। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমাকে দৈহিক সুস্থতা দান কর, আমার দৃষ্টি শক্তির সুস্থতা দান কর এবং উহাকে আমার উত্তরাধিকার বানিয়ে দাও। আল্লাহ ভিন্ন কোন ইলাহ নেই। তিনি অতি সহনশীল ও দয়ালু। মহান আরশের মালিক আল্লাহ তা'আলা অতি পবিত্র। বিশ্বের রক্ষণাবেক্ষণাকারী আল্লাহ্ তা'আলার জন্য সকল প্রশংসা”। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। তিনি আরও বলেনঃ আমি মুহাম্মাদ (ইমাম বুখারী)-কে বলতে শুনেছি, হাবীব ইবনু আবূ সাবিত উরওয়া ইবনুয যুবাইর (রাহঃ) হতে সরাসরি কিছুই শুনেননি।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে ফাতিমাহ (রাযিঃ) একটি খাদিম চাইলেন। তিনি তাকে বললেনঃ তুমি বল, “হে আল্লাহ, সাত আকাশের প্রতিপালক এবং মহান আরশের প্রভু, আমাদের প্রতিপালক এবং প্রতিটি বস্তুর পালনকর্তা, তাওরাত, ইনজীল ও কুরআন অবতীর্ণকারী এবং শস্যবীজ ও আঁটির অংকুর উদগমনকারী! আমি এমন প্রতিটি জিনিসের অনিষ্ট হতে তোমার নিকটে আশ্রয় চাই যার মস্তকের অগ্রভাগের চুলগুলো তুমি ধরে রেখেছ (অর্থাৎ তোমার নিয়ন্ত্রণাধীন)। তুমিই শুরু, তোমার আগে কিছুই নেই। তুমিই শেষ, তোমার পরেও কিছুই নেই। তুমিই প্রবল ও বিজয়ী, তোমার উপর কিছুই নেই। তুমিই লুকানো, তুমি ছাড়া আর কিছুই নেই। অতএব আমার ঋণ তুমি মিটিয়ে দাও এবং দরিদ্রতা হতে আমাকে স্বাবলম্বী করে দাও”। সহীহঃ মুসলিম (হাঃ ৮/৭৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমাশের কিছু শাগরিদ তার সূত্রে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। আবার তাদের মধ্যে কিছু বর্ণনাকারী আমাশ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে এই সনদে এটিকে মুরসালভাবে রিওয়ায়াত করেছেন এবং তাতে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি আশ্রয় প্রার্থনা করি এমন মন হতে যা (তোমার ভয়ে) ভীত হয় না, এমন দুআ হতে যা শুনা হয় না (প্রত্যাখ্যান করা হয়), এমন আত্মা হতে যা পরিতৃপ্ত হয় না এবং এমন জ্ঞান হতে যা কাজে আসে না। তোমার নিকট আমি এ চার জিনিস হতে আশ্রয় চাই”। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ১/৭৫-৭৬), সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ১৩৮৪-১৩৮৫)ו এ অনুচ্ছেদে জাবির, আবূ হুরাইরাহ ও ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে আবদুল্লাহ ইবনু 'আমূরের বর্ণনা হিসেবে হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতাকে বললেনঃ হে হুসাইন! তুমি প্রতিদিন কত উপাস্যের পূজা-আৰ্চনা কর? আমার পিতা বললেন, সাতজন, ছয়জন এ মাটির দুনিয়াতে এবং একজন আকাশে। এবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এদের মধ্যে কার থেকে আশা ও ভীতি অনুভব কর? তিনি বললেন, যে আকাশে আছে তার হতে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে হুসাইন, আহা! যদি তুমি ইসলাম গ্রহণ করতে তাহলে আমি তোমাকে দুটি বাক্য শিখিয়ে দিতাম যা তোমার কল্যাণে আসত। রাবী বলেনঃ হুসাইন (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করার পর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে যে দুটি বাক্য শিখিয়ে দেয়ার ওয়াদা করেছিলেন, এখন তা আমাকে শিখিয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি বল, “হে আল্লাহ! আমাকে হিদায়াত নসীব কর এবং আমার নাফসের অনিষ্ট হতে আমাকে বাঁচাও”। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৪৭৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে এ হাদীস অন্যসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি অনেকবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিম্নোক্ত বাক্যের মাধ্যমে দু'আ করতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই দুর্ভাবনা ও দুশ্চিন্তা হতে, অক্ষমতা ও অলসতা হতে, কৃপণতা ও ঋণের বোঝা হতে এবং মানুষের প্রাধান্য থেকে।" সহীহঃ গাইয়াতুল মারাম (হাঃ ৩৪৭), সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ১৩৭৭-১৩৭৮), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং আমর ইবনু আবী আমরের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত সনদে গারীব।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি আশ্রয় প্রার্থনা করি অলসতা, বাৰ্ধক্য, কাপুরুষতা, কৃপণতা, মাসীহ দাজ্জালের পরীক্ষা এবং কবরের শাস্তি হতে।” সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ১৩৭৭), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 3486 — Jami At Tirmidhi 48:117
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، - بَصْرِيٌّ - حَدَّثَنَا عَثَّامُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَعْقِدُ التَّسْبِيحَ . وَقَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ الأَعْمَشِ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ . وَرَوَى شُعْبَةُ وَالثَّوْرِيُّ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ بِطُولِهِ . وَفِي الْبَابِ عَنْ يُسَيْرَةَ بِنْتِ يَاسِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ اعْقِدْنَ بِالأَنَامِلِ فَإِنَّهُنَّ مَسْئُولاَتٌ مُسْتَنْطَقَاتٌ " .
