। ইয়ালা ইবনু মুররা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে খালুক (যাফরান মিশানো সুগন্ধি) ব্যবহার করেছে। তিনি বললেনঃ যাও, এটা ধুয়ে ফেল আবার ধুয়ে ফেল, পুনরায় তা লাগিও না। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীসের সনদে আতা ইবনুস সাইব (রাহঃ) হতে বর্ণনার ব্যাপারে কিছু হাদীস বিশারদ মতের অমিল করেছেন। আলী (রাহঃ) বলেনঃ ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ বলেছেন, যারা পূর্বে আতা ইবনুস সাইব এর নিকট হাদীস শুনেছেন তাদের উক্ত শ্রবণ যথার্থ। আতা ইবনুস সাইব যাযান সূত্রে বর্ণিত দুটি হাদীস ব্যতীত তার বরাতে শুবা ও সুফিয়ানের হাদীস শ্রবণের বিষয়টি সঠিক। শুবা বলেনঃ আতা হতে যাযান সূত্রে বর্ণিত হাদীস দুটো আমি আতার অন্তিম বয়সে শুনেছি। কথিত আছে যে, শেষ বয়সে আতার স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। এ অনুচ্ছেদে আম্মার, আবূ মূসা ও আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। রাবী আবূ হাফস হলেন ইবনু উমার।
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি 'উমার (রাযিঃ)-কে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুনিয়াতে যে লোক রেশমী পোশাক পরবে, সে আখিরাতে তা পরতে পারবে না। সহীহঃ গাইয়াতুল মারাম (৭৮), বুখারী ও মুসলিম। আলী, হুযইফাহ, আনাস (রাযিঃ) প্রমুখ সাহাবীদের হতে এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে যা আমি কিতাবুল লিবাসে উল্লেখ করেছি (১৭২০ নং হাদীসের অধীনে দ্র.)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ আমর (রাযিঃ) হতে এটি ভিন্ন সূত্রেও বর্ণিত আছে। আবূ আমর-এর নাম 'আবদুল্লাহ এবং উপনাম আবূ আমর। আতা ইবনু আবী রাবাহ ও আমর ইবনু দীনার (রহঃ) তার সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাদিস 2818 — Jami At Tirmidhi 43:92
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَسَمَ أَقْبِيَةً وَلَمْ يُعْطِ مَخْرَمَةَ شَيْئًا فَقَالَ مَخْرَمَةُ يَا بُنَىَّ انْطَلِقْ بِنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَانْطَلَقْتُ مَعَهُ قَالَ ادْخُلْ فَادْعُهُ لِي فَدَعَوْتُهُ لَهُ فَخَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِ قِبَاءٌ مِنْهَا فَقَالَ " خَبَأْتُ لَكَ هَذَا " . قَالَ فَنَظَرَ إِلَيْهِ فَقَالَ " رَضِيَ مَخْرَمَةُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ .
। মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, কোন এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকটি কুবা বণ্টন করলেন, কিন্তু মাখরামাকে এর কোন অংশই দিলেন না। তখন মাখরামাহ্ বললেন, হে পুত্র! চল আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট যাই। তিনি (মিসওয়ার) বলেন, আমি তার সাথে চললাম। (ঐখানে পৌছে) তিনি বললেন, ভিতরে যাও এবং আমার জন্য তার নিকট আবেদন কর। আমি তার নিকট গিয়ে তার জন্য আবেদন করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুবাগুলো হতে একটি কুবা সাথে নিয়ে বেরিয়ে আসলেন এবং বললেনঃ তোমার জন্য এটি লুকিয়ে রেখেছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকিয়ে বললেনঃ মাখরামাহ এবার খুশি হয়েছে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবনু আবূ মুলাইকার নাম 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাইদুল্লাহ ইবনু আবী মুলাইকাহ।
। আমর ইবনু শু'আইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত, তার দাদা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা তার দেয়া নি’মাতের নিদর্শন তার বান্দার উপর দেখতে ভালোবাসেন (অর্থাৎ- যাকে যে রকম নি’মাত প্রদান করা হয়েছে সেনুযায়ী পোশাক-পরিচ্ছদ ব্যবহার করা আল্লাহ পছন্দ করেন)। হাসান সহীহঃ গাইয়াতুল মারাম (৭৫) আবূল আহওয়াস তার বাবা হতে, ইমরান ইবনু হুসাইন ও ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
। বুরাইদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, (বাদশাহ) নাজাশী নকশাবিহীন দু'টি কালো রংয়ের চামড়ার মোজা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উপহার দিয়েছিলেন। তিনি তা পরিহিত অবস্থায় উযু করলেন এবং তার উপর মসিহ করলেন। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৫৪৪৯) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আমরা দালহামের বর্ণনা হতে এটি জেনেছি। মুহাম্মাদ ইবনু রাবী'আও এ হাদীসটি দালহামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
