ইবরাহীম ইবন ইয়াকুব (রহঃ) ... মুতাররিফ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে ইমরান ইবন হুসায়ন (রাঃ) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তামাত্তু করেছেন এবং তার সাথে আমরাও তামাত্তু করেছি। এ ব্যাপারে কেউ তার মত ব্যক্ত করেছেন।
হাদিস 2740 — Sunan an Nasai 24:122
সহিহসহিহহাসান
أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، أَتَيْنَا جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ فَسَأَلْنَاهُ عَنْ حَجَّةِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم فَحَدَّثَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَكَثَ بِالْمَدِينَةِ تِسْعَ حِجَجٍ ثُمَّ أُذِّنَ فِي النَّاسِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَاجِّ هَذَا الْعَامِ فَنَزَلَ الْمَدِينَةَ بَشَرٌ كَثِيرٌ كُلُّهُمْ يَلْتَمِسُ أَنْ يَأْتَمَّ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَيَفْعَلُ مَا يَفْعَلُ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِخَمْسٍ بَقِينَ مِنْ ذِي الْقَعْدَةِ وَخَرَجْنَا مَعَهُ قَالَ جَابِرٌ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ أَظْهُرِنَا عَلَيْهِ يَنْزِلُ الْقُرْآنُ وَهُوَ يَعْرِفُ تَأْوِيلَهُ وَمَا عَمِلَ بِهِ مِنْ شَىْءٍ عَمِلْنَا فَخَرَجْنَا لاَ نَنْوِي إِلاَّ الْحَجَّ .
ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... জাফর ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহর নিকট গিয়ে তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হজ্জ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় নয় বৎসর অবস্থান করেন। তারপর জনসাধারণের মধ্যে সংবাদ দেয়া হলো যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বৎসর হজ্জ করতে যাবেন। এ সংবাদে মদীনায় বহু লোকের সমাগম হলো। সকলেই কামনা করছিলো যে, তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হজ্জ সমাপন করবেন এবং তিনি যা করেন তা করবেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুলকা'দা মাসের পাঁচ দিন বাকী থাকতে মদীনা থেকে বের হন। আর আমরাও তাঁর সাথে বের হই। জাবির (রাঃ) বলেন, এসময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যেই ছিলেন। তাঁর উপর কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছিল আর তিনি এর মর্ম অনুধাবন করতেন। তিনি তদনুযায়ী যা করতেন, আমরাও তা করতাম। আমরা একমাত্র হজ্জের উদ্দেশ্যেই বের হয়েছিলাম।
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন ইয়াযীদ ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমরা সফরে বের হলাম। হজ্জ ব্যতীত আমাদের আর কোন উদ্দেশ্য ছিল না। সারিফ নামক স্থানে পৌছার পর আমি ঋতুবতী হই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন আর আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার কি ঋতুস্রাব দেখা দিয়েছে? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ ইহা এমন বস্তু, যা আল্লাহ্ তা'আলা আদমের কন্যা সন্তানদের উপর নির্ধারিত করেছেন। তুমি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত মুহরিম ব্যক্তি হজ্জের যে সকল কাজ করে তুমিও তা করতে থাক।
হাদিস 2742 — Sunan an Nasai 24:124
সহিহসহিহহাসান
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ أَخْبَرَنِي قَيْسُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ طَارِقَ بْنَ شِهَابٍ، قَالَ قَالَ أَبُو مُوسَى أَقْبَلْتُ مِنَ الْيَمَنِ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُنِيخٌ بِالْبَطْحَاءِ حَيْثُ حَجَّ فَقَالَ " أَحَجَجْتَ " . قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ " كَيْفَ قُلْتَ " . قَالَ قُلْتُ لَبَّيْكَ بِإِهْلاَلٍ كَإِهْلاَلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فَطُفْ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَأَحِلَّ " . فَفَعَلْتُ ثُمَّ أَتَيْتُ امْرَأَةً فَفَلَتْ رَأْسِي فَجَعَلْتُ أُفْتِي النَّاسَ بِذَلِكَ حَتَّى كَانَ فِي خِلاَفَةِ عُمَرَ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا أَبَا مُوسَى رُوَيْدَكَ بَعْضَ فُتْيَاكَ فَإِنَّكَ لاَ تَدْرِي مَا أَحْدَثَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ فِي النُّسُكِ بَعْدَكَ . قَالَ أَبُو مُوسَى يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَنْ كُنَّا أَفْتَيْنَاهُ فَلْيَتَّئِدْ فَإِنَّ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَادِمٌ عَلَيْكُمْ فَائْتَمُّوا بِهِ . وَقَالَ عُمَرُ إِنْ نَأْخُذْ بِكِتَابِ اللَّهِ فَإِنَّهُ يَأْمُرُنَا بِالتَّمَامِ وَإِنْ نَأْخُذْ بِسُنَّةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَحِلَّ حَتَّى بَلَغَ الْهَدْىُ مَحِلَّهُ .
মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... তারিক ইবন শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু মূসা (রাঃ) বলেছেনঃ আমি ইয়ামান থেকে আসলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাতহায় ছিলেন, এখানেই তিনি হজ্জ আদায় করেন। তিনি আমাকে বলেন, তুমি কি হজ্জ করেছ? আমি বলিঃ হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কিরূপ নিয়ত করেছ? তিনি বলেন, আমি বললাম, “আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিয়তে নিয়ত করলাম। তিনি বলেনঃ তাহলে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ কর এবং সাফা মারওয়ার সাঈ কর এবং ইহরাম ভঙ্গ কর। আমি তা-ই করলাম। তারপর আমি এক মহিলার নিকট আসলাম, সে আমার মাথা থেকে উকুন বের করলো, এরপর আমি লোকদেরকে এরূপ ফতোয়া দিতে লাগলাম, এমনকি উমর (রাঃ)-এর খেলাফতকালেও। তখন তাঁকে এক ব্যক্তি বললোঃ হে আবু মূসা! তোমার এরূপ ফতোয়া দেয়া থেকে তুমি বিরত থাকে। কেননা তুমি জান না তোমার পর আমীরুল মু'মিনীন হজ্জের আহকামে কি নতুন বিধান দিয়েছেন। আবু মূসা বললেনঃ হে লোকসকল! আমি যাকে ফতোয়া দিয়েছি, সে যেন তাড়াহুড়া না করে। কেননা আমীরুল মুমিনীন তোমাদের নিকট আগমন করছেন। তোমরা তাঁর অনুসরণ করবে। উমর (রাঃ) বলেন, আমরা আল্লাহর কিতাব অনুসারে কাজ করবো। তিনি আমাদেরকে হজ্জের আহকাম পূৰ্ণ করতে আদেশ করেছেন। আর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নত অনুযায়ী কাজ করবো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম ভঙ্গ করতেন না, যতক্ষণ না কুরবানীর পশু যবোহ-এর স্থানে পৌঁছে যেতো।
হাদিস 2743 — Sunan an Nasai 24:125
সহিহসহিহহাসান
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، أَتَيْنَا جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ فَسَأَلْنَاهُ عَنْ حَجَّةِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم فَحَدَّثَنَا أَنَّ عَلِيًّا قَدِمَ مِنَ الْيَمَنِ بِهَدْىٍ وَسَاقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْمَدِينَةِ هَدْيًا قَالَ لِعَلِيٍّ " بِمَا أَهْلَلْتَ " . قَالَ قُلْتُ اللَّهُمَّ إِنِّي أُهِلُّ بِمَا أَهَلَّ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَعِيَ الْهَدْىُ . قَالَ " فَلاَ تَحِلَّ " .
মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... জাফর ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ আমরা জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-এর নিকট এসে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হজ্জ সম্বন্ধে। তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করলেনঃ আলী (রাঃ) ইয়ামন থেকে আগমন করলেন কুরবানীর জন্তু নিয়ে। আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা থেকে কুরবানীর পশু এনেছিলেন। তিনি আলী (রাঃ)-কে বললেনঃ তুমি কিসের নিয়্যত করেছ? তিনি বললেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহ্! আমি নিয়াত করছি, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার নিয়াত করেছেন। আর আমার সাথে রয়েছে কুরবানীর পশু। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে তুমি ইহরাম ভঙ্গ করো না।
হাদিস 2744 — Sunan an Nasai 24:126
সহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
أَخْبَرَنِي عِمْرَانُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ عَطَاءٌ قَالَ جَابِرٌ قَدِمَ عَلِيٌّ مِنْ سِعَايَتِهِ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " بِمَا أَهْلَلْتَ يَا عَلِيُّ " . قَالَ بِمَا أَهَلَّ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ " فَاهْدِ وَامْكُثْ حَرَامًا كَمَا أَنْتَ " . قَالَ وَأَهْدَى عَلِيٌّ لَهُ هَدْيًا .