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি তার স্বীয় হস্তে গুণে গুণে তাসবীহ পাঠ করতে দেখেছি। সহীহঃ এটি ৩৪১১ নং হাদীসের পুনরুক্তি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং এই সনদে-আতা ইবনুস সায়িব হতে আ'মাশের বর্ণিত হাদীস হিসেবে গারীব। এ হাদীস শুবাহ ও সুফইয়ান সাওরী আতা ইবনুস সায়িবের সনদে আরো দীর্ঘাকারে রিওয়ায়াত করেছেন। এ অনুচ্ছেদে ইউসাইরা বিনতু ইয়াসির (রাযিঃ) হতে হাদীস বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে মহিলা সম্প্রদায়! তোমরা আঙ্গুলে গুনে গুণে তাসবীহ পাঠ কর। কেননা ওগুলো জিজ্ঞাসিত হবে এবং তারা সাক্ষ্য দিবে।
হাদিস 3487 — Jami At Tirmidhi 48:118
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَادَ رَجُلاً قَدْ جُهِدَ حَتَّى صَارَ مِثْلَ الْفَرْخِ فَقَالَ لَهُ " أَمَا كُنْتَ تَدْعُو أَمَا كُنْتَ تَسْأَلُ رَبَّكَ الْعَافِيَةَ " . قَالَ كُنْتُ أَقُولُ اللَّهُمَّ مَا كُنْتَ مُعَاقِبِي بِهِ فِي الآخِرَةِ فَعَجِّلْهُ لِي فِي الدُّنْيَا . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " سُبْحَانَ اللَّهِ إِنَّكَ لاَ تُطِيقُهُ - أَوْ لاَ تَسْتَطِيعُهُ أَفَلاَ كُنْتَ تَقُولُ اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রোগাক্রান্ত লোকের খোজ-খবর নিতে গিয়ে দেখেন যে, সে রোগে জর্জরিত হয়ে একেবারে চড়ুই পাখির বাচ্চার ন্যায় ক্ষীণ হয়ে গেছে। তিনি তাকে বললেনঃ রোগমুক্তির জন্য তুমি কি আল্লাহ তা'আলার নিকট দুআ করনি, তুমি কি তোমার প্রভুর কাছে শান্তি ও সুস্থতা কামনা করনি? সে বলল, আমি বলেছিলাম, “হে আল্লাহ! আমাকে তুমি আখিরাতে যে শাস্তি দিবে তা এ দুনিয়াতে আগেভাগেই দিয়ে দাও।” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! তা সহ্য করার মত শক্তি-সামর্থ্য তোমার কোনটাই নেই। তুমি এভাবে কি বলতে পারলে নাঃ “হে আল্লাহ! দুনিয়াতেও আমাদেরকে মঙ্গল দান কর, আখিরাতেও মঙ্গল দান কর এবং জাহান্নামের অগ্নি হতে আমাদেরকে হিফাযাত কর?” সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ১৩২৯), মুসলিম, বুখারী শুধুমাত্র দু'আর অংশ বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব। আনাস (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
। “রাববানা আ-তিনা ফিদদুনইয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আ-খিরাতি হাসানাহ" এই আয়াতের ব্যাখ্যায় হাসান (রহঃ) বলেনঃ দুনিয়ার কল্যাণ হল জ্ঞান ও ইবাদাত, আখিরাতের কল্যাণ হল জান্নাত। হাসান লিগাইরিহীঃ তাফসীর ত্বাবারী (৪/২০৫)। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না খালিদ ইবনুল হারিস হতে, তিনি হুমাইদ হতে, তিনি সাবিত হতে, তিনি আনাস (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে উপরিউক্ত হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন।