। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পৃথিবীর বক্ষে যে লোকই বলে, “আল্লাহু তা'আলা ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, আল্লাহ সুমহান, খারাপকে রোধ করা এবং কল্যাণকে লাভ করার শক্তি আল্লাহ তা'আলা ছাড়া অন্য কারো নেই", তার অপরাধগুলো মাফ করা হয়, যদিও তা সাগরের ফেনারাশির ন্যায় (বেশি) হয়। হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/২৪৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস শুবাহ্ (রহঃ) আবূ বালজ হতে এই সনদে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন,তবে তা তিনি মারফুরূপে রিওয়ায়াত করেননি। আবূ বালজের নাম ইয়াহইয়া ইবনু আবী সুলাইম, তিনি ইবনু সুলাইম বলেও অবহিত। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-ইবনু আবী আদী হতে, তিনি হাতিম ইবনু আবী সাগীরাহ হতে, তিনি আবু বালজ হতে, তিনি আমর ইবনু মায়মুন হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে উপরোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জাফার হতে, তিনি শুবাহ হতে, তিনি আবূ বালজ (রাহঃ) হতে এই সনদে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি তা মারফুরূপে বর্ণনা করেননি।
। আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। ফেরার কালে যখন আমরা মাদীনার উঁচু ভূমি পার হচ্ছিলাম সে সময় লোকেরা সজোরে তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করে। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেলনঃ তোমাদের প্রভু বধিরও নন এবং অনুপস্থিতও নন। তিনি তোমাদের মাঝেই আছেন এবং তোমাদের সওয়ারীর সম্মুখেই আছেন। তারপর তিনি বললেনঃ হে 'আবদুল্লাহ ইবনু কাইস (আবূ মূসা)। আমি কি তোমাকে জান্নাতের অন্যতম রত্ন ভাণ্ডার সম্পর্কে জানাব না? তা হল “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”। সহীহঃ সহীহ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮২৪), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ উসমান আন-নাহদীর নাম ‘আবদুর রহমান ইবনু মুল্ল। আবূ না'আমার নাম 'আমর ইবনু ঈসা। “তিনি তোমাদের মাঝে আছেন এবং তোমাদের বাহনের সম্মুখে আছেন” বাক্যাংশের মর্মার্থ এই যে, তার জ্ঞান ও কুদরত সব জায়গায় পরিব্যপ্ত।
। ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মি'রাজের রাতে আমি ইবরাহীম (আঃ)-এর সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি বললেনঃ হে মুহাম্মাদ" আপনার উম্মাতকে আমার সালাম পৌছিয়ে দিন এবং তাদেরকে জানান যে, জান্নাতের যমীন অতীব সুগন্ধি সমৃদ্ধ এবং সেখানকার পানি অত্যন্ত সুস্বাদু। তা একটি সমতল ভূমি এবং তার গাছপালা হল “সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদু লিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার"। হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/২৪৫, ২৫৬), আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ১৫/৬), সহীহাহ (হাঃ ১০৬)। আবূ আইউব (রাযিঃ) কর্তৃকও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান এবং ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-এর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব।
। সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সঙ্গে উপস্থিত সাহাবীগণকে বললেনঃ তোমাদের কেউ কি এক হাজার নেকী অর্জন করতে অক্ষম? উপস্থিতদের একজন প্রশ্ন করলেন, আমাদের একজন কিভাবে এক হাজার নেকী অর্জন করবে? তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ একশতবার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করলে তার ‘আমলনামায় এক হাজার নেকী লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তার এক হাজার অপরাধ ক্ষমা করা হবে। সহীহঃ মুসলিম (হাঃ ৮/৭১)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক (একবার) বলে “সুবহানাল্লাহিল আযীম ওয়াবিহামদিহী”, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ লাগানো হয়। সহীহঃ রাওযুন নায়ীর (হাঃ ২৪৩), সহীহাহ (হাঃ ৬৪)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। হাদীসটি আমরা শুধুমাত্র আবূয যুবাইর এর বরাতে জাবির (রাযিঃ) হতে অবগত হয়েছি।
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক বলে “সুবহানাল্লাহিল আযম ওয়াবিহামদিহী” (আমি মহান আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা সহকারে পবিত্রতা ঘোষণা করছি) জান্নাতে তার জন্য একটি খেজুর গাছ লাগানো হয়। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক একশত বার “সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী” বলে তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয়, তা সাগরের ফেনারাশির সমপর্যায় হলেও। সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব তাহকীক সানী, বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 3467 — Jami At Tirmidhi 48:98
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفُضَيْلِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَلِمَتَانِ خَفِيفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ ثَقِيلَتَانِ فِي الْمِيزَانِ حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمَنِ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ .
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন দুটি বাক্য আছে যা মুখে উচ্চারণ করা অতি সহজ, ওজনে খুবই ভারী এবং করুণাময় আল্লাহ তা'আলার নিকট অতি প্রিয়ঃ “সুবৃহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী, সুবহানাল্লাহিল আমীম” (মহা পবিত্র আল্লাহ তা'আলা, তিনি মহামহিম, মহা পবিত্র আল্লাহ তা'আলা, সকল প্রশংসা তার জন্য)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক প্রত্যহ একশত বার বলেঃ “আল্লাহ তা'আলা ছাড়া কোন মা’বুদ নেই, তিনি এক, তার কোন অংশীদার নেই, রাজত্ব একমাত্র তারই, সকল প্রশংসা তার জন্য। তিনিই প্রাণ দান করেন এবং মৃত্যু দেন। সকল কিছুর উপর তিনি সর্বশক্তিমান”, সে দশটি গোলাম মুক্ত করার সমপরিমাণ সাওয়াব পায়, একশত সাওয়াব তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হয় এবং তার (‘আমলনামা হতে) একশত গুনাহ মুছে ফেলা হয়। ঐ দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে শয়তান হতে রক্ষা করা হয় এবং তার চাইতে উত্তম বস্তু নিয়ে আর কেউ আসবে না, তবে যে লোক উক্ত দুআ তার তুলনায় বেশী সংখ্যায় পাঠ করে তার কথা আলাদা। “প্ৰাণ দান করেন এবং মৃত্যু দেন” এই অংশ ব্যতীত হাদীসটি সহীহ আল-কালিমুত তাইয়্যিব তাহকীক সানী পৃষ্ঠা (২৬) বুখারী ও মুসলিম ঐ অতিরিক্ত অংশ ব্যতীত। একই সানাদসূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছেঃ “যে লোক একশতবার সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী” বলে তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয় তা সাগরের ফেনারাশির চেয়ে বেশি হলেও। সহীহঃ এটা (৩৪৬৬) নং হাদীসের পুনরুক্তি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক সকালে ও বিকালে একশত বার বলেঃ “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী,” কিয়ামতের দিন তার চাইতে উত্তম (আমলকারী) আর কেউ হবে না। তবে যে লোক তার ন্যায় কিংবা তার চাইতে অধিক পরিমাণ তা বলে (সে উত্তম আমলকারী বলে গণ্য হবে)। সহীহঃ তাহ‘লীকুর রাগীব (হাঃ ১/২২৬), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।