। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হাঁচি আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে আর হাই তোলা শাইতানের পক্ষ থেকে। সুতরাং তোমাদের মাঝে কেউ হাই তুললে সে যেন মুখের উপর হাত রাখে। আর সে যখন আহ্ আহ্ বলে, তখন শয়তান তার ভিতর হতে হাসতে থাকে। আল্লাহ তা’আলা হাচি পছন্দ করেন এবং হাই তোলা অপছন্দ করেন। কাজেই কেউ যখন আহ আহ শব্দে হাই তোলে, তখন শাইতান তার ভিতর হতে হাসতে থাকে। হাসান সহীহঃ তা’লীক আলা ইবনে খুযাইমাহ (৯২১, ৯২২), ইরওয়াহ (৭৭৯), বুখারী অনুরূপ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা হাঁচি পছন্দ করেন এবং হাই তোলা অপছন্দ করেন। সুতরাং তোমাদের মাঝে কেউ হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলার সময় সকল শ্রোতার জন্য ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা খুবই জরুরী হয়ে যায়। আর তোমাদের মাঝে কারও হাই উঠার সময় যথাসম্ভব সে যেন তা ফিরিয়ে রাখে এবং আহ আহ না বলে। কেননা এটা শাইতানের পক্ষ হতে এবং সে তাতে হাঁসতে থাকে। সহীহঃ ইরওয়াহ (৭৭৬), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। ইবনু আজলানের সূত্রে বর্ণিত হাদীসের চাইতে এ হাদীসটি অনেক বেশি সহীহ। সাঈদ আল-মাকবুরী হতে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে ইবনু আবূ যিব (রাহঃ) ইবনু আজলানের চাইতে অনেক হিফাযাতকারী ও নির্ভরযোগ্য। আমি তিরমিযী আবূ বাকর আল আত্তার আল বাসরীকে আলী ইবনুল মাদীনীর সুত্রে আলোচনা করতে শুনেছি, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদকে বলতে শুনেছেন, মুহাম্মাদ ইবনু আজলান বলেন, সাঈদ আল-মাকবুরী তার রিওয়ায়াতসমূহের কতগুলো আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে সরাসরি বর্ণনা করেছেন এবং কতগুলো জনৈক ব্যক্তির সূত্রে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তাই আমার নিকট এগুলো একটি অন্যটির সাথে মিলে যাবার কারণে আমি সবগুলো রিওয়ায়াত সাঈদ-আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছি।
। আদী ইবনু সাবিত (রহঃ) হতে পালাক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে মারফু হিসেবে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নামাযের মধ্যে হাঁচি, তন্দ্রা ও হাই তোলা এবং হায়িয, বমি ও নাক দিয়ে রক্ত পড়া শাইতানের পক্ষ হতে। যঈফ, মিশকাত (৯৯৯) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র শারীক হতে ইয়াকযান সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। আমি মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল (বুখারী)-কে আদী ইবনু সাবিত-তার পিতা-তার দাদা' এই সনদসূত্র প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। আমি বললাম, আদীর দাদার নাম কি? তিনি বললেন, আমি জানি না। ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন প্রসঙ্গে উল্লেখ আছে যে, তিনি আদীর দাদার নাম দীনার বলেছেন।
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে কোন ব্যক্তি যেন তার কোন ভাইকে তার আসন থেকে তুলে দিয়ে সেই আসনে না বসে। সহীহঃ বুখারী (৬২৬৯), মুসলিম (৭/৯-১০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে কোন ব্যক্তি যেন তার ভাইকে তার আসন থেকে তুলে দিয়ে সে সেখানে না বসে। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা ইবনু উমারের জন্য জায়গা ছেড়ে দিত কিন্তু তিনি তাতে বসতেন না। সহীহঃ বুখারী (৬২৭০), মুসলিম (৭/১০)।
। ওয়াহহাব ইবনু হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ আসনের বেশি হকদার। সে ব্যক্তি কোন প্রয়োজনে বেরিয়ে গিয়ে আবার ফিরে আসলে এ জায়গার জন্য সেই বেশি হকদার। সহীহঃ ইরওয়াহ (২/২৫৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আবূ বাকরাহ, আবূ সাঈদ ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অনুমতি ব্যতীত দুজন লোককে ফাঁক করে বসা কারো জন্য বৈধ নয়। হাসান সহীহঃ মিশকাত তাহকীকু সানী (৭৪০৩) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি আমর ইবনু শু'আইব (রাহঃ) হতে আমির আল-আহওয়ালও বর্ণনা করেছেন।
। আবূ মিজলায (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, কোন এক লোক বৈঠকের মাঝখানে বসে পড়লে হুযাইফা (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি বৈঠকের মাঝখানে বসে, সে মুহাম্মাদের ভাষায় লানত প্রাপ্ত অথবা আল্লাহ মুহাম্মাদের জবানীতে তাকে অভিশাপ দিয়েছেন। যঈফ, যঈফা (৬৩৮), মিশকাত (৪৭২২) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ মিজলাযের নাম লাহিক ইবনু হুমাইদ।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাহাবীদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাইতে বেশি প্রিয় ব্যক্তি আর কেউ ছিলেন না। অথচ তারা তাকে দেখে দাঁড়াতেন না। কেননা তারা জানতেন যে, তিনি এটা পছন্দ করেন না। সহীহঃ মুখতাসার শামা-য়িল (২৮৯), যঈফা ৩৪৬ নং হাদীসের অধীনে, মিশকাত (৪৬৯৮), নাকদুল কাত্তানী পৃষ্ঠা (৫১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ, এই সূত্রে গারীব।
। আবূ মিজলায (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) বাইরে বের হলে তাকে দেখে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর ও ইবনু সাফওয়ান দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি বললেন, তোমরা দু’জনেই বস। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ এতে যে লোক আনন্দিত হয় যে, মানুষ তার জন্য মূর্তির মতো দাড়িয়ে থাকুক, সে যেন জাহান্নামে তার বাসস্থান নির্দিষ্ট করে নেয়। সহীহঃ মিশকাত (৪৬৯৯) আবূ উমামাহ্ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। হান্নাদ-আবূ উসামাহ হতে, তিনি হাবীব ইবনুশ শাহীদ হতে, তিনি আবূ মিজলায হতে, তিনি মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের সমার্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন।