউদ আতাকী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদ হারাম হওয়ার দিন আমি আবূ তালহার ঘরে লোকদের মদ পান করাচ্ছিলাম। তারা শুকনো ও কাঁচা খেজুরের মদ পান করতো (অর্থাৎ শুকনো ও কাঁচা খেজুর দ্বারা তৈরি ঘন তৈলাক্ত ও সিরকা পান করতো)। হঠাৎ শুনা গেল জনৈক লোক ঘোষণা দিচ্ছে। তিনি বললেন, বের হয়ে দেখো। আমি বের হয়ে দেখলাম, এক লোক ঘোষণা দিচ্ছেঃ শুনে রাখো, মদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, অতঃপর মাদীনার চারপাশে ও অলিগলি দিয়ে মদের ঢল প্রবাহিত বইতে থাকে। আবূ তালহাহ আমাকে বললেন, বের হও এবং এগুলো ঢেলে দিয়ে আসো। অতঃপর আমি সেগুলো ঢেলে দেই। তারা সবাই বা তাদের কেউ কেউ বললেন, অমুকে নিহত হয়েছে। অমুকে নিহত হয়েছে! অথচ তাদের উদরে মদ আছে। রাবী বলেন, আমি জ্ঞাত নই যে, এ কথাও আনাস (রাযিঃ) এর হাদীসের অন্তর্ভুক্ত কি-না। এরপর আল্লাহ তা'আলা নাযিল করেনঃ “যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তারা পূর্বে যা খেয়েছে তাতে তাদের কোন গুনাহ নেই, যদি তারা সতর্ক হয় এবং ঈমান আনে ও সৎকাজ করে"- (সূরা আল-মায়িদাহ্ ৫ঃ ৯৩)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৬৭, ইসলামিক সেন্টার)
(…) ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব (রহঃ) ..... আবদুল আযীয ইবনু সুহায়ব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মানুষেরা আনাস (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করল 'ফাযীখ’ (খেজুরের তৈরি মদ) সম্পর্কে। তিনি বললেন, তোমরা যাকে ‘ফাযীখ’ বলে সম্বোধন কর, তোমাদের এ ফাযীখ ব্যতীত আমাদের আর কোন মদ-ই ছিল না। আমি আমাদের ঘরে আবূ তালহা, আবূ আইয়্যুব (রাযিঃ) এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আরো কতিপয় সাহাবীকে মদপান করাতে মত্ত ছিলাম। এমন সময় এক লোক এসে বলল, তোমাদের নিকট কি কোন সংবাদ এসেছে? আমরা বললাম, না। সে বলল, মদ তো সম্পূর্ণরূপে নিষেধ করা হয়েছে। তিনি (আবূ তালহা) বললেন, হে আনাস! এ মদের কলসগুলো ঢেলে দাও। তিনি বলেন, তারা উক্ত ব্যক্তির সংবাদের পর কোন খোঁজখবরও করেননি। এ সম্পর্কে কোন জিজ্ঞাসাবাদও করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৬৮, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যখানে দাঁড়িয়ে আমার চাচাদের 'ফাযীখ' পান করাচ্ছিলাম। আর বয়সে আমি তাদের সবার ছোট ছিলাম। এ সময় এক লোক এসে বলল, মদ তো হারাম করা হয়েছে। তারা সবাই বললেন, হে আনাস! এ হাড়িগুলো উল্টিয়ে দাও। আমি সেগুলো উপুড় করে ফেলে দিলাম। সুলাইমান বলেন, আমি আনাসকে বললাম, ফাযীখ কি জিনিস? তিনি বললেন, কাঁচা-পাকা খেজুর দ্বারা তৈরিকৃত মদ। তিনি বলেন, আবূ বাকর ইবনু আনাস বলেছেন, তখন এটাই ছিল তাদের একমাত্র নেশাজাতীয় দ্রব্য। সুলাইমান বলেন, আমার নিকটে জনৈক লোক আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন যে, তিনিও (আনাস) এ কথা বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৬৯, ইসলামিক সেন্টার)