। আবূ জুহাইফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রক্তিমাভ সাদা দেখলাম এবং তার কিছু চুল সাদা হয়ে গিয়েছিল। আর হাসান ইবনু আলী ছিলেন ঠিক তারই আকৃতির। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তেরটি উঠতি বয়সের উটনী আমাদেরকে দেয়ার জন্য আদেশ করলেন। কাজেই সেগুলো সংগ্রহের উদ্দেশে তার নিকট রাওয়ানা হলাম। এমন সময় আমাদের নিকট তার মৃত্যুর সংবাদ এলো। সেহেতু লোকেরা একটি উটনীও আমাদেরকে দিল না। তারপর আবূ বাকর (রাযিঃ) খিলাফাতে অধিষ্ঠিত হয়ে বললেন, যে ব্যক্তির নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওয়াদাহ আছে, সে যেন উপস্থিত হয়। কাজেই আমি তার নিকট উপস্থিত হয়ে সব কথা খুলে বললাম। তিনি আমাদেরকে উটনীগুলো দেয়ার আদেশ কার্যকর করলেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। মারওয়ান ইবনু মু'আবিয়াহও নিজস্ব সনদে আবূ জুহাইফাহ (রাযিঃ) হতে উক্ত হাদীসের মতো বর্ণনা করেছেন। একাধিক বর্ণনাকারী ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবূ জুহাইফাহ্ (রাযিঃ) বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, হাসান ইবনু আলী ছিলেন ঠিক তারই সদৃশ। এই বর্ণনায় এর বেশি নেই।
। আবূ জুহাইফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি এবং হাসান ইবনু আলী (রাযিঃ) ছিলেন তার মতোই (অবয়ব সম্পন্ন)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম আবূ ঈসা বলেন, একাধিক বর্ণনাকার ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদের সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। জাবির (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ জুহাইফাহ (রাযিঃ)-এর নাম ওয়াহব আস-সুওয়াঈ।
হাদিস 2828 — Jami At Tirmidhi 43:102
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ مَا سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم جَمَعَ أَبَوَيْهِ لأَحَدٍ غَيْرَ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ .
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) ব্যতীত আর কারো জন্য তার বাবা-মাকে একত্র করতে শুনিনি (অর্থাৎ- এমন বলতে শুনিনি যে, আমার বাবা-মা তোমার জন্য কুরবান হোক)। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৩০), বুখারী ও মুসলিম।
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) ছাড়া অন্য কারো জন্য তার বাবা-মাকে একত্র করে বলেননি যে, আমার বাবা-মা তোমার জন্য কুরবান হোক। উহুদ যুদ্ধের দিন তিনি তাকে (সা'দকে) বলেছেনঃ চালাও তীর, আমার বাবা-মা তোমার জন্য কুরবান হোক। হে নওজোয়ান যুবক তীর ছুড়ো। “হে তরুণ যুবক” এর উল্লেখ মুনকার, বুখারী ও মুসলিম এই অতিরিক্ত অংশ ব্যতীত বর্ণনা করেছেন। এ অনুচ্ছেদে যুবাইর ও জাবির (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। উক্ত হাদীস আলী (রাযিঃ) হতে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত আছে। একাধিক বর্ণনাকারী এ হাদীস ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হতে তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব হতে তিনি সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, উহুদের মাইদানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য তার বাবা-মাকে একত্র করেছেন (অর্থাৎ- তিনি বলেছেনঃ আমার বাবা-মা তোমার জন্য কুরবান হোক তুমি নিক্ষেপ কর)।
। সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদের দিন আমার জন্য রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাবা-মাকে একত্র করে বলেছেনঃ তোমার জন্য আমার বাবা-মা কুরবান হোক। সহীহঃ বুখারী (৩৭২৫), মুসলিম অনুরূপ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। উভয় হাদীসই সহীহ।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে “হে আমার পুত্র" বলে সম্বোধন করেছেন। সহীহঃ সহীহাহ (২৯৫৭), মুসলিম। মুগীরাহ ও উমার ইবনু আবী সালামাহ্ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উক্ত সূত্রে গারীব। এছাড়া অন্য সূত্রেও আনাস (রাযিঃ) হতে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনাকারী আবূ উসমান হলেন হাদীসের নির্ভরযোগ্য শাইখ। তার নাম আল-জাদ ইবনু উসমান। তাকে ইবনু দীনারও বলা হয়। তিনি বাসরার অধিবাসী। ইউনুস ইবনু উবাইদ, শুবাহ এবং আরো একাধিক ইমাম তার সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
। আমর ইবনু শু'আইব (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুর জন্মের সপ্তম দিনে তার নাম রাখতে, মাথা মুণ্ডন করতে এবং আকীকা করতে আদেশ করেছেন। হাসানঃ ইরওয়াহ (৪/৩৯৯-৪০০), তাহকীক সানী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আবদুল্লাহ ও আবদুর রাহমান নাম আল্লাহ তা'আলার নিকট সবচাইতে বেশি পছন্দনীয়। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৭২৮), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব।
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবশ্যই আল্লাহ তা’আলার নিকট অধিক পছন্দনীয় নাম হলো ‘আবদুল্লাহ ও আবদুর রাহমান। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। এ হাদীসটি এই সূত্রে গারীব।
হাদিস 2835 — Jami At Tirmidhi 43:109
সহিহসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لأَنْهَيَنَّ أَنْ يُسَمَّى رَافِعٌ وَبَرَكَةُ وَيَسَارٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ . هَكَذَا رَوَاهُ أَبُو أَحْمَدَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ عَنْ عُمَرَ وَرَوَاهُ غَيْرُهُ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَأَبُو أَحْمَدَ ثِقَةٌ حَافِظٌ وَالْمَشْهُورُ عِنْدَ النَّاسِ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَيْسَ فِيهِ عَنْ عُمَرَ .
। উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবশ্যই আমি নিষেধ করছি রাফি, বারাকাত ও ইয়াসার নাম রাখতে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৮২৯), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীসটি আবূ উমার (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ সুফইয়ান হতে, তিনি আবূয যুবাইর হতে, তিনি জাবির (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবূ আহমাদ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী এবং হাদীসের হাফিয। কিন্তু জাবির (রাযিঃ)-নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, এই সূত্রেই লোকদের নিকট হাদীসটি প্রসিদ্ধ, তাতে উমর (রাযিঃ)-এর উল্লেখ নেই।