‘আমর আন নাকিদ ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (উম্মুল মু'মিনীন) জুওয়াইরিয়াহ্ (রাযিঃ) এর আসল নাম ছিল বাররাহ্ (পুণ্যবতী) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম পরিবর্তন করে রাখলেন জুওয়াইরিয়াহ্ (স্নেহময়ী কিশোরী)। কেননা বাররাহ (পুণ্যবতী) এর নিকট হতে বের হয়ে এসেছেন- এমন বাক্য তিনি পছন্দ করতেন না। ইবনু আবূ উমার (রাযিঃ) এর হাদিসে কুরায়ব (রহঃ) সূত্রেعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ এর স্থানে سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪২১, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ও উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, যাইনাব (রাযিঃ) এর আসল নাম ছিল বাররাহ্’। তাই বলা হলো, তিনি আত্মশুদ্ধি করেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নামকরণ করলেন যাইনাব। ইবনু বাশশার ছাড়া উপরোল্লিখিত রাবীদের বর্ণিত হাদীসের হুবহু শব্দ বর্ণিত হয়েছে। তবে ইবনু আবী শাইবাহحَدَّثَنَا شُعْبَةُ এর স্থলেعَنْ شُعْبَةَ বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪২২, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... যাইনাব বিনতু উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পূর্বে আমার নাম বাররাহ ছিল। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নাম রাখলেন ‘যাইনাব’। তিনি বলেন, যাইনাব বিনতু জাহশ (রাযিঃ) তার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) নিকট আসলো। তার (ও) নাম ছিল বাররাহ তার নামও তিনি 'যাইনাব' রেখে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪২৩, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 5609 — Sahih Muslim 38:24
حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، قَالَ سَمَّيْتُ ابْنَتِي بَرَّةَ فَقَالَتْ لِي زَيْنَبُ بِنْتُ أَبِي سَلَمَةَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ هَذَا الاِسْمِ وَسُمِّيتُ بَرَّةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمُ اللَّهُ أَعْلَمُ بِأَهْلِ الْبِرِّ مِنْكُمْ " . فَقَالُوا بِمَ نُسَمِّيهَا قَالَ " سَمُّوهَا زَيْنَبَ " .
আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু আতা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কন্যার নাম রাখলাম বাররাহ। সে সময় যাইনাব বিনতু আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ) আমাকে বললেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নাম রাখতে বারণ করেছেন। আমার নাম বাররাহ্- (পুণ্যবতী) রাখা হয়েছিল। তাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা স্বয়ং আত্মা পরিশুদ্ধ বলে দাবি করো না। আল্লাহ তা'আলাই অধিকতর জানেন তোমাদের মাঝে পুণ্যবানদের সম্পর্কে। অতঃপর তারা বলল, তবে আমরা তার কি নামকরণ করবো? তিনি বললেন, তার নাম রাখো যাইনাব’। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪২৪, ইসলামিক সেন্টার)
সাঈদ ইবনু আমর আশ'আসী, আহমাদ ইবনু হাম্বাল ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর তা'আলার নিকট অধিকতর ঘৃণিত নাম ঐ লোকের, যার নাম 'মালিকুল আমলাক'- (বাদশার বাদশাহ) রাখা হয়। ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) তার বর্ণিত হাদীসে বেশি বর্ণনা করেছেন- "আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে অন্য কোন মালিকা অধিপতি" নেই"। আশ'আসী (রহঃ) বলেন, বর্ণনাকারী সুফইয়ান (রহঃ) বলেছেন, এ শব্দ (ফারসী ভাষায়) শাহান শাহ-এর অবিকল। আর আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) বলেন, আমি আবূ আমর (রহঃ) কেأَخْنَعَ এর অর্থ জানতে চাইলে তিনি বলেন,أَوْضَعَ চরম নিকৃষ্ট। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪২৫, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 5611 — Sahih Muslim 38:26
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَغْيَظُ رَجُلٍ عَلَى اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَخْبَثُهُ وَأَغْيَظُهُ عَلَيْهِ رَجُلٌ كَانَ يُسَمَّى مَلِكَ الأَمْلاَكِ لاَ مَلِكَ إِلاَّ اللَّهُ " .
(…) মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এগুলো আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। তারপর তিনি কিছু হাদীস বর্ণনা করলেন। তন্মধ্যে অন্যতম একটি হলো, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলার নিকটে সবচেয়ে রাগের কারণ, সবচেয়ে ঘৃণিত, অধিকতর ক্ষিপ্রতার সম্মুখীন হবে সে লোক যার নাম রাখা হয়েছে 'মালিকুল আমলাক' (রাজাধিরাজ সম্রাট), আল্লাহ ছাড়া অন্য আর কেউ মালিক (সম্রাট) নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪২৬, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 5612 — Sahih Muslim 38:27
حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ، بْنِ مَالِكٍ قَالَ ذَهَبْتُ بِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ الأَنْصَارِيِّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ وُلِدَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي عَبَاءَةٍ يَهْنَأُ بَعِيرًا لَهُ فَقَالَ " هَلْ مَعَكَ تَمْرٌ " . فَقُلْتُ نَعَمْ . فَنَاوَلْتُهُ تَمَرَاتٍ فَأَلْقَاهُنَّ فِي فِيهِ فَلاَكَهُنَّ ثُمَّ فَغَرَ فَا الصَّبِيِّ فَمَجَّهُ فِي فِيهِ فَجَعَلَ الصَّبِيُّ يَتَلَمَّظُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " حُبُّ الأَنْصَارِ التَّمْرَ " . وَسَمَّاهُ عَبْدَ اللَّهِ .
