। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে কেউ যখন পিঠের উপর চিৎ হয়ে শয়ণ করে তখন যেন সে এক পা অপর পায়ের উপর না রাখে। সহীহঃ সহীহাহ (৩/২৫৪)। এ হাদীসটি একাধিক বর্ণনাকারী সুলাইমান আত-তাইনীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। সানাদে বর্ণিত খিদাশ অপরিচিত। সুলাইমান আত-তাইনী তার বরাতে একাধিক হাদীস বর্ণনা করেছেন।
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশতিমালুস সাম্মা (বাম কাধ অনাবৃত রেখে চাদরের দুই প্রান্ত ডান কাধে জড়ো করে পরতে), ইহতিবা (নিতম্বে ভর করে হাটুদ্বয় উচু করে পেটের সাথে চাদর পেচিয়ে বসতে) এবং এক পায়ের উপর অপর পা (হাঁটু ভাঁজ করে) উঠিয়ে পিঠের উপর চিৎ হয়ে শুতে বারণ করেছেন। সহীহঃ সহীহাহ (১২৫৫), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে পেটের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে দেখে বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা এ রকম শোয়া পছন্দ করেন না। হাসান সহীহঃ মিশকাত (৪৭১৮, ৪৭১৯) তিহফা ও ইবনু উমার (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর উক্ত হাদীস আবূ সালামা হতে, তিনি ইয়াঈশ ইবনু তিহফা হতে, তিনি তার বাবার সুত্রে বর্ণনা করেছেন। তিহফার স্থলে তিখফা উচ্চারণও আছে। তবে তিহফা-ই সঠিক। আবার তিগফা উচ্চারণও আছে। কিছু সংখ্যক হাদীসের হাফিয বলেন যে, তিখফা উচ্চারণই যথার্থ। ইয়াঈশ সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত।
। বাহয ইবনু হাকীম (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের লজ্জাস্থান কতটুকু ঢেকে রাখব এবং কতটুকু খোলা রাখতে পারব? তিনি বললেনঃ তোমার স্ত্রী ও দাসী ছাড়া সকলের দৃষ্টি হতে তোমার লজ্জাস্থান হিফাযাত করবে। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, পুরুষেরা একত্রে অবস্থানরত থাকলে? তিনি বললেনঃ যতদূর সম্ভব কেউ যেন তোমার আভরণীয় স্থান দেখতে না পারে তুমি তাই কর। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, মানুষ তো কখনো নির্জন অবস্থায়ও থাকে। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা তো লজ্জার ক্ষেত্রে বেশি হাকদার। হাসানঃ ইবনু মা-জাহ (১৯২০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। বাহযের দাদার নাম মুআবিয়াহ ইবনু হাইদাহ আল-কুশাইরী। আল-জুরাইরী হাকীম ইবনু মু'আবিয়ার সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি হলেন বাহযের বাবা।
হাদিস 2770 — Jami At Tirmidhi 43:40
সহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ الْكُوفِيُّ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مُتَّكِئًا عَلَى وِسَادَةٍ عَلَى يَسَارِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَرَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مُتَّكِئًا عَلَى وِسَادَةٍ . وَلَمْ يَذْكُرْ عَلَى يَسَارِهِ .
। জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার বাম পার্শ্বদেশে বালিশে হেলান দিয়ে শুয়ে থাকতে দেখেছি। সহীহঃ মুখতাসার শামা-য়িল (১০৪) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। একাধিক বর্ণনাকারী ইসরাঈল হতে, তিনি সিমাক হতে তিনি জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, তাতে বাম “পার্শ্বদেশ” কথাটুকু নেই।
হাদিস 2771 — Jami At Tirmidhi 43:41
সহিহসহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مُتَّكِئًا عَلَى وِسَادَةٍ . هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ .
। জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বালিশে হেলান দিয়ে শুয়ে থাকতে দেখেছি। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ।
। আবূ মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির প্রভাবাধীন এলাকায় কেউ ইমামতি করবে না এবং তার বাড়ীতে তার নির্দিষ্ট আসনে তার অনুমতি ব্যতীত বসবে না। সহীহঃ ইরওয়াহ (৪৯৪), সহীহ আবূ দাউদ (৫৯৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। বুরাইদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কোথাও) হেঁটে যাচ্ছিলেন। তখন জনৈক ব্যক্তি একটি গাধা সাথে নিয়ে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি আরোহণ করুন, এবং সে পিছনে সরে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, তুমি পিছনে যেও না, তুমি তোমার বাহনের সামনে বসার অধিকার, তবে আমার জন্য স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিলে ভিন্ন কথা। লোকটি বলল, আমি তা আপনাকে দিয়ে দিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি সাওয়ার হলেন। সহীহঃ মিশকাত (৩৯১৮), ইরওয়াহ (২/২৫৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এই সূত্রে গারীব। কাইস ইবনু সাদ ইবনু উবাদা (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস 2774 — Jami At Tirmidhi 43:44
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ لَكُمْ أَنْمَاطٌ " . قُلْتُ وَأَنَّى تَكُونُ لَنَا أَنْمَاطٌ قَالَ " أَمَا إِنَّهَا سَتَكُونُ لَكُمْ أَنْمَاطٌ " . قَالَ فَأَنَا أَقُولُ لاِمْرَأَتِي أَخِّرِي عَنِّي أَنْمَاطَكِ فَتَقُولُ أَلَمْ يَقُلِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهَا سَتَكُونُ لَكُمْ أَنْمَاطٌ " . قَالَ فَأَدَعُهَا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্ন করলেনঃ তোমাদের চাদর আছে কি? আমি বললাম, আমরা চাদর কোথায় পাব? তিনি বললেনঃ খুব শীঘ্রই তা তোমাদের নিকট থাকবে। জাবির (রাযিঃ) বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে বললাম, আমার নিকট হতে তোমার চাদরটি সরিয়ে নাও। সে বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি যে, অচিরেই তোমাদের নিকট চাদর থাকবে? তিনি (জাবির) বলেন, এরপর আমি তাকে এ কথা বলা হতে বিরত হলাম। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 2775 — Jami At Tirmidhi 43:45
হাসানহাসানহাসান Sahihসহিহ - Bukhari And Muslim
حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، هُوَ الْجُرَشِيُّ الْيَمَامِيُّ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ لَقَدْ قُدْتُ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ عَلَى بَغْلَتِهِ الشَّهْبَاءِ حَتَّى أَدْخَلْتُهُ حُجْرَةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَذَا قُدَّامُهُ وَهَذَا خَلْفُهُ . وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
। ইয়াস ইবনু সালামাহ্ (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন একদিন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আশ-শাহবাহ নামক খচ্চরটি টেনে নিয়ে যাচ্ছিলাম। হাসান ও হুসাইন (রাযিঃ) তার সামনে-পিছনে বসা ছিলেন। আমি সেটা টেনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হুজরার নিকটে নিয়ে গেলাম। হাসানঃ মুসলিম (৭/১৩০) ইবনু আব্বাস ও আবদুল্লাহ ইবনু জাফার (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এই সূত্রে গারীব।