। আবূদ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দাউদ (আঃ)-এর দু'আসমূহের একটি হল এই যে, তিনি বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট তোমার ভালোবাসা এবং যে তোমাকে ভালোবাসে তার ভালোবাসা প্রার্থনা করি এবং এমন আমল করার সামর্থ্য চাই যা তোমার ভালোবাসা লাভ করা পর্যন্ত পৌছে দিবে। হে আল্লাহ! তোমার ভালোবাসাকে আমার নিজের জান-মাল, পরিবার-পরিজন ও ঠান্ডা পানির চেয়েও বেশি প্রিয় করে দাও।” রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই দাউদ (আঃ)-এর আলোচনা করতেন তখনই তার প্রসঙ্গে বলতেনঃ তিনি সকল লোকের চাইতে বেশি ইবাদাতকারী ছিলেন। হাদীসে বর্ণিত, “দাউদ (আঃ) সমস্ত লোকের চাইতে বেশি ইবাদাতকারী ছিলেন” এই অংশটুকু মুসলিমে ইবনু উমার হতে বর্ণিত আছে। বাকী অংশ যঈফ, সহীহা (৭০৭), মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৪৯৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ আল-খাতমী আল-আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দু'আয় বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমাকে তোমার ভালোবাসা দান কর এবং ঐ ব্যক্তির ভালোবাসাও দান কর যার ভালোবাসা তোমার নিকটে আমার উপকারে আসবে। হে আল্লাহ! আমার প্রিয় জিনিসের মধ্য হতে যা তুমি আমাকে দান করেছ এটিকে আমার শক্তিতে পরিণত কর, তুমি যা ভালোবাস তা অর্জনের জন্য। হে আল্লাহ! আমার প্রিয় জিনিসের মধ্য হতে যা তুমি আটকে রেখেছ সেটিকে তুমি যা ভালোবাস তা অর্জনের জন্য আমার অবকাশ বা সুযোগে পরিণত কর"। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৪৯১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবূ জাফর আল-খাতমীর নাম উমাইর, পিতা ইয়াযীদ এবং দাদা খুমাশা।
। শাকাল ইবনু হুমাইদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে আশ্রয় প্রার্থনার একটি বাক্য শিখিয়ে দিন যা দিয়ে আমি (আল্লাহ তা'আলার নিকটে) আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারি। বর্ণনাকারী বলেন, আমার হাত ধরে তিনি বললেনঃ তুমি বল, “হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি আশ্রয় প্রার্থনা করি আমার কানের অনিষ্ট, আমার চোখের (দৃষ্টির) অনিষ্ট, আমার জিহবার (কথার) অনিষ্ট, আমার মনের অনিষ্ট এবং আমার বীর্য অর্থাৎ লজ্জাস্থানের অনিষ্ট হতে”। সহীহঃ মিশকাত (হাঃ ২৪৭২), সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ১৩৮৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র সাদ ইবনু আওস-এর বরাতে বিলাল ইবনু ইয়াহইয়া হতে অবগত হয়েছি।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পাশেই আমি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম। রাতে আমি তাকে (বিছানা হতে) হারিয়ে ফেললাম। তাই (অন্ধকারে) তাকে আমি খুঁজতে থাকলাম। আমার হস্ত তার দু'পায়ের উপরে পড়ল। তখন তিনি সিজদারত ছিলেন এবং তিনি বলছিলেনঃ “(হে আল্লাহ), আমি তোমার অখুশি হতে তোমার খুশির আশ্রয় চাই, তোমার শাস্তি হতে তোমার ক্ষমার আশ্রয় চাই, তোমার পূর্ণ প্রশংসা করা আমার সাধ্যাতীত, তুমি তেমন গুণেই গুণান্বিত যেভাবে তুমি নিজের গুণ উল্লেখ করেছ”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৪১), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে এ হাদীস একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। কুতাইবাহ-লাইস হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রাহঃ) হতে এই সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে আরো আছেঃ “আমি তোমার (শাস্তি) হতে তোমার আশ্রয় চাই, তোমার পূর্ণ প্রশংসা করতে আমি অক্ষম।”
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এ দু'আটি রাসূলুল্লাহঃ তাদেরকে এমনভাবে শিক্ষা দিতেন, যেভাবে তিনি কুরআনের কোন সূরা তাদেরকে শিক্ষা দিতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি আশ্রয় চাই জাহান্নামের শাস্তি হতে, কবরের শাস্তি হতে এবং তোমার নিকট আরো আশ্রয় চাই মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা হতে। তোমার নিকট আমি আরো আশ্রয় চাই জীবন ও মৃত্যুর বিপর্যয় হতে”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৪০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান, সহীহ।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সকল বাক্য দিয়ে দুআ করতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাইঃ জাহান্নামের বিপর্যয় ও জাহান্নামের শাস্তি হতে, কবরের পরীক্ষা ও কবরের শাস্তি হতে, প্রাচুর্যের বিপর্যয়কর অনিষ্ট হতে, দরিদ্রতার বিপর্যয়কর অকল্যাণ হতে এবং মাসীহ দাজ্জালের অনিষ্ট হতে। হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহসমূহ বরফ-শিলা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেল, আমার মনকে সকল পাপ হতে পরিচ্ছন্ন কর যেমনভাবে পরিচ্ছন্ন করেছ সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে এবং আমার ও আমার গুনাহসমূহের মধ্যে এতটা ব্যবধান সৃষ্টি করে দাও যতটা ব্যবধান তুমি সৃষ্টি করেছ পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি আশ্রয় চাই অলসতা, বার্ধক্য, গুনাহে প্রলুব্ধকর বস্তু ও ঋণগ্রস্ততা হতে”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৩৮), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি তার মৃত্যুবরণ কালে বলতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ আমাকে মাফ করুন, আমার প্রতি দয়া করুন এবং সুমহান সঙ্গীর সঙ্গে আমাকে মিলিত করুন"। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন এভাবে না বলেঃ “হে আল্লাহ! তুমি চাইলে আমাকে মাফ কর। হে আল্লাহ! তুমি চাইলে আমার প্রতি দয়া কর।” বরং সে যেন পূর্ণ দৃঢ়তার সঙ্গে কামনা করে। কেননা আল্লাহ তা'আলার উপর জবরদস্তকারী কেউ নেই। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৫৪), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকি থাকতে আমাদের প্রভু দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ “আমার কাছে যে দুআ করবে তার দুআ আমি কবুল করব। যে ব্যক্তি আমার নিকট (কিছু) প্রার্থনা করবে আমি তাকে তা দান করব। যে ব্যক্তি আমার নিকট মাফ চাইবে আমি তাকে মাফ করে দিব। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, ৪৪৬ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ আবদুল্লাহ আল-আগার-এর নাম সালমান। এ অনুচ্ছেদে আলী, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আবূ সাঈদ, জুবাইর ইবনু মুত্ব'ইম, রিফা'আহ আল-জুহানী, আবূদ দারদা ও উসমান ইবনু আবীল ‘আস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। আবূ উমামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল! কোন সময়ের দুআ বেশি (শোনা) গ্রহণযোগ্য হয়? তিনি বললেনঃ শেষ রাতের মাঝ ভাগের এবং ফরয নামাযগুলোর পরবর্তী দুআ। হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/২৭৬), আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ১১৩/৭০), তাহকীক সানী। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান। আবূ যার ও ইবনু উমার (রাযিঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেনঃ ... “শেষ রাতের দু'আ বেশি উত্তম এবং কবুল হওয়ার আশা করা যায় কিংবা এরূপ কিছু বলেছেন”।