আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। কোন এক ওয়াক্ত সালাত জামা'আতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সংখ্যক লোককে না পেয়ে বললেনঃ আমি ইচ্ছা করেছি যে, কোন জনৈক ব্যক্তিকে আমি সালাতে ইমামাত করার আদেশ করি এবং যারা সালাতে জামা'আতে আসে না তাদের কাছে যাই এবং কাঠ-খড় দ্বারা আগুন জ্বলিয়ে তাদের বাড়ী-ঘর জ্বলিয়ে দিতে আদেশ করি। তাদের কেউ যদি জানত যে তারা একখণ্ড গোশত হাড্ডি পাবে তাহলে তারা তাতে অবশ্যই উপস্থিত হত। অর্থাৎ- ইশার সালাতে (উপস্থিত হত)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন. ১৩৫৪, ইসলামীক সেন্টার)
ইবনু নুমায়র, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব [শব্দগুলো তাদের দু'জনের] (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইশা ও ফজরের সালাত আদায় করা মুনাফিকদের সর্বাপেক্ষা কঠিন। তারা যদি জানত যে, এ দু'টি সালাতের পুরস্কার বা সাওয়াব কত তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে বুক হেঁচড়ে হলেও তারা এ দু' ওয়াক্ত জামা'আতে উপস্থিত হত। আমি ইচ্ছা করেছি সালাত আদায় করার আদেশ দিয়ে কাউকে ইমামতি করতে বলি। আর আমি কিছু লোককে নিয়ে জ্বালানী কাঠের বোঝাসহ যারা সালাতের জামা'আতে আসে না তাদের কাছে যাই এবং আগুন দিয়ে তাদের ঘর-বাড়ী জালিয়ে দেই। (ইসলামী ফাউন্ডেশন. ১৩৫৫, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1483 — Sahih Muslim 5:316
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ فِتْيَانِي أَنْ يَسْتَعِدُّوا لِي بِحُزَمٍ مِنْ حَطَبٍ ثُمَّ آمُرَ رَجُلاً يُصَلِّي بِالنَّاسِ ثُمَّ تُحَرَّقُ بُيُوتٌ عَلَى مَنْ فِيهَا " .
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিছু সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে একটি হাদীস হলো, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি মনস্থ করেছি যে, লোকজনকে জ্বালানী কাঠের স্তুপ করতে বলি। তারপর একজনকে সালাতে ইমামাত করতে আদেশ করি এবং লোকজনসহ গিয়ে তাদের ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দেই, যারা জামা'আতে উপস্থিত হয় না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৫৬, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1484 — Sahih Muslim 5:317
وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَأَبُو كُرَيْبٍ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ وَكِيعٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِنَحْوِهِ .
যুহায়র ইবনু হারব, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ)-এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৫৭, ইসলামীক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জুমুআর সালাত আদায় করতে আসে না এমন এক দল লোক সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার ইচ্ছা হয় যে, জনৈক ব্যক্তিকে সালাতে ইমামত করার নির্দেশ দেই আর আমি গিয়ে যারা জুমুআর সালাত আদায় করতে আসে না, আগুন লাগিয়ে তাদের ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দেই। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৫৮, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ ও ইয়াকুব আদ দাওরাকী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক অন্ধ লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল হে আল্লাহর রসূল! আমাকে ধরে মসজিদে নিয়ে আসার মতো কেউ নেই। অতঃপর তাকে বাড়ীতে সালাত আদায় করার অনুমতি প্রদান করার জন্য সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আবেদন জানাল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বাড়ীতে সালাত আদায় করার অনুমতি দিলেন। কিন্তু যে সময় লোকটি ফিরে যেতে উদ্যত হলো তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন? তুমি কি সালাতের আযান শুনতে পাও? সে বলল, হ্যাঁ (আমি আযান শুনতে পাই)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে তুমি মসজিদে আসবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৫৯, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেছেন আমাদের ধারণা হলো মুনাফিক যার নিফাক স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং রুগ্ন ব্যক্তি ছাড়া কেউই সালাতের জামা'আত পরিত্যাগ করে না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় রুগ্ন ব্যক্তিও দু'জন মানুষের কাঁধে ভর দিয়ে সালাতের জামা'আতে উপস্থিত হত। তিনি আরো বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের হিদায়াতের কথা শিখিয়েছেন। আর হিদায়াতের কথা ও পদ্ধতির মধ্যে একটি হলো সে মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করা যে মসজিদে আযান দেয়া হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন. ১৩৬০, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আগামীকাল কিয়ামতের দিন মুসলিম হিসেবে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ পেতে আনন্দবোধ করে, সে যেন ঐ সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করে, যেসব সালাতের জন্য আযান দেয়া হয়। কেননা আল্লাহ তা'আলা তোমাদের নবীর জন্য হিদায়াতের পন্থা পদ্ধতি বিধিবদ্ধ করেছেন। আর এসব সালাতও হিদায়াতের পন্থা পদ্ধতি, যেমন জনৈক ব্যক্তি সালাতের জামা'আতে উপস্থিত না হয়ে বাড়ীতে সালাত আদায় করে থাকে, অনুরূপ তোমরাও যদি তোমাদের বাড়ীতে সালাত আদায় করো তাহলে নিঃসন্দেহে তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত বা পন্থা-পদ্ধতি পরিত্যাগ করলে। আর তোমরা যদি এভাবে তোমাদের নবীর সুন্নাত বা পদ্ধতি পরিত্যাগ করো তাহলে অবশ্যই পথ হারিয়ে ফেলবে। কেউ যদি অতি উত্তমভাবে পবিত্রতা অর্জন করে (সালাত আদায় করার জন্য) কোন একটি মসজিদে উপস্থিত হয় তাহলে মসজিদে যেতে সে যতবার পদক্ষেপ ফেলবে তার প্রতিটি পদক্ষেপের পরিবর্তে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য একটি নেকী লিখে দেন, তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন এবং একটি করে পাপ দূর করে দেন। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, আমরা মনে করি যার মুনাফিকী সর্বজনবিদিত এমন মুনাফিক ছাড়া কেউ-ই জামা'আতে সালাত আদায় করা ছেড়ে দেয় না। অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় এমন ব্যক্তি জামা'আতে উপস্থিত হত যাকে দু’জন মানুষের কাঁধে ভর দিয়ে এসে সালাতের কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়া হত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৬১, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবূশ শাসা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) এর সাথে মসজিদে বসেছিলাম। ইতোমধ্যে মুয়াজ্জিন (সালাতের জন্য) আযান দিলো। এ সময়ে জনৈক ব্যক্তি মাসজিদ থেকে উঠে চলে যেতে থাকল। আর আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) তার প্রতি তাকিয়ে দেখতে থাকলেন। লোকটি মসজিদ থেকে বেরিয়ে গেল। এ দেখে আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বললেন এ ব্যক্তি তো আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নীতি ও পদ্ধতির নাফরমানী করল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৬২. ইসলামীক সেন্টার)
ইবনু আবূ উমার আল মাক্কী (রহঃ) ... আবূশ শাসা আল মুহারিবী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আযানের পর জনৈক ব্যক্তিকে মসজিদ থেকে বের হয়ে যেতে দেখে আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বললেন, এ লোকটি তো আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশ লঙ্ঘন করল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৬৩, ইসলামীক সেন্টার)