আবদুল আ'লা ইবনু হাম্মাদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ তালহাহ্ আনসারী এর জন্মকালে আমি তাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে নিয়ে গেলাম। সে সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় গায়ে একটি আলখাল্লা জড়িয়ে তার উটের গায়ে তৈল মালিশ করছিলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন, তোমার সাথে খেজুর আছে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ। তারপর আমি তার হাতে কয়েকটি খেজুর দিলাম। তিনি তার মুখে জড়িয়ে দিয়ে চিবালেন। তারপর শিশুটির মুখ ফাঁক করে তার মুখের ভিতরে দিলেন। শিশুটি তা চুষতে লাগল। সে সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ 'আনসারীদের খেজুরের প্রতি ভালবাসা' এবং তিনি তার নাম রাখলেন, ‘আবদুল্লাহ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪২৭, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 5613 — Sahih Muslim 38:28
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنِ ابْنِ، سِيرِينَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ ابْنٌ لأَبِي طَلْحَةَ يَشْتَكِي فَخَرَجَ أَبُو طَلْحَةَ فَقُبِضَ الصَّبِيُّ فَلَمَّا رَجَعَ أَبُو طَلْحَةَ قَالَ مَا فَعَلَ ابْنِي قَالَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ هُوَ أَسْكَنُ مِمَّا كَانَ . فَقَرَّبَتْ إِلَيْهِ الْعَشَاءَ فَتَعَشَّى ثُمَّ أَصَابَ مِنْهَا فَلَمَّا فَرَغَ قَالَتْ وَارُوا الصَّبِيَّ . فَلَمَّا أَصْبَحَ أَبُو طَلْحَةَ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ " أَعْرَسْتُمُ اللَّيْلَةَ " . قَالَ نَعَمْ قَالَ " اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمَا " . فَوَلَدَتْ غُلاَمًا فَقَالَ لِي أَبُو طَلْحَةَ احْمِلْهُ حَتَّى تَأْتِيَ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم . فَأَتَى بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَبَعَثَتْ مَعَهُ بِتَمَرَاتٍ فَأَخَذَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَمَعَهُ شَىْءٌ " . قَالُوا نَعَمْ تَمَرَاتٌ . فَأَخَذَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَمَضَغَهَا ثُمَّ أَخَذَهَا مِنْ فِيهِ فَجَعَلَهَا فِي فِي الصَّبِيِّ ثُمَّ حَنَّكَهُ وَسَمَّاهُ عَبْدَ اللَّهِ .
(…) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তালহাহ্ (রাযিঃ) এর এক পুত্র সন্তান রোগগ্রস্ত ছিল। (একদিন) আবূ তালহাহ্ (রাযিঃ) (তার কর্মে) বের হলো এদিকে তার বাচ্চাটি মারা যায়। যখন আবূ তালহাহ (রাযিঃ) ফিরে আসলেন, তিনি (স্ত্রীকে) প্রশ্ন করলেন, আমার সন্তান কী করছে? (স্ত্রী) উম্মু সুলায়ম (রাযিঃ) বললেন, সে পূর্বের চেয়ে অধিকতর শান্ত। তারপর তিনি তাকে রাতের খাদ্য দিলেন, তিনি তা খেলেন, তারপর তার সাথে মিলিত হলেন। তারপর তিনি অবসর হলে উম্মু সুলায়ম (রাযিঃ) বললেন, শিশুটিকে দাফন করে এসো। যখন সকাল হলো আবূ তালহাহ্ (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে এসে তাকে (সব) ঘটনা অবহিত করলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি গতরাতে মিলিত হয়েছো? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি (দু’আ করে) বললেন, হে আল্লাহ তাদের দু'জনের জন্যে বারাকাত দিন। তারপর তার স্ত্রী একটি সন্তান প্রসব করলেন। সে সময় আবূ তালহাহ্ (রাযিঃ) আমাকে বললেন, তাকে (কোলে) তুলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে নিয়ে যাও। তাকে নিয়ে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলেন। উম্মু সুলায়ম (রাযিঃ) তার সঙ্গে কতক খেজুরও দিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (শিশুটিকে) কোলে নেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তার সাথে কিছু আছে কি? তারা বললো, হ্যাঁ, কয়েকটি খেজুর। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেগুলো বের করলেন ও চিবালেন। তারপর তা তার মুখ হতে নিলেন এবং বাচ্চাটির মুখের মধ্যে দিলেন। এরপর তাকে তাহনীক করে তার জন্যে দু'আ করলেন এবং তার নাম রাখলেন ‘আবদুল্লাহ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪২৮, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে এ ঘটনা সহকারে রাবী ইয়াযীদ (রহঃ) এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪২৯, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ‘আবদুল্লাহ ইবনু বাররাদ আশ'আরী ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার একটি পুত্র সস্তান ভূমিষ্ঠ হলে আমি তাকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে উপস্থিত হলাম। তিনি তার নাম রাখলেন ইবরাহীম এবং একটি খেজুর চিবিয়ে তার মুখে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪৩০, ইসলামিক সেন্টার)