। আবূ মূসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি চোখই যিনাকরী। কোন নারী সুগন্ধি মেখে কোন মজলিসের পাশ দিয়ে গেলে সে এমন এমন অর্থাৎ যিনাকারিণী। হাসানঃ তাখরাজুল ঈমান লি আবী উবাইদ (৯৬/১১০), তাখরাজুল মিশকাত (৬৫), হিজাবুল মারয়াহ (৬৪)। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ যে সুগন্ধির গন্ধ আছে কিন্তু রং নেই সেটিই পুরুষের জন্য উত্তম সুগন্ধি এবং যে সুগন্ধির রং আছে কিন্তু গন্ধ নেই সেটিই নারীর জন্য উত্তম সুগন্ধী। আর তিনি লাল রেশমের তৈরি আসনে বসতে বারণ করেছেন। সহীহঃ প্রাগুক্ত আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব।
। সুমামাহ্ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস (রাঃ) কখনো সুগন্ধি ফিরিয়ে দিতেন না। আনাস (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুগন্ধি ফিরিয়ে দিতেন না। সহীহঃ মুখতাসার শামা-য়িল (১৮৬), বুখারী। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি বস্তু প্রত্যাখ্যান করা যায় নাঃ (১) বালিশ, (২) সুগন্ধি তেল ও (৩) দুধ। হাসানঃ প্রাগুক্ত (১৮৭) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আবদুল্লাহ ইবনু মুসলিমের দাদার নাম জুনদুব এবং তিনি মাদানী।
। আবূ উসমান আন-নাহদী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কাউকে সুগন্ধি (হাদিয়া) দেয়া হলে সে যেন তা ফিরিয়ে না দেয়। কেননা এটা জান্নাত হতে নিঃসৃত। যঈফ, মুখতাসার শামায়িল (১৮৯)যঈফা (৭৬৪) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। উক্ত হাদীস ছাড়া হানানের সূত্রে আর কোন হাদীস বর্ণিত আছে কি-না তা আমাদের জানা নেই। আবূ উসমান আন-নাহদীর নাম আবদুর রহমান ইবনু মুল্ল। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়কাল পেলেও তাকে দেখেননি এবং তার নিকট সরাসরি হাদীসও শুনেননি।
। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন নারী অন্য নারীর সাথে (বস্ত্রহীন অবস্থায়) শরীর মিলিয়ে শোবে না। কেননা সে তার স্বামীর নিকট অপর নারীর শরীরের বর্ণনা দিবে এবং মনে হবে সে যেন তাকে চাক্ষুস দেখছে। সহীহঃ সহীহ আবী দাউদ (১৮৬৬), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক পুরুষ অন্য পুরুষের গুপ্তাঙ্গের দিকে এবং এক নারী অন্য নারীর গুপ্তাঙ্গের দিকে তাকাবে না। এক পুরুষ অন্য পুরুষের সাথে এবং এক নারী অন্য নারীর সাথে এক কাপড়ের ভেতর শোবে না। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৬৬১), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ।
। বাহয ইবনু হাকীম (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সুত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমাদের আভরণীয় অঙ্গের কতটুকু অংশ ঢেকে রাখব এবং কতটুকু অংশ খোলা রাখতে পারব? তিনি বললেনঃ তোমার স্ত্রী ও দাসী ব্যতীত (সবার দৃষ্টি হতে) তোমার আভরণীয় অঙ্গের হিফাযাত কর। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আবার প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! দলের লোকেরা কখনো একত্রিত হলে? তিনি বললেনঃ তোমার দ্বারা যতটুকু সম্ভব তা ঢেকে রাখবে, কেউ যেন তা দেখতে না পায়। তিনি বলেন, আমি আবারো বললাম, হে আল্লাহর নবী। আমাদের মাঝে কেউ নির্জন স্থানে থাকলে তিনি বললেনঃ মানুষের চাইতে আল্লাহ তা'আলাকে বেশি লজ্জা করা দরকার। হাসানঃ (২৭৬৯) নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
। জারহাদ আল-আসলামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের মধ্যে জারহাদের পাশ দিয়ে গেলেন। সে সময় তার উরুদেশ উলঙ্গ অবস্থায় ছিল। তিনি বললেনঃ উরুদেশও আভরণীয় অঙ্গ। সহীহঃ ইরওয়াহ (১/২৯৭-২৯৮), মিশকাত (৩১১৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আমার মতে এর সনদসূত্র মুত্তাসিল (পরস্পর সংযুক্ত) নয়।