। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দশ প্রকার কাজ ফিত্রাতের (স্বভাব ধর্মের) অন্তর্গতঃ (১) গোঁফ কাটা, (২) দাঁড়ি লম্বা করা, (৩) মিসওয়াক করা, (৪) নাকে পানি দেয়া, (৫) নখ কাটা, (৬) আঙ্গুলের গ্রন্থিগুলো ধোয়া, (৭) বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা, (৮) নাভীর নিম্নাংশের চুল কামানো এবং (৯) পানি দ্বারা শৌচ করা। যাকারিয়াহ্ (রহঃ) বলেন, মুসআব (রহঃ) বলেছেন, আমি দশম কাজটি ভুলে গেছি। তবে সম্ভবতঃ সেটা হবে কুলি করা। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২৯৩), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, ইনতিকাসুল মা' অর্থ পানি দিয়ে শৌচ করা। আম্মার ইবনু ইয়াসির, ইবনু উমার ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের জন্য চল্লিশ দিন অন্তর একবার নখ কাটা, গোঁফ খাটো করা এবং নাভীর নিম্নাংশের লোম কামানোর জন্য সময় নির্ধারণ করেছেন। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২৯৫), মুসলিম।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের জন্য গোঁফ ছাটা, নখ কাটা, নাভীর নিম্নাংশের লোম কামানো এবং বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এমনভাবে যে, তা যেন চল্লিশ দিনের বেশি রেখে না দেয়া হয়। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, প্রথমোক্ত হাদীসের চাইতে এই হাদীসটি অনেক বেশি সহীহ। হাদীসবিশারদদের মতে সাদাক্কাহ ইবনু মূসা প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী নন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গোঁফ ছেটে খাটো করতেন এবং বলতেনঃ দয়াময়ের প্রিয় বন্ধু ইবরাহীম (আঃ) এরকম করতেন। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। যাইদ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি গোঁফ খাটো করে না, সে আমাদের (সুন্নাতের) অনুসারী নয়। সহীহঃ রাওযুন নায়ীর (৩১৩), মিশকাত (৪৪৩৮)। মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হতে, তিনি ইউসুফ ইবনু সুহাইব (রাহঃ) হতে এই সনদে উপরোক্ত হাদীসের সমার্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন।
। আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দৈঘ্যে-প্রস্থে দু দিকে তার দাঁড়ি ছাটতেন। মাওযু, যঈফা (২৮৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (আল-বুখারী)-কে বলতে শুনেছি, উমার ইবনু হারূনের বর্ণিত হাদীস গ্রহণ যোগ্য বলা যায়। “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দাঁড়ির দৈর্ঘ্য-প্রস্থে উভয় দিকে ছাঁটতেন” এই হাদীস ছাড়া তার অন্য কোন রিওয়ায়াত সম্পর্কে আমার জানা নাই, যার কোন বুনিয়াদ নাই বা যা তিনি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আমরা শুধুমাত্র ইবনু হারূনের রিওয়ায়াত হিসেবে উপরোক্ত হাদীস জেনেছি। আমি ইমাম বুখারীকে উমার ইবনু হারূন সম্পর্কে উত্তম অভিমত মনে ধারণ করতে দেখেছি। আবূ ঈসা বলেন, আমি কুতাইবাকে বলতে শুনেছি, উমার ইবনু হারূন ছিলেন হাদীসের ধারক। তিনি বলতেন, “কথা ও কাজের সমষ্টি হল ঈমান” (আল-ঈমান কাওল ওয়া আমল)। কুতাইবা বলেন, ওয়াকী ইবনু জাররাহ আমাদেরকে জানিয়েছেন এক ব্যক্তির সূত্রে, তিনি সাওর ইবনু ইয়াযীদের সূত্রেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাইফবাসীদের বিপক্ষে মিনজানীক (পাথর নিক্ষেপক যন্ত্র) স্থাপন করেছেন। কুতাইবা বলেন, আমি ওয়াকীকে প্রশ্ন করলাম, ইনি কে? তিনি বলেন, আপনাদের সঙ্গী উমার ইবনু হারূন।
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা গোঁফ খাটো কর এবং দাঁড়ি লম্বা কর। সহীহঃ আদাবুয যিফাফ নতুন সংস্করণ (২০৯) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে গোঁফ খাটো করতে এবং দাঁড়ি লম্বা করতে আদেশ করেছেন। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস, বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ বকর ইবনু নাফি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী এবং ইবনু উমার (রাযিঃ)-এর মুক্তদাস। উমার ইবনু নাফি একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। কিন্তু তার অপর মুক্তদাস 'আবদুল্লাহ ইবনু নাফি হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল।
। আব্বাদ ইবনু তামীম (রহঃ) হতে তার চাচার সূত্রে বর্ণিত, তিনি মসজিদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক পায়ের উপর অন্য পা (ভাজ করে হাঁটু দাঁড় করিয়ে) রেখে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকতে দেখেছেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আব্বাদ ইবনু তামীমের চাচার নাম ‘আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ ইবনু আসিম আল-মাযিনী।