। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ। আজ রাতে আমি আপনার দু'আ শুনেছি। আমি তা হতে যা মনে রাখতে পেরেছি তা এই যে, আপনি বলেছেনঃ “হে আল্লাহ! আমার গুনাহ মাফ করে দাও, আমার ঘর প্রশস্ত কর এবং তুমি আমাকে যে রিযিক দিয়েছ তাতে বারকাত দান কর”। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি মনে কর যে, এ দু'আ কিছু বাদ দিয়েছে। যঈফ, দু'আট হাসান। রাওয়ূন নাযীর (১১৬৭), গায়াতুল মারাম (১১২) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আবূ সালীলের নাম যুরাইব, পিতা নুকাইর অথবা নুফাইর।
। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি সকাল বেলায় উপনীত হয়ে বলে হে আল্লাহ। আমরা ভোরে উপনীত হলাম, আমরা তোমাকে সাক্ষী বানালাম, আরও সাক্ষী বানালাম তোমার আরশ বহনকারীদেরকে এবং তোমার ফিরিশতাগণকে ও তোমার সকল সৃষ্টিকে এই বিষয়ে যে, তুমিই অংশীদার নেই এবং মুহাম্মাদ তোমার বান্দা ও রাসূল", আল্লাহ তা'আলা তার সে দিনে সম্পাদিত সকল গুনাহ মাফ করে দেন। আর সে যদি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে ঐ কথা বলে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তার সেই রাতের কৃত সকল গুনাহ মাফ করে দেন। যঈফ, আলকালিমুত তায়্যিব (২৫), মিশকাত তাহকীক ছানী (২৩৯৮), যঈফা (১০৪১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব।
। ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত বাক্যে তার সাহাবীগণের জন্য দু'আ না করে হঠাৎ কোন মাজলিস হতে খুব কমই বিদায় হতেনঃ “হে আল্লাহ! আমাদের মাঝে তুমি এত পরিমাণ আল্লাহভীতি ভাগ কর যা আমাদের মাঝে ও তোমার প্রতি অবাধ্যাচারী হওয়ার মাঝে বাধা হতে পারে এবং আমাদের মাঝে তোমার প্রতি আনুগত্য এত পরিমাণ প্রদান কর যার দ্বারা তুমি আমাদেরকে তোমার জান্নাতে পৌছে দিবে, এতটা দৃঢ় প্রত্যয় প্রদান কর যার মাধ্যমে তুমি পৃথিবীর যে কোন অনিষ্ট আমাদের জন্য সহজসাধ্য করবে, যতক্ষণ আমাদের তুমি জীবিত রাখ ততক্ষণ আমাদের কৰ্ণ, আমাদের চক্ষু ও আমাদের শক্তি-সামর্থ্য দিয়ে আমাদের জীবনোপকরণ দান কর (কিংবা আমাদের চোখ-কান মৃত্যু পর্যন্ত তাজা ও সুস্থ রাখ), আর তাকে আমাদের উত্তরাধিকার বানিয়ে দাও। আমাদের উপর যে যুলুম করে তার প্রতি আমাদের প্রতিশোধ সুনির্ধারিত কর, আমাদের প্রতি যে দুশমনী করে তার বিরুদ্ধে আমাদেরকে সহযোগিতা কর, আমাদের ধর্ম পালনে আমাদেরকে বিপদাক্রান্ত করো না, দুনিয়া অর্জনকে আমাদের ও আমাদের জ্ঞানের উদ্দেশে রূপান্তর করো না এবং আমাদের প্রতি যে দয়া করবে না তাকে আমাদের উপর প্রভাবশালী (শাসক নিয়োগ) করো না”। হাসানঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ২২৫/১৬৯), মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২৪৯২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি কিছু বর্ণনাকারী খালিদ ইবনু আবী ইমরান হতে, তিনি নাফি' হতে, তিনি ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে এই সনদে রিওয়ায়াত করেছেন।
। মুসলিম ইবনু আবূ বাকরাহ (রহঃ) বলেন, আমার পিতা আমাকে বলতে শুনলেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি দুশ্চিন্তা, অলসতা ও কবরের শাস্তি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করি।” তিনি বললেন, হে প্রিয় বৎস! এটা তুমি কার নিকট শুনেছ? আমি বললাম, আমি এ বাক্যগুলো আপনাকেই বলতে শুনেছি। তিনি বললেন, তোমার জন্য এগুলোকে আবশ্যকীয় করে নাও। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি এ শব্দগুলো বলতে শুনেছি। সানাদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ আমি কি তোমাকে কিছু বাক্য শিখিয়ে দিব না, যেগুলো তুমি বললে আল্লাহ তা'আলা তোমাকে মাফ করবেন, যদিও তুমি ক্ষমতাপ্রাপ্ত। তিনি বললেন, তুমি বলঃ “আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই, তিনি অতি সম্মান সম্পন্ন, অতি মহান। আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি অতি সহনশীল, অতি দয়ালু। আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি অতি পবিত্র, তিনি মহান আরশের মালিক"। আলী ইবনু খাশরাম (রাহঃ) বলেনঃ আলী ইবনু হুসাইন ইবনু ওয়াকিদ তার পিতার সূত্রে আমাদের নিকট একই রকম,হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি হাদীসের শেষে বলেছেনঃ "আলহামদু লিল্লাহে রব্বিল আলামীন” (সকল প্রশংসা আল্লাহ্ তা'আলার জন্য যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক)। যঈফ, রাওযুন নায়ীর (৬৭৯-৭১৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু আবূ ইসহাক-আল-হারিস-আলী (রাঃ) সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি।
। সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার নবী যুন-নূন ইউনুস (আঃ) মাছের পেটে থাকাকালে যে দু'আ করেছিলেন তা হলঃ “তুমি ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, তুমি অতি পবিত্র। আমি নিশ্চয় যালিমদের দলভুক্ত"- (সূরা আম্বিয়া ৮৭)। যে কোন মুসলিম লোক কোন বিষয়ে কখনো এ দু'আ করলে অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা তার দু'আ কবুল করেন। সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ১২২/৭৯), তা’লীকুর রাগীব (২/২৭৫, ৩/৪৩), মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২২৯২)। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ কখনো বলেন, ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সা'দ (রাযিঃ) হতে। এ হাদীস একাধিক বর্ণনাকারী ইউনুস ইবনু আবী ইসহাক হতে, তিনি ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সা'দ (রাযিঃ) হতে তিনি সা'দ হতে এই সনদে রিওয়ায়াত করেছেন এবং তাতে “আন আবীহি" (তার বাবা হতে) উল্লেখ করেননি। কতিপয় বর্ণনাকারী, যেমন আবূ আহমাদ আয-যুবাইরী-ইউনুস ইবনু আবী ইসহাক হতে তারপর তারা প্রত্যেকে-ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সা'দ হতে তার বাবা সা'দ (রাযিঃ)-এর সনদে মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফের বর্ণনার মতই উল্লেখ করেছেন। ইউনুস ইবনু আবী ইসহাক কখনো কখনো এ হাদীসটির সনদে “আন আবীহি" উল্লেখ করতেন। আবার কখনো তা উল্লেখ করেননি।
হাদিস 3506 — Jami At Tirmidhi 48:137
সহিহসহিহহাসান Sahihহাসান
حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ حَمَّادٍ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً غَيْرَ وَاحِدٍ مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ " . قَالَ يُوسُفُ وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার নিরানব্বইটি নাম আছে অর্থাৎ এক কম এক শত। যে লোক এই নামসমূহ মুখস্থ করবে বা পড়বে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সহীহঃ মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২২৮৮), বুখারী ও মুসলিম। ইউসুফ ইবনু হাম্মাদ বলেন, আব্দুল আলা হিশাম ইবনু হাসসান হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর নিরানব্বই নাম রয়েছে। যে লোক তা কণ্ঠস্থ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সহীহঃ মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২২৮৮)। এ হাদীসে সেই নামগুলোর উল্লেখ নেই। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখনই জান্নাতের বাগানসমূহ পার হতে যাবে তখনই ওখান হতে পাকা ফল সংগ্রহ করবে। রাবী বলেনঃ আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতের বাগানসমূহ কি? তিনি বললেনঃ মসজিদসমূহ। আমি আবার বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! পাকা ফল সংগ্রহ করার অর্থ কি? তিনি বললেনঃ "সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদু লিল্লাহ, ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার” (আল্লাহ মহাপবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ মহান) বলা। যঈফ, যঈফা (১১৫০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।