। আমর ইবনু শু'আইব (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাকা চুল উপড়িয়ে ফেলতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরো বলেনঃ এটা মুসলিমের নুর। সহীহঃ মিশকাত (৪৪৫৮), সহীহাহ (১২৪৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীস আমর ইবনু শু'আইব-তার বাবা হতে-তার দাদার সূত্রে আবদুর রাহমান ইবনুল হারিস এবং আরো অনেকে বর্ণনা করেছেন।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির নিকট পরামর্শ চাওয়া হয়, সে একজন আমানাতদার। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৭৪৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীসটি শাইবান ইবনু আবদুর রাহমান আন-নাহবীর সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। শাইবান একজন গ্রন্থপ্রণেতা, তার বর্ণিত হাদীস সহীহ এবং তার উপনাম আবূ মু'আবিয়াহ। আবদুল জাব্বার ইবনুল আলা-আল-আত্তার-সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ‘আবদুল মালিক ইবনু উমাইর বলেছেন, আমি হাদীস বর্ণনা করার সময় তা হতে একটি অক্ষরও কম করি না।
। উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পরামর্শদাতা হল আমানাতদার। (সুতরাং তার আমানাত রক্ষা করা কর্তব্য অর্থাৎ- কল্যাণময় ও সৎপরামর্শ প্রদান করা উচিত)। পূর্বের হাদীসের সহায়তায় সহীহ ইবনু মাসউদ, আবূ হুরাইরাহ ও ইবনু উমার (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি উম্মু সালামাহ (রাযিঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসেবে গারীব।
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (কুলক্ষণ বলতে কিছু থাকলে) এ তিনটিতে থাকতোঃ (১) নারী, (২) ঘর ও (৩) জন্তু। “কোন বস্তুতে কুলক্ষণ থাকলে" অংশসহ হাদীসটি সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। ঐ অংশ ব্যতীত হাদীসটি শাযঃ সহীহাহ (৪৪৩, ৭৯৯, ১৮৯৭) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম যুহরীর কিছু শিষ্য অত্র হাদীসের সনদে বর্ণনাকারী হামযার উল্লেখ করেননি। তারা এভাবে বর্ণনা করেছেনঃ সালিম-তার বাবা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। একইভাবে ইবনু আবী উমারও এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেনঃ সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহ্ হতে, তারা যুহরী হতে, তিনি ইবনু উমর (রাযিঃ)-এর পুত্রদ্বয় সালিম ও হামযা-তাদের বাবা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। সাঈদ ইবনু আবদুর রাহমান-সুফইয়ান হতে, তিনি যুহরী হতে, তিনি সালিম (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে উপরে বর্ণিত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ সূত্রে সাঈদ ইবনু আবদুর রাহমান-হামযা হতে এভাবে উল্লেখ করেননি। সাঈদের রিওয়ায়াত অধিকতর সহীহ। কেননা ‘আলী ইবনুল মাদীনী ও হুমাইদী (রহঃ) সুফইয়ানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। যুহরী আমাদের নিকট এ হাদীস শুধুমাত্র সালিম-ইবনু উমর (রাযিঃ)-এর সূত্রেই বর্ণনা করেছেন। মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) এ হাদীসটি যুহরীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ)-এর পুত্রদ্বয় সালিম ও হামযা হতে-তাদের বাবার সূত্রে। এ অনুচ্ছেদে সাহল ইবনু সাদ, আয়িশাহ ও আনাস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত রয়েছে। অধিকন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেনঃ “কোন কিছুতে কুলক্ষণ বলতে কিছু থাকলে, নারী, জন্তু ও ঘরের মধ্যেই থাকত।” তাছাড়া হাকীম ইবনু মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ “কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই। তবে কখনো কখনো ঘর, নারী ও ঘোড়ার মধ্যে শুভ লক্ষণ (বারকাত) দেখা যায়।” সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৯৩০)। ‘আলী ইবনু হুজর-ইসমাঈল ইবনু আইয়্যাশ হতে, তিনি সুলাইমান মু'আবিয়াহ ইবনু হাকীম হতে, তিনি তার চাচা হাকীম ইবনু মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, এই সূত্রে উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমরা তিনজন একত্রে থাকবে, তখন দু'জনে তাদের সাথীকে বাদ দিয়ে কানাকানি (গোপন আলাপ) করবে না। সুফইয়ানের বর্ণনায় আছেঃ দু'জনে তৃতীয়জনকে বাদ দিযে গোপন আলাপ না করে, কেননা ইহা তাকে চিন্তিত করে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৭৭৫), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আরেক বর্ণনায় আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “একজনকে বাদ দিয়ে দু'জনে কানাকানি করবে না। কেননা ইহা মুমিনের কষ্ট দেয়। আর আল্লাহ তা'আলা তো মুমিনকে কষ্ট দেয়া অপছন্দ করেন"। ইবনু উমার, আবূ হুরাইরাহ ও ইবনু আব্বাস (রহঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।