। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন জান্নাতের বাগানগুলোর পার্শ্ব দিয়ে যাবে সে সময় সেখান হতে পাকা ফল তুলে নিবে। লোকজন প্রশ্ন করল, জান্নাতের বাগানগুলো কি? তিনি বললেন, যিকরের মাজলিস। হাসানঃ সহীহাহ (হাঃ ২৫৬২), তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/৩৩৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং সাবিত-আনাস (রাযিঃ) হতে এই সনদে বর্ণিত হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে গারীব।
। আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো উপর কোন বিপদ এলে অবশ্যই সে যেন বলেঃ ”নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহ তা'আলার এবং আমাদেরকে অবশ্যই তার দিকে ফিরে যেতে হবে। হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি আমার বিপদের প্রতিদান চাই। অতএব তুমি আমাকে এর প্রতিদান দাও এবং এর বিনিময়ে ভালো কিছু দান কর।” তারপর আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ)-এর মৃত্যু হাযির হলে তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! আমার অবর্তমানে আমার পরিবারের জন্য আমার চাইতে উত্তম স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করে দাও”। তারপর আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ) মৃত্যুবরণ করলে উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) বলেন, “আমরা আল্লাহ তা'আলার জন্য এবং আমাদেরকে তার কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আমার এই বিপদের প্রতিদান আমি আল্লাহ তা'আলার নিকট পাওয়ার আশা করি। অতএব হে আল্লাহ! তুমি আমাকে প্রতিদান দাও”। সানাদ সহীহ। উম্মু সালামাহ হতে অনুরূপ বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস উম্মু সালামাহ (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অন্যসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ)-এর নাম আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল আসাদ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! কোন দুআ সবচেয়ে ভালো? তিনি বললেনঃ তুমি তোমার রবের নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা কর। তারপর সে দ্বিতীয় দিন তার নিকট এসে বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কোন দুআ সর্বোত্তম তিনি তাকে আগের মতই উত্তর দেন। তারপর সে তার নিকট তৃতীয় দিন এলে তিনি আগের মতই উত্তর দেন এবং বলেনঃ যদি তুমি দুনিয়াতে শান্তি এবং আখিরাতের নিরাপত্তা লাভ করতে পার তাহলে মনে রেখো তুমি সফলতা লাভ করলে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩৮৪৮) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। আমরা শুধু সালামা ইবনু ওয়ারদানের সূত্রে এ হাদীস জেনেছি।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি “লাইলাতুল কদর" জানতে পারি তাহলে সে রাতে কি বলব? তিনি বললেনঃ “তুমি বল, হে আল্লাহ! তুমি সম্মানিত ক্ষমাকারী, তুমি মাফ করতেই পছন্দ কর, অতএব তুমি আমাকে মাফ করে দাও" সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৫০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবদুল মুত্তালিব ইবনু রবীআ ইবনুল হারিস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, আল-আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) রাগান্বিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে যান। তখন আমি তার নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি প্রশ্ন করেনঃ কিসে আপনাকে রাগান্বিত করেছে? তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের সাথে কুরাইশদের কি হল? তারা নিজেরা যখন পরস্পর মিলিত হয় তখন উজ্জ্বল চেহারায় মিলিত হয়। কিন্তু তারা আমাদের (হাশিমীদের) সাথে এর বিপরীত অবস্থায় মিলিত হয়। রাবী বলেন, (এ বক্তব্য) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতই রাগান্বিত হন যে, তার মুখমণ্ডল রক্তিম রর্ণ ধারণ করে। তারপর তিনি বলেনঃ সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন! কোন ব্যক্তির অন্তরে ঈমান ঢুকতে পারে না, যাবত না সে আল্লাহ ও তার রাসূলের (সন্তুষ্টির) জন্য আপনাদেরকে ভালোবাসে। এরপর তিনি বললেনঃ হে লোকেরা! যে কেউ আমার চাচাকে দুঃখ দিল সে যেন আমাকেই দুঃখ দিল। কেননা কোন লোকের চাচা তার পিতার সমান। “চাচা পিতৃস্থানীয়" অংশ ব্যতীত হাদীসটি যঈফ, আর ঐ অংশটুকু সহীহ, মিশকাত (৬১৪৭), সহীহা ৮০৬ আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল-আব্বাস আমার থেকে এবং আমি তার থেকে। যঈফ, মিশকাত (৬১৪৮), যঈফা (২৩১৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আমরা শুধু ইসরাঈলের সূত্রে এ হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি।
। আবূ বাকর আস-সিদ্দীক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন কাজের ইচ্ছা করতেন তখন বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করুন এবং আমার কাজে কল্যাণ দান করুন"। যঈফ, যঈফা (১৫১৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু যানফালের রিওয়ায়াত হতে এ হাদীস জেনেছি। তিনি হাদীসবিদদের মতে যঈফ। তাকে যানফাল ইবনু আবদুল্লাহ আল-আরাফীও বলা হয়। কেননা তিনি ‘আরাফাত এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি এককভাবে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং এ হাদীস বর্ণনায় তার কোন পক্ষাবলম্বনকারী নেই।
। আবূ মালিক আল-আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অযু ঈমানের অর্ধেক। আলহামদুলিল্লাহ দাঁড়িপাল্লাকে পূর্ণ করে দেয়। সুবহানাল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ একসাথে আকাশমণ্ডলী ও যামীনের মধ্যবর্তী জায়গা ভর্তি করে দেয়। নামায হল নূর (জ্যোতি), সদাকাহ (দান-খাইরাত) হল (মুক্তির) দলীল এবং ধৈর্য ও সহনশীলতা হল আলোকবর্তিকা। কুরআন তোমার সপক্ষে অথবা বিপক্ষে সনদ বা সাক্ষ্যস্বরূপ। ভোরে উপনীত হয়ে প্রতিটি মানুষ নিজেকে বিক্রয় করে। (এর মাধ্যমে) সে নিজেকে হয় আযাদ করে অথবা ধ্বংস করে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ২৮০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “তাসবীহ” (সুবহানাল্লাহ) মীযানের (দাড়িপাল্লার) অর্ধেক, "আলহামদুলিল্লাহ” মীযানকে পুরো করে দেয় এবং “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" ও আল্লাহ্ তা'আলার মাঝখানে কোন প্রকারের অন্তরায় বা বাধা নেই, এমনকি তা আল্লাহ তা'আলার নিকট পৌছে যায়। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৩১৩) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। এর সনদসূত্র তেমন শক্তিশালী নয়।
। সুলাইম গোত্রের এক ব্যক্তি হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হতে অথবা তার হতে এসব বাক্য গুনে গুনে বলেনঃ “তাসবীহ” (সুবহানাল্লাহ) হল মীযানের অর্ধেক, "আলহামদু লিল্লাহ" তাকে পূর্ণ করে দেয় এবং তাকবীর (আল্লাহু আকবার) আকাশ ও যমিনের মধ্যবর্তী জায়গা পরিপূর্ণ করে দেয়। রোযা সবর ও সহিষ্ণুতার অর্ধেক এবং পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। যঈফ, মিশকাত (২৯৬), তা’লীকুর রাগীব (২/২৪৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। শুবা ও সুফিয়ান সাওরী এ হাদীস আবূ ইসহাক হতে বর্ণনা করেছেন।