। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বজ্রধ্বনি ও মেঘের গর্জন শুনলে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার গযব দিয়ে আমাদেরকে মেরে ফেলো না, তোমার শাস্তি দিয়ে আমাদেরকে নিশ্চিহ্ন করো না, বরং তার আগেই আমাদেরকে মাফ করে দাও”। যঈফ, যঈফা (১০৪২), আল কালিমুত তায়্যিব (১৫৮১১১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি।
। মু'আয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে দুই লোক পরস্পরকে গালি-গালাজ করে। এমনকি তাদের একজনের মুখমণ্ডলের রাগের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠে। সে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয় আমি এমন একটি বাক্য জানি, এ ব্যক্তিটি যদি তা উচ্চারণ করত তবে অবশ্যই তার ক্রোধ চলে যেত। তা হলঃ “আমি বিতাড়িত শাইতান হতে আল্লাহ তা'আলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি।" সহীহঃ রাওযুন নায়ীর (হাঃ ৬৩৫), বুখারী (হাঃ ৬১১৫), মুসলিম (হাঃ ৮/৩০-৩১), সুলাইমান ইবনু সুরাদ হতে। এই অনুচ্ছেদে সুলাইমান ইবনু সুরাদ হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-আবদুর রহমান (ইবনু আবূ লাইলা) হতে, তিনি সুফইয়ান (রহঃ) হতে এই সনদে একই রকম বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি মুরসাল। আবদুর রহমান ইবনু আবী লাইলা (রাহঃ) মুআয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) হতে আদৌ হাদীস শুনেননি। কারণ মুআয (রাযিঃ) উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-এর খিলাফতকালে মৃত্যুবরণ করেন। আর যে সময় উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) শহীদ হন সে সময় আবদুর রহমান ইবনু আবী লাইলা মাত্র ছয় বছরের বালক। শু'বাহ (রাহঃ) হাকাম হতে, তিনি আবদুর রহমান ইবনু আবী লাইলার সূত্রে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। আবদুর রহমান ইবনু আবী লাইলা (রাহঃ) উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন এবং তিনি তাকে প্রত্যক্ষ করেছেন। আবদুর রহমান ইবনু আবী লাইলার উপনাম আবূ ঈসা এবং তার পিতা আবী লাইলার নাম ইয়াসার। আবদুর রহমান ইবনু আবী লাইলা হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এক শত বিশজন সাহাবীর সাক্ষাৎ লাভ করেছি।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনি বলতে শুনেছেনঃ তোমাদের কেউ তার পছন্দনীয় স্বপ্ন দেখে থাকলে তা আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে। অতএব সে যেন এজন্য আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করে এবং যা সে দেখেছে তা অন্যের নিকট প্রকাশ করে। আর সে এর বিপরীত মন্দ স্বপ্ন দেখলে তা শাইতানের পক্ষ হতে। অতএব সে যেন এর অনিষ্ট হতে আল্লাহ তা'আলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং অন্য কারো নিকট তা ব্যক্ত না করে। তাহলে তাতে তার কোন অনিষ্ট হবে না। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/২৬২), সহীহ আল-জামি" (হাঃ ৫৪৯, ৫৫০), বুখারী। এ অনুচ্ছেদে আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) কর্তৃক হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। ইবনুল হাদ-এর নাম ইয়াযীদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উসামা ইবনুল হাদ আল-মাদীনী। হাদীস বিশারদদের মতে তিনি নির্ভরযোগ্য হাদীস বর্ণনাকারী। তার সনদে ইমাম মালিক প্রমুখ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, সাহাবাগণ (তাদের বাগানে) সর্বপ্রথম পাকা ফল দেখলে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে (হাদীয়াহ স্বরূপ) নিয়ে আসত। ফলটি নিজ হাতে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমাদের ফলমূলে আমাদেরকে বারাকাত দাও, আমাদের শহরে আমাদেরকে বারাকাত দাও এবং আমাদের দাঁড়িপাল্লায় আমাদের বারাকাত দাও। হে আল্লাহ! ইবরাহীম নিশ্চয়ই তোমার বান্দা, তোমার বন্ধু ও তোমার নবী এবং আমিও তোমার বান্দা ও তোমার নবী। তোমার নিকট তিনি মক্কা ভূমির জন্য দু'আ করেছিলেন। তোমার নিকট আমিও মাদীনার জন্য দু’আ করছি, যেভাবে তিনি মক্কার জন্য তোমার নিকট দু'আ করেছিলেন এবং আরও সম-পর্যায়ের"। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি কোন বালককে উপস্থিত দেখতে পেলে ফলটি তাকে দিয়ে দিতেন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৩২৯), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 3455 — Jami At Tirmidhi 48:86
হাসানহাসানহাসানদাঈফ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عُمَرَ، وَهُوَ ابْنُ أَبِي حَرْمَلَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ دَخَلْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَا وَخَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ عَلَى مَيْمُونَةَ فَجَاءَتْنَا بِإِنَاءٍ مِنْ لَبَنٍ فَشَرِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا عَلَى يَمِينِهِ وَخَالِدٌ عَلَى شِمَالِهِ فَقَالَ لِي " الشَّرْبَةُ لَكَ فَإِنْ شِئْتَ آثَرْتَ بِهَا خَالِدًا " . فَقُلْتُ مَا كُنْتُ أُوثِرُ عَلَى سُؤْرِكَ أَحَدًا . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَطْعَمَهُ اللَّهُ الطَّعَامَ فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَأَطْعِمْنَا خَيْرًا مِنْهُ . وَمَنْ سَقَاهُ اللَّهُ لَبَنًا فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَزِدْنَا مِنْهُ " . وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ شَيْءٌ يَجْزِي مَكَانَ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ غَيْرُ اللَّبَنِ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ فَقَالَ عَنْ عُمَرَ بْنِ حَرْمَلَةَ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ عَمْرُو بْنُ حَرْمَلَةَ وَلاَ يَصِحُّ .
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি ও খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মাইমূনাহ (রাযিঃ)-এর কাছে গেলাম। আমাদের জন্য তিনি এক পাত্র দুধ নিয়ে এলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তা হতে) পান করলেন। তার ডান পাশে ছিলাম আমি এবং খালিদ ছিলেন তার বাম পাশে। তিনি আমাকে বললেনঃ এখন তোমার পান করার পালা। তবে তুমি চাইলে তোমার উপর খালিদকে অগ্রাধিকার দিতে পার। আমি বললাম, আপনার উচ্ছিষ্টে আমি আমার উপর কোন লোককে অগ্রাধিকার দিব না। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা যাকে আহার করান সে যেন বলে, “হে আল্লাহ! আমাদেরকে এ খাদ্যে বারাকাত দাও এবং আমাদেরকে এর চাইতে উত্তম খাবার আহার করাও।” আর আল্লাহ তা'আলা যাকে দুধ পান করান সে যেন বলে, “হে আল্লাহ! এ দুধে আমাদেরকে বারাকাত দাও এবং এর চাইতেও বেশি আমাদেরকে দান কর।” এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ একই সঙ্গে পান ও আহারের জন্য যথেষ্ট হওয়ার মত দুধের বিকল্প কোন খাবার নেই। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৩২২)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান। এ হাদীস কিছু বর্ণনাকারী আলী ইবনু যাইদ কর্তৃক রিওয়ায়াত করেছেন এবং এক বর্ণনাকারীর নাম বলেছেনঃ উমার ইবনু হারমালাহ্। আবার কয়েকজন বর্ণনাকারী বলেছেন, 'আমর ইবনু হারমালাহ, আসলে এটা সঠিক নয়।
। আবূ উমামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে হতে (খাবার শেষে) দস্তরখান তুলে নেয়া কালে তিনি বলতেনঃ “সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার জন্য, পবিত্র ও বারাকাতময় বিপুল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার জন্য। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা তা কখনো ছাড়তে পারব না এবং তা হতে অমুখাপেক্ষীও হতে পারব না”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩২৮৪), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খেতেন অথবা কিছু পান করতেন, তখন বলতেনঃ “সকল প্রশংসা আল্লাহ্ তা'আলার জন্য, যিনি আমাদেরকে খাবার খাইয়েছেন ও পান করিয়েছেন এবং মুসলিমদের অন্তর্গত করেছেন"। যঈফ, ইবনু মাজাহ
। সাহল ইবনু মু'আয ইবনু আনাস (রাযিঃ) হতে তার পিতার সনদে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক আহার করার পর বলল, “সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার জন্য যিনি আমাকে এটা আহার করিয়েছেন এবং এটা আমাকে রিযক দিয়েছেন, আমার তা লাভ করার প্রচেষ্টা বা শক্তি ব্যতীত”, তার আগের সকল অপরাধ ক্ষমা করা হয়। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩২৮৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবূ মারহুমের নাম আবদুর রহীম ইবনু মাইমূন।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মোরগের ডাক শুনতে পেলে সে সময় আল্লাহ তা'আলার কাছে তার অনুগ্রহ প্রার্থনা করবে। কেননা সে ফেরেশতাকে প্রত্যক্ষ করেছে। আর যখন তোমরা গাধার চীৎকার শুনবে তখন আল্লাই তা'আলার নিকট শাইতান হতে আশ্রয় প্রার্থনা করবে। কেননা সে শাইতানকে দেখেছে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।