। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীগণকে বললেনঃ তোমরা “সুবৃহানাল্লাহ ওয়া বিহামদিহী” এক শতবার বল। যে ব্যক্তি তা একবার বলে তার জন্য দশটি সাওয়াব লিখা হয় যে ব্যক্তি তা দশবার বলে তার এক শত সাওয়াব হয়। আর যে ব্যক্তি তা এক শতবার বলে তার জন্য এক হাজার সাওয়াব লিখা হয় এবং যে ব্যক্তি তা এর চেয়েও বেশি বলে আল্লাহ তা'আলা তাঁকে আরও অধিক সাওয়াব দান করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান তিনি তাকে মাফ করেন। অত্যন্ত দুর্বল, যঈফা (৪০৬৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান ও গারীব।
। আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে এক শতবার এবং সন্ধ্যায় এক শতবার “সবুহানাল্লাহ" বলে সে এক শতবার হাজ্জ আদায়কারীর অনুরূপ। যে ব্যক্তি সকালে এক শতবার এবং সন্ধ্যায় এক শতবার "আলহামদু লিল্লাহ" বলে সে আল্লাহ্ তা'আলার পথে (জিহাদে) এক শত ঘোড়া দানকারীর মত অথবা তিনি বলেছেনঃ এক শত জিহাদে অংশ গ্রহণকারীর মত। যে ব্যক্তি সকালে এক শতবার এবং সন্ধ্যায় এক শতবার "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বলে সে ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-এর বংশের এক শত দাস আযাদকারীর মত। আর যে ব্যক্তি সকালে এক শতবার এবং সন্ধ্যায় এক শতবার আল্লাহু আকবার" বলে, সেই দিনের মধ্যে তার চেয়ে আর কেউ অধিক কিছু (আমল) উপস্থাপন করতে পারবে না, তবে যে ব্যক্তি তার অনুরূপ সংখ্যায় পড়েছে অথবা তার চেয়ে অধিক সংখ্যায় পড়েছে সে ছাড়া। মুনকার, যঈফা (১৩১৫), মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৩১২), তা’লীকুর রাগীব (১/২২৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। তামীমুদ-দারী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি দশবার বলে, “আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তার কোন শারীক নেই, তিনি একমাত্র ইলাহ এবং একক সত্তা, তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ, তিনি গ্রহণ করেননি কোন বিবি এবং কোন সন্তান, তার সমকক্ষ কেউ নেই", আল্লাহ তা'আলা (তার আমলনামায়) চল্লিশ লক্ষ সাওয়াব লিখে দেন। যঈফ, যঈফা (৩৬১১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব, এই একটি মাত্র সনদসূত্রেই আমরা এ হাদীস জেনেছি। আল-খালীল ইবনু মুররা হাদীসবেত্তাদের মতে তেমন মজবুত রাবী নন। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (আল-বুখারী) (রাহঃ) বলেন, তিনি পরিত্যক্ত রাবী।
। আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি ফজরের নামাযের পর তার দুই পা ভাজ করা অবস্থায় (তাশাহহুদের অবস্থায়) কোন কথাবার্তা বলার পূর্বে দশবার বলে, “আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তার কোন শারীক নেই, রাজত্ব তারই, সকল প্রশংসা তার জন্য, তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দান করেন, তিনি সকল কিছুর উপর সর্বশক্তিমান”, তার আমলনামায় দশটি সাওয়াব লেখা হয়, তার দশটি গুনাহ মুছে ফেলা হয় এবং তার সম্মান দশগুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। সে ঐ দিন সব রকমের সংকট হতে নিরাপদ থাকবে এবং শাইতানের ধোকা হতে তাকে পাহারা দেয়া হবে এবং ঐ দিন শিরকীর গুনাহ ছাড়া অন্য কোন প্রকারের গুনাহ তাকে সংকটাপন্ন করতে পারবে না। যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (১/১৬৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ আল-আসলামী (রহঃ) হতে তার বাবার সুত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লোককে তার দুআ এভাবে বলতে শুনেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি আর সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমিই একমাত্র আল্লাহ, তুমি ছাড়া অন্য কোন মা'বূদ নেই, তুমি একক সত্তা, স্বয়ংসম্পূর্ণ, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেয়া হয়নি, তার সমকক্ষ কেউ নেই।" বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ সেই মহান সত্তার কসম যার হাতে আমার জীবন! নিঃসন্দেহে এই লোক আল্লাহ তা'আলার মহান নামের ওয়াসীলায় তার নিকটে প্রার্থনা করেছে, যে নামের ওয়াসীলায় দুআ করা হলে তিনি কবুল করেন এবং যে নামের ওয়াসীলায় প্রার্থনা করলে তিনি দান করেন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৫৭)। যাইদ ইবনু হুবাব (রাহঃ) বলেন, উক্ত হাদীস কয়েক বছর পর আমি যুহাইর ইবনু মু'আবিয়াহর কাছে উল্লেখ করলাম। সে সময় তিনি বললেন, আমার কাছে আবূ ইসহাক মালিক ইবনু মিগওয়ালের সূত্রে তা রিওয়ায়াত করেছেন। যাইদ (রাহঃ) বলেন, তারপর এ হাদীস আমি সুফইয়ানের কাছে উল্লেখ করলে তিনিও আমাকে মালিক ইবনু মিগওয়ালের সনদে তা বর্ণনা করেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। শারীক (রাহঃ) আবূ ইসহাক হতে, তিনি ইবনু বুরাইদাহ হতে, তিনি তার পিতার সনদে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। আর এ হাদীস আবূ ইসহাক আল-হামদানী মালিক ইবনু মিগওয়ালের সনদে বর্ণনা করেছেন। এতে তিনি তার শাইখের নাম গোপন করেছেন। শারীক এ হাদীসটি আবূ ইসহাক হতে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস 3476 — Jami At Tirmidhi 48:107
সহিহসহিহহাসানহাসান
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي هَانِئٍ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي عَلِيٍّ الْجَنْبِيِّ، عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ، قَالَ بَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَاعِدًا إِذْ دَخَلَ رَجُلٌ فَصَلَّى فَقَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهَ صلى الله عليه وسلم " عَجِلْتَ أَيُّهَا الْمُصَلِّي إِذَا صَلَّيْتَ فَقَعَدْتَ فَاحْمَدِ اللَّهَ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ وَصَلِّ عَلَىَّ ثُمَّ ادْعُهُ " . قَالَ ثُمَّ صَلَّى رَجُلٌ آخَرُ بَعْدَ ذَلِكَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَصَلَّى عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَيُّهَا الْمُصَلِّي ادْعُ تُجَبْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ رَوَاهُ حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ عَنْ أَبِي هَانِئٍ الْخَوْلاَنِيِّ وَأَبُو هَانِئٍ اسْمُهُ حُمَيْدُ بْنُ هَانِئٍ وَأَبُو عَلِيٍّ الْجَنْبِيُّ اسْمُهُ عَمْرُو بْنُ مَالِكٍ .
। ফাযালাহ্ ইবনু উবাইদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে) বসা অবস্থায় ছিলেন। সে সময় জনৈক লোক মসজিদে প্রবেশ করে নামায আদায় করল, তারপর বলল, “হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দাও এবং আমার প্রতি দয়া কর"। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে নামায়ী! তুমি তো তড়িঘড়ি করলে। যখন তুমি নামায শেষ করে বসবে সে সময় শুরুতে আল্লাহ তা'আলার যথোপযুক্ত প্রশংসা করবে এবং আমার উপর দরূদ ও সালাম প্রেরণ করবে, তারপর আল্লাহ তা'আলার নিকটে দু'আ করবে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর অপর লোক এসে নামায আদায় করে প্রথমে আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করল, তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ ও সালাম পেশ করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ হে নামাযী! এবার দুআ কর কবুল করা হবে। সহীহঃ সিফাতুস সালাত, সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ১৩৩১)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান। এ হাদীস হাইওয়াহ ইবনু শুরাইহ আবূ হানী আল-খাওলানী হতে বর্ণনা করেছেন। আবূ হানীর নাম হুমাইদ, ইবনু হানী এবং আবূ আলী আল-জান্বীর নাম আমর ইবনু মালিক।
হাদিস 3477 — Jami At Tirmidhi 48:108
সহিহসহিহহাসান SahihIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، حَدَّثَنِي أَبُو هَانِئٍ الْخَوْلاَنِيُّ، أَنَّ عَمْرَو بْنَ مَالِكٍ الْجَنْبِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ، يَقُولُ سَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يَدْعُو فِي صَلاَتِهِ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " عَجِلَ هَذَا " . ثُمَّ دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ أَوْ لِغَيْرِهِ " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيَبْدَأْ بِتَحْمِيدِ اللَّهِ وَالثَّنَاءِ عَلَيْهِ ثُمَّ لِيُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ لِيَدْعُ بَعْدُ بِمَا شَاءَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। ফাযালাহ ইবনু উবাইদ (রাযিঃ) বলেন, এক লোককে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নামাযের মাঝে দু'আ করতে শুনলেন, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর সে দরূদ পড়েনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ ব্যক্তিটি তাড়াহুড়া করেছে। তারপর তিনি তাকে ডাকলেন এবং তাকে বা অপর কাউকে বললেনঃ তোমাদের কেউ নামায আদায় করলে সে যেন আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও তার গুণগান করে, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ পাঠ করে, তারপর তার মনের কামনা অনুযায়ী দুআ করে। সহীহঃ দেখুন পূর্বে বর্ণিত হাদীসটির পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার মহান নাম (ইসমে আযম) এই দুই আয়াতের মাঝে নিহিত আছে (অনুবাদ) “আর তোমাদের মা’বুদ একমাত্র আল্লাহ। তিনি ছাড়া অন্য কোন মা'বূদ নেই। তিনি দয়াময়, অতি দয়ালু”(সূরা বাক্কারাহ ১৬৩)। আর সূরা আ-লি ইমরানের প্রারম্ভিক আয়াত (অনুবাদ) “আলিফ-লাম-মীম। তিনিই আল্লাহ, তিনি ছাড়া অন্য কোন মা’বুদ নেই। তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী”- (সূরা আ-লি ইমরান ১-২)। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৫৫)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কবুল হওয়ার পূর্ণ আস্থা নিয়ে আল্লাহ তা'আলার কাছে দুআ কর। তোমরা জেনে রাখ যে, আল্লাহ তা'আলা নিশ্চয় অমনোযোগী ও অসাড় মনের দুআ কবুল করেন না। হাসানঃ সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ৫৯৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদেই আমরা এ হাদীস জানতে পেরেছি। তিনি আরও বলেন, আমি আব্বাস আল-"আনবারী (রাহঃ)-কে বলতে শুনেছি, তোমরা আবদুল্লাহ ইবনু মু'আবিয়াহ আল-জুমাহী হতে হাদীস লিপিবদ্ধ কর। কেননা তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী।