। আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ) বলেন, সফর হতে প্রত্যাবর্তন করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “আমরা (সফর হতে হিফাযাতে) ফিরে আসা ব্যক্তি, তওবাকারী, ইবাদতকারী, আমাদের প্রভুর প্রশংসাকারী।” সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ২৩৩৯)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস সুফইয়ান সাওরী আবূ ইসহাকু হতে, তিনি আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে এই সনদে রিওয়ায়াত করেছেন কিন্তু আর-রাবী' ইবনুল বারাআ-এর উল্লেখ করেননি। শু'বাহুর বর্ণনাটিই অনেক বেশি বিশুদ্ধ। এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমার, আনাস ও জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর হতে ফিরে এসে মাদীনার প্রাচীরের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেন এবং মাদীনার প্রতি মুহাব্বতের কারণে তার উষ্ট্রী দ্রুত হাকাতেন, আর অপর কোন পশু হলে তাও তাড়াতাড়ি চালাতেন। সহীহঃ বুখারী ৮৭৪ নং হাদীসের সংক্ষেপিত। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, কোন লোককে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় দেয়ার সময় তাকে নিজের হাতে ধরতেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত সে নিজের হাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে না ছাড়াতেন সে পর্যন্ত তিনিও তার হাত ছাড়তেন না। তিনি বলতেনঃ “তোমার দ্বীন, ঈমান ও সর্বশেষ আমলের ব্যাপারে আমি আল্লাহ তা'আলাকে আমানতদার নিযুক্ত করলাম”৷ সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ১৬, ২৪৮৫), আল-কালিমুত তাইয়্যিব তাহকীক সানী (হাঃ ১৬৯/১২২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি উপর্যুক্ত সনদ সূত্রে গারীব। এ হাদীস ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
। সালিম (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, কোন লোক সফরের উদ্দেশে রাওয়ানা হলে ইবনু উমার (রাযিঃ) তাকে বলতেন, আমার কাছে আস। আমি তোমাকে বিদায় সম্ভাষণ জানাব, যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ৱিদায় সম্ভাষণ জানাতেন। তিনি বলতেনঃ “তোমার দ্বীন, ঈমান ও সর্বশেষ "আমলের জন্য আমি আল্লাহ তা'আলাকে যিম্মাদার করলাম” ৷ সহীহঃ প্রাগুক্ত। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ এবং সালিম ইবনু আবদুল্লাহর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এক লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি সফরে যাওয়ার ইচ্ছা করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে পাথেয় দিন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা তোমাকে তাকওয়ার পাথেয় দান করুন। সে বলল, আরো বেশি দিন। তিনি বললেনঃ তোমার গুনাহ আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করুন। সে বলল, আমার মাতা-পিতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক! আমাকে আরো বেশি দান করুন। তিনি বললেনঃ তিনি (আল্লাহ তা'আলা) তোমার জন্য মঙ্গলকে সহজতর করুন, তুমি যেখানেই থাক। হাসান সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব তাহকীক সানী (হাঃ ১৭০)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি সফরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছি, অতএব উপদেশ দিন। তিনি বললেনঃ অবশ্যই তুমি আল্লাহ তা'আলার ভয় (তাকওয়া) অবলম্বন করবে এবং প্রতিটি উচ্চ জায়গায় যাওয়ার সময় তাকবীর ধ্বনি দিবে। যখন লোকটি চলে যাচ্ছিল সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “হে আল্লাহ! তার পথের ব্যবধান কমিয়ে দাও এবং তার জন্য সফর সহজতর করে দাও”। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ২৭৭১)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান।
। আলী ইবনু রাবী'আহ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আলী (রাযিঃ)-এর কাছে আমি উপস্থিত থাকা অবস্থায় তার নিকট আরোহণের জন্য একটি জন্তু আনা হল। তিনি পা দানীতে তার পা রেখে বললেন, “বিসমিল্লাহ"। তারপর তিনি তার পিঠের উপর ঠিকমত বসার পর বললেন, “আলহামদু লিল্লাহ", তারপর বললেন, “পবিত্র ও মহান তিনি যিনি একে আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন করেছেন, তা না হলে আমরা একে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। অবশ্যই আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে ফিরে যাব”— (সূরা আয-যুখরুফ ১৩-১৪)। এরপর তিনি "আলহামদু লিল্লাহ্” তিনবার ও “আল্লাহু আকবার" তিনবার বললেন এবং আরো বললেনঃ “তুমি অত্যন্ত পবিত্র সত্তা, আমার উপর আমি অত্যাচার করেছি। অতএব তুমি আমাকে মাফ কর, কেননা তুমি ব্যতীত আর কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না।” তারপর তিনি হাসলেন। আমি প্রশ্ন করলাম, হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি কি কারণে হাসলেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি তা-ই করতে দেখেছি যা আমি করলাম। তারপর তিনি হেসেছিলেন। আমি প্রশ্ন করেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি কারণে হাসলেন? তিনি বললেনঃ যখন বান্দা বলে, “হে আল্লাহ! আমার অপরাধসমূহ ক্ষমা কর। কেননা তুমি ছাড়া অন্য কেউ অপরাধ ক্ষমা করতে পারে না”, সে সময় আল্লাহ তা'আলা তার এ কথায় খুশি হন। সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (১৭২/১২৬), সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ২৩৪২)। এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমর (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে রাওয়ানা হতেন তখন বাহনে আরোহণ করে তিনবার তাকবীর বলতেন এবং আরো বলতেনঃ “অতি পবিত্র ও মহান তিনি যিনি একে আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন করেছেন, তা না হলে আমরা একে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিলাম না। অবশ্যই আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে ফিরে যাব”— (সূরা যুখরুফ ১৩-১৪)। তারপর তিনি বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমার এ সফরে আমি তোমার নিকট পুণ্য ও তাকওয়া এবং তোমার পছন্দনীয় কাজ করার তাওফীক প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! আমাদের সফরটি আমাদের জন্য সহজসাধ্য করে দাও এবং আমাদের জন্য পথের ব্যবধান সংকুচিত করে দাও। হে আল্লাহ! সফরে তুমিই আমাদের সঙ্গী এবং আমাদের পরিবার-পরিজনের প্রতিনিধি। হে আল্লাহ! আমাদের এ সফরে তুমি আমাদের বন্ধু এবং আমাদের পরিজনের প্রতিনিধি হয়ে যাও।” তিনি সফর হতে পরিজনের কাছে প্রত্যাবর্তন করে বলতেনঃ ইনশা আল্লাহ আমরা প্রত্যাবর্তনকারী এবং তওবাকারী, আমাদের রবের ইবাদতকারী ও প্রশংসাকারী”। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ২৩৩৯), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি উক্ত সনদ সূত্রে হাসান গারীব।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন লোকের দুআ কবুল করা হয়। নির্যাতিতের দুআ, মুসাফিরের দুআ এবং সন্তানদের উপর পিতার অভিশাপ। হাসানঃ সহীহাহ (হাঃ ৫৯৮, ১৭৯৭)। আলী ইবনু হুজর ইসমাইল ইবনু ইব্রাহীম হতে, তিনি হিশাম আদ-দাসতাওয়াঈ হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর (রাহঃ) হতে এই সনদসূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। তবে এই রিওয়ায়াতে আছেঃ “মুসতাজাবাতুন লা শাক্কা ফাহিন্না" (কবুল করা হয়, তাতে কোন সন্দেহ নেই)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান। এই আবূ জাফার হলেন তিনি যার নিকট হতে ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি আবূ জাফার আল-মুআযযিন নামেও পরিচিত। ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর তার নিকট হতে একাধিক হাদীস বর্ণনা করেছেন। আমরা তার নাম জানি না।
হাদিস 3449 — Jami At Tirmidhi 48:80
সহিহসহিহসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الأَسْوَدِ أَبُو عَمْرٍو الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَأَى الرِّيحَ قَالَ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِهَا وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَخَيْرِ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ رضى الله عنه وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবল বেগে বায়ু প্রবাহিত হতে দেখলে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি এ বাতাসের মঙ্গল, এর মাঝে নিহিত মঙ্গল এবং যে মঙ্গলসহ এটা পাঠানো হয়েছে তা প্রার্থনা করি। আর এর ক্ষতিকর দিক, এর মাঝে নিহিত ক্ষতি এবং যে ক্ষতিসহ এটা পাঠানো হয়েছে তা হতে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি”। সহীহঃ সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ২৭৫৭), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান।