আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সালাত আদায় করতেন সে অবস্থায় আমরা তাকে সালাম দিলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার জবাব দিতেন। কিন্তু (হাবশায় হিজরাতের পর) নাজাশীর কাছ থেকে আমরা ফিরে এসে তাকে (সালাতরত অবস্থায়) সালাম দিলে তিনি তার জবাব দিলেন না। তখন (সালাত শেষে) আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আপনি সালাত আদায় করতেন এমন অবস্থায় আমরা আপনাকে সালাম দিলে তার জবাব দিতেন। (কিন্তু আজকে আমাদের সালামের জবাব দিলেন না!) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সালাতের মধ্যে নির্ধারিত করণীয় থাকে*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৮২, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সালাতরত অবস্থায় কথা বলতাম। লোকে সালাতরত অবস্থায় তার পাশে (সালাতে) দাঁড়ানো অপর ব্যক্তির সাথে কথা বলত। এরপর আয়াত অবতীর্ণ হলোঃوَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ "আর তোমরা আল্লাহর প্রতি পূর্ণ অনুগত ও একনিষ্ঠ হয়ে দাড়াও" (সূরাহ আল বাকারাহ ২ঃ ২৩৮)। এ হুকুম অবতীর্ণ হওয়ার পর আমাদেরকে সালাতের মধ্যে চুপ থাকতে আদেশ দেয়া হলো এবং কথা বলতে নিষেধ করা হলো। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৮৪, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কোন একটি কাজে পাঠালেন। আমি ফিরে এসে দেখলাম সওয়ারীতে আরোহণ করে (নফল সালাত আদায়রত) অতিক্রম করেছেন। কুতায়বাহ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায় করছিলেন। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ বলেনঃ আমি (ফিরে আসার পর ঐ অবস্থায়) তাকে সালাম দিলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ইশারা করলেন (ইশারা দ্বারা সালামের জবাব দিলেন)। সালাত শেষ করে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ডেকে বললেনঃ তুমি এইমাত্র আমাকে সালাম দিয়েছ। তখন আমি সালাত আদায় করছিলাম। ঐ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পূর্ব দিকে মুখ করে ছিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৮৬, ইসলামীক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানী মুস্তালিক গোত্রের দিকে যাওয়ার সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি কাজে পাঠালেন। আমি ফিরে এসে দেখলাম তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উটের পিঠে বসে সালাত আদায় করছেন। আমি তাকে বললাম (অর্থাৎ- যে কাজে পাঠিয়েছিলেন সে সম্পর্কে) কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে হাত দ্বারা এভাবে ইশারা করলেন। বর্ণনাকারী যুহায়র ইবনু হারব তার হাত দিয়ে ইশারা করে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিভাবে ইশারা করেছিলেন তা দেখালেন। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ বলেনঃ আমি তখন শুনছিলাম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু পড়ছেন এবং মাথা দ্বারা ইশারা করছেন। সালাত শেষ হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমি তোমাকে যে জন্য পাঠিয়েছিলাম তার কি করেছ? আমি শুধু এ কারণে তোমার সাথে কথা বলিনি যে, আমি তখন সালাত আদায় করছিলাম। হাদীসটির বর্ণনাকারী যুহারর ইবনু হারব (রহঃ) বলেনঃ কথাগুলো বলার সময় আবূ যুবায়র কা'বার দিকে মুখ করে বসে ছিলেন। কিন্তু যখন তিনি (আবুয যুবায়র) হাত দিয়ে ইশারা করে দেখাচ্ছিলেন তখন কা'বার দিকে মুখ না করে বানী মুস্তালিকের দিকে মুখ করে বলছিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৮৭, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে একটি কাজে পাঠালেন আমি ফিরে এসে দেখতে পেলাম তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সওয়ারীর পিছে বসে কিবলাহ ছাড়া অন্যদিকে মুখ করে সালাত আদায় করছেন। আমি তাকে সালাম দিলাম। কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার সালামের কোন জওয়াব দিলেন না। সালাত শেষ করে বললেনঃ আমি সালাত আদায় করেছিলাম তাই তোমার সালামের কোন জবাব দিতে পারিনি। এছাড়া আর কিছুই আমাকে তোমার সালামের জওয়াব দেয়া থেকে বিরত রাখেনি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৮৮, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1208 — Sahih Muslim 5:48
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ شِنْظِيرٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَاجَةٍ . بِمَعْنَى حَدِيثِ حَمَّادٍ .
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (এক সময়ে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কোন একটি কাজে পাঠিয়েছিলেন। এরপর তিনি হাম্মাদ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৮৯, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) .... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গত রাতে এক দুষ্ট জিন আমার সালাত নষ্ট করার জন্য আমার ওপর আক্রমণ করতে শুরু করল। তবে আল্লাহ তা'আলা আমাকে তাকে কাবু করার শক্তি দান করলেন। আমি তাকে গলা টিপে ধরেছিলাম। আমার ইচ্ছা হলো তাকে মসজিদের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখি যাতে সকাল বেলা তোমরা সবাই তাকে দেখতে পাও। কিন্তু তখনই আমার স্মরণ হলে আমার ভাই নবী সুলায়মানের দুয়া'র কথা তিনি (আঃ) দুয়া করেছিলেন رَبِّ اغْفِرْ لِي وَهَبْ لِي مُلْكًا لاَ يَنْبَغِي لأَحَدٍ مِنْ بَعْدِي হে প্রভু, তুমি আমাকে এমন রাজত্ব দান করে যা আমার পরে আর কারো জন্য যেন না হয়"- (সূরাহ সোয়াদ ৩৮ঃ ৩৫)। (অর্থাৎ- জিন, বাতাস ও পশু-পাখির ওপর রাজত্ব করার ক্ষমতা। তাই আমি তাকে বেঁধে রাখা থেকে বিরত থাকলাম।) অতঃপর আল্লাহ তা'আলা জিনটিকে (আমার হাতে) লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দিলেন। ইবনু মানসূর, শু'বাহ, মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৯০, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ...... শু'বাহ থেকে উপরোক্ত সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে মুহাম্মাদ ইবনু জাফার বর্ণিত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা فَذَعَتُّهُ অর্থাৎ "আমি তাকে গলা টিপে ধরেছিলাম" বর্ণিত হয়নি। আর আবূ বকর ইবনু আবূ শয়বাহ বর্ণিত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা فَدَعَتُّهُ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৯১, ইসলামীক সেন্টার)