ইমরান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। আলী (রাঃ) তাঁর উপর ন্যস্ত কাজ সমাপ্ত করে আগমন করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ হে আলী! তুমি কিরূপ নিয়্যত করেছ? তিনি বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ নিয়াত করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে তুমি কুরবানীর জন্তু সংগ্ৰহ কর এবং মুহরিম অবস্থায় থাক, যেমন তুমি আছ। রাবী বলেন, আলী (রাঃ) তাঁর নিজের জন্য একটি কুরবানীর জন্তু সংগ্রহ করলেন।
হাদিস 2745 — Sunan an Nasai 24:127
সহিহসহিহদাঈফ
أَخْبَرَنِي أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ كُنْتُ مَعَ عَلِيٍّ حِينَ أَمَّرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْيَمَنِ فَأَصَبْتُ مَعَهُ أَوَاقِيَ فَلَمَّا قَدِمَ عَلِيٌّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ عَلِيٌّ وَجَدْتُ فَاطِمَةَ قَدْ نَضَحَتِ الْبَيْتَ بِنَضُوحٍ قَالَ فَتَخَطَّيْتُهُ فَقَالَتْ لِي مَا لَكَ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أَمَرَ أَصْحَابَهُ فَأَحَلُّوا قَالَ قُلْتُ إِنِّي أَهْلَلْتُ بِإِهْلاَلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِي " كَيْفَ صَنَعْتَ " . قُلْتُ إِنِّي أَهْلَلْتُ بِمَا أَهْلَلْتَ . قَالَ " فَإِنِّي قَدْ سُقْتُ الْهَدْىَ وَقَرَنْتُ " .
আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন জাফর (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আলী (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইয়ামনে আমীর নিযুক্ত করে পাঠান। তার সাথে আমি কিছু মুদ্রা পেলাম। যখন আলী (রঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলেন তখন আলী (রাঃ) বললেনঃ আমি ফিরে ফাতিমা (রাঃ)-কে পেলাম। সে তার ঘরকে নাদূহ সুগন্ধি দ্বারা সুরভিত করে রেখেছে। আমি তার নিকট থেকে দূরে রইলাম। সে আমাকে বললোঃ আপনার কি হলো? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে ইহরাম ভঙ্গ করার আদেশ করেছেন, এবং তঁরা ইহরাম ভঙ্গ করেছেন। আলী (রাঃ) বলেন, আমি বললামঃ আমি তো রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিয়াতে নিয়্যত করেছি। তিনি বলেন, তারপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম। তিনি আমাকে বললেনঃ তুমি কি করেছ? আমি বললামঃ আমি আপনার নিয়্যতে নিয়্যত করেছি। তিনি বললেনঃ আমি তো কুরবানীর পশু পাঠিয়ে দিয়েছি এবং হজ্জে কিরান করেছি।
কুতায়বা (রহঃ) ... নাফি' (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবন উমর (রাঃ) হজ্জের ইচ্ছা করছিলেন। যে বৎসর হাজ্জাজ ইবন যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে যুদ্ধ করার জন্য এসেছিল তাকে বলা হলো যে, তাদের মধ্যে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার ভয় হচ্ছে তারা তোমাকে হজ্জ থেকে বিরত রাখবে। তিনি বললেনঃ "তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।" যদি অবস্থা তা-ই হয়, তা হলে আমি তা-ই করবো- যা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন। আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি আমার উপর উমরাহ ওয়াজিব করে নিয়েছি। তারপর তিনি বের হলেন। পরে যখন তিনি বায়দা নামক স্থানে উপস্থিত হলেন, তখন বললেনঃ হজ্জ এবং উমরাহর অবস্থা একই। আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি আমার উমরাহর সাথে হজ্জও ওয়াজিব করে নিয়েছি। আর তিনি একটি কুরবানীর পশু এনেছিলেন। তিনি তা কুদায়া নামক স্থান থেকে ক্রয় করেছিলেন। তারপর তিনি হজ্জ এবং উমরার উভয়ের তালবিয়া পড়তে পড়তে চলে গেলেন। পরে তিনি মক্কায় আগমন করে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈ করেন। এর অতিরিক্ত তিনি কিছু করেন নি। কুরবানীও করলেন না, মাথা মুণ্ডালেন না, চুলও কাটলেন না এবং যে সকল বস্তু হারাম ছিল, তার কোনটি দ্বারা ইহরাম ভঙ্গ করলেন না। এমতাবস্থায় কুরবানীর দিন উপস্থিত হলো, তারপর তিনি কুরবানী করলেন, মাথা মুণ্ডন করলেন। পরে দেখা গেল, তিনি প্রথম তাওয়াফ দ্বারাই হজ্জ ও উমরাহর তাওয়াফ পূর্ণ করলেন। ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করেছেন।
ঈসা ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালিম (রহঃ) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর পিতা বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তালবিয়া পাঠ করতে শুনেছি। তিনি বলেছিলেনঃ (لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ) আর আবদুল্লাহ্ ইবন উমর বলতেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুলহুলায়ফায় দুরাকাত সালাত আদায় করতেন। তারপর যখন তিনি যুলহুলায়ফা মসজিদের নিকট উটনীর উপর আরোহণ করতেন, তখন তিনি ঐ সকল বাক্য দিয়ে তালবিয়া পাঠ করতেন।